কি_আবেশে (০৩)

জেরিন_আক্তার 


মারুফুল খান মেরাব আর স্নেহার দিকে তাকালেন। তার আন্দাজই ঠিক হলো। মেরাব যেই মেয়েকে খুঁজছিলো স্নেহাই সেই মেয়ে। স্নেহা মেরাবকে যে প্রশ্ন করেছে তার উত্তরে মেরাব বলে,


‘ আমার বাড়িতে আমি রয়েছি! তুমি এখানে কেনো? ’


স্নেহা সাথে সাথে বলে,


‘ এটা আমার মামার বাড়ি তাই এখানে এসেছি। ’


পাশে থেকে মারুফুল খান হেসে বলেন,


‘ তোমরা একে-অপরকে চিনো নাকি? ’


মেরাব বলে,


‘ বাবা তেমন চেনা না। কালকে ওর সাথে কলেজে দেখা হয়েছিলো। ’


মারুফুল খান বলেন,


‘ ওহ। তাহলে সবাই নিচে চলো! ’


মৌ বলে,


‘ বাবা তুমি যাও! আমরা আসছি! ’


‘ ঠিক আছে, দেরি করো না! ’


মারুফুল খান চলে গেলেন। স্নেহা মেরাবের দিকে বিড়বিড় করে বকতে থাকে। কালকে এর জন্যই ইয়ারিং টা হারিয়ে গিয়েছে। মনে মনে চেয়েছিলো এই ছেলের সাথে দেখা হোক। আর শেষমেষ এমন ভাবে দেখা হলো যে স্নেহা কিছু বলতেও পারছে না। তবুও কিছু না বলেও স্নেহার শান্তি হচ্ছে না। স্নেহার কিছু বলার আগেই মেরাব মৌকে বলে উঠে,


‘ এই শাকচুন্নি যা তো বাবার থেকে গাড়ির চাবিটা নিয়ে আয়! ’


‘ ঠিক আছে! ’


‘ আর শোন, সাদাফকে বল আমার সাথে বেরোতে হবে এখন। আর বলবি বাগানে দাঁড়াতে, আমি আসছি। ’


‘ ঠিক আছে! ’


মৌ চলে যেতে নিলে স্নেহাও চলে যেতে চায় কিন্তু মেরাব স্নেহাকে উদ্দেশ্য করে বলে,


‘ এই মেয়ে তোমাকে যেতে বলেছি যে যাচ্ছো? ’


মৌ ততক্ষনে চলে যায়। স্নেহা মেরাবের কথায় চোখে ছোট ছোট করে তাকিয়ে রইলো। এরপরে নিজেই বলে উঠে,


‘ মানে? আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই চলে যাচ্ছি। আপনার কথা শুনতে যাবো কেনো? ’


মেরাব ফোনটা বিছানায় ছুড়ে বলে উঠে,


‘ আমার ঘরে এসেছো নিজের ইচ্ছায় আর চলে যাবে আমার ইচ্ছায়।’


‘ মানে? ’


‘ মানে আবার কি? এককথা বুঝতে পারো না। এসেছো নিজের ইচ্ছায় আর যাবে আমার ইচ্ছায়। আমি যখন যেতে বলবো তখন যাবে। ’


স্নেহা বুকে হাত গুজে ভেঙচি কেটে বলে,


‘ এহ মামার বাড়ির আবদার! ’


মেরাব বাকা হেসে বলে,


‘ একটু আগেই না বলছিলে এটা তোমার মামার বাড়ি। সেক্ষেত্রে এটা মামার বাড়ির আবদারই। ’


স্নেহা সিরিয়াস মুডে এসে বলে,


‘ কথা সেটা না। কথা হচ্ছে কালকে আপনার সাথে ধাক্কা লেগে আমার একটা জিনিস হারিয়ে গিয়েছে। ’


মেরাব কপালে ভাজ এনে বলে,


‘ কি হারিয়ে গিয়েছে? ’


‘ আমার ইয়ারিং! ’


