#বিষাক্তফুলের_আসক্তি

লেখনীতেঃ তাহমিনা তমা 

পর্ব-০৬ 


ঘন্টা খানেক সময় শাওয়ার নিয়ে রুমে এসেছে তাজ। মাথায় ঘুরছে নানা প্রশ্ন। কিছুতেই কিছু মিলাতে পারছে না। তাজের মনে হচ্ছে সে ক্রমশ একটা ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে যাচ্ছে। যত বের হওয়ার চেষ্টা করছে ততটাই বাজেভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে। ফোনের রিংটোনে ভাবনায় ছেদ পড়লো তার। ফোন হাতে নিয়ে মৌয়ের নাম্বার দেখে বুকটা কেমন ধক করে উঠলো। এতসবের মধ্যে মৌয়ের কথা যেনো মাথা থেকে একেবারেই বেড়িয়ে গিয়েছিলো। হঠাৎ করেই মৌয়ের উপর তীব্র অভিমান অনুভব করলো তাজ। মানুষ তো তার উপর অভিমান করে যাকে সে ভালোবাসে। কিন্তু তাজ তো মৌকে কখনো ভালোবাসেনি তবে কেনো এতো অভিমান হচ্ছে। না ভালোবেসে তো, বন্ধু হিসাবে, সত্যি কী তাই ? কেনো মনে হচ্ছে সারা পৃথিবী অবিশ্বাস করলেও মৌয়ের উচিত ছিলো তাজকে বিশ্বাস করা। তাজ নাহয় মৌকে সেভাবে ভালোবাসেনি কিন্তু মৌ তো বেসেছে। তবে কেনো বিশ্বাস করতে পারলো না তাজকে। তাজের ভাবনার মাঝেই কল কেটে গেলো। সাথে সাথেই আবার বেজে উঠলে রিসিভ করলো তাজ। 


গম্ভীর গলায় বললো, হ্যালো। 


তাজের আওয়াজ শুনতেই ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো মৌ। তাজ বেশ শান্ত ভঙ্গিতে শুনতে লাগলো মৌয়ের কান্না। তবে বুকের ভেতর কেমন একটা করছে মৌয়ের কান্না শুনে। মৌকে সবসময় হাসিখুশি দেখে এসেছে তাজ। তাই হয়তো কান্নাটা ঠিক মানতে পারছে না। 


তাজ দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বললো, কিছু বলবি নাকি কেটে দিবো কল। 


মৌ এবার শব্দ করে কেঁদে দিলো, কেনো এমন করলে তাজ ? 


তাজের অজানা কারণে রাগ হচ্ছে না এখন বরং কষ্ট হচ্ছে। মানতে পারছে না মৌও তাকে ভুল বুঝছে। 


তাজ বেলকনিতে গিয়ে দেয়াল ঘেঁষে ফ্লোরে বসে শান্ত গলায় বললো, মৌ আমি তোকে কখনো বলিনি ভালোবাসি। কিন্তু উনত্রিশ বছর ধরে তোকে চিনি। আমাকে যদি কেউ এসে বলে মৌ এমন জঘন্য একটা কাজ করেছে। আমি কিন্তু বিশ্বাস করবো না, যতক্ষণ না তুই নিজে সেটা স্বীকার করছিস। কারণ আমি চিনি তোকে। অপরদিক দেখ তুই আমাকে হাজারবার বলেছিস ভালোবাসি। কেউ একজন এসে বললো তাজ এমন আর তুই বিশ্বাস করে নিলি ? একবার মনে হয়নি তাজ এমন কিছু করতে পারে না। ভালোবাসার কথা নাহয় বাদই দিলাম, উনত্রিশ বছরে তুই এই চিনলি আমাকে ? মৌ শুধু ভালোবাসি বললেই হয় না, তার উপর বিশ্বাস রাখতে হয়। সারা পৃথিবীর মানুষের বিরুদ্ধে গিয়ে শুধু ভালোবাসার মানুষের কথায় যেদিন বিশ্বাস করতে পারবি সেদিন বুঝবি তুই তাকে ভালোবাসিস। 


মৌ কী বলবে বুঝতে পারছে না। সত্যি তো শুধু ভালোবাসলে হয় না বিশ্বাস থাকতে হয়। বিশ্বাস হচ্ছে ভালোবাসার ভিত্তি, বিশ্বাসই যদি নড়বড়ে হয় তাহলে ভালোবাসা টিকে থাকবে কীভাবে ? 


