#আমার গল্পের তুমি...

#লেখিকা: তানজিলা ইসলাম

#পঞ্চম পর্ব+শেষ পর্ব


হিমু ভাইয়া আমার হাতে একটা শপিং ব্যাগ ধরে দিয়ে বলল,


- এইটা আজ অনুষ্ঠানে পড়বি। 

- হুম পড়বো। আপনার উপহার গুলো না আমার কাছে খুব স্পেশাল লাগে।

- তাই বোঝি।

- হুম।

- আচ্ছা তানু আমার উপহার স্পেশাল লাগে। আমাকে তোর কাছে কেমন লাগে।

- পরে বলবো এখন আসি।

- হুম।


হিমু ভাইয়ার এই প্রশ্নের উত্তর নেই আমার কাছে তাই পালিয়ে চলে এলাম। সত্যিই কি লাগে আমার। আব্বুর বন্ধুর ছেলে হওয়ার সুবাদে কৈশোর জীবন থেকে ভাইয়া বলি। কিন্তূ কখনো তার সম্পর্কে ভাবিনি। কোনো এতো কেয়ার করতো? কোনো এতো স্পেশাল উপহার দিতো? আব্বুর কাছ থেকে যেইটা চেয়ে পেতাম না। হিমু ভাইয়া সেটা এনে দিতো।


কখনো মুখ ফুটে বলিনি। কেনো এনে দাও‌ আমার এগুলো চাই না। কিছু বলতাম না শুধু নিয়ে যেতাম। কখনো নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে কিছু দেই নেই।

রুমে এসে বিছানায় বসলাম। ব্যাগ টা খুলে দেখলাম,


" একটা শাড়ি নীল রঙা শাড়ি। একবার হিমু ভাইয়াকে বলেছিলাম 

"আমার একটা নীল রঙা শাড়ি একদম আকাশের রঙের মতো নীল শাড়ি কিনে দিবে"।


সেদিন আমার কথায় হিমু ভাইয়া বলেছিলো,

" না দিবো না। আমি কি তোর জামাই যে তোকে সব কিছু কিনে দিতে হবে। সর তো সামনে থেকে ভালো লাগছেনা"।


হিমু ভাইয়ার কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। রাগ করে আর কখনো নীল শাড়ি পড়া হয়নি। হিমু ভাইয়া কিনে দেয় নাই দেখি পড়েনি। কিন্তূ আজ। সেই হিমু ভাইয়া নীল শাড়ি দিলো পড়তে তো হবে।


শাড়িটা রেখে আপুর কাছে গেলাম। দেখলাম আপু আজকের অনুষ্ঠানে জন্য পোশাক নির্বাচন করছে। আমাকে দেখে আপু বলল,


- আমাকে একটা শাড়ি বেছে দেনা তানু।

- এতো শাড়ি থেকে কীভাবে বেছে দিবো। আর সবগুলোই সুন্দর। এতো শাড়ি কি তুই কিনেছিস আপু।

- না তোর রক্তিম ভাইয়া প্রত্যেক মাসে ২ টা করে শাড়ি এনে দেয়।

- তুই অনেক ভাগ্যবান আপু রক্তিম ভাইয়ার মতো একজন স্বামী পেয়েছিস।

- হুম। 


সত্যিই আপু অনেক খুশি আছে। রক্তিম আমার আপুকে খুব সুখেতে রেখেছে। যেখানে ভালোবাসার কোনো কমতি নেই। আমার আসাটা এখানে ঠিক হয়নি। আমাকে দেখে হয়তো ওর পুরানো কথা মনে করে দেয়। চলে যেতে হবে এখান থেকে আমি চাই না। আমার আপুর জীবনটা নষ্ট হয়ে যাক।


হঠাৎ করে রক্তিম রুমে এসে আপুকে বলল

" নেহা তোমার জন্য এই ব্যাগে একটা শাড়ি আছে। শাড়িটা দেখে বলো কেমন হয়েছে। পছন্দ না হলে বলো ফিরিয়ে দিয়ে আসবো"।


কথাটা বলে থেমে গেল। আমাকে দেখে বলল,

- তুমি এখানে তানু।

- আপুর সাথে কথা বলতে এলাম।

- ওও বসো কথা বলো। আর নেহা তুমি আমাকে শাড়িটা দেখে বলো কেমন হয়েছে?


