#স্ত্রীর_পরকীয়া 

#পর্ব_০২+০৩

.

বাসার দিকে রওনা দিলাম,, বাসার গেটের কাছে এসে

আমি তো অবাক হয়ে গেলাম,,, একটা সাইকেল বাসার

গেটে রাখা,, আর সাইকেল টা কার সেটা আমিও জানি,,,

সাইকেল টা হল সাব্বিরের,,, আমার ছেলের

প্রাইভেট মাস্টার,, কিন্তু সে এ অসময় আমার বাসায়

কেন,, আমি আস্তে আস্তে বাসার ভিতরে ঢুকতে

লাগলাম।।।বাসায় ঢুকে আমি অবাক হইয়ে গেলাম,আমার শরীর রাগে ফুলতে লাগল......

.

কারণ আমার স্ত্রী আর সাব্বির বারান্দায় দাঁড়িয়ে

হেসে হেসে কথা বলছে।

(★)গত 15 দিন যাবত আমার সাথে মনে হয় এভাবে

হেসে এক মিনিটও কথা বলেনি,,, আমাকে দেখে

একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল,সাথে সাথে মুখের

হাসি বন্ধ হয়ে গেল,আমি মনে হয় আমি এসে

তাদের কথাবার্তার নির্ঘাত বারোটা বাজে দিয়েছি?

(★)সাব্বির আমাকে দেখে বলল আরে স্যার

কেমন আছেন।

(আমি)এইতো আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো?

তুমি কেমন আছো।

(সাব্বির) জি স্যার ভালো।

(আমি)তো এ অসময়?

(সাব্বির) আসলে স্যার এদিক দিয়ে একটু বাজারে

যাচ্ছিলাম,,, তাই ভাবলাম দেখা করে যাই।

(আমি)ভালো করেছো চলো ভিতরে চলো চা

খাবে।

(সাব্বির) না স্যার আজকে খাব না,, আজকে বাজারে

জরুরী একটু কাজ আছে।

(আমি)আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে যাও।

★আমি আমার রুমে এসে ল্যাপটপ এ কিছু কাজ করব,,

এমন সময় আমার বউ এসে হাজির,,,

(বউ)কি হল আজকে অফিসে যাবানা।।

(আমি)নাহ আজকে ভালো লাগতেছে না,, অফিসের

কিছু কাজ আছে সেগুলো ল্যাপটপের সেরে

নেব।

★সাথে সাথে মুখটা কালো করে আমার রুম

থেকে চলে গেল,,, আমি ল্যাপটপ এর কাজ

রেখে,,, তার পেছন পেছন গেলাম,,, এবং তাকে

পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম।

(আমি)কি হলো মুখটা কালো করে চলে আসলা কেন?

(বউ)এমনি?

(আমি) চলো আজকে তোমাকে নিয়ে শপিং করব।

(বউ) না আমার শপিং করতে ভালো লাগেনা।

(আমি) কি বলো আগেতো সাপ্তাহে একদিন

শপিংয়ে না গেলে আমার সাথে রাগ করে কথা

বলতে না আর ইদানিং কি হয়েছে তোমার।

কিচ্ছু হয়নি আমার শপিং করতে ভালো লাগে না তাই

শপিংয়ে যাব না।((( একটু বিরক্তি নিয়ে কথাটা বলল)))

(আমি) আচ্ছা ঠিক আছে তুমি না যেতে চাইলে

জোর করব না,,, রুমে এসে ল্যাপটপে কাজ শুরু

করে দিলাম,,,, দুপুর ২ টায় ছেলেকে স্কুল

থেকে বাসায় নিয়ে আসলাম

★দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে বউকে বললাম চলো

আজকে বিকেলে ঘুরে আসি,,,

বউ একরাশ বিরক্তি নিয়ে এমন ভাবে না করল,,, যেন

তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছি।।

(★)তাই বাধ্য হয়ে রুমে এসে বিছানায় গাটা এলিয়ে

দিলাম,,, বুঝিনা কি জন্য এখন সে সবকিছুর মধ্যে বিরক্তি 

ভাব প্রকাশ করে,,,, কিছুক্ষণ পরে আমার ছেলে

আমার রুমে এসে বলতে লাগল,,,

(ছেলে) আব্বু আব্বু?

(আমি) কি হয়েছে বাবা।।

(ছেলে) স্যার এসেছে কিন্তু আজকে আমি

স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়বো না।

(আমি) কেন বাবা।।

(ছেলে)আজকের সারা বিকাল তোমার সাথে

ঘুরবো।

(আমি) না বাবা সামনে তোমার পরীক্ষা,,, প্রাইভেট

না পড়লে পাশ করতে পারবা না,,, আরেকদিন তোমাকে

ঘুরতে নিয়ে যাব।

(ছেলে) না আমি আজকে যাব।।

★কি করব ছেলের জোরাজুরিতে বাধ্য হয়ে রাজি

হলাম,,, আসলে আমি এজন্য যেতে চাচ্ছিলাম না যে

আমার বউ ঈশিতা যাবে না।

★আমি ছেলেকে নিয়ে ড্রইং রুমে আসলাম,,,

এসে দেখি সাব্বির বসে আছে,,, আমি সাব্বিরকে

বললাম,,, সাব্বির আজকে ওকে নিয়ে একটু ঘুরতে

যাব,,, তুমি বরং আজকে চলে যাও,,, সাব্বির উঠে চলে

যাচ্ছে,,, পিছন থেকে আমর বউ সাব্বিরকে ডাক দিল,,

(বউ) কি হলো সাব্বির চলে যাচ্ছ কেন?