মৌ কিছু বলছে না দেখে তাজ বললো, রাখছি এখন। 


মৌ তাড়াতাড়ি বললো, না। 


আবার কিছুটা সময় নিরবতায় কেটে গেলে তাজ বললো, একদিন সব সত্যি সামনে আসবে মৌ। আমি সেদিনের অপেক্ষায় আছি। সেদিন তোরা আমার চোখে চোখ রাখতে পারবি তো ? তোর দোষ নেই রে, যেখানে আমার নিজের বাবা-মা আমাকে বিশ্বাস করতে পারছে না সেখানে তোর কী দোষ। তবে মনে রাখিস সত্য কোনোদিন লুকিয়ে রাখা যায় না। সত্য হচ্ছে দিনের আলোর মতো, নিজের পথ খোঁজে ঠিক বেড়িয়ে আসবে আর সেদিন তোরা কীভাবে আমার চোখে চোখ রাখতে পারিস আমি দেখবো। সেদিন কাউকে মাফ করবো না আমি। আমার বাবা-মা আমাকে অবিশ্বাস করার চরম শাস্তি পাবে সেদিন আর সাথে তুইও। এসবের পিছনে যে আছে তাকে আমি ছাড়বো না। প্রত্যেককে তার শাস্তি ভোগ করতে হবে। এই গল্পটির সবচেয়ে অসহায় ব্যাক্তি আমি, তোরা কেউ নয়। নিজে সত্যিটা জেনেও প্রমাণ করতে না পারার মতো অসহায়ত্ব আর কিছুতেই নেই। নির্দোষ হয়েও সবার ঘৃণার দৃষ্টি সহ্য করার মতো কষ্ট আর কিছুতে নেই। একটু একটু করে গড়ে তোলা স্বপ্ন, ক্যারিয়ার চোখের সামনে ধূলোয় মিশে যাওয়ার মতো তীব্র যন্ত্রণা কিছুতেই নেই। কাউকে ছাড়বো না আমি, কাউকে না। আমার প্রতিটা অপমানের প্রতিশোধ নিবো। 


মৌয়ের হঠাৎ মনে হলো সে ভুল করেছে তাজকে অবিশ্বাস করে। অন্যায় করে এতোটা কনফিডেন্স কারো থাকতে পারে না। মৌয়ের চোখে ভেসে উঠলো গত উনত্রিশটি বছর, যেটা সে তাজের সাথে কাটিয়েছে। স্কুল থেকে প্রপোজ পাওয়া শুরু হয়েছিলো তাজের, সব পায়ে মাড়িয়ে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গেছে কেবল। মেয়েদের কখনো অসম্মান করেনি, কোন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেনি। তাহলে সেই ছেলেটা কীভাবে এমন নিম্ন কাজ করবে। না না আরো দেরি হয়ে যাওয়ার আগে তাজকে সরি বলতে হবে মৌয়ের। 


তাজ বললো, রাখছি এখন। বড্ড ক্লান্ত আমি, ঘুমাবো। 


মৌ অস্থির গলায় বললো, আ,,আম সরি। 


তাজ তাচ্ছিল্যের সুরে বললো, কেনো ? 


মৌ জিহ্বা দিয়ে শুকনো ঠোঁট ভিজিয়ে বললো, ক্ষণিকের জন্য পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম। 


আগামীকাল কেউ নতুন কিছু বললে আবারও পথ হারিয়ে ফেলবি। তুই বরং আগে নিজের সঠিক পথটা খোঁজে বার কর। বারবার পথ হারালে সমস্যা তোরই হবে। 


মৌকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন কেটে দিলো তাজ। সবকিছু বিষাক্ত লাগছে তার কাছে। যতদিন তার জীবনে তিতির নামক বিষাক্তফুলটা আছে ততদিন সব এমনই বিষাক্ত থাকবে। 


তাজ বিড়বিড় করে বললো, এভাবে হবে না তাজ। ঠান্ডা মাথায় চিন্তা কর। এই ষড়যন্ত্রের জাল থেকে বের হওয়ার একটা রাস্তা ঠিক পেয়ে যাবি তুই। 


৭.

গত কয়েকদিনের অনিয়মে একদমই দূর্বল হয়ে গেছে তিতির। খাওয়াদাওয়া না করা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঠিকমতো না ঘুমানো সব মিলিয়ে শরীরটা আর পেরে উঠেনি। তাজ সারাদিন এক হসপিটাল থেকে আরেক হসপিটাল ছুটালেও এক দানা খাবার খাওয়ানোর প্রয়োজন মনে করেনি। তাই হঠাৎ করেই চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে এসেছে। পিটপিট করে চোখ খোলে সামনে ইরিনাকে বসে থাকতে দেখে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো। 


ইরিনা সেটা খেয়াল করে গম্ভীর গলায় বললো, এতো ছটফট করার প্রয়োজন নেই। 


সাইড টেবিলে দেখিয়ে বললো, খাবারগুলো খেয়ে মেডিসিন খেয়ে নাও আর নিজের খেয়াল রাখতে শেখো। নিজের জন্য না হলেও যে আসছে তার জন্য। 