মেরাব না বোঝার ভান করে বলে,


‘ সেটা আবার কি? ’


‘ কানের দুল! ’


‘ ওহ! ’


‘ কানের দুলটা আব্বু আমাকে গিফট দিয়েছিলো। আর সেটাই হারিয়ে ফেলেছি শুধু আপনার জন্য। ’


মেরাব স্নেহার চারিদিকে ঘুরে ঘুরে স্নেহাকে দেখতে দেখতে বলে,


‘ ধাক্কাটা কে আগে দিয়েছিলো? ’


স্নেহা মিনমিন করে বলে,


‘ আমি! ’


‘ তাহলে দোষ কার? ’


‘ আমার! ’


এই শুনে মেরাব বাকা হেসে বলে,


‘ তাহলে আমায় দোষারোপ করছো কেনো? নিজের দোষে হারিয়ে আমার উপরে চাপিয়ে দিচ্ছো! ’


স্নেহা হতভম্ব হয়ে গেলো মেরাবের কথায়। সত্যিই তো স্নেহা কালকে তাড়াহুড়ো করে হাঁটতে গিয়েই তো মেরাবের সাথে ধাক্কাটা খেলো। তবে তার একার দোষ সে নিতে চায় না। বলতে চায় দুজনেরই ভুলবসত ধাক্কা লেগে গিয়েছে। স্নেহা নিজের উপরে দোষ না নিয়ে গলা উঁচিয়ে বলে,


‘ আমার কোনো দোষ নেই। সব দোষ আপনার। আর পরবর্তীতে ধাক্কা দিলে আপনার নামে মামলা করবো। ’


মেরাব না হেসে পারলো না। স্নেহা মেরাবের হাসি দেখে ভাবাচ্যাকা খেয়ে আমতা আমতা করে বলে উঠে,


‘ হা হাসছেন কেনো? ’


‘ দেখলে নিজেই আমাকে ধাক্কা দিয়ে আবার নিজেই আমাকে থ্রেট দিচ্ছো। ’


স্নেহা তবুও স্বীকার করে না যে তার দোষ। সাথে সাথে রাগ নিয়ে বলে,


‘ আপনি আসলেই একটা বজ্জাত লোক। দেখবেন আপনি বউ পাবেন না। আর যদি পানও তবে সে যেনো আপনার সাথে তেড়ামি করে। ’


এই বলে স্নেহা হন হন করে বেরিয়ে গেলো। কয়েককদম এগিয়ে যেতেই সামনে পড়ে সাদাফ। সাদাফ স্নেহাকে দেখে বলে,


‘ কিরে কোথায় থেকে এলি? মেরাবের সাথে কথা বলেছিস? ’


স্নেহা গম্ভীর কণ্ঠে বলে,


‘ হ্যা, বলেছি। ’


স্নেহা এই বলে চলে যায়। আর সাদাফও ওইখানে দাঁড়ায় না। মেরাবের রুমে চলে আসে। মেরাব রেডি হচ্ছে। সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট আর চোখে কালো চশমা পড়েছে। শার্টের বোতাম উপরের দুটো খোলা রেখেছে। টানটান বুকটা বেশ আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে। সাদাফ মেরাবকে দেখে মশকরা করে বলে উঠে,


‘ মেয়ে মানুষ পাগল করার জন্য বের হচ্ছিস নাকি? ’


মেরাব বাকা হেসে বলে,


‘ হয়তো! ’


দুজনেই হেসে উঠে। মেরাব বিছানায় থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে সাদাফকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো। স্নেহা ড্রইং রুমে বসে মৌয়ের সাথে কথা বলছিলো। ঠিক তখন চোখ যায় সিঁড়ির দিকে মেরাবের উপর। তখন তো ভালো করে মেরাবকে খেয়ালই করেনি। এখন মেরাবকে দেখে একধ্যানে তাকিয়ে আছে। স্নেহা তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনে মনে বলে,,, যাই হোক হ্যান্ডসম আছে।


