গল্প- সুতার আংটি
লেখক রিহান অরণ্য
পর্ব- ৩
মাথার য,ন্ত্রণা নিয়ে ও রিমন আমার স্কুল থেকে ফেরার অপেক্ষায় জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো, আমি বাসায় এসে ড্রেস চেঞ্জ করে উপরে গেলাম, আমি উপরে উঠার সময় রিমনের হাত দেখছি জানালায়, যেই উপরে উঠলাম গিয়ে দেখি সে নেই জানালার পাশে, আমি ডাক দিলাম রিমন ভাইয়া, কই আপনি, ভিতর থেকে কোন সারা শব্দ পাইলাম না কয়েক বার ডাকলাম কোন সাড়া নেই, এখনি তো জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো, কয়েক সেকেন্ডে আবার কই চলে গেলো, আমি রুমের দরজা খুলে ভিতরে গেলাম,
গিয়ে দেখি রিমন কাথা মোরা দিয়ে শুয়ে আছে, মনে মনে ভাবতে লাগলাম সে এখানে শুয়ে থাকলে জানালায় কার হাত দেখলাম,, আমি রিমনের জ্ব,র চেক করার জন্য ওর শরীলে হাত দিলাম কিন্তু ওর শরীল ঠান্ডা ছিলো জ্ব,র নাই, গায়ে হাত দিতেই সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আজকের তাকানোর মধ্যে কেমন জানি একটা মায়াবী হাসি ছিলো, আমি বুঝতে পারছি সে আমার আসার উপস্তিতি টের পেয়ে সাথে সাথে এসে শুয়ে পরছে, আমি জিজ্ঞেস করলাম জ্বর কি কমছে, ঔষধ কি খাইছেন, সে মাথা নাড়িয়ে বললো যে খাইছে,আমি ও ঔষধ চেক করলাম খাইছে কি না, দেখলাম যে ঔষধ নাই তার মানে খাইছে, ওর মাথায় হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম ব্য,থা করে নাকি
মাথা নাড়িয়ে বললো ব্য,থা করে, আমি রিমন কে বললাম আপনি শুয়ে থাকেন রাতে আবার আপনার জন্য ঔষধ নিয়ে আসবো, সে চোখ বন্ধ করে শুয়ে
আছে, আমি নিচে চলে আসলাম,
নিচে এসে দেখি দাদি কার সাথে জানি কথা বলছে,
লোকটার দিকে না তাকিয়ে রুমে চলে গেলাম,তখন দাদি বললো অরিন তুই ওনাকে দেখে ও চলে গেলে কথা বলবে না ওনার সাথে, তখন আমি কাছে গিয়ে লোকটার দিকে তাকালাম চেনা চেনা লাগছে কিন্তু মনে পরছে না, তখন লোকটা বললো সেলি মনে হয় আমাকে চিনে নাই দাড়ি রাখছি তো তাই, যখন আমার নাম বললো তখন বুঝতে পারছি ওনি সেই মানুষ যে আমাকে এখানে দিয়ে গেছে, আমি ওনার কাছে গিয়ে বললাম কাকা ভালো আছেন, এতোদিন পর খুঁজ নিতে আসলেন, কাকা বললো ওনারা নাকি ঢাকা থাকে না বাড়িতে থাকে, আমার দাদির কথা জিজ্ঞেস করলাম ওনি বলে না, শুধু বললো তর সুখের খবর টা ও দিতে পারি নাই, অনেক বার জিজ্ঞেস করছিলো তর কথা কবে ঢাকা যাবো তর খবর নিবো,কিন্তুু ওনারে তর খবর দিতে পারি নাই ৪ মাস আগে তর দাদি মা-রা গেছে, আমি কোন জবাব দিতে পারলাম না চোখ থেকে এমনি এমনি পানি পরতে লাগলো, আমার কপাল টা খারাপ, তা না হলে কি অল্প বয়সে বাবা
হারাই, কপাল খারাপ না হলে কি মা অন্য জনের সাথে চলে যায়, যে ভাই কে কো করে রাখতাম সব সময় সে ভাইটা ও আজকে থেকে ও নেই,
আমার কান্না দেখে রিমনের দাদি বললো কান্না করিস না কান্না করে কি হবে, তর কাকা কে খাবার দে দূর থেকে এসেছে, কিন্তু কাকা না করলো ওনি নাকি চলে যাবে রাতের বাসে, সাথে লোক আছে ওনরা অপেক্ষা করতেছে, যাবার আগে দাদির সাথে শুধু এই টুকো বলে গেছে, আমাকে লেখাপড়া করিয়ে যেন ভালো ছেলের সাথে বিয়ে দেয়, তার পর যেন আমাকে আমাদের বাড়ি দেখতে পাঠায়, তার আগে না, কারণ আমার আপন কাকা নাকি দাদি মা-রা যাবার পর সব সম্পত্তি নিয়ে গেছে,মেইন রোডে মার্কেট করতাছে,