রক্তিম ওয়াশ রুমে চলে গেল। আর আপু শাড়িটা বের করলো। লাল রঙের জামদানি শাড়ি। আপুকে পড়লে বেশ মানাবে।আপু আমাকে বলল,


- কেমন হয়েছে রে তানু?

- অনেক সুন্দর হয়েছে।তোকে পড়লে অনেক ভালো লাগবে। একদম লাল পরী আকাশ থেকে নেমে এসেছে।

- হয়েছে আর বলা লাগবেনা। একটা কাজ কর এখান থেকে একটা শাড়ি নিয়ে যা।

- কেন?

- তোর জন্য তুই কি পড়বি?

- আপু নিজের জিনিসটা খুব যত্ন করে রাখতে হয়। কাউকে তার ভাগ দিতে নেই।

- কিন্তূ তুই তো আমার বোন।

- তো কি হয়েছে। এগুলো সব তো তোকে রক্তিম ভাইয়া ভালোবেসে কিনে দিয়েছে। আমাকে কেন দিবি। একদম দিবি না নিজের জিনিসটা সবসময় আঁকড়ে ধরে রাখবি। যদি একটু ছেড়ে দিস হারিয়ে যাবে।তাই শক্ত করে ধরে রাখ।আর হিমু ভাইয়া আমাকে একটা শাড়ি দিয়েছে। আচ্ছা আমি রুমে যাই ।

- হুম।

 

রক্তিম আসার আগে আমি আপুর রুম থেকে চলে এলাম। রুমে এসে দেখি ১০:৩০ বাজ। অনুষ্ঠান বিকাল থেকে শুরু হবে।ওয়াশ রুমে গিয়ে গোসল টা সেরে নিলাম। গোসল সেরে বারান্দায় এসে চেয়ারে বসলাম। বারান্দায় এই পরিবেশটা আমার খুব ভালো লাগে। তারপরও মনে হলো চোখ দুটোর বিশ্রাম দরকার।তাই বিছানায় শুয়ে পড়লাম। 


 কখন ঘুমিয়ে গেছি মনে নেই। হঠাৎ করে আম্মুর কথা কানে এলো। চোখ খুলে দেখি আম্মু ভাতের প্লেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আম্মুকে দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম,


- আম্মু কয়টা বাজে?

- এখন বাজে ৪টা অনুষ্ঠান শুরু হতে যাচ্ছে ১ ঘন্টা আছে। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আয় আমি খাইয়ি দিচ্ছি।

- ওও আচ্ছা তুমি যাও ‌। আমি এখন আর খাবো না।

- পাগল নাকি তুই খাবি না কেন?

- এখন খেতে গেলে লেট হয়ে যাবে। আমি একেবারে তৈরি হয়ে নিচে যাবো।

- একটু খেয়ে নে।

- না আম্মু তুমি এই খাবার নিয়ে যাও।

- ঠিক আছে।


আম্মু চলে গেল। আমি ওয়াশ রুমে হিমু ভাইয়ার শাড়িটা নিয়ে গেলাম। ফ্রেশ হয়ে শাড়িটা গায়ে জড়িয়ে নিলাম।ওয়াশ রুমে শাড়ি পড়ে বের হলাম। ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসতে দেখি হিমু ভাইয়া বিছানার ওপরে বসে আছে। আমি হিমু ভাইয়াকে দেখে জিজ্ঞেস করলাম,


- কখন এলেন ?

- একটু আগে। তোকে এই শাড়িটায় অনেক সুন্দর লাগছে।

- ধন্যবাদ ভাইয়া।

- তোকে একটা কথা বলতে এসেছি।

আমি তখন লাল লিপস্টিকটা হাতে নিয়ে বললাম 


- বলুন।

- তানু লালটা না গোলাপিটা হালকা করে দে। 

- হুম। এবার বলেন কি বলবেন?

- তোকে আজ দেখতে আসবে। 

- মানে।

- তোকে আজ ছেলেপক্ষ থেকে দেখতে আসবে।

- কি বলছেন এসব?