স্নেহাকে অন্যমনস্ক দেখে মৌ হালকা ধাক্কা মারে স্নেহাকে।


‘ এই আপু কি হলো? কোথায় হারিয়ে গেলে? ’


‘ ক কই কোথায় হারাবো? ’


মেরাব এসে দাঁড়ায় মৌয়ের সামনে। মৌ গাড়ির চাবিটা দিয়ে দেয় মেরাবকে। স্নেহা তখনও তাকিয়ে ছিলো মেরাবের দিকে। মেরাব স্নেহাকে একনজর দেখে বাকা হেসে বেরিয়ে গেলো। স্নেহা আবারও মনে মনে বলে উঠে,,, স্নেহা তু্ই আসলেই নির্লজ্জ। যে তোর জিনিস হারিয়ে ফেলেছে তু্ই তার দিকে এভাবে তাকিয়ে ছিলি। ছিহ! আর তোর তাকিয়ে থাকা দেখে বজ্জাতটা কি না কি মনে করে হাসলো।


দুপুরের আগেই মেরাব আর সাদাফ চলে আসে। তখন মেরাব কিছু বন্ধুদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলো। অনেক দিন পরে এসেছিলো বলে রাস্তাও ভালোভাবে চিনতোনা তাই সাথে সাদাফকে নিয়ে গিয়েছিলো। দুজনে বাড়ি ফিরে আসতেই ফাহমিদা খান বলেন, তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আসতে তিনি দুপুরের খাবার রেডি করছেন। সবাই একসাথে লাঞ্চ করবে আজকে। মেরাব নিজের রুমে এসে ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেশ হতে। পরে আবার একবারে শাওয়ার নিয়ে বের হয়। এরপরে কাভার্ড থেকে সাদা টি-শার্ট আর কালো ট্রাউজার বের করে পরে বের হয়।


সবাই খাবার টেবিলে বসে আছে। মেরাব আর সাদাফের জন্য অপেক্ষা করছে। সাদাফ আগে আসে। তার পরে মেরাব নামে। দুজনেই পাশাপাশি চেয়ারে বসে। ফাহমিদা খান মেরাবের পাতে খাবার বেড়ে দিলেন। মেরাব কারো দিকে কোনো নজর না দিয়ে খাবার খেয়ে নিলো। খাবার খাওয়া শেষ করে মেরাব উঠে চলে গেলো উপরে।


__________________


বিকেলে মেরাব ড্রইং রুমে বসে মোবাইল স্ক্রল করছিলো। সাইদা পাশে বসে ওর হাসব্যান্ড আসিফের সাথে কথা বলছিলো। এমন সময় মৌ আর স্নেহা আসে। দুজনে এসে ওদের থেকে আলাদা বসে কথা বলতে থাকে। মেরাব ফোন থেকে চোখে সরিয়ে স্নেহার দিকে তাকালো। স্নেহাও তাকালো। দুজনের চোখে-চোখ পড়াতেই স্নেহা চোখ নামিয়ে নিলো। সেই সময় মেরাব মৌকে বলে,


‘ মৌ যা তো, আন্টিকে কফি বানিয়ে দিতে বল! ’


‘ ঠিক আছে! ’


মৌ চলে যায় কিচেনে। সেখানে রহিমা আন্টিকে কফি বানিয়ে দিতে বলে চলে আসে। মৌ আসতেই সাইদা মৌকে নিয়ে ছাদে চলে যায়। সাইদা শাড়ি পড়েছে ছবি তুলে দেওয়ার জন্যই মৌকে নিয়ে ছাদে গেলো।


এখন ড্রইং রুমে বসে আছে মেরাব আর স্নেহা। স্নেহাও নিজের মতো ফোন স্ক্রল করছিলো। রহিমা আন্টি মেরাবকে কফি দিয়ে যায়। মেরাব কফির মগ হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। এরপরে স্নেহাকে উদ্দেশ্য করে বলে,


‘ স্নেহা আমার সাথে এসো! ’


‘ কেনো? ’


