জলতরঙ্গ
পর্ব:-০৪/শেষ
—কী! তুই নিজে থেকেও এসব করতে দিলি? তুই জানিস না, সুনেরাহ'র সাথে আমি কেন কবিরের বিয়ে দিলাম? মেয়েটা সর্বোচ্চ এক দুইমাস এ বাড়িতে থাকবে। তারপর? ও তো নাই হয়ে যাবে। ওর বদলে এখন আমাকে ওর ওই বাচ্চার দেখাশোনা করা লাগবে!
রাগে-দুঃখে রাইমা তালুকদার ফেরিওয়ালার বেলুনের মত ফুলে উঠলেন। যেন এক্ষুণি নিশ্বাস ছাড়লে দম আটকে মারা যেতে পারেন। তার নিজের ভাই এমন গাধার মত কাজ করে আসবে,তা কল্পনার বাইরে ছিল। কড়া করে ধমক দিয়ে তিনি ভাইকে ঘর থেকে বের করে দিলেন। কত কাঠখড় পুড়িয়ে, রাগিবকে চাপ দিয়ে সুনেরাহ'র এইরকম শারিরীক অবস্থায়ও বিয়ের বন্দোবস্ত তিনি করেছেন। যা করেছেন, সবটাই কবিরের জন্য। কবিরের ভালোর জন্য। ছেলের ভালো করতে গিয়ে তার বোকাসোকা অতি ভালো মানুষ ছেলে এটা কী করে এলো? যদি সুনেরাহ'ই বেঁচে না থাকে, তবে তার বাচ্চাকে পেলেপুষে কী আন্ডা পাবেন!
অন্যদিকে কবিরের ঘরে ছোট মেয়েকে নিয়ে শুয়ে আছে সুনেরাহ। বিয়ের শাড়ি বলতে খুব সাধারণ আর পাতলা একটা শাড়ি পরেছিল। এখন সেটাও নেই। তার পরিবর্তে ঢিলাঢালা ধাঁচের একটা পোশাক গায়ে জড়িয়ে রেখেছে সে। ঘরে ঢুকে কবির এক পলক ওর দিকে তাকিয়ে টের পায়, মেয়েটার শরীরের অবস্থা খুব বেশি ভালো না। মা এমন তাড়াহুড়ো না করলেও তো পারতেন। অনুদিতির বয়স দুই মাস পার হলে তখন কী এমন ক্ষতি হত?
কবিরকে দেখে সুনেরাহ নড়েচড়ে বসলো। কিন্তু কথা বললো না। কবির নিজে থেকেই বিছানার পাশে পা ঝুলিয়ে বসে জিজ্ঞাসা করে,
—কী ভাবছ?
—ভাবছি অনেক কিছুই। আমাকে কোন পাগলে কামড়ালো, আর আমি ড্যাংড্যাং করে বিয়ে করতে রাজি হলাম! এইটুকু বাচ্চা আমার। তবে সবচেয়ে অবাক হয়েছি কেন জানেন? আপনার মা আমার সাথেই আপনার বিয়েটা দিতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন। আর তার চেয়েও হতবাক লেগেছে, আপনি অনুদিতির নামে কীভাবে এতকিছু লিখে দিতে পারলেন! আমি যদি বিয়েতে রাজি না হতাম?
—হা হা হা। মায়ের কথাটা এখনও জানি না। তবে আমি কবির। তোমাকে সেদিন কী বলেছিলাম, মনে আছে? আমার সম্পর্কে খোঁজ নিতে। আমি মানুষকে বিশ্বাস করতে ভালোবাসি। আর আমার প্রতি অন্যের বিশ্বাস তৈরি করতেও। তুমি আমাকে ঠকাতে পারো, এমন কিছু কেন জানি মনের মধ্যে উঁকি দেবার সাহসই পায়নি। কারণ,তুমি ছলনাময়ী হলে শুরুতেই বিয়ের জন্য রাজি হয়ে যেতে। আমাকে ফেরাতে না। একটা সুন্দর মনের মানুষকে চিনতে কী এর চেয়ে বেশি জানার মত কষ্ট করতে হয়?