কথাগুলো বলে ইরিনা বের হয়ে গেলো রুম থেকে। তিতির বেডে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো। বড্ড ক্লান্ত লাগছে তার। সাইড টেবিলে তাকিয়ে খাবার দেখে ধীরে ধীরে উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো। ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে নিলো, খুব বেশি ক্ষুধা পেয়েছিলো। খাবার খেলেও মেডিসিন খেলো না। এতক্ষণে খেয়াল হলো এটা তাজের রুম নেই। সেটা বুঝতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। আজ অন্তত একটু ঘুমানো যাবে। তিতির কিছু না ভেবে চুপচাপ শুয়ে পড়লো। 


ফজরের আযানে ঘুম ভাঙলো তিতিরের। কয়েকদিনের ঝামেলায় ঠিকঠাক নামাজও পড়া হয়নি। ওযু করে এসে নামাজ পড়ে নিয়ে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো। সকালের সতেজ বাতাসে মনটা একটু শান্ত হলো। সকালের ব্রেকফাস্ট তিতিরের রুমে দিয়ে গেলো এক সার্ভেন্ট, তিতিরও চুপচাপ খেয়ে নিলো। দশটার দিকে রুম থেকে বেড়িয়ে অনেকটা ইতস্তত হয়ে তাজের রুমের দিকে গেলো। গতকালের ড্রেসটাই এখনো পরে আছে সে। মুলত একটা ড্রেস নিতেই তাজের রুমে আসা। দরজায় নক করে সাড়াশব্দ না পেয়ে রুমে গিয়ে দেখলো তাজ নেই। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কাবার্ড থেকে একটা ড্রেস নিয়ে দ্রুত বের হয়ে গেলো তাজের রুম থেকে। গতরাতে যে রুমে ছিলো সেখানে গিয়ে শাওয়ার নিয়ে রেডি হলো। তিতির ঠিক করেছে আজই সে মৌয়ের সাথে দেখা করতে যাবে। রেডি হয়ে বের হতেই ড্রয়িংরুমে ইরিনার সামনে পড়লো। 


ইরিনা গম্ভীর গলায় বললো, কোথায় যাচ্ছো ? 


তিতির নিচু গলায় বললো, আমার একটু কাজ ছিলো বাইরে। বেশি সময় লাগবে না তাড়াতাড়ি চলে আসবো ? 


ইরিনা শান্ত দৃষ্টিতে কিছুটা সময় তাকিয়ে রইলো তিতিরের দিকে। তবে আর কিছু বললো না, এদিকে তিতির কনফিউজড সে যাবে কী যাবে না। 


কিছু সময় পর ইরিনা গম্ভীর গলায় বললো, তাজ ফিরার আগে যেনো তোমাকে বাসায় দেখি আমি। 


তিতির মাথা নাড়িয়ে বের হয়ে গেলো বাসা থেকে। মুখে মাস্ক পরে গেইটের বাইরে এসে একটা রিকশা ডেকে তাতে উঠে পড়লো। উদ্দেশ্য মৌয়ের বাসা, তারপর নিজের ফ্ল্যাটে গিয়ে নিজের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র আনতে হবে। তার জানা নেই খান ভিলায় আর কতদিন থাকতে হবে তাকে। 


কলিংবেল বাজাতে গিয়েও তিতির হাত সরিয়ে নিচ্ছে বরাবর। তাকে দেখে এ পরিবারের সবার কেমন রিয়াকশন হবে সেটা ভাবতেই ঘাম ছুটে যাচ্ছে। কিন্তু মৌয়ের সাথে কথা বলা যে খুব বেশি প্রয়োজন তার। অনেকটা সাহস নিয়ে কলিংবেল বাজালো তিতির। কিছুক্ষণ পর দরজা খোলে দিলো মৌয়ের মা রেহেনা। 


তিতিরকে দেখে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বললো, এই মেয়ে তুমি এখানে কী করছো ? আমার মেয়ের জীবনটা নরক করে শান্তি হয়নি তোমার ? আবার কী ধ্বংস করতে এসেছো এখানে। 


তিতির ভীত গলায় বললো, আমি মৌ আপুর সাথে একটু কথা বলতে চাই। 


রেহেনা অনেক রেগে গেলো, তুমি এখনই এখান থেকে না গেলে খুব খারাপ হয়ে যাবে। কারো সাথে কথা হবে না তোমার, যাও এখান থেকে। 


চিৎকার চেঁচামেচি শুনে মৌ বাইরে এসে বললো, কী হয়েছে মা এভাবে চেঁচামেচি করছো কার সাথে ? 