(সাব্বির) আজকে ভাইয়া রোহান কে নিয়ে নাকি

ঘুরতে যাবে,,, তাই চলে যাচ্ছি...

(বউ) আচ্ছা ঠিক আছে তো চা খেয়ে যাও..

(সাব্বির) না আজকে চা খাব না প্রতিদিনের তো

আসতে হয়.. পড়ে না হয় খাব...

★বিকাল 5 টা ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে বের হলাম,,,,

বউকে অনেক করে বললাম আসার জন্য,,, ওর নাকি

শরীর ভালো লাগতেছে না,,, আসতে পারবে না,,,

কি করার তাই বাধ্য হয়ে ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে

বের হলাম,,, জানিনা ওর ভিতরে এরকম পরিবর্তন কি

জন্য,,, আগে সাপ্তাহে একদিন ঘুরতে না নিয়ে

গেলে,,, দুদিন আমার সাথে রাগ দেখিয়ে কথা বলত

না...

আর এখন আমি নিজে বলি ঘুরতে যেতে,, সে

বিভিন্ন অজুহাত দেখায়...

★বাবা ছেলে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ঘোরাঘুরি করলাম,,,

বাসায় এসে ছেলেকে বললাম পড়তে বসতে,,,

আমি আমার রুমে এসে দেখি বউ এমন ভাবে শুয়ে

আছে,,, স্বামী-স্ত্রীর দৈহিক মিলন করার পর যে

অবস্থা হয় সে অবস্থান,,, শাড়ি আওলা জাওলা করে

শরীরের পেছানো,,,, চুলগুলো

এলোমেলো,,,, ঠোটে লিপিস্টিক আঁকা বাঁকা

হয়ে আছে,,,, আমি তাকে বললাম তোমার এই

অবস্থা কেন...

★সে উঠে শাড়িটা শরীরে পেছাতে পেছাতে

বললো,,, আসলে তোমরা চলে যাওয়ার পর মাথাটা

প্রচন্ড ব্যথা করছিল,,, ব্যথার তাড়নাই কখন যে

আউলা যাওলা হয়ে ঘুমিয়ে পরেছি বলতে পারি না,,,,

★আমি তার চোখে বিন্দুমাত্র ঘুমের লক্ষণ

দেখতে পাইনি,,, মানুষ ঘুম থেকে ওঠার পর তার

চেহারায় ঘুমের একটা ভাব থাকে,, কিন্তু আমার

স্ত্রীর চেহারায় ঘুমের কোন ভাবে নাই,,, সে

আমাকে বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বলেছে সে ঘুমিয়ে

ছিল।।

★রাতে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়লাম,,,

আজকেও তাকে কাছে টানার চেষ্টা করেছি,, সে

একই কথা তার শরীর ভালো না,,, আমিও আর কিছু

বলতে পারি না,,, কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু করা

যায় না।।

★সকালে উঠে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে

দিয়ে,, আমি অফিসে চলে গেলাম,,, সন্ধ্যায় বাসায়

এসে দেখি,,, ছেলে বারান্দায় বসে কান্না করছে,,,,

আমি ছেলের কাছে গিয়ে বললাম,,, কি হয়েছে বাবা

কান্না কর কেন?

★ছেলে আমাকে জড়িয়ে ধরে আরো

জোরে জোরে কান্না করতে লাগল,,, কান্না

করতে করতে হেচকি উঠে গেছে,, আমি

ছেলেকে বুকে জড়িয়ে বললাম,,, কি হয়েছে

বাবা

বল আব্বুকে বল।

★কিন্তু ছেলে হেঁচকি ওঠার কারণে কথা বলতে

পারছে না,,, আমি ছেলেকে কোলে নিয়ে

কপালে চুমু দিয়ে বললাম,,,কি হয়েছে বল আব্বুকে

তোমার আম্মু মেরেছে,,,

★ছেলে কান্না করতে করতে,,, মাথা নাড়িয়ে বলল

হ্যা?

★কোথায় মেরেছে দেখি,, ছেলে বাম গালটা

দেখালো,,, আমি তো এতক্ষণে খেয়াল করি

নাই,,,,গালে পাঁচ আঙ্গুলের দাগ পড়ে গেছে,,,

ছোট বাচ্চাকে এত জোরে থাপ্পড় মারে,,, আমি

ছেলেকে বললাম তুমি কি করেছো,, যে তোমাকে এত জোরে থাপ্পর দিয়েছে,,,

(ছেলে) আমি কিচ্ছু করিনি আব্বু,,,

★তুমি কিছু না করলে তোমাকে এত জোরে

থাপ্পর মারবে কেন,,, তুমি নিশ্চয়ই বড় ধরেন কোন

দুষ্টামি করেছো

(ছেলে) না আব্বু আমি কোন দুষ্টামি করি নি,, আমি

সত্যি কথা বলছি।।

★আচ্ছা ঠিক আছে চলো,, আমি আমার

ছেলেকে নিয়ে রুমের ভিতরে গেলাম,,,

যেয়ে দেখি বউ শরীরে চাদর দিয়ে শুয়ে

আছে,,, আমি তো বুঝতে পারি না অসময়ে শুয়ে

থাকার মানেটা কি,,,

★বউ আমার আসা টেরপেয়ে বিছানা থেকে

উঠতে যাবে,,,, আমি বউয়ের দিকে তাকিয়ে তো

আমার চোখ ছানাবড়া,,,, বউয়ের শাড়ি সম্পূর্ণ ভাবে

খোলা,,,, বুকে অন্য কোন কাপড় নেই,,, চেহারা কি

রকম এক ফ্যাকাশে দেখা যাচ্ছে,,,।।।। আমি এগুলার

কথা জিজ্ঞাসা না করে বউকে বললাম,,,

তুমি ছেলেটা কে এভাবে থাপ্পর দিয়েছে

কেন?

