#বেপরোয়া_ভালোবাসা 

#মায়াবিনী_মাহরীন


#পর্ব_১৪-১৫ 


রায়হান অফিসে গিয়েই হিমেলকে ডাকলো। হিমেল আসতেই একটা ছবি এগিয়ে দিয়ে 

— সীমান্ত শেখ, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির একজন লেকচারার। তিনি কোথায় থাকেন, কোথায় যাচ্ছেন, কি করছেন ফুল ইনফরমেশন আমার চাই। 


হিমেল ছবিটা ভালোমতো দেখে — “ওকে স্যার, আমি দেখছি”— বলেই চলে যায়। 


হিমেল চলে যেতেই রায়হান চেয়ারে মাথা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে কিছু একটা ভাবতে থাকে। 


অন্যদিকে সারাদিন ব্যস্ততার মধ্যেই কেটে গেলো অরিত্রির। আগামীকাল দুপুরে বোনের ওটি। অনেক চিন্তা কাজ করছে তার মাথায়। আজকে সে অফিসে না জানিয়েই ছুটি কাটালো। পার্সোনালি রায়হানের সাথে যাই হোক অফিসিয়াল একটা বিষয় তো থাকেই।


তাই সে চিন্তা করলো আগামীকাল ফার্স্ট আওয়ারে গিয়েই একটা এপ্লিকেশন দিয়ে আসবে ছুটির জন্য। এসব ভাবতে ভাবতেই দুজন লোক তাদের কেবিনে এসে 

— ম্যাম, আপনাদের জন্য আমাদের ভিআইপি কেবিনটা দেয়া হয়েছে। যদি আপনারা ওই কেবিনে শিফট করতেন তাহলে এটা অন্য কাউকে.....


অরিত্রি— কিন্তু আমরা তো এরকম কিছু বলিনি। আর ওই কেবিনের চার্জ ও বেশি। আমার পক্ষে সেটা দেয়া সম্ভব না। 


— ম্যাম, আসলে আপনার বোন তো শুরু থেকেই এখানে ট্রিটমেন্ট নিচ্ছেন তাই আমরা আপনাদের সেইম চার্জেই ওই কেবিন দিচ্ছি।


কথা টা অরিত্রির হজম হলো না। এটা তো কোনো রুলস এর মধ্যেই পরে না। কিন্তু তাও বোনের কথা চিন্তা করে অন্য কেবিনে শিফট করে যায় তারা। রাত যত বেড়ে যাচ্ছে তত অরিত্রির মনের মধ্যে একটা ভয় কাজ করছে। সে একটা জিনিস খেয়াল করলো — এই কেবিনের সামনে একটা লোক বার বার এসে দেখে যাচ্ছে যেন মনে হচ্ছে তাকে কোনো খোঁজ নেয়ার জন্যই এখানে রাখা। 


এমন একটা পরিস্থিতি যেখানে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। নেই কোনো পাশে দাঁড়ানোর মত মানুষ। শুধু আল্লাহর উপর ভরসা রাখা ছাড়া কোনো কিছুই করার নেই। খুব অসহায় লাগতে লাগে অরিত্রির নিজেকে। 


এভাবেই নির্ঘুম রাত কাটে অরিত্রির। 


পরের দিন সকালে সে প্রথমে বাসায় চলে যায়। ফ্রেস হয়ে রেডি হয়ে বেরিয়ে পরে অফিসের জন্য। অফিসে গিয়েই সোজা রায়হানের কেবিনে গিয়ে নক করে


ভেতর থেকে রায়হান— Please come....


অরিত্রি ভিতরে ঢুকলো। রায়হানের দৃষ্টি তখন কম্পিউটারের দিকে— 

— বলেছি তো তোমার পারমিশন লাগবে না।


অরিত্রি সেটার উত্তর না দিয়ে এপ্লিকেশন লেটার টা এগিয়ে দিলো রায়হানের দিকে। 


রায়হান কাগজটা না দেখেই

— আসার দরকার ছিলো না। মেইলে দিয়ে রাখলেই হতো। 


অরিত্রি একটু অবাক হলো। কারন রায়হানের ভাবটা এমন যেন সে আগে থেকেই জেনে বসে আছে এসব। কিন্তু অরিত্রি মাথা ঘামালো না। ওই বিষয়ে কোনো উত্তরও দিলো না। শুধু বললো

— আমি আসছি....


