#অবাধ্য_চাওয়া 

#লেখিকা_আরিশা_জান্নাত_রিয়া# পর্বঃ ২


(কপি করা নিষিদ্ধ৷ কপি করলে নাম সহ করবেন)


রাত বাড়ছে ধীরে ধীরে। আরজান সেই যে বের হয়েছে আর বাড়িতে ফেরেনি।এখন রাত ১২ টা বাজে। আরজান মেন দরজার লক খুলে ভিতরে ঢুকলো।বাড়িতে কোনো সারা শব্দ নেই । মনে হচ্ছে যেনো কোনো মৃত্যু পুরি।আরজান ধীর পায়ে উপরে উঠতে লাগলো।হাটতে হাটতে মায়ের ঘরের দরজার সামনে দারালো।এতো রাতে ভিতরে ঢুকবে নাকি ঢুকবে না সেটাই ভেবে পাচ্ছে না।ঘড়ের ভিতরে লাইট জ্বলছে। তাহলে কি তার মা এখনো জেগে আছে। দরজায় হাত রাখতেই শুনতে পেলো বাবার কন্ঠ। 


--শায়েলা কিছু খেয়ে নাও।সকাল থেকে না খেয়ে আছো।এবার তো তোমার শরীর সত্যি খারাপ করবে।


শায়েলা বেগম কিছুই বললো না।চুপ করে শুয়ে আছে।।


- শায়েলা আরজান কিছুতেই এসব মানবে না।তুমি এসব জেদ না করে খেয়ে নাও।


এতোক্ষনে শায়েলা বেগম দীর্ঘশ্বাস ছারলো।বললো,,


-- আমি বোধহয় বেশি চেয়ে ফেলেছি তাই না। আসলে মা তো। যখনই ভাবি মেয়েটার জীবন শেষ হয়ে যাবে। তখনই আমার চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়।কিছুই ভাবতে পারি না।


আজমল চৌধুরী স্ত্রীর কথা শুনলেন। বলার মতো কিছু পেলেন না।বললেন


-- সবই নিয়তি শায়েলা। ওর ভাগ্যেতে যদি সুখ না থাকে। আমরা হাজার চেষ্টা করেও সুখ এনে দিতে পারবো না।


দরজার বাইরে থেকে বাবা মায়ের কথার কিছুই বুঝতে পারলো না আরজান। এসব কথা শুনে সে আর ঘরে ঢুকলো না। আস্তে পায়ে হেটে নিজের ঘরে চলে গেলো।

আজ সকালের রোদের যেনো উত্তাপ ছড়াচ্ছে। চারপাশে খা খা করছে। সবাই একসঙ্গে ব্রেকফাস্ট টেবিলে খেতে বসেছে।খাওয়ার মাঝে আজমল চৌধুরী বললেন।


-- আরজান তুমি এখন কি করবে কিছু ভেবেছো।


- না বাবা এখনো কিছুই ভাবিনি।


- আমাদের পারিবারিক বিজনেসে তো বসতে পারো তাই না। 


- হু ভেবে দেখছি।


ওদের কথার মাঝে অনু বললো। 


- ভাইয়া তুমি কি কোথাও যাবে।


- হ্যা কেনো। 


- আসলো আমি কলেজে যাবো। আমাকে একটু ট্রপ করবে।


- আচ্ছা ঠিক আছে। রেডি হয়ে আয়।


আরজান দেখলো সবাই খেলেও তার মা কিছু না খেয়ে বসে আছে। আরজান বললো


- মা তুমি খাচ্ছো না কেনো। 


শায়েলা বেগম কোনো কথা বললো না।আরজান আজ দুই দিন যথেষ্ট ধর্য ধরে আছে। কিছুতেই রাগ প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। কিন্তু তার মা যা শুরু করেছে তাতে সে কতক্ষণ রাগ কন্ট্রোল করতে পারবে তার জানা নাই। সে আবার বললো 


- মা খেতে বলেছি আমি। 


শায়েলা বেগম উঠে চলে যেতে লাগলো।একে তো তার মা তার সাথে কথা বলছে না। তার উপর কাল থেকে না খেয়ে আছে। মেজাজটা যেনো হঠাৎ করে বিগড়ে গেলো।মায়ের হাত টেনে ধরে বললো।