বউ-- তোমার ছেলে দিনদিন বাঁদর হচ্ছে,,, আমার

একটা কথা শুনেনা,, দুষ্টমির শেষ চূড়ায় পৌঁছে

গিয়েছে এজন্য থাপ্পড় দিয়েছি।।

★কি এমন দুষ্টুমি করেছে যে এত জোরে

থাপ্পর দিয়েছো। ছেলেটার গালে পাঁচ

আঙ্গুলের দাগ পড়ে গিয়েছে।।

(বউ) কী দুষ্টমি করেছে তোমার ছেলেকে

জিজ্ঞাসা কর,,

★ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখি ছেলে ভয়

নিয়ে ওর আম্মুর দিকে তাকিয়ে আছে,,, ওর আম্মু

ওর দিকে তাকিয়ে আছে,,, আমি ছেলেকে বললাম

কি দুষ্টুমি করেছ বাবা,,, কিন্তু আমার ছেলে কোন

উত্তর দেয়না,,, ওকে দেখে বোঝা যাচ্ছে ও

অনেক ভয় পাচ্ছে,,

★আমি ছেলেকে কিছুক্ষণ আদর করে ঘুম

পারিয়ে দিলাম,,, তারপর বউয়ের রুমে এসে বললাম,,,,

কি হয়েছে তোমার,,, কি সমস্যা।

(বউ) কেন কি করেছি আমি।

★তুমি এ অসময় এলোমেলো হয়ে শুয়ে

থাকো কেন,,, কাপড়ের ঠিক থাকে না কোন কিছু

ঠিক থাকে না,, তোমার শরীর যদি অসুস্থ হয় তাহলে

আমাকে বলো,,, তোমাকে হসপিটাল এ নিয়ে যাব।।।

(বউ) আমার এরকম কিছু হয় নাই যে আমাকে

হসপিটালে যেতে হবে,,, মাঝে মাঝে ভালো

লাগেনা তাই ঘুমিয়ে থাকি,,, তাতে সমস্যা কি??( রাগ এবং

বিরক্তি নিয়ে)