- এইটা বলতে আসলাম। আমি রুম থেকে বের হতে আন্টি আমায় বললো তোকে যেন এই কথাটা বলে দেই।

- ওওও

- আচ্ছা আসি। তুই তৈরি হয়ে নিচে আয়।আর শোন চোখে কাজলটা দিস। তোর কাজল কালো চোখে কাজলটা গাঢ়ো করে দিলে একদম হুরপরী লাগবে।

- হুম।


হিমু ভাইয়া চলে গেল। আমিও কাজলটা হাতে নিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তূ দিতে পারছিনা। চোখের পানি কাজলটা নষ্ট করে দিচ্ছে। হিমু ভাইয়া বলে গেল। 


" আজ ছেলেপক্ষ দেখতে আসবে। কথাটা শোনার পর কেমন একটা অস্থিরতা কাজ করছে। মনে হচ্ছে কিছু একটা হারিয়ে ফেলবো"।


অনেক কষ্ট করে কাজলটা চোখে দিলাম।‌ চোখে দিয়ে নিচে যাওয়ার আগে নিজেকে ভালো করে আরেক বার আয়নার দেখে নিলাম। প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে। অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। নিচে গিয়ে দেখলাম আরিফ আংকেল আর হিমা আন্টি এসেছে।


আরিফ আংকেল আর হিমা আন্টি হলো হিমু ভাইয়ার আব্বু আম্মু। আমাকে খুব ভালো জানে। হিমা আন্টি কে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরতে আন্টি বলল,


- আমি জানি এইটা আমার তানু মা।

- ওহো আন্টি তুমি ও না। কেমন আছো?

- ভালো তুই কেমন আছিস? আগে আমার সামনে আয়তো। কতোদিন ধরে দেখি না।


আন্টির কথায় আমি সামনে এসে দাঁড়ালাম। আমাকে দেখে বললো,

- কতো শুকিয়ে গেছিস তুই। ওইখানে গিয়ে বোঝি একদম খাওয়া দাওয়া করিস না।

- ওহো এইসব বাদ দাও আগে বলোতো আমাকে কেমন লাগছে।

- খুব সুন্দর লাগছে বউ বউ লাগছে।


" এখন শুধু একটা জামাইয়ের দরকার। কি বলো হিমা"?


- কেমন আছো আংকেল?

- ভালো আছিরে মা। তুই কেমন আছিস। কতো বছর পর তোকে দেখলাম।

- আমি ভালো আছি। আচ্ছা তোমারা কথা বলো আব্বু আম্মুর সাথে আমি একটু আসছি।


আন্টি আংকেল কে বলে এক কোনে চলে এলাম। নিড়িবিলি এখান থেকে সব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ করে দোতালার সিঁড়ির ওপর পড়ল। সবার চোখ ওই আলোর ওপর। আমিও তাকালাম দেখলাম আপু, রক্তিম আর নিহিরীকা নিচে নেমে আসছে। 


তিনজনের পোশাকের রং এক লাল রঙের। তিনজনকে খুব সুন্দর লাগছে। নিচে নেমে এলে সবাই ওদের অভিনন্দন জানাচ্ছে। এক বছর ২ বছর নয় ৬ বছরের সংসার।


আমি চুপচাপ দেখতে থাকলাম। হিমু ভাইয়া আমার পাশে এসে দাড়ালো। আমাকে বললো,


- কষ্ট হচ্ছে তানু।

- আমার আপুর সাথে আমি কখনো হিংসে করিনি জানোতো।

- ভালোবাসাটা হিংসে মানে না।

- যদি হিংসে করতাম তাহলে রক্তিম কে ছেড়ে দিতাম না।

- হুম। 

- জানেন হিমু ভাইয়া। কষ্ট পেলে কান্না করতে হয়। আর কান্নাটা দরজা বন্ধ করে করতে হয়।

- বাদ দে চল ওদের কাছে যাই।

- হুম চলেন।


হিমু ভাইয়া আমার আগে চলে গেল। হিমু ভাইয়া একটা পাঞ্জাবি পড়েছে। নীল রংয়ের পাঞ্জাবী আমার শাড়ির সাথে তার পাঞ্জাবির রংটা একদম মিলে গেছে।


আমিও হিমু ভাইয়ার সাথে আপুদের কাছে গেলাম। আপু আর রক্তিম কে গিয়ে বললাম,


" তোমরা তোমাদের জীবনে অনেক সুখী হও। এভাবে সারাজীবন দুজন দুজনার পাশে থেকো। সবসময় ভালো থেকো"।


কথাগুলো বলার সময় কেমন গলাটা ধরে আসছিলো। তাই বেশি কিছু না বলে চলে এলাম। কথাগুলো বলার সময় কেমন জানি একটা শূন্যতা লাগছিলো। বুকের ভিতর বা পাশে। চিনচিনে ব্যথা অনুভব করছিলাম। বেশিক্ষণ থাকলে হয়তো চোখ থেকে পানি বের হয়ে আসতো।


নাহলেও একটা সময় ভালোবেসে ছিলাম। পৃথিবীর সবচেয়ে কষ্ট ভালোবাসার মানুষ টা অন্য কারো সাথে দেখা।


চলবে......