সুনেরাহ মাথা নিচু করে একবার দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। কবির অতি বোকাসোকা একটি মানুষ। অথবা সরল। অথচ এই সহজ সরল মানুষটিকেই তার ধোকা দিতে হবে। কবির জানতেও পারবে না—এতক্ষণ পর্যন্ত যা কিছু হচ্ছে, তা কেবল সুনেরাহ'র ইচ্ছেতেই। উঁহু, নিজে বাঁচতে হলে এসব মানবতাকে পেট থেকে উগরে ফেলাটাই বাঞ্চনীয়। সে একবার কবিরের দিকে চেয়ে সামান্য হাসির চেষ্টা করলো। কবির আবার প্রশ্ন করে,
—কিন্তু আপনি নিজের শরীরের এই অবস্থায় ব্যাপারটা মেনে নিলেন,এটাই আমার কাছে বড় আশ্চর্যের বিষয়। আমাকে এখনই ভালো যে বাসতে পারবেন না,তা জানি।
—রাগ। রাগিব ভাইয়ের উপর রাগ আর জিদ। আমার বাচ্চার বয়স স্বল্প। অন্যদিকে, আমার ভাই আমার উপর মানসিক অত্যাচার শুরু করেছিল। অবশ্য অনুদিতি জন্মের আগে থেকেই চলছিল এসব। কিন্তু ও হবার পর আর এক সেকেন্ডও যেন রাগিব ভাই ওর বাড়িতে রাখতে ইচ্ছুক ছিল না। আমার এইরকম শারীরিক অবস্থায় এখনই চাকরি করাও সম্ভব নয়। অবশ্য গেলে বন্ধুদের কাছে কোথাও যেতাম। কিছুমাস থাকার পর চাকরি নিতাম। কিন্তু আপনি যত সুন্দর করে আপনার উপর ভরসা তৈরি করিয়েছেন, এর চেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত আর কী নেওয়া উচিত ছিল আমার?
কবিরের ঠোঁটের কোণে স্মিত হাসি ফুটে ওঠে।
তবে সেই হাসি খুব বেশিদিন স্থায়ী হয় না। বুকের উপর মাঝেমাঝেই তীব্র যন্ত্রণা হয়। এই যন্ত্রণা তার নতুন নয়। ডাক্তারের চিকিৎসায় কিছু সময় ভালো থাকে, আবার কিছু সময় এভাবেই সহ্য করে।
তবে তার চেয়েও খারাপ পরিস্থিতির ব্যাপার হলো- ইদানীং সুনেরাহ'র শরীর অধিক খারাপ হতে শুরু করেছে। বিছানা থেকে ওঠে না, ডেলিভারির ব্যথা কমার বদলে হঠাৎ বাড়ছে।
ছেলের বিয়ের ছত্রিশ দিন পর একদিন রাফিয়া রহমান নিজের ছেলে কবিরকে না ডেকে গোপনে সুনেরাহ'র ঘরে ঢুকলেন।
—দেখো বউমা, তোমার ডেলিভারির ব্যথা নাকি বাড়ছে? লক্ষণটা কিন্তু ভালো ঠেকছে না। তোমার জরুরিভাবে ডাক্তার দেখানো উচিত। আজ বিকালে আমি তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো।
—মা,আপনার ছেলে তো আমার চেয়েও বেশি অসুস্থ। আমার চেয়ে ওর ব্যাপারটা আগে দেখলে ভালো হত না?
