#ভাইরাল_গার্ল
#লুৎফুন্নাহার_আজমীন
#পার্ট২
প্রতিবেশী আত্মীয়দের কথাগুলো বার বার পৃথার কানে বাজছে।এই মুহুর্তে নিজেকে দুনিয়ার সবচে অসহায় আর অপরাধী ব্যাক্তি মনে হচ্ছে নিজেকে।ভালো ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার জন্য যে বাবা গর্বে মাথা উঁচু করে মানুষদের বলতো তার মেয়ে "হীরের টুকরো"। আজ সেই বাবাই,সেই মেয়ের জন্য সমাজে মুখ লুকিয়ে চলছে।একে তো প্রিয় মানুষটার এমন কাজ তারমধ্যে আশেপাশের মানুষজনে কটু কথা।সব মিলিয়ে পৃথা এখন আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো পথ দেখছে না।আজ প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ সমাজ,পরিবার থেকে সম্পুর্ন নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে পৃথা।নাওয়া খাওয়া সব ছেড়ে ঘরের এক কোণে গুটিয়ে বসে থাকে সে।কখনো মুর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে যায় আবার কখনো চিৎকার করে কাঁদে।বাথরুমে গিয়ে শাওয়ারের নিচে বসে পৃথা।পুরোনো স্মৃতিগুলো যেন বারবার তার সামনে ভেসে উঠছে।কতই না সুন্দর ছিলো নিলয়ের সাথে কাটানো মুহুর্তগুলো।কে জানতো আজ প্রিয় মানুষটার জন্যই....!নাহ যে পৃথার এত বড় সর্বনাশ করেছে সে কখনোই পৃথার প্রিয় মানুষ হতে পারে না।দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে পৃথা।অতীতে নিলয়ের সাথে কাটানো সুন্দর মুহুর্তগুলো ভেসে উঠে পৃথার চোখের সামনে,,,,,,,
নিলয় পৃথা ছিলো ব্যাচমেট।কলেজের প্রথম দিন পৃথাকে দেখে নিলয় মুগ্ধ হয়ে যায়।যাকে বলে Love at first sight...খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে মেয়েটা সায়েন্সের স্টুডেন্ট। কিন্তু নিলয় তো আর্টসের স্টুডেন্ট। সায়েন্স আর্টসদের আলাদা ক্লাস হয়।প্রতিদিন পৃথাকে এক নজর দেখার জন্য দ্বিতীয় পিরিয়ডে পৃথাদের ক্লাসে গিয়ে লাস্টের ব্রেঞ্চটায় বসতো নিলয়। সেদিন ছিলো ক্যামিস্ট্রি ক্লাস।ক্যামিস্ট্রি স্যার হঠাৎ করেই লাস্ট ব্রেঞ্চে বসা নিলয়কে প্রশ্ন করে ফেলে।আর্টসের স্টুডেন্টের পক্ষে মোটেও ক্যামিস্ট্রির প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ না।তাও নিজেকে বাঁচাতে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে।কিন্তু সে ব্যর্থ হয়। তা দেখে পাশে বসে থাকা একটা ছেলে বলে,,,
-স্যার আর্টসের ছাত্র ক্যামিস্ট্রি পাবে কিভাবে?