★আমি আর কিছু বললাম না,,, রাতে খানার

সময় ছেলেকে ঘুম থেকে ডেকে তুললাম,,,

ছেলে আমাকে কিছু বলতে যাচ্ছিল,,, কিন্তু তার

আগেই আমার বউ চলে আসে,,, আমিও সেরকম

আর গুরুত্ব দিইনি,,,

★পরপর দু'দিন চলে গেল,, এই দুই দিন প্রতিদিন

সন্ধ্যায় বাসায় এসে দেখি,,,, বউ আওলা জাওলা হয়ে

শুয়ে থাকে। কাপড় চোপড় কোন কিছুই ঠিক থাকে

না,,, আমিও তেমন কিছু বলি না,, হয়তো ভেবে নেই

অসুস্থ।

★এর পরের দিন ভোরের সিক্ত সকাল শুরু হওয়ার

আগেই নিঝুম ধারায় বৃষ্টি পড়তে লাগলো,,, বৃষ্টি

মনে হয় পৃথিবীকে অন্ধকারাছন্ন করে তার জল

দিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে সাগরের পট ভূমিকাতে,,,

আস্তে আস্তে রাত তার অন্ধকার কাটিয়ে,,

ভোরের আলো কে নিমন্ত্রণ জানিয়ে,, অন্ধকার

হারিয়ে যাচ্ছে শূন্য কোন এক অজানা পথে,, তার

সাথে সাথে বৃষ্টির ও বেগ কমতে লাগলো,,, যখনই

ভোরের রবি উঁকি দেবে,,, তখনও ঝিরঝির করে

বৃষ্টি পড়তে লাগলো,,,

★আজকে মনে হয় আর অফিসে যাওয়া হবে না,,,

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা বানিয়ে

ছেলের রুমে গেলাম,,, ছেলে গভীর ঘুমে

আচ্ছন্ন,, ঘুমন্ত অবস্থায় ছোট বাচ্চাগুলোকে এত

সুন্দর কেন লাগে৷,, মনে হয় বিছানার মাঝখানে

কোন এক পদ্ম ফুল ফুটে আছে,,,, আমি আস্তে

করে ছেলের কপালে একটা চুমু খেলাম,,,

★সাথে সাথে ছেলের ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছে,,,

তারপর আমাকে জড়িয়ে তার পাখির মত ছোট্ট ঠোঁট

দিয়ে বলতে লাগলো।

ছেলে) আব্বু আজকে তো বৃষ্টি আজকে আমি

স্কুলে যাব না,,, আমি ছেলেকে জড়িয়ে ধরে

কপালে চুমু দিয়ে বললাম ঠিক আছে আব্বু।

★সকাল 9 টা সূর্য তার আলো দিয়ে পৃথিবীকে

আলোকিত করতে মেঘের সাথে তুমুল যুদ্ধ

লেগে গিয়েছে,,, হয়তো অল্পক্ষণের জন্য

মেঘের জয়ী হবে,,, আবার অল্প কিছুক্ষণের

জন্য সূর্যর জয়ী হবে,,,, অদল বদল করে মেঘ

আর সূর্য আজকের দিনটাকে গুড় অন্ধকার আর

আলো মিলে ফ্যাকাসে করে ফেলেছে,,,,,

★সকালে নাস্তা করে ছেলেকে নিয়ে ঘুমের

দেশে হারিয়ে গেলাম,,, বেলা ১২ টায়

মোবাইলের টিং টিং কোন শব্দে ঘুম ভেঙ্গে

গেল,,, ফোনটা রিসিভ করার সাথে সাথে বস বলতে

লাগলো। কোথায় তুমি তাড়াতাড়ি অফিসে আসো,,,,

★নিজের অনিচ্ছা শর্তেও বসের জরুরি তলবে হালকা

রোদ বৃষ্টির মাঝে বেরিয়ে পড়লাম,,, অফিসে

গিয়ে শুনি আমাদের নতুন কনট্রাকের এর সব

কাগজপত্র ওলট পালট হয়ে গিয়েছে,,,, এগুলো ঠিক

করে আগামী তিন ঘন্টার ভিতরে,,, বসের হাতে

পৌঁছাতে হবে তা না হলে ক্যানসেল দিস কন্টাক্ট,,,

সবাইকে যার যার কাজ দ্রুত শেষ করার কথা বলে আমি

আমার কেবিনে এসে কাজ শুরু করে দিলাম,,, যে

কাজ বাকি আছে মনে হয় না আগামী তিন ঘন্টার

ভিতরে শেষ করা যাবে। তারপরও চেষ্টা করতে

হবে তা না হয়তো কন্টাক ডিল অন্য কোন

কোম্পানির হাতে চলে যাবে।

★আমি খুব মনোযোগ সহকারে কাজ করতে শুরু

করলাম,,, সময়ের দিকে খেয়ালই নাই সময় তার নিজস্ব

গতিতে ঠিকই চলতে লাগলো,,, ঘড়ি দিকে একবার

চোখ বুলিয়ে নিলাম দুপুর ২.৪০ তারপর রানিং কাজ চলতে

লাগলাম,,

★হঠাৎ করে পাশে রাখা মোবাইলে দুইটা টং টং শব্দ

শুনতে পেলাম,,, কাজে এতটাই বিভোর যে কে

মেসেজ দিয়েছে সেদিকে খেয়াল করার

মনোভাব তৈরি হয়নি।

★যখন পুরো কাজ কমপ্লিট হয়েছে,,, তখন

মোবাইলটা হাতে নিলাম,,, মোবাইলের স্ক্রিনের

দিকে তাকিয়ে দেখি,,, আমার খুব পরিচিত নাম্বার

থেকে একটা মেসেজ,,, আর সেই পরিচিত ব্যক্তি

টা হল আমার ওয়াইফ,,, মেসেজটা সিন করে পড়তে

লাগলাম,,,, জান তুমি কোথায়,,,, আজকে আসবানা,,,,

আজকে তো বৃষ্টি হচ্ছে,, প্রচুর মজা হবে,,,

তাড়াতাড়ি চলে আসো,,, আমি তোমার অপেক্ষায়

বসে আছি।

★আমার ওয়াইফ আমাকে এ মেসেজ দিয়েছে,,, এ

মেসেজ টু আমার ছয় বছরের বিবাহ জীবনে

কখনো দেইনি,,, আর এক মিনিটও বিলম্ব না করে,,,

গাড়ি নিয়ে বাসার দিকে রওয়ানা দিলাম,,,

গাড়িতে বসে ঘড়িতে একবার খেয়াল করলাম ৪.৫০,,,

পেটে প্রচন্ড খিদে লেগেছে,,, এতক্ষণ

কাজের চাপে খিদের কথা ভুলে গিয়েছিলাম,,, গাড়ি খুব

স্পিডে চালিয়ে,গেটের সামনে এসে জুড়ে হার্ট

ব্রেক কসলাম,,,, পরে গাড়ি থেকে নেমে

সামনে একটা সাইকেল রাখা দেখতে পেলাম,,, আর সাইকেলটা নিশ্চয়ই

সাব্বিরের,,,

সকালে অফিসে যাওয়ার আগে সাব্বিরকে ফোন

করে জানিয়ে দিয়েছি,,,,, যে আজকে বৃষ্টি

আজকে তোমার আসার দরকার নাই,,, আমার ছেলে

আজকে প্রাইভেট পড়বে না। তাহলে সাব্বির কেন

আসলো? বুকের ভিতর ধুক ধুক করতে শুরু করে

দিয়েছে।

★গাড়িটা গেটের কাছে রেখে আস্তে আস্তে

ভিতরে ঢুকলাম,, হালকা ঝিরঝির বৃষ্টি,, কোথায় থেকে

যেন একটা কান্নার আওয়াজ আমার কানে ভেসে

আসছে বারান্দার দিকে তাকিয়ে তো আমি থমকে

দাঁড়ালাম।।।


#বিঃদ্র যারা আগে এই গল্পটা পড়েছেন, তারা এড়িয়ে চলুন,শুধু শুধু কপি কপি করে চিল্লাইয়েন না,অযতা চিল্লা চিল্লি করলে ব্লক লিস্টে ঢুকে যাবেন,বিনা ভিসায়,অলরেডি অনেকে ঢুকে আছে ব্লক লিস্টে,শুধু কপি কপি করে চিল্লাইছে তাই।আর হা হইতো অনেকে গল্পটা পড়ে নাই তাদের জন্য দেওয়া, আমি না দিলে হইতো তারাও পড়তে পারতো না।আর পারলে একটা কাজ করেন, সব গুলা গল্পের মেইন লেখক এর নাম লিখে নিজের প্রফাইলে টাইমলাইনে দেন,দেখি কয়জন পারেন এই কাজটা করতে।সো অযতা চিল্লাচিল্লি না করে অন্যকে গল্প পড়তে উৎসাহিত করুন।ধন্যবাদ। 

.