- না খেয়ে কোথাও যাবে না তুমি। 


- দু- দিন না খেলে কেউ মরে যায় না। 


সে যেনো এবার আরও হিংস্র হয়ে গেলো। হিতাহিত জ্ঞান শূন্য লাগছে তার। যে মাকে সে নিজের চাইতে বেশি ভালোবাসে। সে তার আজ তার সামনে মরার কথা বলছে। সেটা সে কিছুতেই মনে নিতে পারছে না। কি করবে কিছুই ভাবতে পারছে না আর।শায়লা বেগম সিড়ি বেয়ে উপড়ে উঠতে লাগলো। আরজান আর কিছু না ভেবে হঠাৎ বলে উঠল।


- আমি বিয়ে করবো মা।


সবাই যেনো অবিশ্বাস্য চোখে চেয়ে রইলো তার দিকে। শায়লা বেগমের পা থেমে গেল ওইখানেই।পিছন ঘুড়ে ছেলের দিকে চাইলো। আরজান আবার বললো। 


- বিয়ের ব্যবস্থা করো। 


এই বলে গটগট পায়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলো। শায়েলা বেগমের ঠোঁটের কিনারায় এক চিলতে হাসি দেখা গেলো। যেটা শুধু আজমল চৌধুরীর নজরে পড়লো।সে বুঝতে পারলো তার স্ত্রী বিয়ের জন্য এই পরিকল্পনাটা করেছিল।ছেলে মায়ের প্রতি দূর্বল সেটাই কাজে লাগলো সে। এসব ভাবতেই তার ঠোঁটেও হাসি দেখা দিল।আহিয়া এতোক্ষণ নীরব দর্শক ছিল। আগা মাথা কিছুই সে বুঝে নাই। তাই সে অনুকে জিজ্ঞেস করলো।


- ভাইয়ার বিয়ের জন্য মা এমন করছে কেনো। সে কি বিয়ে করতে চায় না।


- আসলে ভাইয়া কিছু দিন পড়ে বিয়ে করতে চাচ্ছিলো। 


- ও তাহলে মা জোর কেনো করছে। 


অনু কি বলবে ভেবে পেলো না। এখন যদি বলো তার সাথেই বিয়ে দিতে চাচ্ছে। তাহলে নির্ঘাত সে জ্ঞান হারাবে। সে আর কিছু না বলে বললো।


-আসলে আমার কলেজে যেতে হবে। আসি ভাবি।


কোনো রকমে পালিয়ে গেলো অনু। আহিয়াও আর কিছু না ভেবে উপরে চলে গেলো। বিকলের দিকে শায়লা বেগম আহিয়ার ঘরের সামনে আসলো। বললো


- আহিয়া কি করো মা। 


- মা,, আপনি আসুন৷ দাড়িয়ে আছেন কেনো। 


শায়েলা বেগম ঘড়ের ভিতরে প্রবেশ করলো। তার হাতে একটা ব্যাগ। আহিয়া সেটা দেখে বললো। 


- মা আপনার হাতে কি।


শায়েলা বেগম বললো। 


- এটা পড়ে তৈরি হয়ে নাও তো মা।


-- কি আছে এতে মা। 


-- একটা শাড়ি আছে। পড়ে নাও 


- শাড়ি কেনো মা হঠাৎ। কোথাও যেতে হবে নাকি। 


শায়েলা বেগম কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না।কেমন যেনো হাসফাস করছে। কিভাবে বলবে এই কথাটা। আহিয়া কিভাবে রিয়াক্ট করবে সেটাই ভাবছে।


-- মা 


আহিয়ার ডাকে ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসলো।বললো


- তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো মা।


- এটা কি বলছেন মা। পৃথিবীতে আপনার থেকে আপন তো আমার আর কেউ নেই। আপনাকে বিশ্বাস না করলে কাকে বিশ্বাষ করবো বলেন। 


