গল্প :- #এক_মুঠো_রোদ (

০৪)-৫-৬-৭

লেখক :- #A_Al_Mamun

.

এভাবে নিজের জন্মদিনে কেউ উইস করছে এটা ভেবেই মিষ্টি কেঁদে দেয়।

মিষ্টিকে কাঁদতে দেখে সানু বেগম এগিয়ে এসে মিষ্টির পাশে বসে।

--এই মেয়ে কাঁদছো কেনো?

--টিভিতে দেখেছিলাম এভাবে বলতে, আজ প্রথম দেখলাম চোখের সামনে। আমার জন্মদিনে কেউ আমাকে এভাবে শুভেচ্ছা জানাবে এটা আমি কখনো ভাবি নি।

--পাগলি মেয়ে, তাই বলে কি কাঁদতে হয়?

--খুব খুশি লাগছে।

--চোখ মুছো।

--কিভাবে জানেন আজ যে আমার জন্মদিন?

--তোমার বান্ধবী রিয়াই তো জানালো।

--ও কিভাবে জানে?

--সেটা নাহয় ওকেই জিজ্ঞেস করিও, এখন এসো কেক কাটবে।

--কেক?

--হুম।

--কোথায়?

--আছে, ওঠো। সুন্দর করে সেজে নাও। 

--কেনো?

--ছবি তুলতে হবে না?

--ছবি কেনো?

--কেক কাটার সময় ছবি তুলবে না? 

--আমার জন্য কেকও এনেছেন?

--তোমার বান্ধবী নিয়ে এলো।

--তাই? কখন নিলো? আমি তো ওর সাথেই ছিলাম সারাক্ষণ।

--রিয়া.... এদিকে আয়...।

মায়ের ডাকে রিয়া সামনে এগিয়ে আসে।

--মিষ্টিকে সুন্দর করে সাজিয়ে দে।

--আচ্ছা আম্মু।

.

মিষ্টি রিয়ার ব্যবহার করা ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে আয়নার দিকে তাকিয়ে আছে। আর রিয়া পেছন থেকে এসে শপিং করা সব কাপড় মিষ্টির সামনে এনে রাখে।

--নাও, পছন্দ করে নাও কোনটা পড়বে।

--আমি?

--হুম।

--না না, এত নতুন কাপড় আমাকে ভালো লাগবে না। এর চেয়ে ভালো তোমার একটা দাও। তাতেই চলবে।

--গাধী.... এগুলো সব তোমার।

--আমার?

--হুম। ভাইয়া তোমার জন্য কিনে দিলো।

--কি বলছো? এতো নতুন কাপড় আমার?

--হুম। পছন্দ করে নাও একটা।

--আমি তো বুঝি না এসব। তুমিই পছন্দ করে নাও।

রিয়া নিজের পছন্দের একটা কাপড় মিষ্টিকে পড়িয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে দেয়।

এদিকে মামুন ড্রয়িংরুমটা সুন্দর করে সাজিয়ে নেয়। কেকের মাঝখানটায় ছোট্ট করে লেখা আছে, 

"শুভ জন্মদিন মিষ্টি"

একটু পর রিয়া মিষ্টিকে সাথে নিয়ে ড্রয়িংরুমের দিকে পা বাড়ায়।

সানু বেগম আর মামুম বেশ কিছুক্ষণ ধরে মিষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকে।

এভাবে সবাইকে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মিষ্টি খুব লজ্জা পায়।

সানু বেগম এগিয়ে এসে কি যেনো বিড়বিড় করে পড়ে মিষ্টিকে ফু দিয়ে দেয়।

--কি করলে আম্মু?(রিয়া)

--যেনো কারো নজর না লাগে, তাই দোয়া পড়ে ফু দিয়ে দিলাম। আজ মিষ্টিকে নতুন করে দেখলাম। খুব সুন্দর লাগছে।

--আমাকে তো কখনো দিলে না!

--দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তোর ওপর কেউ নজর দিবে না।

মায়ের পেছন থেকে রিয়াকে উদ্দেশ্য করে মামুন এই লাইনটা বলে ওঠে।

--কি বললি?

--সত্য কথা।

--আম্মু ওকে কিছু বলবা?

--থামবি তোরা? 

মায়ের ধমকে দুজন চুপ হয়ে যায়।

এই প্রথম মিষ্টি জন্মদিনের কেক কাটছে।

মিষ্টি মাঝে মাঝে আড়চোখে মামুনের দিকে তাকাচ্ছে...। কারন একটা জিনিস কেনো যেনো মিষ্টিকে বার বার তার দিকে তাকাতে বাধ্য করছে।

মিষ্টি আড়চোখে যতবারই তাকায়, ততবারই মামুনের সাথে চোখাচোখি হয়ে পড়ে।

মিষ্টি ভালো করেই বুঝতে পারে মামুন এক নাগাড়ে মিষ্টির দিকে তাকিয়ে আছে।

খানিকটা লজ্জা পেয়ে রিয়ার আড়ালে চলে যায় সে।

রিয়ারও ব্যাপারটা আন্দাজ করতে পারে। মামুনের নজর থেকে আড়াল হতেই মিষ্টি রিয়ার পেছনে গিয়ে দাড়িয়ে আছে।

.

--রাত তো অনেক হলো। ঘুমাবে না?(রিয়া)

--ঘুম তো আসছে না।

--কেনো?

--চোখ বন্ধ করলেই চোখের সামনে কত কিছু ভেসে ওঠে।

--কি?

--এই যে আজ জীবনে প্রথম অনেক কিছুর অভিজ্ঞতা হলো।

--হুম বুঝতে পারলাম। আর কি কি মনে পড়ে?

--সবই।

--আমি কিন্তু কিছু একটা নোটিশ করেছি।

--কি?

--তোমাদের চোখের খেলা।

--বুজলাম না।

--থাক বোঝা লাগবে না।

--তুমি ভুল ভাবছো, এমন কিছুই নয়। আমার ওপর বিশ্বাস রাখতে পারো।

--আরে আরে, এতো সিরিয়াস হয়ে গেলে কেনো? আমি তো মজা করছিলাম।

--ও আচ্ছা।

--ঘুমাবে না?

--হুম, আচ্ছা, আজ আমার জন্মদিন এটা তুমি কি করে জানলে? আমি তো কখনো তোমাকে বলিনি।

--তোমার ডায়েরী থেকে।

--আমার ডায়েরী তুমি কোথায় পেলে?

--আমার পড়ার টেবিলে।

--অন্যের ব্যক্তিগত ডায়েরী পড়া বারণ এটা জানো না?

--সরি, খুব জানতে ইচ্ছে করছিলো তোমার ব্যাপারে। তাই ডায়েরীটা সামনে পেয়ে আর লোভ সামলাতে পারিনি।

--আমার জীবনটা আমারই থাক, আমি আর কাউকে এই বিষয়ে জানাতে চাইনা।

--হুম বুঝেছি, কিন্তু আরো অনেক কিছুই দেখলাম তোমার ডায়েরীতে। 

--ওই সব নিয়ে আর ভেবো না। অনেক রাত হয়েছে, এসো ঘুমাবে।

--তোমার হাতের লেখা কত সুন্দর, তুমি অনেক মেধাবী ছিলে তাই না?

--ওরকম কিছু না।

--কোন ক্লাস পর্যন্ত পড়েছিলে?

--এসএসসি দিয়েছিলাম। তাও লুকিয়ে লুকিয়ে, মা পড়তে দেয়নি।

--রেজাল্ট কি ছিলো তোমার?

--গোল্ডেন এ(+)

--হ্যাহ! 

--অবাক হওয়ার কিছু নেই। 

--জানো, তোমার কথা বার্তায় মনে হয় তুমি অনেক ম্যাচিউর। কত স্মার্টলি কথা বলো তুমি। তাহলে আমাদের সাথে ওরকম আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলো কেনো?

--এটাই আমার ভাষা, বাদ দাওতো ওসব।

--হুম

--শুয়ে পড়ো।

.

পরদিন সবাই যার যার কাজে চলে যায়। বাসায় শুধু সানু বেগম আর মিষ্টি।

রোজকার মতো সময় কাটানোর জন্য মিষ্টি সানু বেগমের কাছে চলে যায়।

--মিষ্টি....।

--জ্বি আন্টি।

--তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো।

--জ্বি বলুন না।

--আমাদের পাশের বাসার ফাতেমা চাচিকে চিনো?

--হ্যা চিনিতো। কালও তো এসেছিলো।

--হুম।

--কিছু হয়েছে?

--হুম। 

--কি হয়েছে আন্টি?

--রাগ করিয়ো না প্লিজ।

--না না, বলুন প্লিজ।

--সবাই কানাঘুষা করছে, কেনো আমি একটা যুবতী মেয়েকে বাসায় রেখেছি! যেখানে আমার একটা যুবক ছেলেও আছে।

--

--সবাই বলছে একটা যুবতী মেয়েকে এভাবে ঘরের মধ্যে রাখা মোটেও ঠিক কাজ নয়।

মিষ্টি হালকা মুচকি হেসে জবাব দেয়,

--আমিও শুনেছি এটা, ওনারা ঠিকই বলছেন। আমি জানি আপনি আমায় খুব ভালোবাসেন। যদি মাঝেমধ্যে আপনাদের সাথে দেখা করতে আসি, আমার সাথে দেখা করবেন?

--আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই তুমি বলা শুরু করছো, ভারী বেয়াদব মেয়েতো তুমি।

মিষ্টি চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।

--তোমার কাছে একটা জিনিস চাইবো, দিবে?

--আপনারা আমায় না চাইতেও অনেক দিয়েছেন। আর আমি দিতে পারবো না? বলুন কি চান।

--সবার কানাঘুষা বন্ধ করতে চাই।

--আচ্ছা, আমি আজই চলে যাবো। 

--কোথায় যাবে?

--তা তো জানি না। যেদিকে দুচোখ যায়।

--তুমি তো দেখি বেশি পণ্ডিত। এতো কথা কেনো বলো?

--কোথায় আর যাবো বলুন। আমার তো কোনো ঠিকানা নেই। 

--কোথাও যেতে হবে না।

--তাহলে?

--সারাজীবনের জন্য আমার ঘরে থাকবে?

--আপনি যদি রাখেন। তবে যদি আমায় কিছু টাকা দিতেন, তাহলে আমি একটা ভাড়া বাসা নিয়ে থাকতে পারতাম। আর কেউ কানাঘুষা করতো না। আমি আগের চেয়ে আরো বেশি কাজ করে দিবো।

--এতো বেশি বুঝো কেনো তুমি? আমি কি জিজ্ঞেস করি শুধু তার উত্তর দিবে।

--আচ্ছা।

--আমার ঘরে সারাজীবনের জন্য থেকে যাবে?

--ইচ্ছে তো আছে, বাকিটা আপনার ইচ্ছা।

--আমার ছেলেকে বিয়ে করবে?

সানু বেগমের এমন কথায় মিষ্টি কেঁপে ওঠে। তার কথায় মিষ্টি একটু নয়, বেশ অবাক হয়।

আশ্চর্যবোধক ভঙ্গিতে সানু বেগমের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে।

--কিছু বলবে না?

--আমি কিছু বুঝতে পারছি না।

--দেখো, সেই প্রথম থেকেই তুমি আমার পছন্দ। সত্যি বলতে তুমি আমার ঘরে আসার আগে এই ঘরটা একদম ফাকা ফাকা ছিলো। এই ঘরে যেনো প্রানই ছিলো না। তোমার আগমনে আমার ঘরটা যেনো প্রান ফিরে পায়। আমি চাইনা আমার ঘরটা আবার আগের মতো মরা ঘর হোক।

--আন্টি, আমি জানিনা আমার কি জবাব দেওয়া উচিত। তবে এটা বলতে পারি যে আমার ওই যোগ্যতা নেই আপনার ঘরের বউ হওয়ার। 

--যোগ্যতা নিয়ে আমি কোনো প্রশ্ন করিনি। তোমায় আরো আগেই বলতাম, কিন্তু বলিনি তুমি কি না কি মনে করো, কিন্তু এখন তুমি ১৮ বছর বয়সী একটা মেয়ে। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার বয়স তোমায় হয়েছে। তাই তোমাকে এমন একটা প্রস্তাব দিলাম। এখন এত চাপ না নিয়ে পরে ভেবে চিন্তে আমায় জানিও।

--আপনিতো জানেনই, আমার আগেও এক বিয়ে হয়েছে। এরপরও আপনি আমায় আপনার ঘরের বউ বানাতে চান?

--দেখো মিষ্টি, ওটা তোমার অতীত, এমন তো নয় যে তোমার স্বামী বেচে আছে। সে তো মারা গেছে। তো এখন তোমার বিয়ে করতে অসুবিধা কোথায়? যদি আমাদের অথবা আমার ছেলেকে তোমার পছন্দ না হয়, তাহলে তুমি বলতে পারো। 

--কি যে বলেন আন্টি। আমি কি ওসব বলেছি? আপনারা আমার আশ্রয়দাতা, কত ভালো মনের মানুষ আপনারা। আর উনিও খুব ভালো মনের মানুষ। এমন একটা পরিবার আর স্বামী পাওয়া যে কারো জন্যই ভাগ্যের ব্যাপার। আমাকে একটু সময় দিন।

--আমি শুধু তোমায় আমার ইচ্ছাটা জানিয়েছি। বাকিটা তোমার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর।

.

মিষ্টি মাথা নিচু করে ছাদে চলে যায়। মেঘলা আকাশটায় আজ কেমন করে যেনো রোদ উকি দিচ্ছে। 

আকাশটা কি আবার পুরোপুরি মেঘে ছেয়ে যাবে? নাকি আড়ালে থাকা রোদগুলো আলো দিতে বেরিয়ে আসবে?

নিজের অজানতেই চোখ দিয়ে পানি পড়ছে মিষ্টির। আর মনে মনে ভাবছে...

আমার কপালে কি সত্যিই এমন কিছু আছে? নাকি ২ দিনের সুখ? নাকি আবার কিছু একটা হতে চলেছে আমার জীবনে? এই অভাগা কপাল নিয়ে জন্মেছি যে নিজের মা বাবা কে সেটাই জানি না, যাদের কাছে মানুষ হলাম তারাই একসময় আমায় ছেড়ে দিলো। এরা তো আমার আপন কেউ নয়, শুনেছি মাঝে মাঝে কিছু সম্পর্ক রক্তের সম্পর্কের চেয়েও মজবুত হয়। কি করা উচিত আমার? যার সাথে বিয়ে হওয়ার কথা বলছে সেও এখনো এই ব্যাপারে জানে না।

সে কি একটা কাজের মেয়েকে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে মেনে নিবে? নাকি মায়ের জোরাজুরিতে রাজি হয়ে বিয়ে করে পরে আমায় অবহেলা করবে!

বিয়ের পরের এমন অশান্তির কথা তো অনেক শুনেছি। কিন্তু তিনি মানুষটাতো এমন নয়। সে কি আমায় মেনে নিবে?

.

--মিষ্টি..... বৃষ্টি হচ্ছে, ভেতরে এসো।(সানু বেগম)

পেছনে দুহাত দিয়ে মাটিতে ভর করে উপরের দিকে মুখ করে চোখ বন্ধ করে বসে আছে মিষ্টি। পেছন থেকে সানু বেগম জোরে জোরে ডেকেই যাচ্ছে, কিন্তু মিষ্টি কান পর্যন্ত আওয়াজ পোঁছাচ্ছে না।

একটু পর সানু বেগম মিষ্টির সামনে এসে দাড়ায়।

--মিষ্টি.....

আচমকা সানু বেগমকে সামনে দেখে উঠে দাড়ায় মিষ্টি।

--জ্বি আন্টি।

--বৃষ্টিতে ভিজতেছো কেনো? ভেতরে চলো।

--জ্বি....

সানু বেগমের সাথে দৌড়ে ভেতরে গিয়ে দাড়ায় মিষ্টি।

--কি হয়েছে তোমার?

--কিছু হয়নিতো।

--কি ভাবছিলে ওতো?

--অতীতগুলো মনে পড়ছিলো।

--ভুলে যাও ওসব। তোমার সামনে পুরো ভবিষ্যৎ পড়ে আছে। এখন ওসব নিয়ে ভাবো।

--আমি না পারছি হ্যা বলতে, না পারছি না বলতে। আমার চেয়েও ভালো কাউকে ওনার জন্য বেছে নিতে পারবেন আপনি। 

--তোমার মতামত কি?

--

--বলো।

--

--তুমি কি আমাদের সাথে থাকতে পারবে না?

--আমি খুব চাই আপনাদের সাথে থাকতে।

--তাহলে সমস্যাটা কোথায়?

--আমি রাজি।

--আলহামদুলিল্লাহ..... এতক্ষণ এমন বললে কেনো?

--বুঝতে পারছিলাম না কি বলবো।

--আমি আমার ছেলের জন্য যাকে তাকে তো আর বউ করে আনতে পারি না। এই ৩ মাসে সারাক্ষণ আমাদের সাথেই ছিলে..। এমন মেয়েকে তো আমি হাত ছাড়া করতে পারি না। তুমিই আমার ছেলের জন্য পারফেক্ট। 

--উনি কি রাজি হবেন?

--ওটা তুমি আমার ওপর ছেড়ে দাও।

--আমার খুব ভয় করছে। জানি না আমার সাথে কি হতে চলেছে।

--পাগলি মেয়ে, এতো ভেবো না তো। 

--

--রাতে মামুন বাসায় আসুক, তার সাথে আমি কথা বলবো।

--আচ্ছা।

.

মিষ্টি আজ মামুনের আসার অপেক্ষায় আছে। সময় যেনো কোথায়ও থমকে আছে। এক চুলও নড়তে চাইছে না। 

সন্ধ্যায় রিয়া পড়ার টেবিলে বসা, আর মিষ্টি নিজের ডায়েরীটা নিয়ে বিছানার এক কোনায় বসে কি যেনো লিখছে।

হঠ্যাৎই কলিং বেলটা বেজে ওঠে।

ঘন্টা যেনো দরজায় নয়, মিষ্টির বুকের ভেতর বেজে ওঠে...। এক দৌড়ে গিয়ে দরজার সামনে দাড়ায়।

ওড়নাটা মাথায় দিয়ে আস্তে করে দরজা খুলে দেয়।

দরজা খুলে মিষ্টি মামুনের দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছে।

--কি হলো? ভেতরে আসবো না?

--হুম।

--তো সরো না। হা করে দাড়িয়ে আছো কেনো?