-আর্টসের মানে?আর্টসের স্টুডেন্ট এখানে কি করে।
-স্যার ও পৃথাকে দেখতে আসছে।পৃথাকে ওর ভালোলাগে বলে।
ছেলেটার কথা শুনে পুরো ক্লাস স্তব্ধ হয়ে যায়।স্যার কি করবে বুঝে উঠতে পারেন না।নিলয়কে ওয়ার্নিং দিয়ে ছেড়ে দেন।কিন্তু ঐ দিনের পর থেকে পৃথার বান্ধুবীরা শুধু শুধু নিলয়ের নাম নিয়ে পৃথাকে ক্ষেপাতে লাগে।আর নিলয়ও পৃথার পেছনে পুরো দমে লেগে থাকে।রোজ নিয়ম করে কলেজে ঢোকা এবং ছুটির পর কলেজ থেকে বের হওয়ার পথে নিলয় পৃথাকে একপলক দেখার জন্য কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে থাকতো।আর প্রতিদিন ছেলেটাকে ইগ্নোর করা যেমন পৃথার অভ্যেসে দাঁড়ায় ঠিক তেমন প্রতিদিন পৃথাকে দেখাটাও নিলয়ের অভ্যেসে দাঁড়ায়।হঠাৎ কোনো কারণে নিলয় কলেজে আসা বাদ দেয়।টানা তিনদিন নিলয়কে না দেখে পৃথার মন অস্থির হয়ে ওঠে।বাধ্য হয়ে নিলয়ের বন্ধুদের কাছে নিলয়ের খোঁজ করে।পরের দিন ক্যাম্পাসে যখন নিলয় আসে।তখন ওর বন্ধুরা খোচা দিয়ে বলে,,,
-মামা!পাখি তো পোষ মানতেছে মনে হয়।
-মানে?
-মানে কালকে তোর পাখি তোর খোঁজ করছে।
এরই মধ্যে পৃথার আগমন।প্রতিদিনের মতো নিলয়কে কলেজ গেটের পাশে দেখে পৃথার মন ভালো হয়ে যায়।মুচকী হাসি দিয়ে নিলয়ের দিকে এগিয়ে যায় পৃথা।নিলয় অপ্রস্তুত হয়ে যায়।আজ আবার সবার সামনে অপমান করে বসবে না ত মেয়েটা?কিন্তু নিলয়ের ধারণার পুরো উল্টোটা হয়।পৃথা নিলয়ের কাছে এসে মুচকী হেসে বলে,,,
-এতদিন না আসার কারণ?
-ফুপির শ্বাশুড়ি মারা গেছেন।লং জার্নি করে ফুপির বাসায় আসছি গেছি।শরীরটা ভালো লাগে নি তাই আসিনি।
পৃথা আর নিলয়ের কথার জবাব দেয় না।মুচকী হাসি দিয়ে ক্লাসের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়।সেদিনের পর থেকে দুজনের মধ্যে টুকটাক কথা হতো।আস্তে আস্তে পৃথা নিলয়ের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে।যে মেয়ে রাত দশটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তো সে মেয়ে নিলয়ের সাথে রিলেশনে যাওয়ার পর বুঝতেই পারে না কখন রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যায়।ঘন্টার পর ঘন্টা লুকিয়ে ফোনে নিলয়ের সাথে কথা বলতো। কিন্তু যতদিন যায় নিলয় পৃথার প্রতি ইন্ট্রেস্ট হারিয়ে ফেলে।পৃথাকে অনেকটা গলার কাঁটার মতো মনে হয় নিলয়ের।আর এদিকে নিলয়কে নিয়েই পৃথা আলাদা একটা কল্পনার জগত বানিয়ে ফেলেছে।ছেলে আর মেয়েদের ভালোবাসায় এই একটা তফাৎ। মেয়েরা প্রথমদিকে ভালো না বাসলেও আসতে আসতে মায়ায় পড়ে ভালোবেসে ফেলে।যেহেতু মেয়েদের মায়া জিনিসটা বেশ অনেকটাই বেশি থাকে।আর অন্যদিকে ছেলেরা প্রথমদিকে মন প্রাণ উজার করে ভালোবাসতে পারলেও পরে আসতে আসতে বিপরীতে মানুষটার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।অনেকটাই গলার কাটা মনে করে বিপরীত মানুষটাকে।সব ছেলের ক্ষেত্রে তা বলা যায় না।