—কী যে বলো তুমি। কবির পুরুষ মানুষ। তাছাড়া ওর মামা সবসময় ওর ব্যাপারটা দেখে। কিন্তু তুমি পরের মেয়ে। এখানে এসে তোমার নিজের কাছে নিজেকে যেন কখনোই দূরের মানুষ মনে না হয়। শাশুড়ী নয়, একজন মা হিসেবে তোমার দেখ-ভালো করাটা আমার দায়িত্ব, সুনেরাহ।
-না মা, আমার তা মনে হয় না। কবিরের ব্যাপারটাই আপনার আগে দেখা উচিত। ওর ট্রিটমেন্ট হলে এরপর আমি ডাক্তার দেখাবো। প্লিজ,আমার উপর আর কোনো জোর করবেন না মা। আমার স্বামী সুস্থ হলেই আমার স্বস্তি।
রাফিয়া রহমান নানানভাবে বুঝিয়েও সুহেরাহ'কে রাজি করাতে পারলেন না৷ কিন্তু তিনি তো এটা চাননি। মনে মনে ক্ষোভে আর বিরক্তিতে নিজের ঘরে ফিরে ছোটভাইকে ডেকে পাঠালেন। আতিক-উল্লাহ বোনের ঘরে ঢুকতেই রাফিয়া রহমান ভাইয়ের দিকে তেড়ে এসে বললেন,
—আমার আমও গেল, ছালাও গেল। তোর মত গাধাকে এতবড় দায়িত্ব দিয়ে কী লাভ পেলাম?
—কেন? সুনেরাহ কী সব জেনে গেছে?
—ওইটাই তো খালি বাকি আছে। যার জন্য দুনিয়ায় এত এত ভালো মেয়ে থাকতে ওরে পছন্দ করলাম। যার জন্য রোজ রোজ মেডিসিন মিশিয়ে ওকে খাওয়ানোর রিস্ক নিয়েছি, আর এখন তীরে এসে আমার তরীটাই ডুবে যাবে? সুনেরাহ যদি ডাক্তারের কাছে না যায়, তাহলে আমার ডাক্তার কীভাবে ওকে অপারেশনের কথা বলবে? আমার কবিরকে আমি কীভাবে বাঁচাবো?
মাসখানেক আগে কবিরের ডাক্তারি রিপোর্টে জানা যায়-তার ফুসফুসের কার্যক্রম একেবারে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। কবিরের শরীরে নতুন করে কোনো ডোনারের অরগ্যান ট্রান্সপ্লান্ট করা ছাড়া
সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়। ব্যাপারটা রাফিয়া রহমান কবিরকে জানায় না৷ কবির অত্যন্ত সহজ সরল এবং দুর্বল মনের ছেলে। নিজের সম্পর্কে এসব জানলে সে আরও অসুস্থ হয়ে যাবে। তার ইচ্ছে-আপাতত কোনোভাবে তাকে বুঝিয়ে দ্রুত অপারেশন করবে। কিন্তু তার আগে ম্যাচিং অরগান প্রয়োজন। শত চেষ্টার পরেও কারোর অরগ্যানই ম্যাচ করে না৷ শেষ পর্যন্ত এই সুনেরাহ'ত অরগ্যান ম্যাচ করে, তখন সে হাসপাতালে প্রেগন্যান্সির রিপোর্ট করাতে গেছিল। পরবর্তীতে রাফিয়া রহমান খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন-মেয়েটার স্বামী মারা গেছে, মাস কয়েক পরেই বাচ্চা হবে।
সেই মুহুর্ত থেকেই রাফিয়া রহমান একটু একটু করে নানান মাধ্যমে রাগিবকে উস্কে দিয়েছেন। তার পরিকল্পনা ছিল- কবিরের সাথে ওকে বিয়ে দিয়ে সুনেরাহ'কে আলাদা একটা মেডিসিন দিবে। আর সেই মেডিসিনের প্রভাবে সুনেরাহ অসুস্থ হয়ে গেলে তারই ঠিক করা ডাক্তারের মাধ্যমে সুনেরাহ'কে একটা অপারেশনের কথা বলে অরগ্যান সরাবে। এতে সুনেরাহ মারা গেলেও আলাদাভাবে মেডিকেল রিপোর্ট দেবার জন্য ডাক্তারের টিমও ঠিক করে রেখেছেন তিনি। অথচ সুনেরাহ'কেই এখন সে রাজি করাতে পারছে না!