--ওহ, সরি। আসুন।

মামুনের হাত থেকে তার ব্যাগটা নিয়ে মিষ্টি রুমে ফিরে আসে।

--কে এলো? ভাইয়া?(রিয়া)

--হুম

--কি আনলো?

--কি জানি, দেখো ব্যাগে আছে।

--ওমা, ফুসকা.....।

--তাই?

--নাও।

--আমি খাবো না, তুমি খাও।

--কেনো?

--ভালো লাগছে না।

--কি হয়েছে?

--কিছু হয়নি, এমনি খেতে ইচ্ছে করছে না।

--তাহলে আমিই খাই.... 

বলেই রিয়া গপগপ করে খাওয়া শুরু করে দেয়।

মিষ্টি ধীরেধীরে মামুনের রুমের কাছে এসে দাড়ায়।

আজ কেমন যেনো লাগছে মিষ্টির..। দরজা দিয়ে উকি দিতেই মামুন মিষ্টিকে দেখে ফেলে।

--কে ওখানে?

মিষ্টি মুখে হাত দিয়ে চুপ করে দরজার পাশে দাড়িয়ে আছে।

--এই মেয়ে এদিকে আসো...।

মিষ্টির বুকটা কেপে ওঠে। এক্ষুণি হয়তো কাছে ডেকে ঝারি দিবে। 

ধীরেধীরে সে মামুনের সামনে এসে দাড়ায়।

--দরজায় উকি দিচ্ছিলে কেনো?

--সরি।

--কিছু বলবে?

--না।

--কোনো কারন ছাড়ায়ই এসেছো?

--

--কি হলো? চুপ করে আছো যে? আজ তোমাকে এরকম লাগছে কেনো? আসার পর থেকেই দেখছি কেমন করে আছো। মা বকেছে?

--না।

--তাহলে?

--আমি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো।

--কিহ? কেনো?

--আন্টি আমার বিয়ে ঠিক করেছে।

--কোথায়?

--জানি না।

--না জেনেই রাজি হয়ে গেছো?

--জ্বি।

--কেনো?

--আর কয়দিন থাকবো এই বাড়িতে, একদিন না একদিন তো চলেই যাবো। তাই এখনই চলে যাই। মায়া বাড়িয়ে তো লাভ নেই।

--তোমার অসুবিধা হচ্ছে এখানে?

--না।

--তাহলে কেনো?

--আন্টি বললো, কি করে মানা করি?

--মা বললো আর ওমনি বিয়েতে রাজি হয়ে গেলে? দাড়াও.. মা....... ও মা....... কই তুমি?

.গল্প :- #এক_মুঠো_রোদ (০৫)

লেখক :- #A_Al_Mamun

.


--মা বললো আর ওমনি বিয়েতে রাজি হয়ে গেলে? দাড়াও.. মা....... ও মা....... কই তুমি?

--আন্টিকে কেনো ডাকছেন? 

--জিজ্ঞেস করতে হবে, কেনো তোমার জোর করে বিয়ে দিচ্ছে।

--জোর করলো কই? আমিই তো রাজি হলাম।

--ওও আচ্ছা।

--আমি চলে গেলে আপনার কাজ গুলো কে করে দেবে? পারবেন না নিজের কাপড়গুলো নিজে ধুয়ে নিতে? নিজের ঘরটা নিজে গুছিয়ে রাখতে? সময় মতো নাস্তা করে অফিসে যেতে? 

--জানি না।

--সকালে এলার্ম দিয়ে ঘুমাবেন। আমি আর ডাকতে আসবো না। 

--সত্যিই চলে যাবে?

--সমস্যা কি? আন্টিকে বলবেন আরেকটা কাজের লোক আনতে।

--তোমায় কখনো কেউ কাজের লোক হিসেবে ট্রিট করেনি। তুমি এই ঘরেরই একজন সদস্য ছিলে।

--তাহলে আর কি বলবো, বিয়ে করে বউ নিয়ে আসেন। সে আপনার খেয়াল রাখবে।

--তোমার মতো হয়তো পারবে না।

--আমি আর আপনার খেয়াল রাখবো না। যাকে বিয়ে করবো শুধু তার খেয়াল রাখবো।

--মাকে একটু ডেকে দিবে?

--কেনো?

--এমনিই, দাও না।

--আপনার কি কিছু হয়েছে?

--না। একটু মাকে ডেকে দাও।

--আচ্ছা।

.

মিষ্টি দরজার বাহিরে এসে মুচকি হেসে ওঠে। 

সানু বেগমের রুমে এসে দেখে তিনি নামাজের পাটিতে বসে আছে। তার পাশে বসে মিষ্টি মুচকি মুচকি হাসতে থাকে।

--মিষ্টি, কিছু বলবে?

--উনি আপনাকে ডাকছে।

--কেনো?

--ওনাকে বললাম যে আপনি অন্য কোথায়ও আমার বিয়ে দিচ্ছেন। ওমনি ওনার মুড খারাপ হয়ে যায়।

--কেনো কেনো?

--আমি কি করে বলবো? 

--তোমাকে পছন্দ করে নাকি?

--জানি না।

--এই পর্যন্ত বিয়ের জন্য ৭-৮ টা মেয়ে দেখিয়েছি মামুনকে। একটাও তার পছন্দ হয়নি। তাহলে কি আমার আর আমার ছেলের পছন্দ এক?

--

--ওকে গিয়ে বলো আমি নামাজটা শেষ করে আসতেছি।

--আচ্ছা।

মিষ্টি আবার মামুনের কাছে ফিরে আসে।

--মা কই?

--উনি ব্যস্ত আছেন। আসবে না। বলেছে আমার বিয়ে নিয়ে যেনো আপনি কোনো কথা না বলেন।

--এমন কেনো বললো?

--তা তো জানি না। হাত মুখ ধুয়ে খেতে আসেন। শেষ বারের মতো আপনাকে খাবার দেই।

--আমার খুদা নেই। আমি বাহির থেকে খেয়ে এসেছি।

--মিথ্যা কেনো বলেন? আপনার মুখটা শুকিয়ে আছে। দেখেই বোঝা যায় আপনার খুদা লেগেছে।

--আর কিছু বোঝা যায় না?

--নাতো।

--নিজের রুমে যাও। আমার খাওয়ার ইচ্ছা নেই।

--রেগে যাচ্ছেন?

--না, যাও।

মিষ্টি বুঝতে পারে সত্যিই মামুনের মুড খারাপ হয়ে গেছে।

আস্তে করে বেরিয়ে মিষ্টি আবার সানু বেগমের রুমে ফিরে আসে।

--আন্টি শেষ?

--হুম..। চলো দেখি কেনো ডাকছে।

--ওনাকে বললাম আপনি যাবেন না কথা বলতে। আর বলেছেন উনি যেনো আমার বিয়ের ব্যাপারে কোনো কথা না বলে। ওমনি রেগে গেলো। বললো খাবে না।

--দেখো কি করেছে শয়তান মেয়েটা। 

--যাইয়েন না, দেখি কি করে।

--না গেলে আরো রেগে যাবে। চলো আমার সাথে।

--আমি কেনো?

--ওকে সব খুলে বলতে হবে না?

--আপনি বলেন। আমি থাকতে পারবো না। আমার লজ্জা করে।

--ওমা, তুমি না গেলে বলি কি করে?

--এখন বলিয়েন না। দেখি উনি কি করে। যদি সত্যিই উনি আমাকে পছন্দ করেন। তাহলে আমি দুপায়ে রাজি। আর একটু সময় দিন প্লিজ।

--দেখো তোমরা যা ভালো বোঝো।

মিষ্টি এগিয়ে গিয়ে সানু বেগমকে জড়িয়ে ধরে।

--অনেকদিন হলো মা ডাকতে পারিনা। খুব মা ডাকতে ইচ্ছে করছে।

--মানা করলো কে?

--আপনি যদি রাগ করেন।

--রাগ কেনো করবো?

--আচ্ছা মা, আমি উনার কাছে যাই। নাহয় রাগ করে হয়তো খাবারই খাবে না।

--আচ্ছা যাও।

.

মিষ্টি আবার মামুনের ঘরের দিকে পা বাড়ায়। সানু বেগম পেছন থেকে মিষ্টির চলে যাওয়া দেখছে আর ভাবছে। এমন একটা লক্ষ্মী মেয়েকে কি করে আমি হাতছাড়া করতাম? যার রুপে-গুনে কোনো অংশে কমতি নেই। একমাত্র সেই পারবে আমার সংসারটাকে সাজাতে।আমার মর্ডান মেয়ে চাই না, বেশি শিক্ষিত মেয়ে চাই না, বেশি জ্ঞানী মেয়ে চাই না। ঠিক যেমনটা চেয়েছিলাম তেমনটাই পেয়ে গেছি আমি। এবার শুধু বিয়েটা হওয়ার বাকি।

--আন্টি বলেছেন আপনাকে খাবারটা খেয়ে নিতে।

--আমার খুদা নেই।

--এই কয়দিনে যতটা বুঝলাম, আপনি সাজিয়ে মিথ্যে বলতে পারেন না। ধরা পড়ে যান।

--কথা না বাড়িয়ে নিজের রুমে যাও।

--রেগে যাচ্ছেন কেনো? অনেক কষ্ট করে রান্না করেছি। না খেলে আমি কালই চলে যাবো এই বাড়ি ছেড়ে। অবশ্য আমি গেলেই বা কি, আর না গেলেই বা কি। 

--তুমি কি আমার সাথে মজা করছো? 