তখনই রায়হান

— এসেছোই যখন তাহলে একটা কাজ করে দিয়ে যাও।


অরিত্রি একটু বিরক্ত হয়ে

— কফি বানাতে হবে তো? এটাই তো পারেন। শুধু মানুষের সাথে জুলুম করতে। 


বলেই অরিত্রি কফি বানাতে যেতে লাগলে রায়হান থামিয়ে দেয় অরিত্রিকে

— কফি লাগবে না। একটা মিটিং আছে। তোমার এটেন্ড করতে হবে আমার সাথে। 


অরিত্রি ভ্রু কুচকে

— আপনি জানেন আজকে দুপুরে আপুর ওটি। আর.....

এখন আমি মিটিং এটেন্ড করলে টাইম মতো হসপিটালে পৌছাতে পারবো না। 


রায়হান চেয়ারে সোজা হয়ে বসতে বসতে

— This is none of my business. 


— আল্লাহ আপনাকে কি দিয়ে বানিয়েছিলো!!!!


সেই কথায় না গিয়ে রায়হান উঠে দাড়ালো 

— চলো, দেরি হয়ে যাচ্ছে। 


বলেই কেবিন থেকে বের হয়ে গেলো রায়হান সাথে অরিত্রিও। কিন্তু রায়হান একবারে অফিসের নিচে নেমে আসলো। তখন অরিত্রি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে

— মিটিং কোথায়?


— রেস্টুরেন্টে, বেশি না কথা না বলে গাড়িতে উঠে বসো।


অরিত্রি আর কোনো কথা না বলে গাড়িতে উঠে বসে। তার মাথায় শুধু বোনের চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছে। 


কিছুক্ষনের মধ্যেই গাড়ি গিয়ে থামলো একটা রেস্টুরেন্টের সামনে। গাড়ি থেকে নেমে রায়হান হাটতে শুরু করলো আর তার পেছনে এগিয়ে চললো অরিত্রি। 


ভেতরে গিয়ে রায়হান একটু ফাঁকা জায়গায় গিয়ে বসলো এরপর অরিত্রিকে ইশারা করলো বসতে। অরিত্রি বসতে বসতে

— আর লোকজন কোথায়?


রায়হান মেন্যু কার্ড অরিত্রির দিকে এগিয়ে দিতে দিতে

— আসতে লেট হবে। দেখো কি খাবে। 


অরিত্রি রেগে

— আমি এখানে খেতে আসিনি।


রায়হান একটা নিঃশ্বাস ফেলে ওয়েটারকে ডাকে এরপর একটা rice bowl আর একটা কফি অর্ডার করে। 


রায়হান নিজের ফোনেই ব্যস্ত হয়ে যায় আর অরিত্রি বার বার হাতের ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। 


বেশ কিছুক্ষন পর ওয়েটার খাবার নিয়ে আসে। রায়হান কফি টা নিজের কাছে রেখে rice bowl এগিয়ে দেয় অরিত্রির দিকে।


অরিত্রি— আমি খাবো না।


রায়হান— আমাকে রাগিও না।


অরিত্রি এবার আর কোনো কথা বলে না। চুপচাপ খেয়ে নেয়। 


খাওয়া শেষ হলে অরিত্রি

— আর কতক্ষন???


রায়হান ফোনের দিকে তাকিয়ে

— মিটিং ক্যান্সেল হয়ে গেছে


অরিত্রি কিছু বলতে গিয়েও বলে না। অরিত্রিকে চুপ থাকতে দেখে রায়হান এবার অরিত্রির দিকে তাকিয়ে

— পেট ঠান্ডা তো মাথা ঠান্ডা। দেখেছো, এখন চুপচাপ আছো।


অরিত্রি একটু রেগে

— আপনি শুধু শুধু আমার দেরি করিয়ে দিলেন


রায়হান এবার একটু টেবিলের দিকে ঝুকে

— কালকে থেকে না খেয়ে আছো। এখন এখানে না খেলে তো দেখা যেত আজ সারাদিনও না খেয়ে থাকতে। 


রায়হানের কথায় অরিত্রির মনে পরল

— আসলেই তো। সেই যে কাল মা খাইয়ে দিয়েছিলো এরপর তো আর কিছুই খায়নি। চিন্তায়, ভয়ে তো খাবার কথা মনেই নেই। 