#চলবে_কি??

.

.#স্ত্রীর_পরকীয়া 🐝🐝

🌺🌺🌺🌺🌺🌺

#পর্ব_০৩

.🌸🌸🌸🌸🌸🌸

গাড়িটা গেইটের কাছে রেখে আস্তে আস্তে

ভিতরে ঢুকলাম,, হালকা ঝিরঝির বৃষ্টি,, কোথায় থেকে

যেন একটা কান্নার আওয়াজ আমার কানে ভেসে

আসছে বারান্দার দিকে তাকিয়ে তো আমি থমকে

দাঁড়ালাম।

আমার ছেলে বারান্দার এক কোনায় বসে কান্না

করছে,,,, আমি তাড়াতাড়ি ছেলের কাছে যেতে

লাগলাম,,, ছেলে আমাকে দেখে দৌড়ে আমার

কোলে এসে পরল,,, আমি তাকে পরম মমতায়

জড়িয়ে নিলাম,,,, তারপর বললাম,,, কি হয়েছে আব্বু তুমি

এভাবে কান্না করছো কেন,, আজকেও তোমার

আম্মু তোমায় বকেছে।

না?

তাহলে কান্না করছ কেন।।

আম্মু না।

হ্যা বল?

আম্মু না অনেক খারাপ,, অনেক পচা,

কেন কি করেছে তোমার আম্মু।

আম্মু না প্রতিদিন বিকেলে স্যারের সাথে রুমে

শুয়ে থাকে,,, আমি কিছু বললে আমাকে মারে,,,

কি বলছো তুমি এগুলা?

হ্যাঁ আমি সত্যি বলছি,,, এখনো আম্মুর রুমের স্যার

আছে।।।

ছেলের মুখে এমন কথা শুনে আমার সারা শরীর

কাঁপতে লাগলো,,, এদিকে খিদের তাড়নাই জান যায় যায়

অবস্থা,,, এমন সময় নিজের ছেলের মুখে এমন

কথা শুনে আমার পা যেন মাটির সাথে আটকে গিয়েছে।

আমি কাঁপা কাঁপা পায়ে দরজার দিকে যেতে লাগলাম,,

দরজার কাছে যেতেই একটা মেয়ে মানুষের

গোঙ্গানির আওয়াজ শুনতে পেলাম,,,,, দরজায় একটা

ধাক্কা দিলাম,,, কিন্তু দরজা ভিতর থেকে লক লাগানো,,,,

আমি আস্তে আস্তে জানালার কাছে গেলাম,,, জানালার

পর্দাটা হালকা সরাতেই,, আমার মাথায় যেন আকাশ

ভেঙ্গে পড়লো,,,, আমার পায়ের নিচ থেকে

মনে হয় মাটি সরে গেল,,,

বুকের ভিতরে মনে হচ্ছে কেউই একটা বড়

হেমার নিয়ে এলোপাতাড়ি বারি দিয়ে যাচ্ছে,,,, কি

দৃশ্য দেখলাম আমি,,, নিজের চোখকে বিশ্বাস

করতে পারছি না,,, আমার স্ত্রী এবং সাব্বির দুইজন সম্পূর্ণ

কাপড় বিহীন অবস্থায়,,, একজনের উপর একজন

লেপ্টে আছে,,,, এবং আমার স্ত্রী ওর মাথার চুলে

ধরে ওকে উৎসাহ দিচ্ছে।

আমি আর কিছু ভাবতে পারছিনা,,, আমার মাথা দিশেহারা পাখির

মত ঘুরতে লাগলো,,,, জানালার কাছ থেকে দৌড়ে

গিয়ে আমার ছেলেকে জড়িয়ে ধরলাম,,,

আর জোরে জোরে কাঁদতে লাগলাম,,,।

আব্বু তুমি কাঁদছো কেন?

আমি কোন কথার জবাব দিচ্ছি না,

আমি ছেলেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছি।

জানো আব্বু আজকে না আমি লুকিয়ে লুকিয়ে

আম্মুর মোবাইল নিয়ে আসি,,,

তারপর তোমার নাম্বার আর স্যারের নাম্বার এক করে

দিই,,, তুমি যেন বুঝতে পারো,,,

আমি অবাক হয়ে ছেলের কথা শুনে ছেলের

দিকে তাকালাম,, কি নিষ্পাপ ফুলের মত চেহারা,,, একটা

পাঁচ বছরের ছেলের মাথায় কতটুকু বুদ্ধি,,, ঠিক আমার

মত হয়েছে,,, কলেজে থাকতে আমাকে সবাই

জিনিয়াস বলে ডাকতো?

আমি ছেলের কপালে একটা চুমু দিয়ে,,, আবারো

তাকে জড়িয়ে ধরলাম।

আমার ছেলে আস্তে আস্তে আবারো বলতে

লাগলো,,, জানো আব্বু ঐদিন আমি কোন দুষ্টামি করি

নি,,, স্যার আমাকে না পড়িয়ে,, আম্মুর রুমে চলে

গেল,,, পরে আমি যেয়ে দেখি আম্মুর বিছানায় স্যার শুয়ে আছে। আমি

রুমে গেলে আম্মু আমাকে জোরে গালে থাপ্পড়

মারে,, এবং বলে তোর আব্বুকে যদি এ কথা বলিস

তাহলে তোকে মেরে ফেলবো,,,

আমি আমার ছেলের কথা শুনে,,, আমার পায়ের রক্ত

মাথায় উঠে গেল,,,

পরক্রিয়ার জন্য নিজের ছেলেকে মারার কথা মানুষ 

বলে,তা এখন আমি বিশ্বাস করছি, আমি এখন বুঝতে পারছি কেন ঐদিন আমার ছেলে এতটা ভয় পেয়েছিল,,,, আমাকে বলতে