--মজা কেনো করবো? সত্যি বলছি, আন্টি আজই আমাকে বিয়ের কথা বললো।

--খাবারটা টেবিলে রেখে নিজের রুমে যাও।

--আচ্ছা আমার বিয়ের কথা শুনে আপনি কেনো রেগে যাচ্ছেন?

--আমি কেনো রাগবো? 

--আপনি কি আমাকে পছন্দ করেন?

--কিহ? তোমাকে? আমার কি আর খেয়ে দেয়ে কাজ নাই? যে তোমাকে পছন্দ করবো! নিজের সীমানা অতিক্রম করো না।

মিষ্টি যেনো একটা ধাক্কা খেয়ে ওঠে। মামুনের মুখে এমন কথা মিষ্টি আসা করেনি।

মাথা নিচু করে রুম থেকে বেরিয়ে এসে সোজা নিজের রুমে চলে যায়।

পেছন থেকে মামুন কয়েকবার ডাক দিলেও মিষ্টি পেছন ফিরে তাকায়নি।

.

--মিষ্টি, কাঁদছো কেনো? কি হয়েছে?(রিয়া)

--

--এই মিষ্টি।

--কিছু হয়নি, এমনিই।

--আরে, এমনি এমনি কেউ কাঁদে? আম্মু কিছু বলেছে?

--না।

--ভাইয়া?

--না।

--তাহলে? 

--কিছু হয়নি।

--আমি এক্ষুণি আম্মুকে ডাকে আনছি।

বলেই রিয়া দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। মিষ্টি চেষ্টা করেও রিয়াকে আটকাতে পারেনি।

চোখ মুছে বিছানার এক কোনায় বসে আছে সে। সানু বেগম এসে মিষ্টির পাশে বসে।

মিষ্টি তখনো নিচের দিকে তাকিয়ে বাসে আছে। দুচোখ তখনো পানিতে ভরে আছে।

--মিষ্টি, কি হয়েছে?

দ্রুত দুহাত দিয়ে চোখ মুছে হালকা মুচকি হাসি দিয়ে মিষ্টি বলে ওঠে

--কই কিছুনা তো। 

--কাঁদছো কেনো?

--বাবা মাকে খুব মনে পড়ছিলো।

--মিথ্যা কবে থেকে বলা শুরু করেছো? আমি দরজার বাহিরেই ছিলাম।

ওমনি মিষ্টি সানু বেগমকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দেয়।

--আম্মু, কি হয়েছে? ও কাঁদছে কেনো?(রিয়া)

--তোর ভাই বকছে ওকে।

--ভাইয়া কেনো বকবে ওকে?

--তোর ভাইকে গিয়ে জিজ্ঞেস কর।

রিয়া হনহন করে মামুনের রুমে চলে যায়।

--আমার আর আপনাকে মা ডাকা হলো না।

--কে বলেছে হবে না? সব হবে, আমি গিয়ে ওর সাথে কথা বলবো।

--কি হবে বলেন। উনি মন থেকে কখনোই আমাকে মানতে পারবেন না। জোর করে কি সব হয়? দোষটা আমারই, ভুলেই গিয়েছিলাম আমার সীমানা কতটুকু। 

--এত কিছু বুঝি না। তুমিই হবে আমার ঘরের বউ।

--জোর করবেন না প্লিজ, ওনার অমতের বিয়েটা হলে এই সংসারটা টিকবে না। অনেক কষ্ট সহ্য করেছি। আর পারবো না, মরেই যাবো হয়তো।

--এভাবে কেনো বলছো? আমরা কি এতটাই খারাপ?

--কি বলছেন এসব? আমি কি এমন কিছু বলেছি? 

--ওকে আমি বুঝিয়ে বলবো।

--থাক, আমি কাল সকালে চলে যাবো।

--চলে যাবে? কোথায়?

--জানি না, এখানে থেকে আমি আপনাদের মায়ায় জড়িয়ে পড়েছি। আমাকে অনেক দুর যেতে হবে। সব কিছু ভুলে যেতে হবে।

--কি বলছো এসব? তুমি কোথাও যাবে না, এখানেই থাকবে।

--আর সম্ভব না। 

--দেখো মেয়ে, মুখে মুখে তর্ক করবে না। যা বলছি তা শুনো।

--প্লিজ আন্টি।

--আমি আর তোমায় বিয়ের জন্য জোর করবো না। তবুও যেও না আমাদের ছেড়ে।

--কি করবো আমি এখানে থেকে? 

--আমাদের ছেড়ে গিয়ে কি করবে?

--জানি না।

--তুমি এখানেই থাকবে... আর কোনো কথা নয়...। প্রয়োজনে মামুনের সাথে কথা বলবে না। শাস্তি ওকে দিবো, তুমি কেনো শাস্তি পাবে?

--কি বলছেন?

--হুম ঠিকই বলছি, ওর এত সাহস হয় কি করে তোমাকে এমন কথা বলার? ওকে তো শাস্তি পেতেই হবে। কাল থেকে ওর কোনো কাজ তুমি করবে না। খাবার দিবে না। তখন বুঝবে তোমার গুরুত্ব ওর কাছে কতটুকু। আমি আর রিয়া তো করবোই না। বুঝবে মজা।

মিষ্টি মুচকি হেসে ওঠে.....

--কি বলেন, উনি পারবেন না।

--এটাই তো ওর শাস্তি।

পেছন থেকে রিয়া রুমে প্রবেশ করে...।

--আম্মু, তোমার ছেলে আমার কোনো কথার জবাব দেয় না। চুপ করে বসে আছে।

সানু বেগম রিয়া আর মিষ্টিকে সামনে বসিয়ে সোজাসুজি বলে দেন, কাল থেকে মামুনের সাথে কথা বন্ধ, ওর কোনো কাজে সাহায্য করা যাবে না।

মিষ্টি আর রিয়াকে রুমে রেখে সানু বেগম নিজের রুমে চলে যান।

সেই রাতে মামুনও আর রুম থেকে বের হয়ে কারো সাথে কথা বলেনি। 

.

পরদিন সকাল সাড়ে নয়টায় মামুনের ঘুম ভাঙে, লাফ দিয়ে উঠে মাকে ডাকতে থাকে, আর চিৎকার করে বলতে থাকে কেনো তাকে কেউ ৯টার আগে ডেকে দেয়নি।

কোনো দিক থেকে জবাব আসেনি। দ্রুত তৈরী হয়ে নাস্তার টেবিলে এসে দেখে মিষ্টি রিয়া আর মা সবাই নাস্তা করে চলে যাচ্ছে।

--মিষ্টি....

-(চুপ)

--রিয়া....

--(চুপ)

--আরে, কেউ জবাব দিচ্ছো না কেনো? বয়রা হয়ে গেলে নাকি সবাই?

--

--আমার নাস্তা কই?

--তোর জন্য নাস্তা নিয়ে কেউ বসে নাই, টেবিলে রাখা আছে, নিয়ে নে।(রিয়া)

--বাবারে, গলার আওয়াজ এত বদলে গেলো কেনোরে?

কেনো উত্তর না দিয়ে রিয়া স্কুলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে।

--মা.......

--কি হয়েছে?

--দুপুরে চলে আসবো আজ। কি রান্না করবে?

--রান্না আমি করি না। যে রান্না করে তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস কর।

--কি ব্যাপার? সবাই এতো রেগে আছো কেনো?

কোনো জবাব না দিয়ে সানু বেগমও নিজের রুমের দিকে হাটা দেয়।

--যাব বাবা... কি হয়ে গেলো আজ সবার? মিষ্টি......

--

--মিষ্টি...... 

--

মিষ্টি চেয়েও যেতে পারছে না, সানু বেগম শক্ত করে মিষ্টির হাত চেপে ধরে বসে আছে।

একটু পর মামুন কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে।

--এত লাফালাফি করো কেনো? কাল রাতে না তোমায় বকেছিলো।(সানু বেগম)

--ডাকলো যে!

--ডাকুক। যাবে না ওর কাছে। তোমার কাছে এসে ক্ষমা না চাইলে কথা বলবে না।

--কি যে বলেন।

--ঠিকই বলছি। চলো রান্নাটা বসিয়ে দেই।

--আপনি বিশ্রাম করুন, আমি করতেছি।

--এখন না, বিশ্রাম করবো যেদিন তোমায় সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পারবো সেদিন। তখন তোমার সংসার তুমি সামলাবে, আমি আসবো না মাঝখানে।

--ধুর, শুধু বিয়ে বিয়ে করেন। চলেন.....

.

দুপুরে মামুন অফিস শেষে বাসায় ফিরে আসে।

মিষ্টি আর সানু বেগম দুজনই খেয়ে যার যার রুমে চলে যায়।

--মা, খুদা লেগেছে।

--

--ও মা....।

--চেঁচাস কেনো? টেবিলে রাখা আছে। খেয়ে নে।

--তোমরা খাবে না?

--আমাদের খাওয়া শেষ।

--ওমা, বললাম আজ দুপুরে আসবো, তবুও আমাকে রেখে খেয়ে নিলে?

--তো তোর জন্য বসে থাকতে হবে?