- আমি যা করবো তোমার ভালোর জন্য করবো এটা মানো তো। 


- আমি জানি মা আপনি আমার ভালো চান।এই পৃথিবীতে আপনি তো একমাত্র ভরসার জাইগা৷। 


শায়েলা বেগম এবার বললেন।


- আমি যদি তোমার ভালোর জন্য কোনো ডিসিশন নেই তুমি কি তাতে অখুশি হবে মা।


- এসব কি বলছেন মা। আপনার সব রকম ডিসিশন আমি মাথা পেতে নেবো।


- আমি তোমার জীবনটা আবার রঙীন করে দিতে চাই মা। তোমাকে ভালো ভাবে বাঁচতে দিতে চাই।


- কি বলছেন মা। আমি তো ভালো আছি।আল্লাহর হয়তো আমার সুখ সয্য হয়নি। তাই আমার স্বামিকে কেড়ে নিয়েছে। আমি সব মেনে নিয়েছি মা। সবকিছু মেনে নিয়েই আমি ভালো আছি।


শায়েলা বেগম বললেন। 


- আমি তোমার বিয়ে দিতে চাই মা। 


আহিয়া যেনো আকাশ থেকে পড়লো। কি বলছে তার শাশুড়ী এসব।অবিশ্বাস্য চোখে তার দিকে চাইলেন। কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না তার কথা। সে বললো


- আপনি আমার সাথে মজা করতে এসেছেন তাই না মা। 


- মজা করতে আসি নাই আমি মা।সত্যি বলছি 


- মা এটা কিভাবে সম্ভব। 


-সব সম্ভব মা। তুমি শুধু রাজি হয়ে যাও। তোমার জীবনটা সাজিয়ে দেওয়া আমার দায়িত্ব মা। আমি বেচে থাকতে তোমাকে সুখি দেখতে চাই। 


আহিয়ার চোখ ফেটে পানি পড়তে লাগলো। সে কি করবে এখন। সে তো আহির কে ভালোবাসে। অন্য কাউকে কিভাবে সে মেনে নেবে।আহিরের জায়গায় অন্য কাউকে সে ভাবতেই পারছে না। ধপ করে সে মেঝেতে বসে পড়লো। হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো সে। শায়েলা বেগম তার পাশে বসে পড়লো। তার মাথায় হাত রেখে বললো। 


- আমাকে একটু বিশ্বাস কর মা। তোর খারাপ আমি চাইবো না। তোকে ভালো রাখার দায়িত্ব আমার।


আহিয়া পাথর বনে গেছে।মুখ দিয়ে তার কোনো কথা বেড় হচ্ছে না। শুধু চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। শায়েলা বেগম বললো।


- যদি মনে করো আমি তোমার মা। মন থেকে যদি বিশ্বাস করো আমি তোমার ভালো চাই৷ তাহলে এই শাড়িটা পড়ো। আমি অপেক্ষায় থাকবো।


এটা বলে গটগট পায়ে ঘর থেকে বেড় হয়ে গেলো।আহিয়া সেদিক পানে ঝাপসা চোখে তাকিয়ে রইল।আরজান সেই সকালে এসেছে অভির ফ্লাটএ। আসছে পযর্ন্ত তার মুখ দিয়ে কোনো কথা বেড় হয় নি।অভি এতো করে বলে যাচ্ছে কি হয়েছে। কিন্তুু তার মুখে কোনো কথা নাই। রাগে ফুসফুস করছে শুধু।অভি না পেরে বলেই ফেলল।


- শালা তোর বউ কি কারো সাথে ভেগে গেছে নাকি। এমন রেগে বম হয়ে আছিস কেনো।


- আমার আজ বিয়ে।


অভির চোখ কপালে উঠে গেলো।কি বলে এই ছেলে। মনে হয় নেশা করে তার বাড়িতে এসেছে।তা না হলে এই কথা বলে। যে ছেলে বিয়ে করবে না বিদেশ পাড়ি দিয়েছিল। সে এখন বলছে তার আজ বিয়ে ভাবা যায়। 


-- কয় প্যাক খেয়েছিস। 


- কি 


- ভাই সাত সকালে এসব খেয়ে এসেছিলি৷ তাই এমন ধম মরে বসে আসিছ। আগে বলবি তো। তাহলে তো এতো কথা খরচ করতাম না। 


আরজান ধম করে দাড়িয়ে গেলো। দরজার দিকে যেতে যেতে বললো।


- বিয়েতে থাকতে চাইলে চলে আসিস।না হলে বন্ধুর বিয়ে আর জনমে দেখা হবে না তোর।


অভি চকিতে তাকালো তার দিকে। তার মানে আরজান মজা করছে না। সত্যি বলছে। কিন্তুু কি এমন হলো যে সে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেলো। চোখ মুখ তো সুবিধার লাগছে না তার কাছে। কিছুই তো বিশ্বাস হচ্ছে না তার। আর কিছু না ভেবে তার পিছুন পিছুন ছুটলো সে। 