তুই রুমে যা মৌ। 


দরজায় তিতিরকে দেখে অনেক বেশি অবাক হলো মৌ। তিতিরকে গায়ে নিজের কেনা ড্রেস দেখে বুকে চিনচিন ব্যাথা অনুভব করলো। মৌ নিজেই এগুলো কিনে তাজের কাবার্ডে রেখেছিলো। এতে তাজ অনেক হেসেছিলো তার কান্ড দেখে। 


একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে শান্ত গলায় বললো, ওকে আসতে দাও। আমারও কিছু কথা আছে ওর সাথে। 


রেহেনা বললো, কিন্তু। 


প্লিজ মা, আসতে দাও। 


রেহেনা তিতিরের দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দরজা থেকে সরে দাঁড়ালেন৷ তিতির ধীর পায়ে প্রবেশ করলো ভেতরে। মৌ তাকে ইশারা করলো তার সাথে যেতে। তিতির বাধ্যঁ মেয়ের মতো মৌকে অনুসরণ করলো। মৌ তিতিরকে নিয়ে নিজের বেলকনিতে গিয়ে বসলো। 


মৌ শান্ত গলায় বললো, কী বলবে বলো ? 


তিতির কিছুটা সময় থম মেরে বসে থেকে চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করে বললো, স্যার সত্যি বলছে তার কোনো দোষ নেই। 


মৌ অনেক অবাক হলো তিতিরের কথা শুনে। তাজ নিদোর্ষ শুনে না বরং তিতির তাকে সত্যিটা বলছে বলে অবাক হচ্ছে। 


তিতির আবার বললো, না আমি প্রেগনেন্ট আর না স্যারের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক ছিলো কোনো কালেই। 


রাগে শরীরের রক্ত গরম হয়ে আসছে মৌয়ের। ইচ্ছে করছে তিতিরকে গলা টিপে মেরে ফেলতে। দুটো জীবন নষ্ট করে, দুটো পরিবারের মান সম্মান মাটিতে মিশিয়ে মেয়েটা কতো সহজে সব স্বীকার করে নিচ্ছে। আদোও বুঝতে পারছে মেয়েটা কত বড় অপরাধ করেছে। 


মৌ লম্বা শ্বাস টেনে নিজেকে শান্ত করলো, তাহলে এসব কেনো করলে ? 


অকপটে তিতিরের উত্তর, বাধ্যঁ হয়ে। 


মৌ অবাক হয়ে বললো, মানে ? 


এবার টলমলে চোখে তিতির তাকালো মৌয়ের দিকে ভেজা গলায় বললো, আপনার জীবনের বেঁচে থাকার কারণ যে মানুষটা। কেউ যদি তার মাথায় গান তাক করে বলে তার কথা না শুনলে শেষ করে দিবে মানুষটাকে। আপনি কী করতেন আপু ? আমি স্বার্থপর মানুষ আপু, পারিনি নিজের স্বার্থের সাথে আপোষ করতে। 


তিতিরের গাল বেয়ে এক ফোটা নোনাপানি গড়িয়ে পড়লো। মৌ বিস্ময় কাটিয়ে উঠতে পারছে না। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তিতিরের দিকে। 


মৌ কাঁপা গলায় বললো, কে করেছে এমনটা আর কেনো ? 


তিতির চোখ বন্ধ করে একটা ঢোক গিলে বললো, র,,, 


মৌ কোথায় তুই ? 


কারো আওয়াজে থেমে গেলো তিতির। এই আওয়াজ তার খুব ভালো করে চেনা। এই তো সেই নরপশুটা যে সবার জীবন এলোমেলো করে দিয়েছে। ভয়ে গলা শুকিয়ে এলো তিতিরের। কী করবে বুঝে উঠার আগেই বেলকনিতে প্রবেশ করলো রায়হান, মিস্টার রায়হান চৌধুরী। রহমান চৌধুরীর বড় ছেলে। তিতির বড় বড় চোখে তাকালো রায়হানের দিকে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের আনাগোনা দেখা গেলো তিতিরের। 


রায়হান শান্ত দৃষ্টিতে একবার তার দিকে তাকিয়ে আবার মৌয়ের দিকে তাকালো, শরীর কেমন এখন তোর ? 


মৌ কিছুটা সময় চুপ থেকে বললো, আলহামদুলিল্লাহ। তুই এখানে কেনো ? 


তিতির অবাক হয়ে তাকালো মৌয়ের দিকে। মৌয়ের কথা শুনে তার বুঝতে অসুবিধা হলো না রায়হান শুধু তার পরিচিত নয় বরং কাছের কেউ। তিতির বুঝতে পারেনি রায়হান মৌয়ের পরিচিত। তিতির তাজের সাথে রায়হানের শত্রুতার কারণ জানে না। তিতির ভাবতেও পারেনি রায়হান মৌয়ের পরিচিত কেউ। 


রায়হান তিতিরের দিকে তাকিয়ে শান্ত আর স্বাভাবিক গলায় বললো, মেয়েটা কে ? 


