#অবাধ্য_চাওয়া 

#লেখিকা_আরিশা_জান্নাত_রিয়া# পর্বঃ ৪


[🚫কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ❌]


পরের দিন বিকেলে। আহিয়া কি পড়ে রেডি হবে ভেবে পেলো না।আগে তো আহিরের সাথে বের হলে সে শাড়ি পরে বের হতো। এখন কি পরবে মাথায় আসছে না। তখনই ফোনে টুং করে ম্যাসেজের শব্দ হলো। 


- ওয়ারড্রপে একটা বক্স আছে। সেটা পড়ে রেডি হয়ে নাও। 


আহিয়া বক্সটা বের করে। দেখল তাতে একটা কালো শাড়ি আছে।কালো শাড়ির উপরে সারা পাথর বসানো। সাথে একটা রেডমেট ব্লাউজ।আর একটা বক্স বের করে দেখলো তাতে সাদা ডায়মন্ডের সিম্পল নেক্লেস।এসব দেখে আহিয়া ভাবনাই পড়ে গেলো। এগুলো কখন আনলো। কাল এনেছে বলে তো মনে হয় না। তাহলে এগুলো এখানে কিভাবে এলো৷ মাথায় নানা চিন্তা ঘুরঘুর করছে। এসব ভাবতে ভাবতে সে তৈরি হয়ে নিল।আয়নায় দারাতেই সে চমকে উঠলো। এতো সুন্দর লাগছে। সে কি আসলেই এতো সুন্দর। নাকি কালো রঙে এত সুন্দর লাগছে। গলায় যেনো সাদা পাথর গুলো চিকচিক করছে। তার শাশুড়ী আজ আবার একটা ছোট ডায়মন্ডের নোসপিন পড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে তাকে যেনো কোন অপসরির থেকে কম কিছু লাগছে না। চোখে গারো করে কাজল লাগালো। ঠোঁটে হালকা পিংক কালারের লিপস্টিক। ব্যাস তার সাজ পরিপূর্ণ হয়েছে। সে নিচে নেমে আসলো। অনু তাকে দেখে বললো। 


- ওয়াও ভাবি একদম ব্লাক কুইন লাগছে তোমাকে। 


অনুর কথা শুনে সবাই তাকালো তার দিকে। সবাই যেনো হা হয়ে গেলো। তার শাশুড়ী এগিয়ে গিয়ে বললো। 


- মাশাআল্লাহ,, কারো নজর লাগুক। 


আহিয়া মুচকি হাসলো। আয়েশা বেগম এসে বললো। 


- সাবধানে যেও মা। 


- আচ্ছা ছোট মা। 


ফোনের ম্যাসেজে আহিয়া তাকালো দেখলো। 


- বাইরে অপেক্ষা করছি। 


আহিয়া তার শাশুড়ি কে বললো। 


- মা বাইরে যেতে বলছে। 


- আচ্ছা যাও মা। 


আহিয়া চলে গেলো বাহিরে।আয়েশা বেগম বললো। 


- ভাবি তুমি একদম সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছ। এতো ভালো বউ হাজার খুজেও পেতেম না আমরা। 


*- হ্যা রে ছোট। মেয়েটা বড্ড ভালো। তাই তো কাছ ছারা করতে পারলাম না। তুই চিন্তা করিস না। তোর জন্যও এমন বউমা এনে দিব। 


দুই জা প্রান খুলে হাসতে শুরু করলো। রেস্তোরাঁতে বসে আছে চার জন। অভি,,সিয়াম,,সিয়া,,রাহা।সবাই অপেক্ষা করছে আরজানের জন্য। অনেক সময় ধরে তারা বসে আছে তার আসার খবর নাই। আরজান গাড়িতে বসে আছে। হঠাৎ করে বাইরে চোখ গেল।ওমনি তার চোখ আটকে গেল। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলো। চোখ যেনো একবারে স্থির হয়ে গেলো। বুকের বা-পাশে হাত চলে গেলো। এমনটাই তো কল্পনা করেছিল সে। তার কল্পনার থেকেও বেশি সুন্দর লাগছে আহিয়াকে। ভাবনার মাঝেই আহিয়া তার কাছে চলে এলো বললো। 