আমি বললাম এসব জায়গা টায়গা আমার লাগবে না
আমি কোন দিন যাবো না আর যদি ও যাই তাইলে৷ বাবার আর দাদির ক*বর দেখার জন্য যাবো,
দাদি বললো এখন এসব কথা বাদ দিয়ে আমার রুম থেকে ব্যগ টা নিয়ে আয়,আমি দাদির ব্যগ অনে দিলাম
দাদি ব্যগ থেকে টাকা বের করে কাকা কে দিলো,
কাকা চলে যাবে আমি ও সাথে গেলাম এগিয়ে দিবার জন্য,
আসার সময় রিমনের জন্য ঔষধ আর কিছু জিনিস নিয়ে আসলাম,
রাতে রান্নার সময় ওর জন্য আলাদা রান্না করলাম আজকে, এতোদিনে এই প্রথম আলাদা কারো জন্য রান্না করতেছি, আমরা যা খাবো জ্বরের মুখে রিমনের ভালো।লাগবে না তাই ওর জন্য আলাদা খাবার রেডি করলাম,
রান্না শেষ করে রিমনের জন্য নিয়ে গেলাম, আজকে বেশি দেরি করিনি খবার আর ঔষধ দিয়ে চলে এসেছি,
প্রতি দিনের রুটিনের মতো সকালে স্কুলে যাই আবার স্কুল থেকে এসে রিমনের রুমে যাই, ওর খবর নিয়ে তার পর বাকি কাজ করি,আর রিমন ও এখন আমার সাথে লুকোচুরি খেলে, আমার অপেক্ষায় জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে যেই আমি উপরে উঠার শব্দ পায় সাথে সাথে ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকে, এই ভাবে ১ মাস কেটে গেলো রিমন সুস্থ হয়ে গেছে,
আমি চেষ্টা করছি রিমন কে বাহিরে আনার, অনেক বার দাদি কে বললাম কিন্তু দাদি ভয়ে রাজি হয় না,
দিন দিন রিমনের প্রতি কেমন জানি একটা মায়া কাজ করতে শুরু করলো, এই বাড়িতে আমার একজন পছন্দের মানুষ হয়ে গেছে রিমন, এখন শুধু রিমন কে বাহিরের জীবন যাপন ব্যবস্থা করতে পারলে আমার আর কোন কষ্ট থাকবে না,কিন্তু আমার কপালের দুঃখ এখন ও যে শেষ হয়নি সেটা বুঝতে পারিনি, যারে আপন করে ধরে রাখতে চাই সেই মানুষ টা আমার কাছে থাকে না,
প্রতিদেনের মতো রাতে রিমন কে খাওয়াই দিয়ে রুমে চলে আসলাম, একটু পর দাদি আর রিমনের খালা আমার রুমে আসলো, কালকে দুপুর পরে নাকি ওরা কোন পার্টি তে যাবে রাতের জন্য যেন ওদের জন্য রান্না না করি, ওরা রাতে বাসায় খাবে না, ফিরতে দেরি হবে, আমাকে না করলো আমি যেন উপরের রুমের দরজা না খুলি, আমি বললাম ঠিক আছে, পরের দিন বৃহস্পতিবার, স্কুল থেকে এসে সব রুমে চেক করলাম সবাই আছে নাকি, সব বাসায় চেক করলাম কেউ নেই, ড্রেস চেন্জ করে উপরে গেলাম দরজা খুলে রিমন কে নিয়ে নিচে আসলাম, আমার রুমে বসিয়ে রেখে ওর জন্য রুটি বানাতে সব কিছু রেডি করলাম, ফ্রীজ থেকে মাং"স বের করে, আমি রিমন কে বললাম আপনি বসেন আমি রান্না করি কিন্তু সে বসবে না আমার সাথে সাথে পাকের রুমে চলে এসেছে, আমি রান্না করি আর রিমন তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে,
যখন রুটি বানিয়ে প্লেটে রাখলাম তখন সে ওখান থেকে রুটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেতে লাগলে আমি বুঝতে পারছি ওর অনেক খিদে পেয়েছে, তাই সম্পূর্ণ রান্না শেষ না করে আগে রিমন কে আমার রুমে নিয়ে খেতে দিলাম, সে খেতে লাগলো, আমি তার পাশে দাঁড়িয়ে আছি,