রায়হানের শান্ত গলায়ও ভয়ে কেঁপে উঠলো তিতির। 


মৌ বললো, আমার পরিচিত একজন। 


তিতির হঠাৎ বলে উঠলো, আজ আমি আসি আপু। 


মৌ বললো, কিন্তু.. 


মৌয়ের কথা সম্পন্ন হওয়ার আগেই তিতির উঠে বের হয়ে গেলো দ্রুত। মৌ আটকানোর সময়ও পেলো না। তিতির কিছু বলতে চাইছিলো সেটা সম্পূর্ণ শুনতে পারলো না মৌ। 


রায়হান বললো, মেয়েটা এভাবে চলে গেলো কেনো ? 


তোকে দেখে হয়তো আনইজি ফিল করছিলো। এখন কী মনে করে এসেছিস সেটা বল। 


তোর খোঁজ নিতে এলাম। 


মনে মনে বললো, আমি ঠিক সামনে না এলে তো আমার দুই বছরের সাজানো খেলা এক মিনিটে শেষ করে দিচ্ছিলো তিতির। এর ফল তোকে ভোগ করতে হবে তিতির।


চলবে,,,,


#বিষাক্তফুলের_আসক্তি 

লেখনীতেঃ তাহমিনা তমা 

পর্ব-০৭ 


একটা চেয়ারে হাতপা বাঁধা অবস্থায় সেন্সলেস হয়ে আছে ডক্টর রাজিব হোসেন। তার ঠিক সামনে বসে আছে তাজ। এসব করতে তার মোটেও ভালো লাগছে না৷ পর্দায় একশন মুভি করলেও বাস্তব জীবনে যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে সব ঝামেলা। কিন্তু পরিস্থিতি তাকে এসব করতে বাধ্য করছে। চোখেমুখে পানির ছিটা দিতেই জ্ঞান ফিরলো রাজিবের। আশেপাশে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করলো সে কোথায় আছে। সামনে তাজকে বসে থাকে দেখে অবাক হলো। 


এসব কী তাজ ? 


তাজ নির্লিপ্ত গলায় বললো, আমিও সেটাই বলছি আঙ্কেল। এসবের মানে কী ? আপনি আমাদের ফ্যামিলি ডক্টর, বলতে গেলে ফ্যামিলির একজন মেম্বার। আপনি কীভাবে পারলেন নির্দ্বিধায় এমন একটা মিথ্যা বলতে। 


এবার মাথা নিচু করে ফেললো রাজিব। 


তাজ বললো, টাকার জন্য এতো বছরের বিশ্বাস বিক্রি করতে একবারও বিবেকে বাঁধলো না। 


রাজিব এবার তাকালো তাজের দিকে, পৃথিবীতে টাকার থেকে অধিক মূল্যবান অনেক কিছু আছে তাজ। তার মধ্যে আপনজন একটা। ছোট একটা মিথ্যার জন্য আমি আমার আপনজনদের মৃত্যু দেখতে পারবো না নিশ্চয়ই। 


তাজ অনেকটাই অবাক হলো, মানে ? 


রাজিব নির্লিপ্ত কণ্ঠে বললো, মিথ্যা বলার জন্য হয়তো তুমি আমাকে শাস্তি দিবে এখন। কিন্তু মিথ্যাটা না বললে আমাকে আমার পুরো পরিবার হারাতে হতো। তুমি আমাকে যা ইচ্ছে শাস্তি দিতে পারো আমার কোনো অভিযোগ নেই। 


তাজ গম্ভীর গলায় বললো, লোকটা কে ? 


সেটা আমি নিজেও জানি না। তোমাদের বাড়ি থেকে ফোন আসার পর আমি যখন তোমাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। তোমাদের বাড়িতে পৌঁছানোর পাঁচ মিনিট আগে আমার কাছে কিছু ছবি আর একটা ম্যাসেজ আসে। পরিবারের জীবন বাঁচাতে আমি বাধ্য হই মিথ্যা বলতে। 


তাজের মাথা হ্যাং করছে। সে ভেবেছিলো রাজিবের থেকে কিছু অন্তত জানতে পারবে কিন্তু এবারও ফলাফল শূন্য। ম্যাসেজ আর ছবি তাজকে দেখালো রাজিব। পরিবারের প্রতিটা মানুষের গলায় ছুরি ধরে রাখা হয়েছে। সাথে ছোট একটা ম্যাসেজ, সারাদেশের মানুষ যেটা জানে সেটাই যেনো বলে রাজিব। নাম্বারটা নিয়ে কল করে দেখলো বন্ধ। একটা ক্রাইম করে এখনো নাম্বারটা ইউজ করার মতো বোকা নিশ্চয়ই তারা নয়। নাম্বারের ডিটেইলস বের করতে বলে রাজিবকে বাসায় পৌঁছে দিতে বললো তাজ৷ তারপর বের হয়ে গেলো গোডাউন থেকে। 


৮.

