#আমার গল্পের তুমি...

#লেখিকা: তানজিলা ইসলাম

#তৃতীয় পর্ব + চতুর্থপর্ব


শুধু তুই শুধু তুই আর চাইছি না কিছুই।

মন এই মন অলিতে গলিতে ঘুরে 

আর কুড়ায় অভিমান।


এই মন আকাশে বাতাসে খেলে

আর গায় ঘুম পাড়ানোর গান।


মেঘলা হয়ে যাক আরো 

পাঁচটা বারো মাস।


কোনো বিকেল বেলা

তুই আমার হয়ে যাস।

শুধু তুই শুধু তুই আর চাইছি না কিছুই।

শুধু তুই শুধু তুই আর চাইছি না কিছুই।


সত্যিই হিমু ভাইয়ার থেকে আমি যা যা চেয়েছি। সবসময় ঠিক তাই দিয়েছি। এখন যখন রেগে গিয়ে চলে গেল। পরে এসে কিন্তূ গানটা ঠিক গাইলো।এইসব ভাবতে ভাবতে ছাদে আলো জ্বালানো হলো। চারিদিকটা অন্ধকারের হলেও সিন্ধ পরিবেশ। হঠাৎ হিমু ভাইয়া আমায় বললো,


"জানিস তানু এই সিন্ধ পরিবেশে তোকে পুরো একটা মায়াপরী লাগছে"

হিমু ভাইয়ার কথায় আমি উচ্চস্বরে হাসতে লাগলাম। হাসতে হাসতে বললাম,

- ভাইয়া আপনি আসলেই একটা উন্মাদ মানুষ।

- কেন তোর এই কথাটা মনে হলো?

- মানুষ মায়াবতী বলে। আর আপনি এই সিন্ধ পরিবেশে এই আমার মতো কালো একটা মেয়েকে মায়াপরী বলছেন।

- তুই জানিস তোর এই চেহেরাটা আমার খুব প্রিয়।

- নিজে যাচ্ছি ভাইয়া।


হিমু ভাইয়াকে বলে নিচে আমার রুমে চলে এলাম। আপু বোয়াকে দিয়ে আগেই সব কিছু পাঠিয়ে দিয়েছিলো। ছাদে থাকতে আরো ইচ্ছা করছিলো। কিন্তূ হিমু ভাইয়ার মায়াপরী কথাটা শুনে কেমন একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।  


চোখ বন্ধ করে ডুব দিলাম অতীতে। সেদিনের পর থেকে রক্তিমের সাথে দেখা কথা হতো। সম্পটাও আপনি থেকে তুমিতেএসেছি। বাসায় এসে আমার কথা জিজ্ঞাস করলে আমিও সাথে সাথে তার সামনে হাজির হতাম। অন্যরকম একটা অনুভুতি সৃষ্টি হয়েছিল। মাঝে মাঝে মনে হতো ভালোবেসে ফেলেছি ।


সবসময় আমাদের বাড়িতে আপুর সাথে আসতো। সেদিনও এসেছিলো কিন্তূ আপুর সাথে না। হিমু ভাইয়া আর রক্তিম এসেছিলো।


বারান্দায় বসে বসে বৃষ্টি দেখছি। বৃষ্টির পানি হাত দিয়ে স্পর্শ করব ঠিক তখন রক্তিম এসে আমায় বলল,

- তানু আমি তোমার সাথে বৃষ্টি উপভোগ করতে পারি।

- হুম।

- কেমন আছো।

- ভালো।

- আমার কথা জিজ্ঞাসা করবা না।

- কি?

- আমি কেমন আছি?

- দেখাই যাচ্ছে ভালো আছেন। যখন দেখতে পারছি জিজ্ঞেস করার কি আছি।

- তোমার সাথে আমি কখনো কথায় জিততে পারবো না। তোমার জন্য একটা উপহার আছে।

- কি?