‘ আসতে বলেছি এসো! ’


স্নেহা উঠে মেরাবের পিছু পিছু চলে যায়। মেরাব নিজের রুমে ঢুকে। তার সাথে স্নেহাও। স্নেহা কিছুই বুঝতে পারছে না মেরাবের হঠাৎ ডাকার কারণ কি? মেরাব কফির মগ টা রেখে লাগেজ খুলে। এরপরে লাগেজ থেকে কতগুলো চকলেট আর একটা গিফট বক্স বের করে। সেগুলো স্নেহার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,


‘ তোমার জন্য এগুলো! ’


স্নেহা হাতে নিতে চাইলো না। কিন্তু গিফট দেখে কে না খুশি হয়। প্রথমে একটু অনীহা ভাব নিয়ে পরে সেগুলো হাতে নেয়। এরপরে একটু গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে,


‘ এগুলোর আবার কি দরকার ছিলো? ’


মেরাব তৎক্ষণাৎ বাকা হেসে বলে,


‘ তাহলে দিয়ে দাও! ’


এই কথা শুনে স্নেহা তাজ্জব বনে চলে গেলো। কি লোক রে বাবা! গিফট দিয়ে আবার ফিরত নিতে চায়। সে তো এমনি এমনি বলেছিলো এগুলোর কি দরকার কিন্তু সেটা সিরিয়াস নিতে হবে কেনো।


স্নেহা রেগে গিয়ে বলে,


‘ আপনি এমন কেন? গিফট দিয়ে আবার ফিরত নিতে চান। ’


‘ তুমিই তো বললে এগুলোর কি দরকার। তাই ভাবলাম! ’


‘ কি ভাবলেন! আপনি সবসময় বেশি বেশি ভাবেন। আমি আপনার মতো মানুষ জীবনে দেখিনি। ’


মেরাব মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে বলে,


‘ দেখোনি দেখে নাও! এখানেই তো আছি! ’


স্নেহা রেগে উল্টো দিক ফিরে চলে যেতে নিলে মেরাব স্নেহার লম্বা বিনুনি টেনে ধরে। স্নেহা আকস্মিক ঘটনায় ব্যাথা পেয়ে ‘ উফ ’ শব্দ করে উঠে পেছনে ফিরে। মেরাব চুলের বিনুনি হাতের মুঠোয় পেঁচিয়ে আরও টান দেয়। স্নেহা আবারও ব্যাথা পেয়ে বলে উঠে,


‘ উফ ছাড়ুন চুল! ব্যাথা পাচ্ছি! ’


মেরাব চুল ছেড়ে দিয়ে কড়া গলায় বলে,


‘ ফার্স্ট এন্ড লাস্ট ওয়ার্নিং! এরপরে যদি নিজের ইচ্ছায় রুম থেকে বেরিয়েছো তাহলে চুলগুলো কেটে দিবো। ’


স্নেহা রেগে গিয়ে মেরাবের দিকে তেড়ে এসে বলে উঠে,


‘ এই কি বললেন আপনি? আমি নিজের ইচ্ছায় বের হলে চুল কেটে দিবেন। বললেই হলো! আমি এখন থেকে আমার নিজের ইচ্ছায় আপনার রুমে আসবো। আবার নিজের ইচ্ছায় চলেও যাবো। দেখি আপনি কি করতে পারেন। ’


মেরাব পকেটে হাত গুজে ঠান্ডা মেজাজে বলে,


‘ করতে অনেক কিছুই পারি যা সময় হলে দেখতে পাবে। ’


স্নেহা মুখ বেকিয়ে বলে,


‘ আপনার সময় নিয়ে আপনিই বসে থাকুন! আর আমার চুল কেটে দেওয়ার থ্রেট দিলেন না.. দেখবেন এর প্রতিশোধ কি করে নেই!’