নিজের ফ্ল্যাটে ভয়ে জড়সড় হয়ে বসে আছে তিতির। মনে হচ্ছে এখনই বিকট শব্দে বেজে উঠবে তার ফোনটা আর রায়হানের থেকে শুনতে হবে ভয়ংকর কিছু। সারা রুম জুড়ে পাখির টেডিবিয়ার, খেলনা, জিনিসপত্র রাখা। রুমের আনাচকানাচে পাখির হাজারো স্মৃতি। তিতিরের মনে হচ্ছে পাখি বলছে আপুনি আমার কষ্ট হচ্ছে। তোমাকে ছাড়া থাকতে আমার অনেক কষ্ট হয়, আমাকে নিয়ে যাও এখান থেকে। 


তিতির নিজের চুল খামচে ধরে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো, তোর কিছু হতে দিবো না বোনু। আমি তোর কিছু হতে দিবো না। এতে যা করতে হয় করবো কিন্তু তোর কিছু হতে দিবো না। কেনো এমন করছেন রায়হান চৌধুরী কেনো ? আমি মুক্তি চাই এসব থেকে। 


অনেকটা সময় পরেও রায়হানের কোনো ফোন না পেয়ে ভয় বাড়তে লাগলো তিতিরের। রায়হানের তো এতো শান্ত থাকার কথা নয়। এ যেনো ঝড়ের পূর্বাভাস। তিতির দু'হাতে চোখমুখ মুছে উঠে দাড়ালো। নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে গেলো খান ভিলার উদ্দেশ্যে। গতরাতে যে রুমে ছিলো সেই রুমেই গেলো, সে ঠিক করেছে সেখানেই থাকবে। নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো। যত সময় যাচ্ছে ভয়ে তিতিরের দম বন্ধ হয়ে আসছে। বাকি দিন তিতির বন্ধ রুমেই কাটিয়ে দিলো, সার্ভেন্ট খাবার দিয়ে গেলেও গলা দিয়ে তা নামলো না। 


বেলকনিতে বসে উদাস দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলো তিতির। এশারের নামাজ পড়েই বেলকনিতে গিয়ে বসেছে। আকাশে চাঁদ নেই, তবে তারা দেখা যাচ্ছে দুয়েকটা। পাশে রাখা ফোনটা বেজে উঠলে চমকে উঠলো তিতির। স্কিনে রায়হানের নাম দেখে ভয়ে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে তার। কাঁপা হাতে ফোন তুলে রিসিভ করলেও গলা দিয়ে আওয়াজ বের করতে পারলো না শত চেষ্টা করেও। 


তোকে বলেছিলাম আমার কথার বাইরে গেলে তার চরম মূল্য দিতে হবে তোকে। 


রায়হানের শান্ত গলায়ও ভয়ে গলা শুকিয়ে এলো তিতিরের, আ,,আমার ভুল হয়ে গেছে। দয়া করে পাখির কিছু করবেন না। 


আমি ঠিক সময়ে না গেলে আমার দুই বছরের সাজানো খেলা এক মিনিটে শেষ করে দিতি তুই। এমন একটা কাজের শাস্তি তো তোকে পেতেই হবে তিতির। নাহলে তোর সাহস বেড়ে যাবে। আজ মৌকে বলতে গিয়েছিলি কাল সরাসরি তাজকেই বলে দিবি। তোর সাহসটা কমানোর জন্য হলেও শাস্তি তো পেতে হবে। 


তিতির ব্যস্ত হয়ে উঠলো, ন,,না না আমি কাউকে কিছু বলবো না আর। মরে গেলেও মুখ খুলবো না, দয়া করে আমার পাখিকে কিছু করবেন না। 


রায়হান উচ্চস্বরে হেসে বললো, বড্ড দেরি হয়ে গেলো যে বোনটি। আমি তো যা করার করে ফেলেছি। 


তিতিরের কলিজা কেঁপে উঠলো রায়হানের কথা শুনে, ক,,কী করেছেন আপনি ? 