হটাৎ কলিং বেল শব্দ আসলো, কলিং বেল শব্দ শুনে রিমন ভয় পেয়ে গেলো, তারাতারি করে খেতে লাগলো আমি রিমন কে বললাম কি হয়েছে এমন কেন করছেন আপনি শান্তিতে খান, তারাহুরো করে খেয়ে সে রুম থেকে চলে যাচ্ছে পানি না খেয়ে, আমি পিছন আমি পিছন থেকে ওর হাত ধরে বললাম দারান পানি টুকু খেয়ে নিন, আমার হাতে রিমন কে পানি খাওয়াইলাম,।রিমন উপরে চলে গেছে, আমি গিয়ে দরজা খুললাম, দেখি রিমনের খালাতো ভাই , আমাকে বলতেছে কতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি, দরজা খুলতে এতো দেরি কেন, আমি বললাম রান্না করছিলাম তাই, সে তার রুমে চলে গেছে আমি রান্না করার জন্য পাকের রুমে চলে আসলাম, রান্না করার যতোটুকু সময় লাগছে তার মধ্যে রিমনের খালাতো ভাই ৪ বার এসেছে,আমি কি করি দেখার জন্য, আমি যখন রান্না শেষ করে রুমে চলে গেলাম তখন সে আমাকে ডাকতে লাগলো, আমি রুমে না গিয়ে বাহির থেকে জিজ্ঞেস করলাম কি লাগবে, সে একবার বলে পানি লাগবে, পানি নিয়ে আসলাম আবার ডাক দিয়ে বলে ফ্রীজে ঠান্ডা কিছু থাকলে নিয়ে আসেতে, আমি কোক নিয়ে গেলাম তখন ওনি দরজা বন্ধ করে দিছে, আমি বের হয়ে আসতে চাইলে ওনি আমার গায়ে হাত দিয়ে রওনা নিয়ে যায়, আমি চিক্কার করতে থাকলে সে আমার মুখ চে*পে ধরে বলে এখন কেউ নাই, চিক্কার করে কোন লাব নাই তার চেয়ে ভালো আমি যা চাই তা দিয়ে দাও৷ তা না হলে জোর করে নিবো পরে বিচার দিলে সবাই কে বলবো তোমাকে বিয়ে করবো, তখন তোমার সন্মান বাচাতে আমার সাথেই বিয়ে দিবে, এমনি তে তোমার জন্য সবাই পাগ*ল, আমি ও, কথা গুলো বলতে বলতে সে আামকে খাটে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো আমি ওর হাতে কামুড় দিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে আসতে চাইলে সে পিছন থেকে আমার চুলের মু*ঠি ধরে টা*নতে টা*নতে আবার রুমে নিয়ে গিয়ে খাটে মধ্যে আমাকে জড়িয়ে ধরছে, জামা ও ছিড়ে ফেলছে, আমাকে মা*রতে ও লাগলো,আমার কান্নার শব্দ বাহিরে যেন না যায় সে জন্য মুখে তার সিগারেট পেকেট ঢুকিয়ে দিয়েছে, আমাকে প্রায় ন*গ্ন করে ফেলেছে তখনই দরজায় কারো ধাক্কার শব্দ শুনতে পেয়ে আমাকে ছেড়ে দিছে, আমি দরজা খুলে দেখি রিমন দাড়িয়ে আছে, কোন কথা না বলে সেলোয়ার হাতে ধরে দৌড় দিয়ে রুমে চলে গেলাম, রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে কান্না করতে লাগলাম, হটাৎ মনে হলো রিমনের কথা, ওর জন্য আমাকে ছেড়ে দিছে,
রিমন নিচে চলে এসেছে, ওয় যদি রিমনের কোন ক্ষতি করে,আমার জন্য ওর কিছু হোক সেটা চাই না, আমার যা হবার হোক আগে রিমন কে সেফ করি,তারাতারি দরজা খুলে গেলাম ওই রুমে, ততোক্ষণে কাজ শেষ হয়ে গেছে পুরো রুমে র*ক্তের বন্যা, আমি র*ক্ত দেখতে পারি না, এত র*ক্ত দেখে সাথে সাথে অ*জ্ঞান হয়ে পরে গেছি,
সবপর্বের লিংক এক সাথে দিছি পড়ে নিন লিংকে ডুকে 👇👇
https://www.facebook.com/share/p/18C79gRwW4/