- কোথায় বসবো।


আরজান তার পাশের দরজা খুলে দিল। আহিয়া এসে পাশের ছিটে বসে পড়লো। সিট বেলটা লাগিয়ে নিল। আহির তাকে বলেছিল। গাড়িতে উঠলে যেনো ছিটবেল বাধতে না ভূলে। সে এটা সব সময় মনে রাখে। সে তো আহিরের কিছুই ভূলতে চায় না কখনো। আরজান গাড়ি স্টাড দিল।আহিয়া ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসলো । গাড়ি চলতে শুরু করলো। ৩০ মিনিট পড়ে একটা রেস্টুরেন্টের সামনে এসে দাড়ালো। আরজান বেড়িয়ে আসলো। আহিয়ার দরজা খুলে দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো 


- এসো। 


আহিয়া কি করবে। তার হাত ধরতে পারবেনা সে কিছুতেই৷ হাত মুচরা মুচরি করতে লাগলো৷ আরজান বুঝতে পেরে সরে দাড়ালো।বললো


-- নেমে এসো।


আহিয়া বেড়িয়ে আসলো। আরজান গাড়ি লক করে সামনের দিকে হাটা ধরলো। আহিয়াও তার পিছন পিছন যেতে লাগলো। সিয়া রেস্টুরেন্টের দরজার সামনে তাকাতেই দেখলো আরজান আসছে। সে খুশি হয়ে উঠে দারালো সামনে পা বাড়াতে যাবে তখনই তার পিছনে একটা মেয়েকে আসতে দেখল। দূর থেকে কেউ বুঝতে পারছে না মেয়েটা কে। শুধু অভি জানে মেয়েটা কে। আর একটু সামনে আসতেই সবাই বিস্ফোরিত চোখে সামনে তাকালো। এ কি দেখছে সত্যি দেখছে নাকি। তাদের যেনো বিশ্বাস হচ্ছে না সামনে দাড়ানো মেয়েটা আহিয়া । এটা কিভাবে সম্ভব ওর তো আহিরের সাথে বিয়ে হয়ে গেছিল তবে। কিভাবে হল এসব। সবাই অভির দিকে তাকালো। অভি মাথা নেড়ে বুঝালো সবাই সত্যি দেখছে। এখানে কারো কোনো ভূল নাই৷ সিয়ার যেনো পুরোনো খোব আবার তাজা হয়ে গেলো। এই মেয়ে জীবনেও তার পিছনে ছারবেনা। রাগে ফুসফুস করতে লাগলো। অভি হাত ধরে চুপ থাকতে বললো। আরজান এসে টেবিলে বসলো৷ সবাই কে আহিয়ার দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আহিয়া লজ্জা পেল।তার মনে হলো সবাই যেনো তাকে আগে থেকেই চেনে। কিন্তুু এটা কিভাবে সম্ভব। সে তো অভি ছারা কাউকে কেনো দিন দেখেইনি। অভি বললো। 


- বসো আহিয়া। 


আরজান তার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকালো৷ সে থতমত খেয়ে বললো। 


- আরে না না ভাবি বসেন।। 


আহিয়া তার কথায় লজ্জা পেয়ে গেলো৷ সে তো অনেক ছোট তাকে ভাবি বলছে কেনো। সে বললো।


- না ভাইয়া আপনি আমার নাম ধরেই ডাকবেন। আমি তো আপনার ছোট বোনের মত।


অভি মাথা নেড়ে সম্মতি জানাতে চাইলো। তার আগেই আরজান তার পায়ে একটা লাথি মেরে দিল। বেচারা চিৎকার করে উঠলো। বললো,,


- না না,, বন্ধুর বউকে ভাবি ডাকাই ভালো। নাম ধরে ডাকা ঠিক হবে না। 


আহিয়া আর কিছু বললো না। টেবিলে নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে পরেছে। সিয়াম বললো,, 


- আরজান আর ভাবির পছন্দ মতো অর্ডার করি কি বলিস।


সিয়া চোখ গরম করলো তার দিকে। সে সেসব পাত্তা দিল না বললো। 


*- ভাবি আপনার কি পছন্দ কি বলুন। আমরা সবাই আপনার পছন্দে খাবো আজ। 


আহিয়া বললো। 


- ভাইয়া আপনারা যা খুশি অর্ডার করতে পারেন। আমি সবই খাই। 


সিয়াম নিজের মত অর্ডার করতে লাগলো। ওয়েটার এক এক করে খাবার সার্ভ করতে লাগলো। চিকেন ফ্রাই,, ফিস ফ্রাই, চিকেন কাবাব,,পিজ্জা,, পাস্তা,,সালাদ,, আরও নানান রকমের বাহাড়ি খাবার। ওয়েটার কফি রাখতে গিয়ে আহিয়া শাড়ির উপরে পরলো। আরজান সাথে সাথে রেগে গেল। 