যেয়ে ও কেন বলতে পারেনি।

যে মা পরকীয়ার জন্য নিজের ছেলেকে

মেরে ফেলার হুমকি দিতে পারে,,, তারছেয়ে জঘন্যতম খারাপ মা আর ২য় টি নেই? আমি পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে,,

আমার গাড়ির ড্রাইভার কে ফোন করলাম।

১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাসায় আসার জন্য,,, ১০ মিনিট

পরে ডাইভার আমার কাছে আসলে,,, আমি

ড্রাইভারকে বললাম,,, আমার ছেলেটাকে ওর দাদুর

কাছে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসবি?

তারপর আব্বুকে ফোন দিয়ে বললাম,,, রিহান

আসছে,,, রিহানকে মেইন রোড থেকে

এগিয়ে নিয়ে যেও,, আর কোন কথা না বলে

ফোনটা রেখে দিলাম।

তারপর আমার ছেলেটাকে বুকে জড়িয়ে কিছুক্ষণ

দুই গালে চুম্বন করলাম,,, তারপরে তাকে গাড়িতে

বসেই দিয়ে বললাম,,, বাবা তোমার দাদু এসে

তোমাকে রাস্তা থেকে এগিয়ে নিয়ে যাবে,,,

ওইখানে একদম দুষ্টুমি করবে না।

আব্বু তুমি যাবা না।

হ্যা আব্বু পরে আসবো তুমি যাও।

ড্রাইভারকে দিয়ে ছেলেকে নিজের গ্রামের

বাড়িতে বাবা-মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিলাম,,, তারপর

আবারো আস্তে আস্তে জানালার কাছে গিয়ে

দাঁড়ালাম,,, জানালার পর্দাটা হালকা তুলতে,,, আবারো

পুনোরাই সেই দৃশ্য ই দেখলাম,,,

একজনের উপর একজন লেপ্টে আছে,,, আর

আমার স্ত্রী ওকে হাত দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছে,,,

বারবার মনে হচ্ছে আমি কোন দুঃস্বপ্ন দেখছি নাতো,,,

স্বপ্ন কেটে গেলে কি সব আবার আগের মত হয়ে

যাবে,,, আমার চোখ জেনো কোনোমতেই

বিশ্বাস করতে পারছে না,,, কিভাবে বিশ্বাস করবে,,,,

একটা মেয়ে একটানা এক বছর একটা ছেলের

পিছনে পাগলের মতো ঘুরে,,, তাকে

ভালোবেসে বিবাহর মত পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ করে,,,

ছয়টা বছর লাগামহীন টানা সংসার করে।তাদের সে সংসার আলোকিত করে যদি একটা

পুত্রসন্তান আসে,,,, সে পুত্রসন্তান টা যদি কথা বলতে পারে,,, তাকে পৃথিবীর মধুর ডাক মা বলে ডাকতে পারে।

সে সন্তান এবং স্বামীর অগোচরে আরেকজন

পর পুরুষ নিয়ে নিজের বিছানায় আনন্দ খেলায়

মেতে উঠে,,, তাহলে কি করে তার সেই স্বামী

নিজের চোখকে বিশ্বাস করাবে?

আমি এখনো পর্দার ফাক দিয়ে তাকিয়ে আছি,,, সাব্বির

আমার স্ত্রীর শরীরের উপর থেকে উঠতে

চাচ্ছে কিন্তু আমার স্ত্রী ওকে দুইহাত দিয়ে শক্ত

করে জড়িয়ে ধরে আছে।

এমন কোন রাত নাই যে তাকে আমি কাছে টানার

চেষ্টা করি নাই,,, প্রতিবারই আমাকে ফিরিয়ে

দিয়েছে,,, শুধু পরকীয়ার জন্য,,, শুধু তাই নয় আমার

নিষ্পাপ ছেলেকে মারার হুমকি দিয়েছে এই

পরকিয়ার জন্য,, আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো।

আমার সারা শরীর রাগে ফুলতে লাগল,,, সমস্ত রক্ত

যেন খুব দ্রুত গতিতে মাথায় উঠতে লাগলো,,,,

নিজেকে নিজে কন্ট্রোল করতে পারছি না,,,

হঠাৎ করে রূমের দিকে খেয়াল করলাম।।

দুজনে উঠে দাঁড়িয়েছে,,, এবং সাব্বির মেঝেতে

রাখা জামা গুলো পরিধান করেছে,, আর ফিসফিসিয়ে কি

জানি আমার বউকে বলছে,,, আর সেই কথা শুনে

আমার স্ত্রী মদু হাসছে।।।

.🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱

️ #বিঃদ্র গল্প পড়ে দেখি সবাই কেটে পরেন,ব্যাপার কি বলেনতো?প্লিজ কেউ কেটে পরবেন না,আপনানাদের মতামত আমাকে উৎসাহ দেয় পরবর্তী পর্ব দেওয়ার। আর সব সময় কিছু গঠনমূলক কথা লিখে কমেন্ট করলে খুশি লাগে।

ধন্যবাদ ইতিঃ #রাজু আবীর))

.💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐💐

ওরা দরজা দিয়ে বাহিরে বের হবে,,,

আমি তাদের বের হবার আগে ছাদে ওঠার সিঁড়ির

মধ্যে দাঁড়িয়ে পড়লাম,,,

হঠাৎ করে দরজা খোলার শব্দ শুনলাম,,,

সাব্বির রুম থেকে আগে বের হচ্ছে,,, আর আমার

স্ত্রীর শরীরে কাপড় পেছাতে পেছাতে সাব্বির

এর পিছনে যাচ্ছে।।।

বাহিরে হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টি,,, সেই বৃষ্টিতে ভিজে

আমার সারা শরীর একাকার হয়ে যাচ্ছে,,, পেটের

খিদে কোথায় জানি হারিয়ে গেছে বলতে পারব না।

আমার সমস্ত শরীর রাগে কঠোর মোটর করতে

লাগলো।।।

উঠানের মাঝখানে সাব্বির আর আমার স্ত্রী দাঁড়িয়ে

আছে,,, সাব্বির বার বার মুখ নিয়ে যাচ্ছে আমার

স্ত্রীর মুখের কাছে,,, আমার বউ আহ্লাদী হয়ে

ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে,,, কয়েকবার ধাক্কা

দেওয়ার পরে সাব্বির আমার স্ত্রীর ঠোটে চুম্বন

দিলো,,, এ দৃশ্যটা দেখে নিজেকে কন্ট্রোল

করতে পারছি না,,, হাতের মধ্যে সমস্ত শক্তি এনে জোরে দেওয়ালে এক ঘুসি মারলাম।।

সাথে সাথে হাত দিয়ে রক্ত পড়তে লাগলো,,, কিন্তু

আমার সেদিকে কোন খেয়াল নাই,,,,

সাব্বির গেটের কাছে গিয়ে সাইকেলে উঠলো,,,

আমার স্ত্রী এখনো উঠানে দাঁড়িয়ে আছে,,,

সাব্বির হঠাৎ করে সাইকেল থেকে নেমে দৌড়ে

এসে আমার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে একনাগাড়ে

চুমু দিতে লাগল,,,

আমি তাদের কথার স্পষ্ট আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি,,, সাব্বির

বলছে,,,, এই চলো না আর একবার হয়ে যাক।

না না আজকে আর না ও চলে আসবে?

সাব্বির এ কথা শুনে ওর হাতে থাকা ঘড়ির দিকে

তাকালো,,, তারপর বলতে লাগলো,,, তোমার

হাজব্যান্ড তো সন্ধ্যা ৭ টায় আসবে এখন তো মাত্র

ছয়টা বাজে।

চলো না আরেকবার হয়ে যাক,,, এ কথা বলে সাব্বির

আমার স্ত্রীকে কোলে তুলে নিল,,, আর আমার

স্ত্রীর সাথে সাথে ওর গলা জড়িয়ে ধরলো

তারপর রুমে গিয়ে ঠাস করে দরজাটা বন্ধ করে দিল।।

আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছি না,,,

জোরে জোরে চিৎকার করতে লাগলাম আর

আল্লাহ্কে ডাকতে লাগলাম,, হে আল্লাহ্ আমার

রাগকে নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি দাও,,, না কোনোভাবে

রাগ কে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছি না।

রক্তমাখা হাত নিয়ে আবারও শরিলের সমস্ত শক্তি দিয়ে জোরে দেওয়ালে ঘুসি

মারলাম,,, সাথে সাথে হাত দিয়ে অঝোর ধারায় রক্ত

পড়তে লাগলো।।

সে রক্ত সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে নিচে পড়ছে,,,

আমার মনে হচ্ছে শরীরের সমস্ত রক্ত যদি

চলে যাই,,, তারপরও আমার কোন রকম কষ্ট হবে না।

সিঁড়ির থাপের উপরে বসে,,, রক্তমাখা হাত দিয়ে

দেওয়ালে আস্তে আস্তে থাপ্পর দিচ্ছি ,,, নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি,,, কিন্তু দৃশ্য

গুলো যখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে,,,

তখন রাগ আমার কন্ট্রোল থাকেনা, সীমার বাহিরে চলে

যেতে থাকে,,, আল্লাহ্কে ডাকতে থাকি,,, আর

রাগকে দমানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছি।।

সন্ধ্যা ছয়টা ৪৫ ওরা রুম থেকে বের হলো,,, আমি

তখন অব্দি সিঁড়ির মধ্যে বসে আছি,,, সাব্বির রুম

থেকে বের হয়ে সাইকেলে গিয়ে উঠে

বসলো,,, তারপর হাত দিয়ে একটি চুমু ইমোজি উপহার

দিল।

আর আমার স্ত্রী মুচকি হেসে রুমের ভিতরে

চলে যেতে লাগল,,,,

আমি আমার গায়ের কোড টা খুলে,, ভিতরের সেন্টু

গেঞ্জি দিয়ে,, রক্তমাখা হাত টা ভালো ভাবে বেঁধে

নিলাম,,,, তারপর আস্তে আস্তে রুমের দিকে

প্রবেশ করতে লাগলাম,,, রাগ আর কষ্ট মিশ্রিত হয়ে

আমাকে যেন অবশ করে তুলছে,,,, রুমে

প্রবেশ করে দেখি,,, শাড়ির আঁচলটা গায়ে

পেচিয়ে বিছানার এক সাইডে শুয়ে আছে,,, যেন

নিষ্পাপ একটা মেয়ে,,, অনেকদিন যাবত রোগে

আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে???

হঠাৎ করে আমার আসার শব্দ শুনে বিছানা থেকে

ঘুরে তাকালো,,,, আমাকে দেখে হতভম্ব হয়ে

গেল??