ওয়েট এখনি দেখাচ্ছি। 


তিতিরের ফোনে একটা ভিডিও সেন্ড করে দিলো রায়হান, এনজয় দ্যা ভিডিও। 


তিতির কাঁপা হাতে ভিডিও ওপেন করে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো, পাখি। 


পাখির হাত থেকে টপটপ রক্ত পড়ছে। পাখি হাতের দিকে তাকিয়ে ভয়ে কাঁদছে আর আশেপাশে তাকিয়ে আপুনি বলে ডাকছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে হাতটা। তিতিরের নিজেকে পাগল পাগল মনে হচ্ছে। ইচ্ছে ফোনের ভেতরে ঢুকে বোনকে বুকে জড়িয়ে নিতে। 


তিতির ফোনের দিকে তাকিয়ে পাগলের মতো কাঁদতে লাগলো, আমার জন্য হয়েছে বোনু। আমাকে মাফ করে দে আমি তোর পঁচা আপুনি। আমি তোকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। 


পাখিকে কত অসহায় মনে হচ্ছে, আশেপাশে আপুনিকে খুঁজছে সে। তিতিরের বুক চিঁড়ে যাচ্ছে কষ্টে৷ নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষ মনে হচ্ছে তার কাছে। ভিডিও শেষ হলে ফোনটা রেখে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো তিতির। কিছুতেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারছে না সে। তিতির পাগলের মতো রুমে ছুটে এলো, কিছু খুঁজতে লাগলো। সাইড টেবিলে পেয়েও গেলো কাংখিত জিনিস। ফলের সাথে রাখা ছুরিটা নিয়ে নিজের হাতে একটা টান দিলো। মুহূর্তে চামড়া কেটে লাল টকটকে তরল বের হয়ে এলো। আরো একবার ছুরি বসাবে তার আগেই বেলকনিতে থাকা ফোনট আবার বেজে উঠলো। ছুরি ফেলে দৌড়ে গেলো বেলকনিতে। 


রায়হানের কল দেখে সাথে সাথে রিসিভ করলো, আমি আমার বোনুর সাথে কথা বলতে চাই এখনই। আ,,আমি আর কিছু বলবো না কাউকে। সত্যি বলছি একটা শব্দ বের করবো না মুখ থেকে। 


তিতির কথা শেষ করে মুখে হাত চেপে কান্না করতে লাগলো। এদিকে হাতের রক্তে ফ্লোর ভিজে যাচ্ছে সেদিকে খেয়াল নেই তার। 


ওয়েট পাখির সাথে কথা বলিয়ে দিচ্ছি আর আজকের মতো ভুল দ্বিতীয়বার করার সাহস করিস না। 


তিতির অপেক্ষা করতে লাগলো পাখির সাথে কথা বলার। হাতের কথা তার মাথা থেকেই বের হয়ে গেছে। 


৯.

মেয়েটার হাত কাটলো কীভাবে ন্যান্সি ? 


ন্যান্সি ভয়ে ভয়ে বললো, রায়হান স্যার সকালে কল করে জানালো পাখিকে নিয়ে বাইরে গিয়ে যেনো একটু হাঁটিয়ে আনি। রুমে থেকে থেকে ডেস্পারেট হয়ে যেতে পারে। আমি সকালে সামনের রাস্তায় হাঁটতে বের হয়েছিলাম তাকে নিয়ে। হঠাৎ একজন আমাকে সে বললো কেউ ডাকছে আমাকে। পাখিকে পাশের বেঞ্চে বসিয়ে আমি সেদিকে এগিয়ে গেলাম। অনেক খুঁজেও কাউকে পেলাম না। ফিরে এসে দেখি পাখির হাত থেকে রক্ত পড়ছে। তাই তাড়াতাড়ি বাসায় নিয়ে এলাম। 


আহান রেগে গেলো ন্যান্সির কথা শুনে, কেউ ডাকলো আর মেয়েটাকে একা রেখে আপনি চলে গেলেন। 


ন্যান্সি মাথা নিচু করে ফেললো, সরি। 


আহান বেডে গুটিশুটি মেরে শুয়ে থাকা পাখির দিকে তাকালো। বাসায় আসার পর ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে আহান। হাতের কাটা গভীর না হলেও মেয়েটা ভয় পেয়েছে প্রচুর। শান্ত করতে অনেক কসরত করতে হয়েছে। কিছুক্ষণ আগেই ঘুমিয়েছে মাত্র। ভাগ্য ভালো আহান বাসায় ছিলো নাহলে কী হতো আল্লাহ জানেন। আহানের ফোন বেজে উঠলে স্কিনে রায়হানের নাম্বার দেখে ভয় পেয়ে গেলো। সে তো পাখির খেয়াল রাখতে পারেনি। এখন কী বলবে ভাইকে ? 


ভয়ে ভয়ে কল রিসিভ করলো আহান, হ্যালো ভাইয়া। 


রায়হান শান্ত গলায় বললো, পাখি কোথায় ? 


আহান আমতা আমতা করে বললো, আসলে ভাইয়া। 


আমি সবই জানি তাই বাহানা করার প্রয়োজন নেই। তুই পাখির কাছে দে আমি কথা বলবো। 


পাখি তো ঘুমাচ্ছে ভাইয়া। 


ডেকে বল ওর আপুনি কথা বলবে। 


আহান অবাক হয়ে বললো, কিন্তু ? 