- একটু দাঁড়াও আসতেছি।


আমাকে রক্তিম অপেক্ষা করতে বলে বারান্দা থেকে চলে এলো। আমি আমার মতো বৃষ্টি দেখায় ব্যস্ত। হঠাৎ মনে হল রক্তিম আমাকে বলছে, 

"তোমাকে আমি কিছু বলছি। তানু তুমি শুনছো না কেন"?

 রক্তিমের কথায় পিছন ফিরে দেখলাম। ৬ ফুট লম্বা ফর্সা ছেলেটা এক গুচ্ছ কদম ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আমাকে বলছে,


" তানু আমি তোমাকে সবসময় চাই। আমার পাশে একজন ভালোবাসার মানুষ হিসেবে। এইরকম ঝুম বৃষ্টিতে তোমাকে সঙ্গী হিসেবে চাই। মেঘলা দিনে আমার চায়ের সঙ্গী হিসেবে চাই। আমি ভালোবাসি আমার মায়াবতী কে আমার মায়াবতী কি আমাকে ভালোবাসবে"?

 

রক্তিমের কথায় আমি বললাম,

- আমার আপু আপনাকে খুব ভালোবাসে।

- কিন্তূ আমি তোমায় ভালোবাসি।

- আমি তো তোমাকে ভালোবাসি না।

- কেন?

- আমি তোমাকে তার জবাবদিহিতা দিতে বাধ্য নয়।

- তানু তুমি আমার কথাটা শুনো।

- রাজি হয়ে যাও‌।

- মানে কি?

- আপুকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যাও। অনেক ভালোবাসে তোমায় আপু। আর এখানে তো আমি তোমায় ভালোবাসি না।

- আমি তোমায় ভালোবাসি নেহাকে না। আর আমি সবসময় আমার বন্ধুর মতো দেখে এসেছি।

- আমাকে ভালোবাসো।

- হুম অনেক আমি তোমার জন্য সব কিছু করতে পারি। তুমি কোনো চিন্তা করো না। আমি নেহাকে বোঝিয়ে বলবো। আমি জানি তুমি ও আমায় ভালোবাসো।

- আমি তোমাকে ভালবাসি না। আমি চাই তুমি আপুকে বিয়ে করো। আর আমি তোমাকে ভালবাসতে পারবো না। 


রক্তিমকে কথাটা বলে চলে এলাম বারান্দা থেকে আসার সময় হিমু ভাইয়াকে দেখলাম দাঁড়িয়ে আছে। হিমু ভাইয়া আমার চোখে পানি দেখে জিজ্ঞেস করছে। 

কি হয়েছে। আমি মাথা নেড়ে না বললাম।


এক দৌড়ে রুমে চলে আসলাম। চিৎকার করে কান্না করতে ইচ্ছে করছে। কিন্তূ পারছি না মনে হচ্ছে চিৎকার করলে সবাই জেনে যাবে। আমার কষ্ট হচ্ছে। আমি চাই না কেউ আমার কষ্টের কথা জানুক।


রক্তিম আমার কথা রেখেছিলো। আপুকে বিয়ে করেছিলো। আপু যেদিন আমাদের বাসা থেকে চলে যাবে। সেদিন আপু খুব খুশি ছিল। আমার মাথায় হাত রেখে বলেছিলো,


" ভালো থাকিস জানি না কবে আসবো। এখন আর তোর সাথে কেউ ঝগড়াও করবে না।ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করিস। আব্বু আম্মুর খেয়াল রাখিস"।


আপু বিয়ের পরের দিন আমি ঢাকা চলে আসি। তখন ইন্টার প্রথম বর্ষ। একটু একটু করে নিজেকে সামলে নিয়ে শুরু করি নতুন একটা জীবন।


কিন্তূ দিন শেষে কষ্টগুলো ভাগাভাগি করার মতো কেউ থাকতো না। রাত হলে একাকিত্ব আমায় ঘিরে রেখেছে।


পুরানো কথা গুলো মনে পড়লে একটা চাঁপা কষ্ট হয়। হয়তো না পাওয়ার কষ্ট। সেদিন খুব করে বলতে চেয়েছিলাম। 