কাঁপা কাঁপা গলায় বলতে লাগলো,,, কখন এসেছো,,,

আমি তার কথার কোন জবাব দিচ্ছি না,,, আমার চোখ

দিয়ে রাগে ধোঁয়া বের হচ্ছে,,

গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে,,, মুখ দিয়ে যেন

কোন কথা বের হতে চাচ্ছে না।

আমার স্ত্রী আমার এই অবস্থা দেখে,, কাঁপা কাঁপা

গলায় বলতে লাগলো কি হয়েছে তোমার এ

অবস্থা কেন পানি খাবে,,, আমার কোন কথার উত্তর না

পেয়ে,,,

তারপর বিছানা থেকে উঠে আমাকে এক গ্লাস পানি

এগিয়ে দিল।

আমি স্ত্রীর দিকে এখনো আমি ক্ষিন দৃষ্টি নিয়ে

তাকিয়ে আছি,,, শাড়ীটা এখনো ভালোভাবে

শরীরে পেছানো হয় নাই,,, আমার তাকানো

দেখে আমার স্ত্রী একটু ভয় পেতে লাগলো,,,

আমি তাকে দেখছি সে মদূ মদূ কাঁপছে আমি তার হাত

থেকে গ্লাসটা নিয়ে শরিলের সমস্ত শক্তি দিয়ে জোরে ফ্লোরে আছাড়

মারলাম,,, তারপর দৌড়ে ডাইনিং টেবিলে গিয়ে এক মগ

পানি গলা দিয়ে ডগ ডগ করে ঢালতে লাগলাম,,, পুরো

এক মগ পানি খেয়ে মনের তৃষ্ণার্ত আত্মাকে শান্তি

করলাম,,,, তারপর আবার রুমের ভিতরে প্রবেশ

করলাম,,,, দেখি সে বিছানার একপাশে বসে আছে,,,

আমি গিয়ে তার হাত ধরলাম এবং বললাম চল বিছানায়,,

সে অবাক হয়ে বলতে লাগল কি করছো তুমি,,,

আমার এগুলো করতে ভালো লাগে না,,,, সাথে

সাথে চুলের মুঠি ধরে একটা থাপ্পর দিলাম,, থাপ্পর এর

কারণে ঠোঁট ফেটে রক্ত পড়তে লাগলো।।

আমার স্ত্রী আমার এই বেসামাল অবস্থায় দেখে,,,

ভয়ে চুপসে গেল,,, আমি বলতে লাগলাম,,, কি করে

তোর এগুলা করতে ভাল লাগবে,,, প্রতিদিন নিজের

স্বামীকে দূরে সরিয়ে দিয়ে পর পুরুষ নিয়ে

বিছানায় লেপ্টে থাকিস,,, তুই এরকম জঘন্য কাজ করবি

আমি ভাবতে ও পারেনি,,,।।

আমার কথা শুনে আমার স্ত্রী ভয়ে কাঁপতে

কাঁপতে বলতে লাগলো,,, কি আবোল তাবোল

বকছো আমি কার সাথে বিছানায় লেপ্টে ছিলাম।

একথা শুনার পর আমার আরো রাগ উঠে গেলো,,,

চুলের মুঠি ধরে আরো একটা থাপ্পড় দিলাম,,, থাপ্পড়

খেয়ে ছিটকে বিছানায় গিয়ে পড়ল,,, আমি তার কাছে

গিয়ে এক টানে তার শরীর থেকে শাড়িটা খুলে

ফেললাম, আমার স্ত্রী ভয়ে কোন কথা বলছে না,,,

তারপর বিছানার সাথে হাত গুলো চেপে ধরে

নিজের পবিত্র ভাবে বিবাহ করা স্ত্রীর সাথে

জোরপূর্বক ধর্ষণের খেলায় মেতে উঠলাম।

আমার কাজ শেষ হওয়ার পরে তার চুলের মুঠি ধরে

বিছানায় উঠে বসালাম,,,, তারপর কাপড় গুলো গায়ে ঢিল

মেরে বললাম,,,, আজকই তোর জীবনের শেষ

দিন,,, সাথে তোর ওই প্রেমিক নাগরের ও।

আমি স্ত্রীর চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম তার

চোখে দুনিয়ার সমস্ত ভয় এসে জড়ো হয়েছে।

ভয়ে একদম চুপসে খাটের এক কোনায় বসে

আছে,, আমি গিয়ে আবারও তার চুলের মুঠি ধরলাম,,,

এবং বলতে লাগলাম,,, কি অপরাধ আমার,,, কি অপরাধ

করেছিল আমার নিষ্পাপ ছেলেটা,,, কেন তুই এমনটা

করলি,,, সাথে সাথে আমার স্ত্রী পা দুটো জড়িয়ে

ধরে কান্না করতে লাগল,,, আমার ভুল হয়ে গেছে

আমাকে ক্ষমা করে দাও,,, আমি আর কখনো এরকম

করবো না সত্যি বলছি।।

তোর মতন বিশ্বাসঘাতককে যদি ক্ষমা করি,,,, আল্লাহ্

তাআলা আমাকে ক্ষমা করবে না,,,, তুই কেন এমনটা

করলি,,, কিসের অভাব আমার,,,, টাকা পয়সা বাড়ি গাড়ি সবই

আছে,,, তারপরও তুই কেন এমন করলি। তোকে

আমি ভালোবাসি নি,,, সময় দেয়নি,,, কথা বল আমার কথার

উত্তর দে""" আর নাহয় তোকে আমি আজকে

এখানেই মেরে ফেলবো।।।

.

.

#চলবে_কি??

.

.


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url