চৌধুরী বাড়িতে নানান রকম আয়োজন চলছে।নানান পদের রান্না হচ্ছে । সব রান্না শায়লা বেগম নিজের হাতে করছে। তাকে সাহায্য করছে ছোট জা আয়েশা বেগম। তাদের খুশির আজ শেষ নাই। মেয়েটাকে নিজেদের কাছে রাখতে পারবে ভেবে আনন্দে আত্নহারা তারা।অনু বসে আছে আহিয়ার ঘরে। মা তাকে বলেছে আহিয়াকে তৈরি করে দিতে। সে কখন থেকে এসে বসে আছে। কিন্তুু আহিয়া পাথরের মত বসে আছে ঘরের মেঝেতে। সেই যে বিকেলে এভাবে বসেছে। এখন ও সে এভাবেই আছে। কোনো নরচর নাই তার মাঝে।অনু বললো।


- ভাবি আর কতক্ষণ বসে থাকবে। এবার তো রেডি হয়ে নাও। মা এসে এমন ভাবে দেখলে অনেক কষ্ট পাবে। তুমি কি মায়ের উপর ভরসা করতে পারছো না।


তার এই কথায় যেনো কাজ হলো। উঠে দাড়িয়ে পড়লো সে। আস্তে আস্তে বাথরুমের ভিতরে চলে গেলো।ঝর্ণা ছেরে তার নিচে দাড়িয়ে গেলো। গলা ছেড়ে চিৎকার করতে লাগলো। সেই চিৎকারে অনু কেঁপে উঠলো।জামা দুই হাতে খামছে ধরলো। মনে মনে বিড়বিড় করলো। 


- একদিন তুমি বুঝবে ভাবি। মা তোমার জন্য কি করেছে। শুধু তোমাকে ভালো রাখার জন্য এতসব কিছু। সে দিন তোমার এই অশ্রু গুলো হাসি হয়ে ঝংকার তুলবে। সে দিন সবাই মুগ্ধ হয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকবে।তোমার মনেও কোনো দোটানা থাকবেনা সেদিন মিলিয়ে নিও।


চোখ থেকে কয়েক ফুটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো অনুর। গোলাপি একটা কাতান শাড়ি পড়েছে আহিয়া। ফর্সা গায়ে শাড়িটা যেনো ঝলমল করছে। রুপ যেনো ঠকরে বেড়িয়ে আসতে চাচ্ছে। অনু হা করে তাকিয়ে আছে তার দিকে৷ তার দেখা শ্রেষ্ট সুন্দরী তার ভাবি৷ এত সুন্দর মেয়ে সে কখনো দেখে নি। তার ভাই কোথা থেকে খুঁজে এনেছিল তাকে ভেবে পায় না সে। একদম যেনো জল জ্যান্ত পরি। পরি দেখার সৌভাগ্য না হলেও তার আপসোস নাই৷ সে যে চোখের সামনে পরি রুপি মানুষ দেখতে পায় এতেই সে খুশি। 


- ভাবি তোমাকে যা লাগছে না একদম হুর পরি।


আহিয়া কিছুই বললো না। চুপ করে বসে আছে। ভাবছে মানুষের জীবনে কখন কি হয়ে যায়। সে কি সকালে ভেবেছিল তার সাথে এমন কিছু হবে। আসলে নিয়তি বলে একটা জিনিস আছে। যা আমরা চেয়েও পালটাতে পারবো না৷ নিয়তি যে দিকে নিয়ে চাচ্ছে সে শুধু পুতুলের মত সেই দিকেই যাচ্ছে। এর বেশি আর কিছুই না। তার ভানার মাঝে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো। কাজের মেয়ে ময়না দাড়িয়ে আছে দরজার সামনে। বলল


- বড়ো আম্মায় ডাকতাছে আপনাগো। কাজ সাহেব আইয়্যা পড়ছে। 


বুকের মধ্যে ধুক করে উঠলো আহিয়ার। কি হতে চলেছে তার সাথে। সে তো একজন কে ভালো বাসে। তাকে মনের মধ্যে রেখে অন্য কারো সাথে সংসার কিভাবে করবে সে । আর ভাবতে পারছে না। মাথা পুরো শূন্য লাগছে তার। চোখে বেয়ে পাড়ি পড়তে লাগলো। অনু বললো 


