#রংহীন_বসন্ত

পর্ব ২

#ইস্পিতা_রহমান


স্নিগ্ধ সকাল,শাখে শাখে পাখির কলকাকলিতে মুখর।কলেজ ব্যাগ কাধে ঝুলিয়ে ভার্সিটির উদ্দ্যেশ্যে বের হবে প্রিয়তা।ঠিক তখনি ফোনে কল আসে ওর।ফোনের স্ক্রিনে তাকাতেই দেখে আননোন নাম্বার।কল রিসিভ করে সালাম দিতেই ফোনের ওপাশ থেকে ভরাট পুরুষালী কন্ঠে বলে উঠে,


--কোটি কোটি টাকা লস করে আপনাকে কল দিয়েছি।জাস্ট দু মিনিট কথা বলবো মিস প্রিতয়া।

আশা করি কথাটা মন দিয়ে শুনবেন।


প্রিয়তা ভ্রু কুঁচকে নেয়।মনে মনে ভাবে,কোন কম্পানির সিম ইউজ করে রে বাবা,যে দু মিনিট কথা বললে কোটিকোটি টাকা কা*টে।এমন সিম কম্পানি আদৌও আছে?


অপর পাশ থেকে বলে উঠে, হ্যালো প্রিয়তা আপনি কি শুনতে পারছেন?


প্রিয়তা ভাবনার ধ্যান সরিয়ে বলে,জি শুনতে পারছি বলুন।


ওপর পাশ থেকে বলে,গতকাল সন্ধ্যে আমার পরিবার আপনাকে দেখতে গিয়েছিলো।


এইটুকু বলাতে প্রিয়তা বলে উঠে,আপনি কি আয়ান?


--জি না।আমার বোন,দাদু,দাদিমা গিয়েছিলো।শুনলাম আপনার অন্যত্র এংগেজমেন্ট হয়ে গেছে।কিন্তু আপনি বিয়েটা করবেন না।আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই।


প্রিয়তা বুঝতে,সাবিহা নামে যে মেয়েটার পরিবার এসেছিলো তার ই ভাই এই লোক।প্রিয়তার গতকাল সন্ধ্যার কথা মনে পরে যায়,যে সাবিহা কত অনুরোধ করেছিলো তার বাবাকে যাতে এংগেজমেন্ট টা না করে।কিন্তু এক পাত্র পক্ষকে কথা দিয়ে তো তিনি কথা ঘুরাতে পারবে না।এদিকে সাবিহার দাদু দাদিমা সাবিহাকে বলে মেয়ে তাদের তেমন পছন্দ হয় নি।যার জন্য সাবিহা প্রিয়তার বাবাকে আর তেমন জোর করতে পারে না।যার জন্য ওরা চলে যায়।ওদের সাথে বেশ অনেক গুলা সিকুরিটি গার্ড।


ওপর পাশ থেকে সেই পুরুষটি বলে উঠে,মিস প্রিয়তা আপনি কি শুনতে পারছেন?প্রিয়তা ভাবনা ঘোর কেটে বাস্তবে ফিরে আসে।এবার প্রিয়তা বলে উঠে,


--আপনাকে বিয়ে করলে টাকা,বাড়ি গাড়ি,দামি পোশাক,ভালো খাবার তো পাবো।কিন্তু স্বামীর সাথে কাটানোর মুহূর্ত গুলো পাবো না।কারন যার এক মিনিট কথা বললে কোটি কোটি টাকা লস হয়ে যায় সে কখনো স্ত্রী কে সময় দেবে বলে মনে হয় না। স্ত্রীকে দেয়ার মত সময় আপনার নেই।তাকে বিয়ে করে নিঃসঙ্গ জীবন কাটানো কোন ইচ্ছে আমার নেই। 


--আপনি ভুল বুঝছেন মিস।


--ভুল আমি বুঝি নি।সঠিকটায় বুঝেছি।তা না হলে প্রথবার আপনি আমায় কল দিয়েছেন অথচ কথার শুরুর প্রথমেই বললেন "কোটি কোটি টাকা লস দিয়ে আপনাকে কল দিয়েছি।শুধু দু মিনিট কথা বলবো সেই সময়টুকুতে আমার কোটি কোটি টাকা লস হয়ে যাবে।"


--তবুও তো আপনাকে কল দিয়েছি তাই না?আমার বোনের আপনাকে খুব পছন্দ হয়েছে।সো আমি আপনার সাথে একবার মিট করতে চাই।


--আচ্ছা তখন ঠিক কতটুকু সময় দেয়া লাগবে আপনাকে?শেষে দুই মিনিটের বেশি সময় দিলে তখন যদি বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা লস হয়ে যায় তাই আর কি জিজ্ঞেস করলাম।


--সেটা আমি পুষিয়ে নিতে পারবো।


--থাক শুধু শুধু কষ্ট করতে হবে না।আমার বিয়ে অলরেডি ঠিক হয়ে গেছে মিস্টার...