ভাইয়ের উপর রাগারাগি করে রাফিয়া রহমান ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো। তার হাতে খুব বেশি সময় নেই। কিন্তু এমন দুশ্চিন্তার মুহুর্তে তিনি টেরই পাননি, সুনেরাহ গোপনে তার সম্পূর্ণ কথোপকথনের ভিডিও করে নিয়েছে। আর সেই ভিডিওটিই সে কবিরকে দেখায়। তিরস্কার করে বলে,
—তার মানে আমার সাথে এত সখ্যতা, এত সম্মান, এত ভালোবাসার মূল কারণ এই ছিল কবির? আপনাকে আমি ভরসা করেছিলাম, বিশ্বাস করেছিলাম। আর আপনি আপনার মায়ের সাথে মিলে আমার জীবনটাই শেষ করে দিতে প্ল্যান করেছেন?
কিন্তু কবির ওর কথা কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। সে তো কখনোই এসবের কিছুই জানতো না। তার এতবড় অসুখের কথা শুনে যতটা না অবাক হয়, মায়ের এতখানি ভয়ংকর পরিকল্পনা দেখে তার চেয়েও অধিক হতবাক হয়ে গেল। সে সুনেরাহ'কে বারবার বুঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। এতবার অনুরোধ করার পরেও সুনেরাহ তাকে বুঝতে চাইছে না? আজকের এই মানুষটিকে আজ চিনতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে ওর। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে মাকেই ডেকে এনে সবটা বলতে বাধ্য হয় এবং তাকে যে এসবের কিছুই জানানো হয়নি, তার জবাবদিহিতাও চাইলো। ছেলের কাছে আজ আর সমস্ত ঘটনা তিনি লুকোতে পারলেন না। সমস্তই তাকে খুলে বলতে হলো।
নিজের এই অবস্থা জেনেও কবির সুনেরাহ'কে কথা দেয়,
—তার অপারেশন হোক বা না হোক,সে সুনেরাহ'কে ঠকাবে না।
কবির তার কথা রেখেছে। ফুসফুস ড্যামেজের শেষ পর্যায়ে চলে গেলেও সুনেরাহ'র ক্ষতি সে করেনি। এমনকি, নতুন করে ডোনারও আর পাওয়া সম্ভব হয়নি। ধুঁকে ধুঁকে জীবনের শেষ দিনের শেষ মুহুর্তে এসে শুধু সুনেরাহ'র হাত ধরে একবার অনুরোধ করেছিল,
—সুনেরাহ, আমি কী তোমার মনে একটুও জায়গা পাইনি?
সুনেরাহ জবাব দেয় না৷ শুধু বুক ভারি করা একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে সেদিন। কবিরের মৃত্যুর পর প্রায় এক সপ্তাহ সে এক মুহুর্তের জন্যও ঘরের বাইরে বের হয়নি। তবে যেদিন হয়েছিল, সেদিন রাফিয়া রহমানও টের পাননি। রেস্টুরেন্টে বসে সে তার প্রাক্তণ স্বামী অনিক মুস্তাফিজের সাথে চিৎকার করে বলে,
—এবার খুশি হয়েছো তুমি?