যেটা বলছি সেটা কর, বেশি কথা পছন্দ নয় আমার। 


ন্যান্সি নিচু স্বরে ডেকে তুললো পাখিকে। মেয়েটা এখনো কেমন ভয়ে গুটিয়ে আছে। 


রায়হান বললো, ফোনটা পাখির কাছে দিয়ে তোরা চলে যা। 


আহান কিছু বুঝতে পারছে না। তবে কথা না বাড়িয়ে পাখির কাছে ফোন দিয়ে চলে গেলো আহান আর ন্যান্সি। ভিডিও কলে পাখি স্কিনে রায়হানকে দেখে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। 


পাখি ঠোঁট উল্টে বললো, আপনি কে ? আমার আপুনি কোথায় ? 


রায়হান কিছু না বলে তিতিরকে এড করে দিলো কলে। তিতিরকে দেখে কেঁদে দিলো পাখি। 


আপুনি তুমি আসছো না কেনো ? দেখো আমি ব্যাথা পেয়েছি। একটা পঁচা লোক আমাকে ব্যাথা দিলো তো। 


তিতির কেঁদে উঠলো বোনের কথা শুনে। কতদিন পর বোনটাকে দেখতে পেলো। 


কাঁদতে কাঁদতে বললো, কাঁদে না সোনা। আমি চলে আসবো তো, তুমি একদম ভয় পাবে না। তুমি গুড গার্ল হয়ে থাকো আমি তাড়াতাড়ি চলে আসবো। 


আমি দুষ্টুমি করবো না, তুমি চলে আসো। আমার একা থাকতে ভালো লাগে না তো। 


খুব বেশি ব্যাথা লেগেছে বোনু ? 


হ্যাঁ তো, ব্যাথা করছে তো। প্লিজ তুমি চলে আসো ব্যাথাও চলে যাবে। 


পাখির কথা শুনে কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে তিতিরের। ইচ্ছে করছে বোনকে বুকের ভেতর লুকিয়ে ফেলতে যাতে আর কেউ কেঁড়ে নিতে না পারে, দু'বোনে কাঁদতে লাগলো। আরো কিছু সময় কথা বলার পর রায়হান কেটে দিলো কল। সে চুপচাপ দু'বোনের কথা শুনে গেছে। তবু পাথর মনে একটু দয়া হয়নি তার। তিতির ফোনটা বুকে জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে একসময় ঘুমিয়ে পড়লো বেলকনিতে। হাতের রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে গেলো একাই, শুকিয়ে যেতে লাগলো। 


আহান থম মেরে বসে আছে নিজের রুমে। তার মাথায় কিছুই আসছে না। নিজের রুমে থেকে তিতির আর পাখির কথোপকথন শুনেছে সে। রায়হানের মাথা থেকে হয়তো এই ব্যাপারটা বেরিয়ে গেছে। আহান কিছুতেই হিসাব মিলাতে পারছে না। রায়হান তাদের বলেছিলো পাখির আপুনি মারা গেছে তাহলে পাখি কথা বললো কার সাথে। দু'জনের কথায় তো মনে হয়নি অন্যকেউ। ল্যাপটপের স্কিনে তিতিরকেও দেখেছে আহান। পাখির সাথে তার চেহারায়ও অনেক মিল আছে। প্রথম থেকেই পাখিকে চেনা চেনা লেগেছে আহানের কাছে কিন্তু মনে করতে পারেনি কোথায় দেখেছে। রায়হান যখন বললো পাখি তাদের আপন কেউ তখন আর মাথা ঘামায়ন, ভেবেছে আত্নীয় কেউ হবে। আগে দেখেছে তাই চেনা লেগেছে। কিন্তু আহান এখন বুঝতে পারছে পাখিকে তার চেনা চেনা লাগার কারণ। সে পাখিকে নয় বরং তিতিরকে আগে কোথাও দেখেছে আর তিতিরের সাথে পাখির চেহারায় মিল থাকায় পাখিকে চেনা চেনা লেগেছে। আহানের বুঝতে অসুবিধা হলো না এখানে অন্য কোনো গল্প আছে, রায়হান কিছু লুকাচ্ছে তার থেকে। সত্যিটা না জানা পর্যন্ত শান্তি পাবে না আহান। 


আহান বিড়বিড় করে বললো, কে এই তিতির আর পাখি ?

সব পর্বের লিংক এক সাথে যারা লিংকে ডুকতে পারেন না ইনবক্স করেন লিংক দিবো নে👇👇

https://www.facebook.com/groups/454507005961411/permalink/1423742789037823/?app=fbl

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url