--রাসীদ জাওয়াদ শারাফ।,শারাফ আমার নাম।


--হুম মিস্টার শারাফ আশা করি আপনি বুজতে পেরেছেন আমি কি বলেছি।


--হুম,বুঝলাম,ইটস ওকে।বিয়ে যখন ঠিক হয়েই গেছে তখন তো কিছু করার নেই।


--জি ধন্যবাদ।


কল কেটে দিয়ে প্রিয়তা তপ্তশ্বাস ফেলে ভাবে,আর বিয়ে,,যার সাথে বিয়ে ঠিক হলো তাকে দেখলামই না।তারা ফ্যামিলির সবাই আমায় দেখতে এলো পছন্দ করলো,বাবা মা বিয়েটা ঠিক করে দিলো।অথচ একবারও কেউ আমায় জিজ্ঞেস করলো না আমি ছেলেকে দেখতে চাই কিনা।যায়হোক বাবার উপর আমার ভরসা আছে।তিনি যখন ছেলে দেখেছে কানা ল্যাংড়া খোড়ার সাথে তো আর বিয়ে দেবে না।

এই ভেবে আমি নিজের মন কে স্বান্তনা দিয়ে রেখেছি।কারন বাবা ছেলেকে দেখেছে।তার পছন্দ হয়েছিলো বলেই ওদের বাড়ির লোককে আমাদের বাড়িরতে মেয়ে দেখতে আসতে বলেছিলো।তারা এসে দেখে পছন্দ করলো আমায়।সাথে আংটি পড়িয়ে গেলো।


প্রিয়তা ভার্সিটির উদ্দ্যেশ্যে বেড়িয়ে গেলো।ক্লাশ শেষে যখন ভার্সিটি থেকে বের হবে তখন ৫টা কালো কালারের গাড়ি এসে তার সামনে দাঁড়ায়।এতো গুলো গাড়ি দেখে প্রিয়তা কিছুটা ভয় পেয়ে যায়।ভীত চাহুনিতে ও গাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে।চারটা গাড়ি থেকে বেশ কিছু লোক বের হয়ে মাঝের গাড়িটার পাশে দাঁড়ালো। একজন এসে মাঝের গাড়ির দরজা খুলে দিতেই কালো স্যুট পরিহিত এক সুদর্শন পুরুষ বেড়িয়ে আসে।প্রিয়তার চোখ গিয়ে সেই সুদর্শন পুরুষটির দিকে গিয়ে আটকে যায়।সুদর্শন পুরুষটি চোখের সানগ্লাস খুলে প্রিয়তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত আপাদমস্তক দেখে নিলো।একটা সাধারণ আনারকলি পড়া কাঁধের ব্যাগের বেল্ট দুহাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে।চোখে চোখ পরতেই প্রিয়তা চোখ নামিয়ে নেয়।সানগ্লাসটি সুটের ভেতরে বুক পকেটে রেখে এক হাত প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে এগিয়ে যায় প্রিয়তার দিকে।প্রিয়তা তখনো ব্যাগের বেল্ট ধরে জড়সড় হয়ে দাড়িয়ে থাকে।লোকটি প্রিয়তার কাছে গিয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে,


--হ্যালো, মিস প্রিয়তা,আমি রাসীদ জাওয়াদ শারাফ।

এতোগুলো লোক এতো সিকুরিটি গার্ড দেখে প্রিয়তা কিছুটা ভড়কে যায়।থতমত খেয়ে সে কি বলবে ভেবে পাই না।প্রিয়তার এমন থতমত মুখ দেখে শারাফ আবার বলে উঠে,


--মিস প্রিয়তা, আপনি কি ঠিক আছেন?আপনি কি অসুস্থ ফিল করছেন?


প্রিয়তা মাথা নাড়িয়ে না সম্মোধন করে।শারাফ ওকে বলে ওর সাথে কথা বলা যাবে কিনা।প্রিয়তার ভয় এখনো কাটে নি।


শারাফের,অ্যাটিচিউট,স্ট্যাটাস,এতো এতো সিকুরিটি নিয়ে নিয়ে ঘোরা।এসব সে এই প্রথম দেখছে।এমন মানুষও হয় এতো সিকুরিটি নিয়ে ঘুরতে হয়।কিসের জন্য এতো সিকুরিটি প্রয়োজন প্রিয়তা ভেবে পাই না।শারাফ আবার বলে উঠে,


--মিস প্রিয়তা,আপনি ঠিক আছেন?আপনার সাথে কথা বলা যাবে।


কাঁপা কাঁপা গলায় প্রিয়তা বলে,আ আ আমি ব ব বাড়ি যাবো।


শারাফের এবার বিরক্ত লাগলো।যে মেয়ের জন্য সে স্কেডিউল চেঞ্জ করে সময় বের করে সে আসলো সে কিনা কথা না বলে এএতোক্ষণ তার সময় নষ্ট করলোই তারপর যখন কথা বলল তাও কিনা বাড়ি যেতে চাই।ঘাড় একপাশে চোখ বন্ধ করে একটা শ্বাস ফেলে নিজের রাগ কে কন্ট্রোল করে ধমকের স্বরে বলে,

--এই মেয়ে এই সমস্যা কি তোমার?আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাইছি আর তুমি কিনা বাড়ি যেতে চাইছো।মিনিমাম,ম্যানারটুকু শিখো নি।বাঘ-সিংহ-ভাল্লুক মনে হয় আমায়?খেয়ে ফেলবো নাকি আমি তোমায় হ্যা?


প্রিয়তা কাঁদোকাঁদো ভাবে বলে,জ্বি বলুন।


চলবে...

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url