- চলো ভাবি মা ডাকছে৷ 


আহিয়া পাথরের মত দাড়ালো। অনু ওকে ধরে নিয়ে যেতে লাগলো। একপা একপা করে এগুচ্ছে আর জীবনের সমীকরণ মেলাচ্ছে।সে আহির কে ভালো বেশে বিয়ে করেছিল। তাদের তো ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। তাহলে কেনো সব কিছু শেষ হয়ে গেলো। তার কি ভালো থাকার কোনো অধিকার নাই। সিড়ি বেয়ে নামছে আর এসব ভাবছে আহিয়া। অভি উপড়ের দিকে তাকাতেই থ বনে গেলো।আরে এতো আহিয়া। আহিয়ার সাথে তার বিয়ে। এটা কিভাবে সম্ভব। অভি কিছু বলতে চাইলো আরজান কে। কিন্তুু আরজান তাকে কিছুই বলতে দিল না। অভির মনের মধ্যে কেকন হাসফাস শুরু হয়ে গেলো। অনু আহিয়াকে এনো সোফায় বসিয়ে দিল। সবাই চোখ ভোরো তাকে দেখতে লাগলো। এতো সুন্দর লাগছে তাকে বলার বাইরে। আহিয়া এক বাড়ের জন্যও উপরে তাকালো না। মাথা নিচু করে বসে আছে সে। আরজান একবার তাকালো আহিয়ার দিকে । সাথে সাথে কার বুকের মধ্যে ধুক করে উঠলো। সাথে সাথে চোখ নামিয়ে নিল সে। কাজি সাহেব সব কিছু পড়ে আহিয়াকে বললেন৷ 


- তুমি কি এই বিবাহ কবুল করছো মা। 


এতোক্ষণ কাজি কি বললো সে কিছুই শুনতে পেলো না। তার মন তো এদিকে নেই। সে অন্য একটা জগতে আছে। কবুল বলছে না দেখে শায়েলা বেগম এগিয়ে আসলো তার দিকে। তার কাধে হাত রেখে বললেন। 


- কবুল বলো মা৷ 


আহিয়া অশ্রু ভেজা চোখে তার দিকে তাকালো। সে চোখ দিয়ে আশ্বাস দিল তাকে। মাথায় ভরসার হাত রাখলো। আহিয়া একটা নিশ্বাস নিল। তারপর নিশ্বাস বন্ধ করে বলল । 


- কবুল, কবুল, কবুল


সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠলো। এবার তার মনে হলো বিয়েটা কার সাথে হলো। সে তো এটাই জানে না। তার তো জানা উচিত কার সাথে সে সারাজীবন কাটাতে চলেছে। আর কিছু না ভেবে ফট করে সামনের দিকে তাকালো। সাথে সাথে চোখাচোখি হয়ে গেলো আরজানের সাথে। কিন্তুু তার পাশে বসা ছেলেটাকে সে চেনে মনে হচ্ছে। কোথায় যেনো দেখেছে। কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছে না। তবে কি এই লোকটার সাথে তার বিয়ে হয়েছে। মা কেনো একবারো তাকে এসব নিয়ে কথা বললো না। তার তো অন্তত এটা জানা উচিত ছিল।সে চোখ নামিয়ে নিল। বিয়ে শেষ হতেই কাজিকে খাবার খেতে দেওয়া হলো। সে খেয়ে বিদায় নিল। বাড়ির সবার এখন খাওয়ার পালা।শায়লা বেগম আহিয়াকে নিয়ে আরজানের পাশের চেয়ারে বসিয়ে দিল।আহিয়া চুপ করে বসে রইলো। খাবার তার গলা দিয়ে নামবে না। তবুও মায়ের কথা রাখতে বসে রইলো। আহিয়া ভাবলো সবার খাওয়া শেষ হলে নিশ্চয় তার শশুর বাড়ি চলে যেতে হবে। আবার একটা শশুর বাড়ি। মানুষ গুলো কেমন হবে তার জানা নাই।এসব ভাবনার মাঝে দেখলো শায়েলা বেগম মুখের সামনে ভাতের লোকমা দিয়েছে। এতো মানুষের সামনে সে তাকে অপমান করতে চাইলো না খেয়ে নিল। এভাবে খাইয়ে দিতে লাগলো সে। খাবার শেষ হতেই তার ধম বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো। আহিয়া ভাবলো এখন বুঝি তার বিদায়ের পালা। তার ভাবনা পাল্টে দিয়ে শায়েলা বেগম বললেন। 