মেরাব অবাক হওয়াল ভঙ্গিমায় বলে উঠে,


‘ কি বলছো, আমি না ভয় পেয়ে গেলাম। ’


দুজনের কথার মাঝে রুমে ঢুকেন ফাহমিদা খান। তিনি মেরাবের সাথে কথা বলতে এসেছিলাম। আর এখানে এসে দেখতে পাচ্ছেন দুজন কিছু নিয়ে হয়তো কথা কাটাকাটি করছে। তিনি দুজনের দিকে তাকিয়ে বলে উঠেন,


‘ দুজনের মাঝে কি নিয়ে কথা কাটাকাটি হচ্ছে শুনি! ’


মেরাব বিছানার দিকে এগিয়ে বসলো। এরপরে কফির মগ হাতে নিয়ে কফিতে চুমুক দিলো। স্নেহা ফাহমিদা খানকে ধরে বলে,


‘ জানো মামিমা, তোমার ওই ছেলে আমার চুলের বিনুনি ধরে টান দিয়েছে!’


ফাহমিদা খান স্নেহার মাথায় হাত রেখে শুধানো গলায় বলেন,


‘ টান দিয়েছে তাই কি হয়েছে। দিতেই পারে! ’


‘ অনেক জোরেই দিয়েছে! ’


ফাহমিদা খান হেসে বলেন,


‘ ভাই-বোনদের মাঝে এমন ঠাট্টা লেগেই থাকবে স্বাভাবিক। এতে রেগে যাচ্ছিস কেনো বলতো! মেরাব ঠিক তেমনই হয়তো তোকে মজা করেই দিয়েছে।’


মেরাব তখন মাথা নাড়িয়ে বলে,


‘ ঠিক বলেছো। আমি ওকে মজা করেই টান দিয়েছি। আর ও তোমাকে মিথ্যে বলছে,, আসলে ওকে আমি কতগুলো চকলেট দিয়েছি আর গিফট দিয়েছি সেটা নিতে চায়নি। এরপরেই তো চুল ধরে টান দিলাম। আর যেমন করে চুলে টান দিয়েছি ও ব্যাথা পাওয়ার কথা না। ’


এই শুনে স্নেহা বাকরুদ্ধ। ফাহমিদা খান স্নেহার দিকে তাকিয়ে বলে উঠেন,


‘ কাজিনদের মাঝে এরকম হয়েই থাকবে। এটা নিয়ে রেগে যাস না। দুজনে মিলেমিশে থাক। আর মেরাব, নিচে এসো তো! ’


‘ ঠিক আছে। তুমি যাও! ’


ফাহমিদা খান চলে যেতেই স্নেহা মেরাবের দিকে এগিয়ে এসে বলে,


‘ আপনি এতো মিথ্যাবাদী আগে তো জানতাম না। ’


‘ এখন জেনেছো তাই কি আমায় নোবেল দিবে? ’


‘ আপনার সাথে কথা বলাই ভুল! ’


‘ তাহলে সঠিক কি? ’


‘ আপনার মাথা! ’


‘ তাহলে আমার মাথা নিয়েই পড়ে থাকো! ’


স্নেহা মেরাবের কথার সাথে পেরে উঠে না। তাই দরজার দিকে যেতে যেতে বলে,


‘ অসভ্য লোক! ’


মেরাব ঠোঁট কামড়ে হেসে কফিতে চুমুক দেয়। স্নেহা রুম থেকে বেরিয়ে সোজা মৌয়ের রুমে চলে যায়। স্নেহা সচরাচর এই বাড়িতে এলে মৌয়ের রুমেই থাকে। স্নেহার জন্য যে গেস্টরুম দেওয়া হয় সেখানে থাকে না।


মৌ স্নেহাকে রেগে থাকতে দেখে বলে,


‘ আপু কি হয়েছে? ’


‘ কিছুনা! ’


‘ বলো না! ’


‘ কি আর বলবো! ততো ওই বজ্জাত ভাইটা আমার চুল ধরে টান দিয়েছে। ’


‘ ওহ! ভাইয়া মনে হয় মজা করেই দিয়েছে। ’