- চোখ কোথায় থাকে। দেখে চলতে পারো না। 


ওয়েটার ভয় পেয়ে গেলো। তাড়াতাড়ি সরি বলে চলে গেলো। আরজান বললো,,,


- আহি ওয়াসরুমে চলো। 


আহিয়া উঠে গেলো তার সাথে। আরজান তাকে বললো,, 


- যাও আমি আছি পাশেই। 


আহিয়া বাথরুমে চলে গেলো। আরজান আসতেই সিয়া তার উপর ফেটে পড়লো।


- তুই আহিয়াকে কেনো বিয়ে করছিস আরজান৷ 


- মা বলেছে তাই। 


- তুই তো তোর মায়ের জন্য বিয়ে করিস নাই আরজান। তুই নিজের ইচ্ছেতে আহিয়াকে বিয়ে করেছিস। তাই না বল।


- বেশি বুঝিস। 


- হ্যা হ্যা বেশি বুঝি। আমি জানি তুই নিজের ইচ্ছেতে বিয়েটা করেছিস৷ সবাইকে ভূল বুঝাতে পারবি আমাকে না। 


আরজান ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলো তার দিকে। সিয়াম বললো,, 


- সিয়া আয় খেয়ে নে। বাড়ি গিয়ে তো কেঁদে কেটে ভাসিয়ে ভেলবি। তখন আর খেতে ইচ্ছে করবে না। 


সিয়া জুতো খুলে ছুড়ে মারলো তার দিকে। সিযাম ক্যাচ ধরে ফেলে দাত কেলিয়ে হাসলো। সিয়া বললো,,


- আরজান তুই তো জানিস আমি তোকে কতটা ভালবাসি। 


* - আমিও বাসি তবে সেটা বন্ধু হিসেবে। এর বাইরে নয়। 


সিয়ার কান্না পেলো খুব দাত দিয়ে ঠোঁট কামরে ধরে কান্না আটকালো। এতো মানুষের সামনে তো এভাবে কান্না করা যায় না। আস্তে হেটে বসে পড়লো। এর মাঝে আহিয়া বাইরে আসলো। আরজান তাকে নিয়ে আবার টেবিলের সামনে এসে বসে পড়লো। আহিয়া খাওয়া শুরু করলো। রাহা বললো,,


- আহিয়া পড়াশোনা কি করছো। নাকি বাদ দিয়ে দিছো। 


আহিয়া বললো,,,


- ভর্তি হওয়া আছে আপু। কিন্তু ৬/৭ মাস যাওয়া হয়না৷ একটা এক্সাম ও বাদ পড়ে গেছে। 


রাহা ছোট করে বললো।। 


- ওহ


তারপর আমাব বললো।। 


- পড়াশুনাটা করো। জীবনে শাবলম্বি হওয়াটা অনেক জরুলি।মেয়েদের সমাজে এমনিতেই কেনো মূল্য নেই। 


আহিয়া ঘার কাত করে সম্মতি জানালো। আরজান বললো। 


- এবার উঠি,, রাত হয়ে যাচ্ছে। মা টেনশন করবে।। 


এতোক্ষণে অভি কথা বললো। 


- আর কিছুক্ষন পড়ে যা৷ 


- না এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। আহি চলো। 


আহিয়া উঠে দারালো সবাইকে বললো। 


- আপনারা সবাই বাসায় আসবেন কিন্তুু।আমি অপেক্ষায় থাকবো আপনাদের। 


আরজান দেখলো আহিয়া অনেক প্রানবন্ত হয়ে গেছে। সবার সাথে কত মন খুলে কথা বলছে। তার অনেক ভালো লাগলো। মনে হলো মাঝে মাঝে বাইরে আনলে সে অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। সে চিন্তা করলো এবার থেকে মাঝে মাঝে সে আসবে ওকে নিয়ে। বললো,,, 


- চলো আহি 


আহিয়া সবার থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। সিয়াও উঠে চলে গেলো। আস্তে আস্তে সবাই যে যার মত চলে গেলো। গাড়িতে কেনো কোনো কথা বললো না। বাড়িতে এসে দুজনে রুমে চলে গেলো।


চলবে,,,,,,,,

সব পর্বের লিংক এক সাথে 👇

https://www.facebook.com/groups/392526583330598/permalink/844063278176924/?app=fbl


(ভূল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। বানান ভুল হলে বলবেন সঠিক করা চেষ্টা করবো।পাশে থাকেবেন । এতো কষ্ট করে লিখি। একটু তো সার্পোট করতে পারেন।সার্পোট না পেলে লেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।ধন্যবাদ)

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url