--এতো রেগে আছো কেনো সকাল থেকে? কি করেছি আমি?

--জানি না, জ্বালাস নাতো, যা।

--বাপরে...। কি যে করলাম আমি।

খাবার টেবিলে বসে মামুন মিষ্টিকে ডাক দেয়।

মিষ্টি দৌড়ে এসে মামুনের সামনে দাড়ায়।

--খেয়েছো?

--জ্বি।

--মা এতো রাগ দেখাচ্ছে কেনো আমার সাথে? কিছু হয়েছে?

--জানি না।

--সকালে আজ আমায় ডাকলে না কেনো?

--আমাকে কেনো ডাকতে হবে? আন্টি আমাকে আপনাকে ডাকার কাজ দেয়নি। 

--বাপরে.. কি হয়ে গেলো সবার? সবাই রেগে আছে। কি করেছি আমি?

--জানি না।

বলেই মিষ্টিও নিজের রুমের দিকে হাটা দেয়।

.

টেবিলে রাখা খাবার খেয়ে মামুন সোজা মায়ের রুমে চলে যায়।

--মা....

--

--ও মা... কি হয়েছে বলো তো। 

--কি?

--আমার সাথে কেউ কথাই বলছো না, বললেও জবাব দিয়ে চলে যাচ্ছো। কি হয়েছে?

--তোর সাথে কথা বলার কোনো ইচ্ছে নাই।

--কেনো? কি করেছি আমি?

--কাল রাতে মিষ্টিকে কি বলেছিলি?

--কি বলেছি?

--মনে করে দেখ।

--সে তোমায় বিচার দিয়েছে?

--না,আমি ওখানেই ছিলাম। এভাবে কাউকে ছোট করে কথা বলা কে শিখিয়েছে তোকে? এমন শিক্ষাতো তোকে আমি দেইনি।

--আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। সত্যিই আমি এটা বলতে চাইনি। মাথাটা গরম হয়ে গেছিলো, তাই কি বলতে কি বলে ফেলেছি জানি না।

--কেনো মাথা গরম ছিলো?

--ওকে অন্য কোথাও বিয়ে দিচ্ছো, আমাকে কেউ জানালেও না।

--জানালে কি করতি?

--আমি তো এই ঘরেরই সদস্য তাই না! আমি জানতে পারি না?

--কোথাও ওর বিয়ে ঠিক হয়নি, ও দুষ্টুমি করেছিলো তোর সাথে।

--দুষ্টুমি? 

--হুম।

--বিয়ে নিয়ে?

--হুম, আমিই মিষ্টির বিয়ের কথা তুলেছিলাম। তাই তোর সাথে গিয়ে দুষ্টুমি করলো।

--এতদিন আমার পেছনে লেগেছিলে বিয়ে নিয়ে, এখন মিষ্টিকে নিয়ে লেগেছো। মেয়েটা আমাদের মেহমান, কে বলেছে তোমায় ওর বিয়ে নিয়ে কথা বলতে?

--ওকে তো আমার ভীষণ পছন্দ, একদম লক্ষ্মী একটা মেয়ে। আজ কালতো এমন মেয়ে পাওয়াই যায় না। তাই বিয়ের কথা বললাম ওকে।

--এত লক্ষ্মী মেয়ে হলে কেনো তাড়িয়ে দিতে চাচ্ছো?

--তোকে তো কত মেয়ে দেখালাম বিয়ের জন্য, তোর তো কেনো মেয়েই পছন্দ হয় না। মিষ্টিকে তোর পছন্দ হয়?

--কি যে বলো না মা, এসব পছন্দ অপছন্দ নিয়ে আমি কখনো ভাবি নি। ও থাকুক এবাড়িতে, এত বিয়ে বিয়ে করিও না।

--মেয়েটার একটা ভবিষ্যৎ আছে, তাছাড়া সে এবাড়ির কাজের মেয়ে না। বিপদে পড়েই মেয়েটা এখানে আছে। আর তার এই বিপদের সুযোগ নেওয়াটা অমানুষের কাজ। এই কাজ আমি করতে পারবো না। যদি তুই রাজি থাকিস তাহলে আমাকে বল, আমি মিষ্টিকে জানাই। আর না হয় যদি পারি মিষ্টির অনুমতি নিয়ে ওকে অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে দিবো। এভাবে আর না। 

.

.গল্প :- #এক_মুঠো_রোদ (০৬)

লেখক :- #A_Al_Mamun

.

--মেয়েটার একটা ভবিষ্যৎ আছে, তাছাড়া সে এবাড়ির কাজের মেয়ে না। বিপদে পড়েই মেয়েটা এখানে আছে। আর তার এই বিপদের সুযোগ নেওয়াটা অমানুষের কাজ। এই কাজ আমি করতে পারবো না। যদি তুই রাজি থাকিস তাহলে আমাকে বল, আমি মিষ্টিকে জানাই। আর না হয় যদি পারি মিষ্টির অনুমতি নিয়ে ওকে অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে দিবো। এভাবে আর না। 

--আমি সেটা বলিনি, এখনি কেনো বিয়ে? কিছুদিন সময় নাও না।

--সম্ভব না, প্রতিবেশীরা বাজে মন্তব্য করছে।সম্পর্কে ও তোর বোন নয়, একটা যুবতী মেয়ে সে। এভাবে ওকে ঘরে রাখা সম্ভব না।

--তাহলে এখন কি করতে হবে?

--যদি মিষ্টিকে তোর পছন্দ হয়, তাহলে এই বিষয়ে তাকে জানাতে হবে। আমি চাই সে এখানেই থাকুক, এবাড়ির বউ হয়ে।

--কিন্তু মা, তার সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। তার পরিবার সম্পর্কেও কিছু জানি না। কিভাবে???????

--দেখ বাবা, ৩-৪ মাস যাবত দিনের বেশিরভাগ সময় আমি মিষ্টির সাথে কাটিয়েছি। একটা মানুষকে জানতে-বুঝতে এটা কম সময় নয়। আমার ওপর ভরসা করতে পারিস।

--কি করতে হবে এখন???

--সেটা আমি দেখতেছি। কাল ওকে যা যা বলেছিস এখন তার জন্য ওর কাছে ক্ষমা চেয়ে নে।

--এখন?

--হুম, যা।

--আচ্ছা।

.

মায়ের রুম থেকে বেরিয়ে মামুন মিষ্টির রুমের দিকে যায়। দরজাটা খোলা, মিষ্টির বিছানার এক কোনায় গুটি মেরে বসে আছে।

দরজার সামনে এসে মামুন গলার আওয়াজ দেয়, 

মামুনকে দরজার সামনে দেখে মিষ্টি বিছানা থেকে উঠে দাড়ায়।

--আসবো?

--জ্বি আসুন।

ধীরে পায়ে মামুন মিষ্টির সামনে এসে নিচেই বসে পড়ে।

--আমার ওপর কি রেগে আছো?

--না।

--তাহলে আজ আমাকে ঘুম থেকে জাগাতে এলে না যে?

--সীমানা অতিক্রম করতে চাইনি।

--সরি।

--কেনো?

--মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছিলো। বলতে চাইনি এমন কথা।

--তার জন্য সরি বলতে হবে কেনো? আপনি তো ভুল কিছু বলেন নি।

--ভুলই বলেছি, আসলে তোমার বিয়ের কথা শুনে মেজাজ বিগড়ে গিয়েছিলো। কি বলেছি নিজেও জানি না।

--আমার বিয়ের কথা শুনে আপনার মেজাজ কেনো বিগড়ায়?

--তা জানি না।

--আর কিছু বলবেন?

--আমায় ক্ষমা করেছো?

--সত্যি বলতে আপনার ওপর আমার কোনো রাগ নেই যে ক্ষমা করতে হবে। আপনারা আমার জন্য এত করতেছেন, কি করে আমি আপনার ওপর রাগ করবো বলুন। ছোট বেলা থেকেই কারো ওপর রাগ দেখাতে পারতাম না, ওরকম কেউ আমার জীবনে ছিলোই না। তাই কারো ওপর আমার রাগ হয়না।

--আমার ওপর রাগ দেখাতে পারো।

--কেনো?

--এমনিই, 

--না থাক, আমার ওই অধিকার নেই আপনার ওপর রাগ দেখানোর।

--সত্যিই আমি অনুতপ্ত, এমন একটা কথা তোমায় বলেছি যা আমার মাথায়ই ছিলো না। 

--বাদ দিন না, ওসব আমি কত আগেই ভুলে গেছি ।

--তোমার মুখ দেখলে বোঝা যায়, রেগে আছো আমার ওপর।

--না আমি রেগে নেই। 

--তাহলে একটু হাসো।

--কেনো হাসবো?

--বাব্বাহ, এতো রাগ। আগেতো কখনো দেখিনি। 

--আমি থাকবো না আর এখানে, চলে যাবো।

--কোথায় যাবে?

--জানি না। যেদিকে দুচোখ যায়।

--তাহলে মা আমায় মেরে বাড়ি থেকে বের করে দিবে। আচ্ছা চলো আমরা একসাথে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। 

--আপনি কেনো যাবেন?

--তোমার খেয়াল রাখতে।

--আমার খেয়াল আমি রাখতে পারবো।

--পারবে না। মা বলেছে তোমার খেয়াল রাখার দায়িত্ব নিতে।

--সব শুধু মা বলে, নিজের থেকে কিছুই করেন না?