" আমি তোমায় ভালোবাসি তোমাকে আমার জীবনের প্রত্যেক মূহুর্তে চাই"।


সেদিন বলা হয়নি। কখনো বলা হবে না তোমায় ভালোবাসি। ঘুমের প্রয়োজন অনেক নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। আর না নির্ঘুম রাত শুধু কষ্ট জানে। কষ্ট লাঘব করতে জানে না।


বিছানায় শুয়ে পড়লাম। কখন ঘুমিয়ে গেছি মনে নেই। সকাল রোদের আলো চোখে পড়তে দেখি। হিমু ভাইয়া জানালার পর্দা সরিয়ে দিচ্ছে। রক্তিম ভাইয়া আমাকে বললো,


- জানিস তানু রোদের আলো তোর ওপর পড়লে তোকে কতো সুন্দর লাগে।

- জানার দরকার নেই ভাইয়া। আমার আর ঝলমলে রোদ বৃষ্টি ভালো লাগে না।

- কেনো?

- কিছু প্রশ্নের উত্তর হয় না।

- বল 

- "আমার আকাশ মেঘ জমেছে

বৃষ্টি নামবে খুব....

তোমার রোদ ঝলমলে

আমার আকাশ চুপ....

- চুপ কেনো?

- কিছু কথা অজানা থাকুক না। সব জেনে নিলে পরে জানবি কি?

- আচ্ছা তুই ফ্রেশ হয়ে নিচে আয়। সবকিছুর আয়োজন করতে হবে।

- হুম।


ওয়াশ রুমে চলে গেলাম। ফ্রেশ না হয়ে গোসল করে বের হলাম। আয়নার সামনে বসবো তখন রক্তিমের কন্ঠ শুনতে পাই।


" তুমি কি ফ্রি আছো তানু"।


রক্তিমের কন্ঠ শুনে পিছনে তাকালাম। কালো রংয়ের একটা শার্ট পড়েছে। কালকে ও কালো রংয়ের একটা শার্ট পড়া ছিল। তাই কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,


-তুমি কি কালো রংয়ের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছো।

- আমি কি ভিতরে আসবো।

- হুম আসো।

রক্তিম ভেতরে আসলো। আমাকে। বলল,

- তোমাকে সবাই নিচে যেতে বলেছে।

- হুম।

- আসলে কি বলতো মানুষটাকে তো আর পেলাম না। তাই তার প্রিয় রংয়ের সাথে সখ্যতা করে নিলাম। কিছুটা হলেও কষ্ট লাঘব হবে। না পাওয়ার যন্ত্রণা সহ্য করা বড্ড দুঃষকর।


রক্তিম কথাটা বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। আমিও তৈরি হয়ে নিচে গেলাম। সবাই হাজির রক্তিম নিহিরিকাকে খাইয়ি দিচ্ছে। আপু আম্মু সবাইকে খাবার বেড়ে দিচ্ছে। আব্বু আর হিমু ভাইয়া গভীর কথায় মগ্ন।

আমাকে দেখে নিহিরিকা বললো 

"খালামনি তুমি আমার সাথে বসো"।


নিহিরিকার কথায় আমি ওর পাশে বসি। হিমু ভাইয়া ও আমার পাশে বসে খেতে লাগলো। আব্বু চেয়ারে বসে বলল,


" আমি তানুর বিয়ে ঠিক করেছি"।


আব্বুর কথায় আমি অনেকটা অবাক হলাম। তাই আব্বু কে বললাম,


- এইসবের মানে কি?

- কেনো আমি কি ভুল কিছু বলেছি। তোমার তো কম বয়স হয়নি।

- আব্বু আমি এখন কেনো বিয়ে করতে চাই না।

- আমি তোমার কোনো কথা শুনতে চাই না।


আব্বু ওপরে রাগ দেখিয়ে রুমে চলে এলাম না খেয়ে।


চলবে......