—মনে হচ্ছে রাগ ঠিকরে পড়ছে! দেখো সুনেরাহ, আমি যা করেছি, তা আমাদের ভালোর জন্যই করেছি।
মূলত অনিকের এক্সিডেন্ট হলেও সে মারা যায়নি। সুনেরাহ'র সাথে মনোমালিন্য হবার পর সে রাগ করে ভাইয়ের বাড়িতে চলে আসে। আর এরপরেই তার প্রেগন্যান্সির রিপোর্টের সূত্র ধরে রাফিয়া রহমান কবিরের সাথে সুনেরাহর ম্যাচিং খুঁজে পান। কিন্তু রাফিয়া রহমান জানতেন না- কবিরের বন্ধু ভদ্রমহিলার ঠিক করা ডাক্তারের এসিস্ট্যান্ট। সব জানার পর সে নিজেই পরিকল্পনা করে নিজের এক্সিডেন্ট করায়। মর্গ থেকে লাশ নিয়ে নতুন রিপোর্ট তৈরি করে। তারপর সুনেরাহ'র সাথে মিলেই এই সমস্ত মৃত্যুর নাটক সাজায়। অনিক খুব ভালো করেই জানতো- রাফিয়া রহমানের মত স্বার্থপর মহিলা সুনেরাহ'র এই পরিস্থিতির শতভাগ ফায়দা নিবেন। আর অনিকও তার পরিকল্পনা সাজায়, সুনেরাহ'কে ওবাড়িতে পাঠিয়ে কবিরের ইমোশনাল মনের সুযোগ নেবার।
তারপর একদিন সুযোগ বুঝে তার মায়ের পরিকল্পনা ফাঁস করে দেবে। হলোও তাই। তারা দুজনেই খুব ভালো করে জানতো- রাফিয়া রহমান যেভাবে সুনেরাহ'কে ডেকে যেচে খাবার দিতেন , তা সুনেরাহ'কে অসুস্থ করার জন্যই। আর তাতে মেডিসিন থাকতে পারে,সেটাও সন্দেহ করেছিল। কিন্তু সুনেরাহ সেসবখায়নি। তবে অসুস্থ হবার ভান ঠিকই ধরেছে।
যার ফল আজকের এই বিজয়।
অনিক বললো,
—মানুষের কাছে তো আমি মৃত। তবে আমরা দুজন অস্ট্রেলিয়া চলে যাবো। সেখানে নতুন করে জীবন শুরু করবো। তুমি মেয়ের অভিভাবক হিসেবে সম্পত্তির ভাগ বুঝে নেবে।
—তোমার যেখানে ইচ্ছে, সেখানে যাও। আমি তো কবিরের বাড়িতেই থাকবো।
—মানে?
—মানে খুব সোজা। যে স্বামী তার বউকে দিয়ে এমন জঘন্য কাজ করাতে পারে, সে পরবর্তীতে আমার উপরেই আবার কিছু করবে না-তার কী নিশ্চয়তা আছে! দুনিয়ার কাছে কাগজে কলমে তুমি মৃত। চাইলেও আমার কিছুই করতে পারবে না। ওদিকে রাফিয়া রহমানের সম্পত্তি পেয়েছি মাত্র তিনভাগের এক ভাগ। কে জানে? এখন এই একাকী নিঃসঙ্গ স্বামী সন্তানহারা মহিলাকে ইমোশনালি পটাতে পারলে সবটাই আমার আর অনুদিতির নামে করে দেয় কি-না!
—তুমি আমার সাথে এটা করতে পারো না সুনেরাহ। সব প্ল্যান আমার ছিল, আমিই কলকব্জা নেড়েছি বলে পেয়েছ।
—প্ল্যান তোমার ছিল বলেই তো এত সাহস পাচ্ছি। মৃত মানুষ জীবিত প্রমাণিত হলেও বিশেষ লাভ হবে আর। যদি ভাবো, আমাকে মেরে ফেলবে-তাহলে সেই দুঃসাহসও করো না৷ অনুদিতি আমার কাছেই থাকবে। আর হ্যাঁ, মরহুম অনিক সাহেব, আমি সুনেরাহ সব পারি। স্বামী থাকা অবস্থায়ও যখন আরেকটি পুরুষকে বিয়ে করতে পেরেছি, তার মৃত্যুর কারণ হতে পেরেছি, সেখানে তোমার মত দু'পয়সার স্বামীকে ছাড়তে পারবো না? হা হা হা। আল বিদা মরহুম পতিদেব।
অনিক বারবার সুনেরাহ'র নাম ধরে ডাকতে থাকে। কিন্তু সুনেরাহ আর পিছন ফিরে তাকায় না। সে এখন ভয়ংকর এক খেলায় নেমেছে, যার শুরুটা অনিকই হাতে ধরে শিখিয়েছিল।
(সমাপ্ত)
জলতরঙ্গ পর্ব:-০৪/শেষ
লেখক— Sharifa Suhasini