--করি তো।

--কি করছেন শুনি তো।

--মা বলার আগে থেকেই তোমায় পছন্দ করি।

--মিথ্যা বলবেন না। 

--সত্যি বলছি।

--তাহলে কাল আমাকে এমন কেনো বকা দিলেন?

--বললাম তো তোমার বিয়ের কথা শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছিলো।

--তাই বলে কি আমার বিয়ে হবে না?

--আমার মা সারাদিন খুব একা থাকে। তার একজন সঙ্গির খুব প্রয়োজন। তুমি চলে গেলে আমার মায়ের দেখাশোনা কে করবে? আমাকে সব কাজে সাহায্য কে করবে? পারবে রিয়াকে একা করে চলে যেতে?

--না, খুব কষ্ট হবে। এত ভালোবাসা আমি কখনো পাইনি যতটা আপনারা দিয়েছেন। আমারও তো খুব ইচ্ছে করে এইবাড়িতে সারাজীবন থেকে যেতে। আপনাদের ছেড়ে কোথাও না যেতে।

--এই বাড়ির বউ হবে?

নিচের দিক থেকে মাথা তুলে মিষ্টি মামুনের চোখের দিকে তাকায়। ওমনি মামুন চোখ নামিয়ে নেয়।

--আন্টি শিখিয়ে দিয়েছে তাই না?

--শিখিয়ে দেয় নি, আন্টি অনুমতি দিয়েছে। বাকিটা আমারই মনের কথা।

--কি এমন দেখলেন আমার মধ্যে? যে বিয়ের চিন্তা করছেন। একটা কাজের মেয়েকে বিয়ে করলে কেউ আপনাকে ভালো বলবে না।

--কাজের মেয়ে হলে কবে? আমি দেখেছি মা নিজের সন্তানদের চেয়ে তোমায় বেশি ভালোবাসে। তোমার ব্যবহার, নমনীয়তা, সাংসারিক মনোভাব আর বিশেষ করে তোমার মায়া ভরা মুখটা, এর চেয়ে বেশি আর কি চাইতে পারি? সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বাসায় ফিরে যখন দরজায় তোমায় দেখি, মনটা নিমিষেই ভালো হয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে সবার প্রথমে তোমার মুখটা দেখা, খেতে বসলে পাতে খাবার বেড়ে দেওয়া, গোসল শেষে রুমে এসে নিজের জামা চোখের সামনে রাখা, সারাক্ষণ চোখের সামনে তোমার হাসি মাখা মুখটা দেখাতে আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এই অল্প কিছুদিনেই তোমার প্রতি অনেকটা দূর্বল হয়ে গেছি। পারবো না তোমাকে ছাড়া থাকতে। ভালোবেসে ফেলেছি তোমায়।

--বলেননি তো কখনো।

--সাহস পাইনি। তোমার বিশ্বাস ভাঙতে চাইনি। এমনিতেই পুরুষ মানুষ তুমি ঘৃণা করতে, সেই কাতারে আমি পড়তে চাইনি। তবে আজ এই সুযোগ হাতছাড়া করতে পারি নি। 

--আমার ভয় করছে খুব।

--কেনো? 

--জানি না, আপনি যা বলতেছেন এসব শুনে আমার খুশি হওয়া উচিত নাকি কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। 

--আমায় বিশ্বাস করো?

--হুম।

--তোমার হাতটা দেবে?

--কেনো?

--দাও না।

--হুম

মিষ্টির হাতটা নিজের হাতের মাঝে নিয়ে...

--এই যে তোমায় ছুয়ে কথা দিলাম। অতীতে যতটা কষ্ট পেয়েছো, তার ১% ও তোমায় পেতে দিবো না। মাথায় করে রাখবো তোমায়। জীবনের শেষ সময়টুকু পর্যন্ত তোমায় ভালোবেসে যাবো। 

.

মামুনের চোখের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি চোখের পানি ছেড়ে দেয়। মামুনও মিষ্টির দিকে একনজরে চেয়ে আছে। মেয়েটাকে কতটা নিশ্পাপ লাগছে।

--আচ্ছা, কাঁদলে তোমায় এত সুন্দর লাগে কেনো? 

--কই লাগে?

--খুব সুন্দর লাগছে তোমায়।

--মোটেও না।

--আমি কিন্তু তোমায় রোজ কাঁদাবো।

--তাহলে আমি চলে যাবো।

--কোথায়?

--অনেক দুরে।

--পাগলি.... আজ সারাদিন আমার ওপর রাগ করে ছিলে?

--হুম।

মিষ্টির হাতটা ছেড়ে দিয়ে মামুন রিয়ার পড়ার টেবিলের দিকে এগিয়ে যায়। টেবিলের ওপর রাখা ফুলদানি থেকে একটা লাল গোলাপ নিয়ে মিষ্টির সামনে এগিয়ে আসে।

গোলাপটা মিষ্টির দিকে এগিয়ে দিয়ে হাটু গেড়ে বসে.......

--এই ছোট্ট জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছো, দুঃখ পেয়েছো, কাছের মানুষদের হারিয়েছো, 

এই জোয়ারভাটার মাঝে পড়ে অনেক কিছুই শিখেছো। তবুও সাহস করে তোমায় একটা অনুরোধ করতে চাই। আমায় একবার সুযোগ দিয়ে তোমার নিশ্পাপ জীবনে আর একবার ঝুঁকি নিয়ে দেখো। কথা দিলাম, এটাই তোমার জীবনের শেষ ঝুঁকি। 

--কিছুই বুঝিনি।

--🙄🙄

--এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো?

--কত সুন্দর করে প্রপোজ করলাম।

--ওও আচ্ছা, প্রপোজ করেছেন? এত কঠিন করে বলার কি আছে? আমি বুঝিনা এমন।

--আচ্ছা সরি, আবার বলছি।

--কি?

--আমায় কি আপনার জীবনে আসার সুযোগ দিবেন? খুব ইচ্ছা জীবনের বাকি দিন গুলো আপনার সাথে কাটানোর। হবেন আমার মনের সিংহাসনের রাজকুমারী? "Will You Marry Me?"

লজ্জা পেয়ে মাথাটা নিচুৃ করে মামুনের হাত থেকে ফুলটা নিয়ে মিষ্টি একটু দুরে গিয়ে দাড়ায়।

--উত্তরটা পেলাম না।

--সব কি বলতে হয়? বুঝে নিতে পারেন না?

--না, বলো।

--না, পারবো না।

--কেনো?

--আমার বুঝি লজ্জা করে না?

--আচ্ছা? আপনি লজ্জা পাচ্ছেন?

--হুম, খুব।

--আচ্ছা থাক, আমি আর কিছু বলবো না। এই লজ্জা ভাঙানোর কাজটা বিয়ের পরের জন্য তুলে রাখলাম। 

--কেনো?

--বিয়ের পরেই বলি, এখন কিছু বলবো না।

--জমাচ্ছেন?

--হুম।

....

--মামুন............

নিজের রুম থেকে সানু বেগম মামুনকে ডাকতে থাকে। 

--এই যান যান, আন্টি ডাকতেছে।

--হুম। এক্ষুণি মাকে বিয়ের ব্যাপারে বলবো।

--আপনার যা ইচ্ছা।

--কেনো? তোমার ইচ্ছা নেই?

--যানতো, আন্টি কতক্ষণ যাবত ডাকতেছে।

--যাচ্ছি।

মামুন কিছুক্ষণ মিষ্টির দিকে চেয়ে থেকে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।

.

রাতে মামুন আর মিষ্টি দুজনকেই সানু বেগম তার রুমে ডাকেন।

--মা ডেকেছো?(মামুন)

--হুম, মিষ্টি কই?

--এই তো আন্টি, আমি চলে এলাম।(মিষ্টি)

--তুমি না কাল আমাকে মা ডেকেছিলে, আবার আন্টি কেনো?

--অ্যাহ! কাল থেকেই মা ডাকা শুরু করছে?(মামুন)

--চুপ করতো।

--সরি আন্টি, এখন থেকে মা ডাকবো।

--আবার?

--সরি মা।

--বসো এখানে।

--আমাদের ডাকলে যে?(মামুন)

--কিছু কথা ছিলো, তাই ডাকলাম।

--হুম বলো না।

--যেহেতু তোরা দুজনই বিয়েতে রাজি, তাই আমি আগামী শুক্রবারই তোদের বিয়ে দিয়ে দিতে চাই।

--এত তাড়াতাড়ি?

--হুম, আমার মনে হয় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়েটা হয়ে গেলেই হয়।

--তুমি যেমনটা ভালো বোঝো।

--মিষ্টি, তোমার কোনো আপত্তি আছে?

--না মা। আপনি যা ভালো মনে করেন।

--তাহলে আর ৪ দিন পরই তোদের বিয়ে।

--অনুষ্ঠান হবে না মা?

--আমাদের তো কোনো আত্মীয় স্বজনই নেই, অনুষ্ঠান করে কি করবো? কয়েকজন প্রতিবেশীকে দাওয়াত দিয়ে কাজি ডেকে বিয়েটা সেরে ফেলবো। 

--আচ্ছা।

--অনেক রাত হয়েছে, যা।

--আচ্ছা।

মিষ্টি আর মামুন দুজন দুজনের রুমের দিকে হাটা দেয়।

--এতো রাতে মা তোমায় কেনো ডাকলো?(রিয়া)

--তোমার ভাই তোমায় কিছু বলেনি?