ধন্যবাদ ☺️☺️..


#আমার গল্পের তুমি...

#লেখিকা: তানজিলা ইসলাম

#চতুর্থপর্ব


আব্বুর কথায় আমি অনেকটা আবাক হলাম রাগও উঠল। তাই আব্বুকে জিজ্ঞাসা করলাম,


- এইসবের মানে কি?

- আমি তোমার বিয়ে ঠিক করেছি তুমি বিয়ে করবে।

- কিন্তূ আব্বু আমি এখন বিয়ে করতে চাই না।

- তোমার মতামত আমি জিজ্ঞেস করি নেই।


আমি আর আব্বুর কথার ওপর কিছু বললাম না। খাবার টেবিল থেকে না খেয়ে রুমে চলে এলাম।রুমে এসে বিছানায় বসে ভাবতে লাগলাম।

" যে আব্বু আমার কথা ভেবে আমাকে সবার থেকে দূরে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। আমার পড়াশোনা যেন ভাল করে হয়। নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি সে আব্বু কিনা আমাকে না জানিয়ে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেললো। আবার আমাকে বিয়ে করার জন্য বলছে"।


আপুর কথা শুনে আমার ভাবনার ধ্যান ভাঙল। আপু আমার কাঁধে হাত রেখে বলছে,


- আব্বুর কথায় কিছু মনে করিস না। তুই তো জানিস আব্বু হঠাৎ সবকিছু করে ফেলে। কাউকে কিছু জানাতে চায় না।

- তার জন্য আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলবে। আমাকে না বলে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলবে। আপু আমি আজই ঢাকা ফিরে যাবো।

- তানু পাগলামি করিস না। কালকে আসলি আর আজই চলে যাবি।

- আমি পাগলামি করছি না। আব্বু পাগলামি করছে আর তোমরা সবাই প্রস্রই দিচ্ছো

- আচ্ছা ঠিক আছে। তুই একটু শান্ত হো আগে দেখ তোর ছেলেটা পছন্দ হয় কিনা। যদি তোর ভালো না লাগে তাহলে আমরা সবাই আব্বুকে আচ্ছা করে বকে দিবো। 

- আপু তুমি ও আব্বুর সাথে আছো।

- আচ্ছা রাগ করতে হবে না। আমি তোর পক্ষে আছি। এবার চল খেতে চল।

- আমার ক্ষিধে নেই। 

- দেখ তানু আজ বাসায় একটা খুশির দিন। আর সেখানে তুই যদি না খেয়ে মুখ ভার করে রাখিস। আমাদের কি ভালো লাগবে বল।


সত্যিই তো আজ আপুর রক্তিমের ৬ বছর পূর্ণ হবে। যেখানে আমার অসমাপ্ত অপ্রকাশিত ভালোবাসার ৬ বছর। আমি যদি মুখ ভার করে থাকি তাহলে আমার আপুটাও কষ্ট পাবে। তাই মুচকি হেসে আপুকে বললাম,


"আমি একদম মন খারাপ করে থাকবো না। তোরা যদি আমার পাশে থাকিস তাহলে এক চুটকি দিয়ে আব্বুর ঠিক করা বিয়ে ভেঙে দিতে পারি"।


আপু আমার কথা শুনে হেসে দিল। এ হাসি যে সে হাসি না অট্টহাসি। আমিও হাসি দেখে আপুর‌ সাথে হাসতে ও থাকলাম। আপু আমার হাসি দেখে আমার গালে হাত রেখে আলতো ছুঁয়ে দিয়ে বলল,


- জানিস তানু তোর এই হাসিটা অনেক মিস করতাম। আগে তুই আর আমি কতো হাসতাম। আমাদের হাসি দেখে পাশের বাড়ির মেয়েগুলোও হিংসে করতো আর বলতো, " এই দুই বোন পাগল হয়ে গেছে। সারাদিন শুধু হাসাহাসি করে"। 