অরিত্রি আর কিছু না বলে মাথা নিচু করে ফেললো।


রায়হান— গাড়িতে গিয়ে বসো, আমি আসছি। 


অরিত্রি চুপচাপ রায়হানের কথা মতো গাড়িতে গিয়ে বসলো। কিছুক্ষন পরই রায়হান এসে গাড়ি স্টার্ট দিলো। এরপর হসপিটালের সামনে অরিত্রিকে নামিয়ে দিলো।


এর মাঝে কেউ কারও সাথে কোনো কথা বললো না। শুধু গাড়ি থেকে নেমে অরিত্রি বললো

— আসছি।


রায়হান হুম বলেই গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে গেলো। অরিত্রি কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলো সেদিকে। এরপর ভেতরে চলে গেলো। 


#চলবে.......


গল্পটি ভালো না লাগলে ইগনোর করবেন 😊 ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট করে পাশে থাকবেন 🥰 দয়া করে কেউ কপি করবেন না। ধন্যবাদ 💕#বেপরোয়া_ভালোবাসা 

#মায়াবিনী_মাহরীন


#পর্ব_১৫


দুপুরের দিকে অনিমাকে ওটি তে নিয়ে যাওয়া হলো। বাহিরে বসে অরিত্রি আর তাদের মা দোয়া পড়ছে। 


প্রায় দেড় ঘন্টা পর ডাক্তার বের হলো। পেছনে একজন নার্স। তার হাতে বাচ্চা। ডাক্তার এগিয়ে এসে

— ছেলে হয়েছে। মা বাচ্চা দুজনেই ভালো আছে। 


বাবু তো চিৎকার করে কাদছে। অরিত্রির মা কোলে নিলো। আর পাশে থেকে অরিত্রি দেখছে। অরিত্রির মা

— দেখ, একদম তোর দুলাভাইয়ের মতো হয়েছে


অরিত্রির মুখের হাসি উড়ে গেলো

— হুম


কিছুক্ষন পর অনিমাকে কেবিনে দেওয়া হলো। অরিত্রির মা কোলে নিয়ে আছে নাতিকে আর অরিত্রি অনিমার মাথার কাছে বসে চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে। 


সন্ধ্যার দিকে কেবিনের দরজায় নক করে এক ভদ্রলোক। অরিত্রি গিয়ে দরজার কাছে দাড়ালে লোকটি অরিত্রির দিকে একটা বড় ডালি এগিয়ে দেয় যেটার ভেতর অনেক রকমের ফল দিয়ে সাজানো।

— রায়হান স্যার পাঠাইছে


কিন্তু এবার অরিত্রি বিরক্ত হলো না রাগও করলো না। উল্টো প্রশ্ন করলো

— কোথায় উনি?


— এতক্ষনে হয়তো বাসায় চইলা গেছে


— আচ্ছা


অরিত্রি ডালিটা নিয়ে টেবিলের উপর রাখলো। তখনই অরিত্রির মা

— কে দিলো এটা?


— রায়হান। ১ সেকেন্ড পরে বললো - স্যার। রায়হান স্যার দিয়েছেন।


অরিত্রির মা কিছু বলতে যাবে তখন অরিত্রির ফোন বেজে উঠলো। রাহা ফোন করেছে।


— হ্যা রাহা, বলো।


— তোমার কি হয়েছে অরিত্রি? কাল অফিস এলে না। আজ তোমাকে ঢুকতে দেখলাম অফিসে কিন্তু একটু পরে আর কোথাও দেখলাম না।


— রাহা, আপুর ডেলিভারি হলো আজকে। তাই...


— ও আচ্ছা। ছেলে বাবু হয়েছে নাকি মেয়ে?


— ছেলে হয়েছে


— খুব ভালো। এক কাজ করো তুমি আমাকে একটা টেক্সট দিয়ে রাখো কোন হসপিটাল, কোন ফ্লোর, কত নং কেবিন। আমি সুযোগ পেলে কাল যাবো আপুকে দেখতে।


— আচ্ছা আমি এক্ষুনি পাঠাচ্ছি। 


রাতে অরিত্রি নিজের জন্য আর মায়ের জন্য অনলাইনে খাবার অর্ডার করলো। এরপর সারা রাত কিছুক্ষন অরিত্রির কোলে বাবু, কিছুক্ষন নানুর কোলে। এভাবেই রাত কেটে গেলো।