--নাতো।

--মা?

--না। কেনো? কি হয়েছে?

এমন সময় মামুন রিয়ার রুমে প্রবেশ করে।

--ওই গাঁধা, এতরাতে এখানে কি? (রিয়া)

--তোকে বলতে হবে?

--তো কাকে বলবি?

--তোর বান্ধবীকে।

--আচ্ছা? কি বলবি?

--আচ্ছা বনু, ওকে তোর কেমন লাগে রে?

--কোন বিষয়ে?

--যদি তোর ভাবি হয়, কেমন হবে?

রিয়া মুখে হাত দিয়ে মামুনকে ইশারা করে চুপ করার জন্য।

--কি হলো?

--যা বাইরে যায়, কি সব বলতেছিস?

--কেনো? ওকে তোর পছন্দ না?

রিয়া বিছানা থেকে উঠে এসে মামুনের হাত ধরে টেনে রুমের বাহিরে নিয়ে আসে।

--কি সব উল্টাপাল্টা বলতেছিস? মিষ্টি কি ভাববে? মেয়েটা এসবে একদম অভ্যস্ত নয়, কষ্ট পাবে। মজা করিস না ওর সাথে।

.

.গল্প :- #এক_মুঠো_রোদ (০৭)

লেখক :- #A_Al_Mamun

.

রিয়া বিছানা থেকে উঠে এসে মামুনের হাত ধরে টেনে রুমের বাহিরে নিয়ে আসে।

--কি সব উল্টাপাল্টা বলতেছিস? মিষ্টি কি ভাববে? মেয়েটা এসবে একদম অভ্যস্ত নয়, কষ্ট পাবে। মজা করিস না ওর সাথে।

--মিষ্টিকে ভাবি হিসেবে তোর পছন্দ হয়?

--হয়ে লাভ কি? তোর কপালে এমন মেয়ে নাই। 

--বিয়ে করবো মিষ্টিকে।

--স্বপ্নই দেখে যা। 

--বিশ্বাস হয় না?

--না। আম্মু তোর জন্য ৭-৮টা প্রোপজাল নিয়ে এসেছিলো। একটাও তো তোর পছন্দ হয়নি। এখন বিয়ের জন্য পাগল হয়ে গেলি কেনো? 

--ওদের মধ্যে তো আর মিষ্টি ছিলো না।

--চাপাবাজি বন্ধ করে রুমে যা, ঘুমাবো।

--আচ্ছা...।

বলেই রিয়াকে পাশ কাটিয়ে মামুন রিয়ার রুমে ঢুকে পড়ে।

--আরে, এখনে না। তোর রুমে যা।

কে শোনে কার কথা। মামুন সোজা মিষ্টির সামনে গিয়ে বসে।

রিয়াও পেছন পেছন এসে মামুনের পেছনে দাড়ায়।

--ভাইয়া, ঘুম পাচ্ছে, এখন যা।

--যাবো তো, তোর ভাবির একটু খেয়াল রাখিস।

পেছন থেকে রিয়া মামুনের পিঠে চিমটি কেটে ওঠে।

--যা এখান থেকে।

--যাচ্ছি বাবা, তুই শুধু আমার রুমে যাইস। দেখবি আমিও প্রতিশোধ নিবো। 

রিয়া পেছন থেকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে মামুনকে বাহিরে এনে দরজা লাগিয়ে দেয়

পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে মিষ্টি ওদের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসতেছে।

--ভাইয়ার কথায় কিছু মনে করিও না। ও এমনই, শুধু মজা করে।

--কিন্তু এটা তো মজা না। উনি সত্যিই এমন বলেছে।

--কি সত্যি?

--তুমি কি আসলেই কিছু জানো না?

--নাতো।

--সকালে তোমার আম্মুকে জিজ্ঞেস করিও।

--না না, এখন বলো কি হয়েছে।

--তোমার ভাইয়া যা বলেছেন সবই সত্যি।

--কোন ব্যাপারে? ভাবি?

--হুম।

--কি বলছো? কিভাবে?

--কাল তোমার আম্মু ডেকে আমায় জিজ্ঞেস করলো আমি রাজি কিনা।

--তাই? রাজি হয়ে যাও প্লিজ, না করিও না।

--আগামী শুক্রবার বিয়ে।

--অ্যাহ? বিয়েও ঠিক করে ফেলেছে? 

--হুম।

--আমিকে তো কেউ কিছুই বললো না। 

--একটু আগে আমায় ডেকে বললো। 

--যাক বাবা, ভালো হয়েছে। ওই গাধা কিভাবে তোমায় রাজি করালো?

--প্রপোজ করেছিলো দুপুরে...। 

--ইসসস, এত তাড়াতাড়ি রাজি না হয়ে শয়তানটাকে নাকে রশি লাগিয়ে ঘুরাইতা। আমায় অনেক জ্বালিয়েছে।

--তাই?

--হুম। আমার তো সেই খুশি লাগতেছে। আমার ভাইয়ের বউ হিসেবে তুমিই পারফেক্ট। আমি তো অনেক আগে থেকেই মনে মনে ভাবতাম তোমায় যদি ভাইয়ার বউ বানাইতে পারতাম। কিন্তু কি না কি মনে করো এই ভয়ে কখনো জিজ্ঞেস করতে পারিনি। এখনতো আর ভয় নেই, সারাজীবন আমাদের সঙ্গেই থাকবে।

--আমারো খুব খুশি লাগছে। যা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। 

--ভাইয়াকে পেয়ে?

--একটা পরিবার পেয়ে। কখনো ভাবিনি আমার একটা পরিবার হবে। যাদের নিয়ে আমি ভাববো, যাদের ওপর আমার অধিকার থাকবে। ভেবেছিলাম জীবনটা বুঝি শেষই হয়ে যাবে। পুরো অন্ধকার হয়ে গিয়েছিলো জীবনটা। শুধু #এক_মুঠো_রোদ এর অপেক্ষায় ছিলাম। আল্লাহর কাছে লাখো-কোটি শুকরিয়া আমায় একটা পরিবার দেওয়ার জন্য। 

--ধুর, এখানে কান্না করার কি আছে? আমরা সবাইও খুব খুশি তোমায় পেয়ে। আল্লাহ কার ভাগ্যে কি রেখেছেন তা আমরা কেউ জানি না। আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। 

--হুম।

--এখন আর কি, ইনজয় করো। চুটিয়ে প্রেম করো দুজন।

--যাহ, কি যে বলো না!

--ওমা, এত লজ্জার কি আছে? 

--আমি পারবো না এসব প্রেম টেম করতে। 

--বিয়ের তো এখনো ৪ দিন বাকি। দেখবো আপনি কি করেন। 

--কিছুই করবো না।

--দেখা যাবে।

.

পরদিন সকালে মিষ্টি নাস্তা বানানো শেষে প্রতিদিনের মতো মামুনকে ঘুম থেকে জাগাতে যায়। প্রতিদিনের মতো জাগাতে আসলেও আজ অনুভূতিটা প্রতিদিনের মতো না।

কেমন যেনো সারা শরীরে শিহরণ বয়ে চলছে। মিষ্টি মামুনের রুমটা চারদিকে ভালো করে লক্ষ্য করে। কিছুদিন পরতো এই রুমটা তারই হবে। 

রুমটায় ঘুরে ঘুরে মনে মনে ভেবে রাখে কোন জায়গায় কি জিনিস রাখবে, কিভাবে সাজাবে, কি পরিবর্তন করবে। ধীরেধীরে মামুনের কাছে এসে ঠায় দাড়ায়।

কিছুদিন পরতো মানুষটাও আমার হবে, সম্পূর্ণ আমার। যার ওপর শুধু আমার অধিকার থাকবে, যাকে মনের সব কথা খুলে বলতে পারবো, যার বুকে মাথা রেখে ইচ্ছে মতো কাঁদতে পারবো, যে আমার কষ্টগুলো নিজের করে নিয়ে আমায় হালকা করে দিবে, আমায় খুব ভালোবাসবে, যার সুখ-দুঃখ হাসি-কান্না জুড়ে শুধু আমিই থাকবো।

আচ্ছা, বিছানাটা কেমন যেন খালি খালি লাগছে না? ওই পাশটায় বুঝি আমি ঘুমাবো? ইসসসস, ভাবতেই আমার কি লজ্জা লাগছে। এক বিছানায় আমার পাশে একটা পুরুষ মানুষ থাকবে, যে হলো আমার স্বামী। আচ্ছা, তাকে আমি কি বলে ডাকবো? ওগো শুনছো? নাকি শুনছেন?