ওদের কথা শুনে আমি আর তুই আরো বেশি করে হাসতাম।আর ওরা জ্বলে পুড়ে যেতো।

- হুম মনে আছে। খুব করে মনে আছে। জানিস তো আপু অতীত যতো সুখের হোক না কেন দুংখের ছায়া তুই দেখবি।

- হুম এবার চল নিচে যাই।

- হুম চল।


আপু আর আমি নিচে নেমে আসলাম। আমাকে দেখে আম্মু বললো,

- রাগ করে কি লাভ খেয়ে নে।

- ক্ষিধে নেই আমার আমি খাবো না।

- দেখ তানু রাগ করে লাভ নেই। আজ তোর আপুর একটা খুশির দিন। তুই দয়া করে ছিলো কিছু করিস না খেয়ে নে।

- হুম।


আম্মুর কথায় খেতে বসে গেলাম। সত্যিই আমার কোনো অধিকার নেই আপুর আজকে দিনটা নষ্ট করার। আপু অনেক কষ্ট করে রক্তিম আর নিহিরিকাকে নিয়ে এই সংসার গড়ে তুলছে। আর আজকে যার ৬ বছর পূর্ণ হয়েছে। আমি চাই না সব কিছু আমার জন্য নষ্ট হয়ে যাক।


তাই চুপচাপ খেতে বসে গেলাম।সবার খাওয়া শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু আমি, আপু আর আম্মু আছে। আপু আম্মু খাওয়া শুরু করে দিছে। হঠাৎ মাথায় আসলো হিমু ভাইয়ার কথা। তাই আম্মুকে হিমু ভাইয়ার কথা জিজ্ঞাসা করলাম,


- আচ্ছা আম্মু হিমু ভাইয়া কি খেয়ে চলে গেছে।

- হুম। ওতো সবার আগে খেয়ে চলে গেল কেন হঠাৎ হিমুর কথা বলছিস?

- এমনি।

- ঠিক আছে।


হিমু ভাইয়া আমায় ছাড়া একা একা খেয়ে চলে গেল।

মনের ভিতর কেমন একটা খারাপ লাগা কাজ করছে। আগে যখন আমাদের বাসায় যেতো আমাকে ছাড়া একদম খেতো না। আর আজ সে হিমু ভাইয়া আমায় রেখে খেয়ে চলে গেল।


সবাই কেমন একটা বদলে গেছে। এই তানু আমিই বদলাতে পারলাম না। কীভাবে বদলাবো রাত হলে অতীত গুলো তাড়া করে বেড়াতো। নিজেকে বড্ড অসহায় লাগতো। মনে হতো প্রত্যেক রাতে পুরানো ক্ষত গুলো নতুন করে জেগে ওঠতো।


এসব কথা কথা ভাবতে ভাবতে মনে হলো একবার হিমু ভাইয়ার সাথে দেখা করে আসি। যেই বলা সেই কাজ টেবিল থেকে উঠতে যাবো। তখন আম্মু বলল,


- খাবার শেষ করে সবাই ওঠবে।

- আম্মু আমি গেলাম তো আর খেতে পারবো না।

- খেয়ে তারপর যা।

- না খেতে পারবো না। আমি রুমে গেলাম।


আম্মুকে আর কোনো কথা বলতে না দিয়ে রুমে চলে এলাম। ওয়াশ রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সোজা হিমু ভাইয়ার রুমে গেলাম। দরজার সামনে গিয়ে দেখি হিমু পিছন ফিরে কি যেন করছে। রুমে পা রাখবো তখনি হিমু ভাইয়া বলল,


- সূর্য আজ কোন দিকে অস্ত যাবে জানিস তানু

- আপনি কীভাবে জানলেন আমি আপনার ঘরে আসছি। আপনি তো পিছন ফিরে বসে ছিলেন।

- তোর উপস্থিতি আমি টের পাই তানু।

- কীভাবে?