স্নেহা দোপাটি দাঁত বের করে একটা হাসি দেয়। ভাইয়ের দোষ বোনের কাছে করলেও সেটা বদনাম মনে করবে। এর থেকে কিছু না বলাই ভালো।


______________


ফাহমিদা খান মেরাবকে নিচে যেতে বলেছে তাই মেরাব নিচে আসে। ফাহমিদা খান সোফায় বসে আছে। মেরাব তার সামনে গিয়ে বলে,


‘ কি জন্যে ডেকেছিলে? ’


ফাহমিদা খান উঠে দাড়িয়ে বলেন,


‘ বসো এখানে! আমি এক্ষুনি আসছি! ’


মেরাব সোফায় বসে। ফাহমিদা খান কিচেনে চলে যান। মিনিট পাঁচেক পরে তিনি হাতে পায়েসের বাটি নিয়ে এলেন। বাটিটা মেরাবের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলেন,


‘ তোমার জন্য রান্না করেছিলাম! ’


মেরাব পায়েসের বাটি হাতে নেয়। খায় না, বসে থাকে। যা দেখে ফাহমিদা খান কোমল কণ্ঠে বলে উঠে,


‘ মেরাব জানি আমি তোমার মায়ের জায়গা কোনোদিনও নিতে পারবো না। তবে আমি যতদিন রবো ততদিন তোমাকে ছেলে হিসেবেই যত্ন করে যাবো। ’


মেরাব মিনিট দুই নিশ্চুপ থেকে চামচ দিয়ে পায়েস মুখে দেয়। যা দেখে ফাহমিদা খান খুব খুশি হলেন। খুশিতে তার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। মেরাব সেটা দেখার আগেই তিনি শাড়ির আঁচল দিয়ে মুছে ফেললেন।


এর একটু দূরে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য নীরব দর্শক হয়ে দেখলো স্নেহা। ভাবলো, এই মা-ছেলের দূরত্বটা কেউইই কি শেষ করতে পারবে না। স্নেহা অনেক ক্ষণ ভেবে মনে মনে ঠিক করলো এই মা-ছেলের দূরত্বটা তাকেই শেষ করতে হবে।


__________________


রাত তখন দশটা,,


সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে যে যার যার মতো রুমে চলে গিয়েছে। সাদাফ, সাইদা, মৌ আর স্নেহা এই চারজনে ড্রইং রুমে বসে কথা বলছে। অনেকদিন পরে সবাই একসাথে হয়েছে তাই আড্ডা দিচ্ছে। এর মাঝে মেরাবকে ডাকার সিদ্ধান্ত নেয় সাদাফ। ওকে ছাড়া ওদের আড্ডা দিতেও ইচ্ছে করছে না। সাদাফ মৌকে বলে মেরাবকে ডেকে আনতে। সাইদা তখন মৌকে মেহেন্দি পড়িয়ে দিচ্ছিলো তাই মৌ যেতে অনীহা জানায়। সাদাফ স্নেহাকে বলে মেরাবকে ডেকে আনতে। স্নেহার অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চলে যায় মেরাবকে ডাকতে।


মেরাবের রুমের সামনে এসে পর্দা হালকা করে সরিয়ে উঁকি দেয়। মেরাব তখন রুমে হেটে হেটে ফোনে কথা বলছিলো। মুখে হালকা হালকা মুচকি হাসিও আছে। স্নেহা না চাইতেই কিছুক্ষন মেরাবের দিকে তাকিয়ে থাকে। চোখ ফেরাতে পারে না। কি জন্যে এভাবে তাকিয়ে আছে সেটাও অজানা। মেরাবের হুট্ করে চোখে পড়ে স্নেহাকে। এতক্ষন খেয়ালই করেনি যে স্নেহা তাকে দেখছে।


চলবে....


 এই ওয়েবসাইটেই দেওয়া হয়েছে দেখেন বাকি পর্বগুলা।



ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। রেসপন্স করবেন!! পরবর্তী পর্ব কালকে দুপুর ১২ টায় আসবে।


[

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url