-- অনু আহিয়াকে উপড়ে নিয়ে যাও। 


আহিয়ার ভাবনার অবসান ঘটলো। প্রশ্ন বোধক চাহনিতে শাশুড়ীর দিকে তাকালো। অনু তাকে উপড়ে নিয়ে যেতে লাগলো। সে আর কিছু জানতে পারলো না। অনু যখন তাকে তার ঘরে না নিয়ে আরজানের ঘরের সামনে নিয়ে আসলো তখন সে প্রশ্ন। 


- অনু এখানে কেনো আনলে। 


- তুমি এখানেই থাকবে তাই৷ 


- এখানে কেনো থাকবো। আমার রুমে চলো। আর ওই লোকটা কি ভাইয়ার বন্ধু। 


- হ্যা কেনো। 


- এমনি। 


আহিয়া ভাবলো আরজানের বন্ধুর সাথে তার বিয়ে হয়েছে তাহলে। তার জন্য হয়তো তার রুমে থাকতে দিচ্ছে। সে আর কথা বাড়ালো না। রুমে ঢুকে খাটের উপরে বসিয়ে দিল অনু তাকে। সেও চুপচাপ বসে রইলো। ভাগ্যর কাছে হার মেনেছে আজ সে। অনু তাকে রেখে চলে গেল।রাত বাড়তে লাগলো। আরজান আর অভি ছাদে বসে আছে। অভি বললো,, 


- ঘরে যাবি না। 


- কিভাবে লজ্জায় আমার মাথা কাটা যাচ্ছে। 


- লজ্জা কিসের। 


- ও আমার ছোট ভাইয়ের বউ ছিল। 


- তার আগে ও


- অভি 


গর্জে উঠে আরজান। আর কিছু বললো না অভি। তাকিয়ে রইলো আরজানের দিকে। শুধু বললো। 


- ঘরে যা আহিয়া অপেক্ষা করছে। 


আরজান একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নিচের দিকে পা বাড়ালো। অভি আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করলো। 


- সত্যি নিয়তি বড়ই অদ্ভুত। কেড়ে নিতেও সময় লাগে না। আবার ফিরিয়ে দিতেও সময় লাগে না। 


পাশের শব্দে পাশে ফিরে তাকালো সে। দেখলো অনু দাঁড়িয়ে আছে। সে আবার আকাশের দিকে ফিরে তাকালো। আরজান দরজার সামনে দাড়িয়ে রইলো কিছুক্ষণ।ঘড়ে ঢুকতে তার কেমন যেনো লাগছে। কিন্তুু ঘরে না গিয়েও উপায় নাই। মা দেখলে কষ্ট পাবে।দড়জা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলো সে।দরজার লক আটকে পিছন ফিরে চাইলো। ছিটকানির শব্দে আহিয়া সামনের দিকে তাকালো। সামনে তাকাতেই নে স্তব্ধ হয়ে গেলো। সে কি ভূল দেখছে নাকি বিশ্বাস হলো না তার। চোখ ডোলে আবার তাকালো। সে ভূল দেখছে না। তার সামনে আরজান দাড়িয়ে আছে। হতবুদ্ধি হয়ে উঠে দাড়ালো আহিয়া। বললো। 


- ভাইয়া আপনি৷ 


এবার যেনো আরজান লজ্জায় পড়ে গেলো। কিভাবে কি বলবে তার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিল৷ কোনো রকম বললো। 


- ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। 


- কিন্তুু আপনি এখানে কেনো। 


কোনো ভনিতা ছারাই সে এবার বললো। 


- কারণ বিয়েটা আমার সাথে হয়েছে তাই। 


চলবে,,,,,,,, 


(ভূল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। বানান ভুল হলে বলবেন সঠিক করা চেষ্টা করবো।পাশে থাকেবেন ধন্যবাদ)

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url