- কিছু কথা বলতে নেই।তা আমার রুমে কি কারনে আসা।

- এমনি আমি রাগ করে না খেয়ে চলে গেলাম। আপনি একবারো গেলেন না।

- জানিস তো সব জায়গায় সবাইকে মানায় না।

- বোঝি নাই আচ্ছা ভাইয়া একটা কথা জিজ্ঞেস করব।

- হুম বল।

- আরে ল্যাপটপ টা অফ করেন।

- তুই বল শুনছি।

- আপনার ক্লাস মেট রক্তিম ভাইয়া। সে বিয়ে করে ফেলেছে। একটা মেয়ে আছে।

- তো কি হয়েছে? তুই ফিরিয়ে দিয়েছিস বলে কি ও বিয়ে করতে পারবে না?

- আপনি কেনো বিয়ে করেন নাই?


আমার কথায় হিমু ভাইয়া একটু ভরকে গেল। ভাইয়া হয়তো প্রস্তূত ছিলো না। অথবা ভাবতে পারিনি আমি এই কথা বলবে। এবার ভাইয়া আমার দিকে ফিরে তাকালেন। একটু মুচকি হেসে বললো,


" একটা মায়াপরী আছে আমার তার জন্য অপেক্ষায় আছি। মায়াপরীটা বড্ড নিষ্ঠুর বোঝলি আমাকে একদম বোঝাতে চায় না। আমার থেকে শুধু পালাই পালাই করে। আমার মায়াপরী বোঝেনা যে তাকে কতো ভালোবাসি। আমি আমার মায়াপরীর অপেক্ষা আছি"।


ভাইয়ার কথা কিছুই আন্দাজ করতে পারছি না। তারপরও বললাম,


- ধ্যাৎ বোঝি না আপনার বড় বড় কথা।

- বললাম না আমার মায়াপরীটা বড্ড নিষ্ঠুর। আমাকে সে একদম বোঝে না। ঠিক তোর মতো।

- আমার মতো।

- হুম।

- ভালোবাসেন।

- হুম।

- কতোটুকু?

- এতোটা ভালোবাসি যে তাকে পেলে বাহিরে না বুকের বা পাশে রাখবো।

- এতোটাও ভালোবাসা চায় বোঝি।

- হুম কেনো তুই ...


হিমু ভাইয়া তুই বলে থেমে গেলো। আমি জানি তাই হিমু ভাইয়া রক্তিমের কথা বলতো। এখন আর রক্তিমের কথা শুনতে ভালো লাগে না। সেতো খুব ভালো আছে তার সংসার নিয়ে আমি আর অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না। তাই হিমু ভাইয়া কে বললাম,


- ভাইয়া কিছু কথা না চাপা দিয়ে রাখতে হয়। 

- জানিরে তানু 

- পৃথিবীটা বড্ড কঠিন। এই পৃথিবীতে থাকলে হলে হাজার কষ্ট বুকে নিয়ে হাসি মুখে কথা বলতে হয়। নাহলে জেনে যাবে আমি কষ্টে আছি। আর কষ্টের পরিমাণ টা অনেক।

- বিয়েটা করে ফেল।

- দেখি এবার হয়তো জীবনটা গুছিয়ে নিতে হবে।

- আমি তোর জন্য একটা উপহার নিয়ে এসেছে নিবি।

- আপনি আমার জন্য উপহার নিয়ে এসেছেন। 

- হুম সবসময় তো নিয়ে আসি। এবার কেনো খালি হাতে আসবো। একটু দারা আমি নিয়ে আসছি।


হিমু ভাইয়া উপহার আনতে চলে গেল। মানুষটা সবসময় আমার জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসে। এবারো হয়তো কিছু একটা নিয়ে এসেছে। জানি না কি এনেছে। তবে তার উপহার গুলো সবসময় কেমন জানি স্পেশাল হয়।


চলবে.....


ধন্যবাদ ☺️☺️ বাকি পর্বগুলা এই ওয়েবসাইটেই দেওয়া হয়েছে দেখেন? 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url