কিছু কিছু ছেলে সারাটাজীবনই মন প্রাণ উজার করে ভালোবাসতে পারে।আগলে রাখতে পারে প্রিয় মানুষটাকে।প্রায়ই পৃথার আপত্তিকর ছবি চাইতো নিলয়।পৃথা প্রথমদিকে খুব বিরক্তে হয়।ঝগড়াও হয় এ নিয়ে।কিন্তু ঐ উঠতি বয়সে আবেগ।আবেগের কারণে পৃথার মনে হয় সে নিলয়কে ছাড়া বাজবে না।দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে।তাই বাধ্য হয়ে নিলয়ের অন্যায় আবদার রাখে সে।অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছিলো নিলয়কে।আজ তার ফল পৃথার পরিবার সহ ভোগ করছে।
শাওয়ার নিয়ে এসে চুল ঝাড়তে ঝাড়তে হঠাৎ করেই পৃথার ফ্যানের দিকে চোখ যায়।আড়চোখে কিছুক্ষণ ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকে সে।বিছানায় পড়ে থাকা ওড়নাটার দিকেও তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তাচ্ছিলের হাসি দিয়ে বসে পড়ে খাতা কলম নিয়ে।অশ্রুসিক্ত চোখে লিখতে লাগে,,,
আমি জানি আমি অপয়া।আমার জন্যই আজ তোমাদের সমাজের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে চলতে হচ্ছে।অন্ধের মতো পরের ছেলেকে বিশ্বাস করে আজ আমি নষ্টা মেয়ে।আমার জন্য সমাজের আর পাঁচটা মেয়েও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।পৃথিবীর বুকে এক বিশাল জঞ্জাল আমি।তাই সিদ্ধান্ত নিলাম পৃথিবীর জঞ্জাল পরিষ্কার করার।সরিয়ে দেবো নিজেকে এই পৃথিবীর বুক থেকে।আর কারও জন্য তোমাদের মুখ লুকিয়ে চলতে হবে না।ভালো থেকো তোমরা।আর পারলে এই খারাপ মেয়েকে ভুলে যেও।
ইতি
পৃথা
চিঠিটা বিছানার ওপর রেখে টুলে দাঁড়িয়ে ফ্যানে ওড়না বাঁধে পৃথা।শেষ বারের মতো চারপাশটা দেখে নেয়।ওড়নার প্যাচের ভিতর নিজের মাথা ঢোকায়।চোখের কার্নিশ বেয়ে অশ্রু মাটিতে পড়ে।পৃথা লম্বা শ্বাস নিয়ে চোখ বন্ধ করে।পা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে পায়ের নিচ থেকে সরিয়ে ফেলে টুলটাকে......
চলবে,,ইনশাআল্লাহ
আসসালামু আলাইকুম রিডার্স। আশা করছি আল্লাহর রহমতে আপ্নারা ভালো আছেন।প্রথম পর্ব পড়ে অনেকেই কমেন্টে জানান যে আমি নাকি কপিবাজ।কপি করে লিখছি।let me clear...হ্যাঁ আমি স্বীকার করলাম যে বানি রায়ের ভিডিও থেকে আমি ধারণা নিয়েছি।কিন্তু খোদার কসম দিয়ে বলছি আমি কপি করি নাই।যতটুকু সম্ভব আমি কমেন্টে রিপ্লাই দিয়ে আপনাদের তা জানানোর চেষ্টা করেছি।আবার গল্পের মাঝখানে রোজা নামটা দেখেও অনেকে আমায় কপিবাজ বলেছেন।গল্পটা আমি প্রায় এক মাস আগে লিখে রাখছি। আলসেমির কারণে পোস্ট করা হয়ে উঠে নাই😑দুই দিন আগে নোটে আমি গল্পটা পড়ি আর পরে নায়িকা হিসাবে রোজার জায়গায় পৃথা নাম বসাই।যাই হোক আপনাদের ঐসব গঠনমূলক কমেন্ট পেয়ে আমার অনেক ভাল্লাগছে।ইনশাআল্লাহ সারাজীবন এভাবেই পাশে পাবো আপনাদের।কারও মনে কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। চেষ্টা করবো আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।হ্যাপি রিডিং💜