সকালে অরিত্রির মা বাসায় গেলেন অনিমার জন্য খাবার রান্না করা আনতে। অরিত্রি বাবুকে কোলে নিয়ে কেবিনের ভিতরেই হাটাহাটি করতে লাগলো। এর মধ্যে ডাক্তার এসে দেখে গেলো। 


অরিত্রির মা এসে আগেই অনিমাকে খাইয়ে দিলো এরপর বললো—

— তুই বাবুকে কোলে রাখ, আমি খাইয়ে দিচ্ছি তোকে।


কথাটি শুনেই কেন জানি অরিত্রির রায়হানের কালকের কথা মনে পড়ে গেলো — “কালকে থেকে না খেয়ে আছো। এখন এখানে না খেলে তো দেখা যেত আজ সারাদিনও না খেয়ে থাকতে।”


খাওয়া শেষ হলে অরিত্রি বাবুকে তার মায়ের কোলে দিয়ে মোবাইল নিয়ে কোরিডোরে গেলো। এরপর ফোন বের করে একটা নাম্বার বের করলো — “ল্যাংড়া ব্যাঙ”। এরপর ফোন দিলো।


অন্যদিকে রায়হান মিটিং এ আছে। অরিত্রি নেই বিধায় হিমেল হেল্প করছে রায়হানকে। রায়হান বরাবরই কাজের ব্যাপারে সিরিয়াস। আর মিটিংয়ের সময়ে তো সে একদমই অযথা কোনো কথা সহ্য করে না এমনকি কোনো জরুরি ফোন আসলেও সে ইগনোর করে।


কিন্তু আজ তার ব্যতিক্রম কিছু ঘটলো। রায়হানের সাইডেই ছিলো হিমেল। তার সামনে টেবিলের উপর ছিলো রায়হানের মোবাইল। কথার মাঝে হঠাৎ রায়হানের ফোন ভাইব্রেট করে উঠলে রায়হান আর হিমেল দুজনের চোখই মোবাইলের উপর গিয়ে পরলো। হিমেল স্ক্রিনের নামটা দেখে হালকা হাসি দিয়ে ফোনটা এগিয়ে দিলো রায়হানের দিকে। 


হিমেল একটু কনফিউজ — রায়হান ফোনটা রিসিভ করবে নাকি করব না। তবে সে ৭০% শিওর যে রায়হান ফোনটা রিসিভ করবে না। কিন্তু হিমেলের ধারনা ভুল প্রমানিত হলো তখনই যখন রায়হান এক্সকিউজ মি বলে মোবাইলটা হাতে নিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে গেলো। 


রায়হান একটু দূরে গিয়ে ফোনটা রিসিভ করে

— হুম...


— থ্যাংকস


— হুম


— ব্যস্ত আপনি?


— মিটিং এ আছি


— ওকে - বলেই কল কেটে দিলো অরিত্রি। 


বিকেলের দিকে রাহা এলো হসপিটালে। ফলমূল নিয়ে এসেছে সাথে করে। অনেকক্ষন সময় বসে গল্প করে এরপর সন্ধ্যার দিকে চলে গেলো। 


এভাবে কেটে গেলো আরও দুদিন। 


৪র্থ দিনে তারা বাসায় যাবার জন্য সব গুছিয়ে নিলো। কাউন্টারে গিয়ে বিল পে করতে গেলে সেখান থেকে জানালো বিল অলরেডি পেইড। অরিত্রি অবাক হয়ে জিগ্যেস করলো

— আমরা তো কেউ দেইনি। তাহলে কে দিলো?


— আরেকদিন আপনার সাথে কথা বললো যে, সেই ভদ্রলোক 


অরিত্রির আর বুঝতে বাকি রইলো না যে এটা রায়হানের কাজ। ঠিক আছে বলে অরিত্রি চলে এলো সেখান থেকে।


বাসায় এসেই কাজে লেগে পরলো অরিত্রি। কয়েকদিন বাসায় নেই সব এলোমেলো আর ময়লা হয়ে আছে। আর তার মা বাবুকে সামলাচ্ছে।


বিকেলের দিকে হঠাৎ দরজায় কলিং বেল বাজলো। অরিত্রি হাতে ঝাড়ু নিয়েই দরজা খুললো। খুলে তো পুরো হকচকিয়ে গেলো। কারন সামনে যেই মানুষটা দাঁড়িয়ে সেটি আর কেউ না— রায়হান। 


কয়েক সেকেন্ড পরে অরিত্রির হুশ আসলো। মুখের সামনে থেকে ঝাড়ু টা সরিয়ে

— সরি...