ধন্যবাদ ☺️☺️....


#আমার গল্পের তুমি...

#লেখিকা: তানজিলা ইসলাম

#ষষ্ঠ পর্ব


ভালোবাসার মানুষটাকে অন্যের সাথে দেখা। অন্যের হাতে হাত রেখে ভালোবাসার মানুষটার পথ চলা। এই দৃশ্য গুলো পৃথিবীর সবচেয়ে কষ্টের দৃশ্য। অনেক না বলা কথার কষ্ট। 


আপু, রক্তিম একসাথে হেঁটে হাসিমুখে সবার সাথে কথা বলছে। মনের ভিতর শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে। হঠাৎ মনে হলো চোখের কোণায় পানি জমে আছে। চোখ ভোজলে পানি ঝরতে শুরু করবে। তাই অনেক কষ্ট করে চোখের পানিটা ধরে রেখেছি।


আপু রক্তিম সবার সাথে কথা বলে এবার আমার দিকে আসছে। ওদের দেখে ভিতরটা দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে। রক্তিম এসে আমার পাশের চেয়ারটায় বসলো। আপু কিছু না বলে চলে গেল। আপু কে আমি পিছন থেকে অনেক ডেকেছিল। কিন্তূ কোনো লাভ হয়নি। রক্তিম আমার ডাকাডাকি দেখে বলল,


- ওকে ডেকো না।

- কেন?

- ও আমাদের বিষয়ে সবকিছু জেনে ফেলেছে।


রক্তিম এর কথাটা শুনে মাথায় রাগ ওঠে গেল।যে আপু সুখে থাকবে দেখে। ভালোবাসাটা নিজের করে পাবে বলে। আমি আমার ভালোবাসাটা ছেড়ে দিয়ে চলে গেলাম। সবার থেকে দূরে যেন আমার আপুর ওপর এইসবের আঁচ টুকু না পড়ে।আর রক্তিম আপুকে সব বলে দিলো। আমি রেগে গিয়ে রক্তিমের শার্টের কলার ধরে বললাম,


- কোনো বললে তুমি?

- আরে আরে শান্ত হও, রাগ দেখিয়ে কি হবে। আজ তোমায় ছেলেপক্ষ থেকে দেখতে আসবে। আর তুমি রাগ করে তোমার বোনের স্বামীর কলার ধরে রেখেছো।

মানুষ দেখলে কি ভাববে?

- তুমি আপুকে কেন বললে?


রক্তিম আমার কথা শুনে একটু চুপ করে থাকল। তারপর আবার বলতে শুরু করল,


" তোমার আর আমার সম্পর্ক ভেঙ্গে গেছে ৬ বছর। আর নেহার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে ৬ বছর। আমার একটা মেয়ে আছে‌। তাদের ছেড়ে তোমার কাছে যাওয়া অসম্ভব। আমার মেয়েটা যখন আমাকে বাবা বাবা বলে ডাকে তখন মনে হয় পৃথিবীর সব সুখ আমার কাছে আছে। যার দাবিদার নেহাও ওকে ছাড়া হয়তো আমি অসম্পূর্ণ। মাঝে মাঝে ভাবি তোমার ভালোবাসা টা আমার কাছে কেমন ধূসর হয়ে গেছে । কিন্তূ কেন ওই কেন টা হলো নেহা।নেহার জন্য তোমার ভালোবাসা টা দিনকে দিনকে ফিকে হয়ে গেছে। সকাল হলেই নেহার মুখ আর রাতে ঘুমানোর সময় ও নেহার মুখ দেখে একটা মায়া পড়ে গেছে। তোমাকে মাঝে মাঝে তো মনে পড়তো না। কিন্তূ কথায় আছে প্রথম ভালোবাসা ভুলা যায় না। তেমনি তোমাকে দেখে মাঝে মাঝে ভেতরের ক্ষতটা জেগে ওঠে। আর নেহাকে আমি কখনো কিছু বলিনি। না বলবো তোমার আমার অসমাপ্ত ভালোবাসার কথা। কখনো যখন বলি নেই আর এখন তো বলার কোনো প্রয়োজন মনে করি না। এখন আমি তোমাকে না নেসাকে ভালোবাসি। তোমার সাথে শুধু একটু মজা করলাম"।