যা ইচ্ছা তাই ডাকবো, সে তো আমারই। তার ওপর না আমার পুরো অধিকার আছে? সে একদম রাগ করবে না আমার ওপর। কেনই বা রাগ করবে? আমার এক পৃথিবী জুড়ে তো শুধু এই মানুষটাই থাকবে। সে আমায় একটুও কষ্ট দিবে না। দিলেও ভালোবেসে আমার সব কষ্ট ভুলিয়ে দিবে। এত্তগুলো ভালোবাসবো তাকে, এএএএএত্তগুলোওওওও।

ধীরেধীরে মামুনের মাথার সামনে দাড়ায় মিষ্টি। একটু নিচু হয়ে মামুনের মুখোমুখি হয়ে বসে।

মিঃ... আপনাকে কি এখন থেকেই ভালোবাসবো? নাকি বিয়ের পর? এত্ত এত্ত ভালোবাসা আসছে আপনার জন্য। জানেন, মনে মনে আপনাকে নিয়ে কত স্বপ্ন বুনেছি। আপনার সাথে এটা করবো ওটা করবো আরো কত কি। আপনাকে না আমি সেই প্রথম থেকেই খুব পছন্দ করতাম। আমার কি দোষ বলুন। এই জীবনে যত পুরুষ মানুষের সামনাসামনি হয়েছি তারমধ্যে শুধু দুজনই আমার কাছে ভালো মানুষ ছিলো। এক আমার বাবা, আর এক হলেন আপনি, বাবাতো হারিয়ে গেছে। আপনি হারিয়ে যাইয়েন না প্লিজ। এতকিছু হারিয়ে শেষ হয়েই যাচ্ছিলাম, সেই আপনিই আমায় বাচালেন, স্বপ্ন দেখালেন। এখন আমার খুব বাঁচতে ইচ্ছে করে, আপনাকে নিয়ে। আচ্ছা আপনার ওপর যদি আমি অধিকার দেখাই, তাহলে আপনি কি রাগ করবেন? করিয়েন না প্লিজ, একটু কষ্ট করে মেনে নিয়েন। 

--এত বিড়বিড় না করে স্পষ্ট করে বলো। কিছুই বুঝি না।

মামুনের জবাব শুনে মিষ্টি ঘাবড়ে গিয়ে উঠে দাড়ায়। 

--একি, আপনি কখন উঠলেন?

--যেভাবে শুরু করেছো, ঘুমিয়ে থাকা যায়?

--কিছু কি শুনেছেন?

--শুনেছিতো সবই, কিন্তু কি বলেছো বুঝিনি।

--আল্লাহ বাঁচাইছে। উঠেন, নাস্তা রেডি।

--আসছি।

--তাড়াতাড়ি আসেন, ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।

--আচ্ছা।

.

মিষ্টির বকুনি খেয়ে তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেস হয়ে সোজা নাস্তার টেবিলে বসে মামুন। ততক্ষণে সবাই নাস্তার টেবিলে হাজির।

টেবিলে বসে মামুন মাকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে।

--আচ্ছা মা, বিয়ের জন্য কিছু কেনা-কাটা করা প্রয়োজন না?

--হুম তা তো লাগবেই।

--হাতে তো শুধু দুইদিন সময়। কিভাবে কি করবো? কেনাকাটা, অফিসের ছুটি, দাওয়াত দেওয়া, সব কিছুর ব্যবস্থা করা। একটু তো সময় লাগবেই। বলি কি, বিয়েটা একটু পিছিয়ে দিলে হয় না?

--কয়দিন লাগবে?

--আগামী শুক্রবারে দিলে হয়না?

--এতদিন?

--এতদিন বলতেতো শুধু ৯ দিন।

--সেটাতো অনেক সময়।

--আমার এখনো ছুটির আবেদন করা হয়নি। ২দিন তো এমনিতেই লেগে যাবে। তো বাকি সব কিভাবে করবো?

--মিষ্টি....

--জ্বি মা।

--তোমার কোনো সমস্যা নেই তো?

--না না মা, আমার কোনো সমস্যা নেই। 

--তাহলে আর কি, আগামী সপ্তাহেই বিয়ে হবে।

মামুন মিষ্টির দিকে তাকিয়ে চোখ টিপি দেয়।

মিষ্টি লজ্জা পেয়ে মামুনের পাশ থেকে এসে সানু বেগমের পাশে দাড়ায়।

--তুমি দাড়িয়ে আছো কেনো? বাসো, নাস্তা করবে না?

--আপনারা খেয়ে নিন, এরপর আমি খাবো।

--রিয়াকে ডাকদিয়ে এসে এখানে বসো, একসাথে খাও।

--আপনাদের কিছু লাগলে?

--সবার হাত পা আছে, যার যেটা লাগবে সে নিয়ে খাবে। বসো।

--আচ্ছা।

নাস্তা শেষে মামুন মিষ্টিকে নিজের রুমে ডাক দেয়।

মামুনের আওয়াজ শুনে মিষ্টি দৌড়ে মামুনের কাছে ছুটে যায়।

--ডেকেছেন?

--হুম।

--কিছু লাগবে?

--শুধু কি প্রয়োজন পড়লেই তোমায় ডাকা যাবে? এমনি ডাকা যাবে না?

--তা নয়, আচ্ছা বলুন কি বলবেন।

--না বললে চলে যাবে?

--রিয়ার টিফিন রেডি করতে হবে।

--সেটা রিয়া নিজেই করে নিতে পারবে।

--তো এখন আমায় কি করতে হবে?

--তোমায় একটা জিনিস শেখাবো।

--কি?

--কিভাবে টাই বাঁধতে হয়।

--কেনো শিখতে হবে?

--বিয়ের পর তো তুমিই বেঁধে দিবে। তো শিখে নিবে না?

--আচ্ছা? আপনি চান আমি বেঁধে দেই?

--হুম।

--ঠিক আছে, শিখিয়ে দিন।

--এদিকে এসো।

.

--আচ্ছা, তখন চোখ টিপি দিলেন কেনো?

--চালাকি করে বিয়ের সময়টা বাড়িয়ে নিলাম।

--কেনো?

--ইচ্ছে ছিলো প্রেম করে বিয়ে করবো। সেটা আর হলো কই, তাই এই এক সপ্তাহ তোমার সাথে প্রেম করবো।

--যাহ, কি যে বলেন।

--কি হলো?

--আমি এসব করতে পারবো না।

--কেনো?

--আমার লজ্জা করে।

--ওমা, এত লজ্জা?

--হুম, যা করার বিয়ের পর করিয়েন। বিয়ের আগে আমি পারবো না।

--আচ্ছা? এদিকে এসো......

মিষ্টির হাতটা ধরে একটা হেচকা টান দিয়ে একদম নিজের সামনে নিয়ে এসে...

--এবার বলো কি যেনো বলছিলে....

মিষ্টির একনজরে মামুনের চোখের দিকে চেয়ে আছে...। 

--কি দেখছো?

--আপনাকে।

--এভাবে দেখার কি আছে?

--আপনাকে কখনো এতটা কাছ থেকে দেখিনি। বুকের মধ্যে কেমন ধুকধুক করছে।

--আমায় কি মন থেকে মানতে পেরেছো?

--হুম।

--ভালোবাসো?

--জানি না।

--ছেড়ে দেবো?

--না

--তাহলে বলো, ভালোবাসো?

--হুম

--সারাজীবন এভাবে ধরে রাখি এটা চাও?

--হুম

--বিনিময়ে আমি কি পাবো?

--যা চাইবেন তা।

--পারবে দিতে?

--যদি আমার সাধ্যের মধ্যে থাকে।

--আছে।

--তাহলে পারবো, বলুন কি চান।

--তোমার ভালোবাসা।

--হুম। আর কিছু?

--হুম, অনেক কিছু। সেটা না হয় বিয়ের পরই বলি।

--এখন বললে হয় না?

--বললেই তো লজ্জা পাও।

--তাহলে থাক।


উহু উহু...... পেছন থেকে রিয়া কাশি দিয়ে ওঠে।

রিয়ার কাশির শব্দে মামুন আর মিষ্টি দুজন আলাদা হয়ে যায়..।

--মিষ্টিকে সারা বাড়ি খুজেও পেলাম না, তাই এখানে আসলাম। বিরক্ত করলাম নাতো?(রিয়া)

মিষ্টি আস্তে করে রিয়াকে পাশ কাটিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়

--দেখছিস তোর ভাবির সাথে গুরুত্বপূর্ণ কথা চলছিলো, মাঝখানে কাবাবের হাড্ডি হয়ে চলে এলি। চলে গেলে কি হতো?

--সরম কর, দরজা খুলে এসব করছিস। আম্মু দেখলে তোর খবর আছে।

--দেখবে না। যা স্কুলের সময় হইছে।

--হুম, তোকে আম্মু ডাকে। 

--কেনো?

--জানি না।

--আচ্ছা আসতেছি।

অফিসের জন্য তৈরী হয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মামুন মায়ের রুমের দিকে যায়।

--মা ডেকেছো?

--হুম। 

--কিছু বলবে?

--হুম, একটা বিষয় খেয়াল করলাম। তাই ভাবলাম তোকে বলি।

--কি?

--শেষ ৩-৪দিন যাবত একটা লোককে বাসার সামনে ঘুরঘুর করতে দেখি।

--অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়?

--হ্যা, কাল দুপুরে বারান্দায় বসে ছিলাম। লোকটাকে দেখলাম বাসার আশেপাশে পায়চারী করতেছে।

--অস্বাভাবিক কি দেখলে?

--নির্দিষ্ট ভাবে আমাদের বাসার সামনেই পায়চারি করছে। এটা কি অস্বাভাবিক নয়? দেখলাম কিছুক্ষণ পর পর বারান্দার দিকে তাকায়, কিন্তু যখন মিষ্টি বারান্দায় এলো, লোকটা মিষ্টির দিকে এক নজরে তাকিয়ে ছিলো। এমন মনে হলো যেনো লোকটা মিষ্টিকে চেনে।

.

.

চলবে......

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url