ততক্ষনে অরিত্রির মা এগিয়ে এসেছেন

— কে এসেছে অরিত্রি....

রায়হানকে দেখেই

— আরে বাবা, আসো আসো। ভেতরে আসো। 


অরিত্রি পাশে সরে দাড়ালো। রায়হান গিয়ে সোফায় বসলো। অরিত্রির মা বাবুকে কোলে নিয়ে বসলো। রায়হান বাবুটাকে দেখলো, ঘুমাচ্ছে। রায়হান এবার পকেট থেকে একটা ছোট্ট বক্স বের করে অরিত্রির মায়ের দিকে এগিয়ে দিলো

— এটা ওর জন্য। 


অরিত্রির মা অরিত্রির দিকে তাকালো, অরিত্রি ও তার মায়ের দিকে তাকালো। এরপর অরিত্রি

— এসব লাগবে না। রেখে দিন আপনার কাছে। জাস্ট দোয়া করেন যেন মানুষের মতো মানুষ হয়।


লাস্ট কথা টা মনে হলো রায়হানকে খোঁচা মেরে বললো। কিন্তু রায়হান সেই দিকে খেয়াল দিলো না। নিজেই বক্স খুলে স্বর্ণের ছোট্ট একটা চেইন বের করে বাবুর গলায় পড়িয়ে দিলো। 


এরপর অরিত্রির দিকে তাকিয়ে

— আমি খালি হাতে কাউকে দোয়া দেইনা 


অরিত্রির মা অরিত্রিকে বললো

— নাশতা পানি এনে দিতে


অরিত্রি কিছুক্ষন পর কফি এনে রায়হানের সামনে এগিয়ে দিলো।


অরিত্রির মা অরিত্রির দিকে তাকিয়ে

— শুধু কফি?


রায়হান— আর কিছু লাগবে না। কফি এনেছে এটাই অনেক 


অরিত্রি আমি আসছি বলে নিজের রুমে চলে গেলো।


অরিত্রির মা

— কিছু মনে করো না বাবা। ও ছোট সন্তান তো। আদরে আদরে বড় হয়েছে। তাই এখনো এক প্রকার আহ্লাদী রয়ে গেছে।


রায়হান কিছু বললো না শুধু হাসলো। এরপর অনেক কথা বলতে লাগলো দুজনে। বেশ কিছুক্ষন পর অরিত্রি আবার ড্রয়িং রুমে এলো। দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে শাওয়ার শেষ করে এসেছে। মেরজেন্টা কালারের একটা জামা পড়েছে। ভেজা চুল গুলো লেপ্টে আছে পিঠের সাথে। চুল থেকে পানি পড়ছে। এক ঝলক তাকিয়ে রায়হান আবার চোখ সরিয়ে নিলো। 


অরিত্রি গিয়ে মায়ের পাশে বসলো। তখনই পিচ্চির ঘুম ভেঙে গেলো আর কান্না শুরু করে দিলো।


অরিত্রির মা

— খিদে পেয়েছে মনে হয়। আমি অনিমার কাছে দিয়ে আসি

বলেই উঠে চলে গেলো ভেতরে


তখনই রায়হান ফিসফিসিয়ে অরিত্রির দিকে তাকিয়ে

— ভেজা চুলে তুমি আজ আমার ধৈর্যের শেষ সীমাটা ছুঁয়ে দেখেছো


অরিত্রি কিছুই বুঝতে পারলো না রায়হানের কথার আগা মাথা

— মানে?


— মানে...তুমি শুধু ভেজা চুলে এসেছিলে, আর আমি নীরবে তোমাকে খুব নিজের করে নিয়েছিলাম মনে মনে। যদি আজ আর কেউ না থাকতো এখানে। তোমার আরেকবার শাওয়ার নিতে হতো।


অরিত্রি রেগে

— আপনি একটা ফালতু লোক


রায়হান একটা শয়তানি হাসি দিয়ে 

— ভুলে যেও না আইনগত ভাবে তুমি আমার বউ। সো, আমি যা ইচ্ছা করতেই পারি। 


বলেই রায়হান একটা চোখ মারলো অরিত্রিকে।


#চলবে.......


গল্পটি ভালো না লাগলে ইগনোর করবেন 😊 ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট করে পাশে থাকবেন 🥰 দয়া করে কেউ কপি করবেন না। ধন্যবাদ 💕

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url