আমি রক্তিমের কথা গুলো চুপ করে শুনে গেলাম। সত্যিই আপু অনেক খুশি। আজ মনে হচ্ছে নিজের অসমাপ্ত ভালোবাসা টা সার্থক। রক্তিমের কথা শুনে চোখের কোণে পানি জমেছে। রক্তিমের অগোচরে চোখের পানি মুছে বললাম,


- দুঃখিত রক্তিম আমি বোঝাতে পারিনি।পারলে ক্ষমা করে দিও।

- বোঝতে আর তুমি কবে পারলে। আর তোমাকে আমি অনেক আগেই ক্ষমা করে দিয়েছি। অনেক বছর হলো তোমার রাগি মুখটা দেখি না। তাই একটু বিরক্ত করলাম। আর নেহা নিহিরীকাকে নিয়ে ওপরে গেছে।

- ওও ভালো।

- তৈরি থাকো আজ তো তোমায় দেখতে আসবে।

- হুম।


রক্তিম চলে গেল আমার সামনে থেকে। হুম আজ সময় হয়েছে। নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার। নিজেকে একটু সামলে নিয়ে অন্যের সাথে ঘর বাঁধার। অনেক তো অন্যের ঘরে গুছিয়ে দিলাম। এইবার আমারোও আখের গুছাতে হবে।রক্তিম আপু সবাই ভালো আছে। এবার আমিও না হয় ভালো থাকার চেষ্টা করবো।সবার ভালো থাকার মাঝে মাঝে নিজের ভালো থাকাটা খুঁজে নিবো। 


হিমু ভাইয়ার কথা শুনে আমার ভাবনায় বিভ্রর কাটল।

হিমু ভাইয়া কি যেন একটা বলছে। আর সবাই মনোযোগ সহকারে শুনছে। আমিও সবার মতো হিমু ভাইয়ার কথা শুনতে লাগলাম। হিমু ভাইয়া একটা মাউথ হাতে নিয়ে সবার মাঝে দাঁড়িয়ে বলছে,


" সবার জীবনে একটা করে মায়াবতী থাকে। আমার জীবনেও আছে তবে সে মায়াবতী না। সে আমার মায়াপরী। আমার মনের রাজ্যের মায়াপরী। তবে আমার মায়াপরী টা অনেক অবুঝ। সে একদম বোঝাতে চায় না। কিন্তূ কেউ একজন আমার মায়াপরীকে আমার থেকে নিয়ে যেতে এসেছিলো। কিন্তূ নিতে পারেনি। মাঝে মাঝে নিজের প্রতি বিরক্ত হতাম। কোনো আমি আমার মায়াপরীকে বোঝাতে পারি না। কি করলে বোঝবে। অনেক ভেবে চিন্তে একটা উপায় বের করলাম। সেটা হলো বিয়ে। হুম বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। মায়াপরীর বাবা মা বোন রাজি। এবার শুধু মায়াপরী রাজি থাকলে। আমি আমার মায়াপরীকে নিজের করে পাবো"।


হিমু ভাইয়া কথাগুলো বলতে বলতে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। আমার সামনাসামনি দাঁড়িয়ে আমাকে বলল,


- তানু সেদিন বলেছিলাম না। আমার মায়াপরীটা তোর মতো সেদিন বড্ড ইচ্ছে হয়েছিল। তোর মাথাটা বুকের রেখে বলি তুই আমার মায়াপরী। সেদিন ঠিক বলতে পারিনি। কিন্তূ আজ তোকে বলছি 

" ভালোবাসি অনেক বেশি ভালোবাসি আমার মায়াপরীকে। আমি জানি আমার মায়াপরীটা খামখেয়ালি। আমায় ভালোবাসবে না। তবুও আমি আমার মায়াপরীকে চাই। খুব করে নিজের মতো করে আমি আমার মায়াপরীকে। আর আমার মায়াপরীটা তুই রে তানু। আমার তানুপাখি।

- ভালোবাসেন আমায় আপনি।

- বিয়ে করবি আমায়।


হিমু ভাইয়ার কথা শুনে কেন জানি একটা ভালো লাগা অনূভুতি সৃষ্টি হচ্ছে। হিমু ভাইয়ার কথায় মনে 

হচ্ছে আজ আমি


# আমার গল্পের তুমি.... টাকে খুঁজে পেলাম। রক্তিম তো আপুর সাথে সাথে ভালো আছে। আমি না হয় হিমু ভাইয়ার মাঝে আমার সুখ টা খুঁজে নিবো। যে মানুষটা আমার অজান্তেই আমাকে এতো ভালোবেসে গেছে। আর যাই হোক তাকে ভালোবেসে ঠকবো না। 


" কিরে মায়াপরী আমার তানু পাখি বল কিছু একটা বিয়ে করবি আমায়"।


হিমু ভাইয়ার কথায় ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি। ভাইয়া আমার দিকে অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছে। এই মানুষটাকে অসহায় ভাবে কখনো দেখিনে আজ তাকে দেখছি। তাই আমিও মাথা নাড়িয়ে "হুম" বলে দিলাম।


- একটা কথা বলবো তানু।

- হুম।

- আমার বুকের বা পাশে মাথা রেখে একবার বলবি " ভালোবাসি" 😍


----------------

- ওহো মা তাড়াতাড়ি আসো আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে।

- একটু দারা বাবা।তোর বাবা কোথায়?

- গাড়িতে তুমি আসো তাড়াতাড়ি।

- হুম আসছি।


সেদিন হিমু ভাইয়াকে বলিনি ভালোবাসি। কিন্তূ তার বুকে মাথা রেখে ১০ টা বছর পার করে দিলাম। কিন্তূ হিমু ভাইয়া আমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছে। আমাদের একটা ছেলে ও আছে। তিলোক আমার আর হিমুর ভালোবাসার চিহ্ন।আজ আমি আর হিমু ভাইয়া আমাদের বাড়ি যাচ্ছি। আপুর বাসায় ও যাওয়া হবে। কিন্তূ সেদিনের মত একা না। আমার স্বামী আর সন্তান কে নিয়ে যাবো।


তিলোক এর সাথে কথা বলে। বাসা লক করে চলে এলাম। গাড়ি র ব্যাক সিটে যখন বসতে যাবো তখনি হিমু ভাইয়া আমাকে বললো,


- তোমরা সবাই ব্যাকসিটে বসে কি প্রমাণ করতে চাও? আমি তোমাদের বেতন ভুক্ত ড্রাইভার।

- ওহো আপনার আর ঝগড়া করতে হবে না। আমি আপনার সামনে এসে বসছি।


আমি সামনের সিটে বসার পর হিমু ভাইয়ার আমাকে বললো,

- কি তানু তুই জানিস তো তোকে পাশে না পেলে আমার চলে না। আর তুই আমাকে ছেড়ে ব্যাকসিটে কেন বসতে গেলি।

- আসলে তিলোক একা বসবে তাই আমি ওকে ওর সাথে বসতে চাইছিলাম।

- হয়েছে তোর অজুহাত। আমি জানি তুই আমায় এখনো মেনে নিতে পারিস নি।

- কে বললো আপনায়?

- তাহলে বল ভালোবাসি।


আমি আর কিছু বললাম না। চুপ করে বসে রইলাম। কেন জানি হিমু ভাইয়াকে ভালোবাসি বলতে পারি না।

 আমি চুপ করে আছি দেখে। হিমু ভাইয়া বললো,


"আমি জানি তুই বলতে পারবি না। তারপরও তোকে পেয়েছি এইটাই অনেক"


কথাটা অনেকটা তীরের মতো লাগলো। তাই চোখ বন্ধ করে হিমু ভাইয়াকে বলে দিলাম


" ভালোবাসি অনেক বেশি ভালোবাসি আপনায়"।


হিমু ভাইয়া আমার কথা শুনে মুচকি মুচকি হেসে গাড়ি। চালাচ্ছে। আমি তার পাশে বসে আছি। আর পিছে আমার ছেলে বসে আছে।


আজ নিজেকে অনেক হালকা লাগছে। সেদিন না বলা কথাটা আমি আজ বলে দিলাম। হঠাৎ মনে হলো আমার আমার হাতের ওপর হিমু ভাইয়া হাত রেখেছে।


আমি ও হাতটা শক্ত করে ধরলাম। এই হাতের ওপর হাত রেখে বাকি জীবন টুকু বেঁচে থাকতে চাই.....              


                            ❤️ সমাপ্ত❤️


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url