#প্রতিশোধ
#হুমায়রা_হিমি
#পর্ব_০৪
( দয়া করে সবাই নোটটা অবশ্যই পড়বেন প্লিজ।কপি করা নিষিদ্ধ❌❌❌)
এভাবেই কেঁটে যায় বেশ কিছু মাস
একদিন শুক্রবার বিকেলে আমার বন্ধু শিহাব এসে আমাকে এক প্রকার জোর করেই নিয়ে গেলো বাহিরে। সেদিন দুজনে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলছিলাম। আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সেই কালো অতীত যেটা আমি নিজেই তৈরি করেছি সেটা নিয়ে তার সাথে গল্পে মজেছিলাম। এর কিছুক্ষন পর'ই সে আমাকে জো*র করে নিয়ে গেলো পাশের একটা রেস্টুরেন্টে। রেস্টুরেন্টে ঢুকতেই দেখি—আমার বস একটা টেবিলে বসে আছে। আর তার সামনে নাহিদা।
আমি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে জমে গেলাম।
নাহিদা শান্তভাবে কথা বলছে। চোখেমুখে আ*ত্মবিশ্বাস। পরিপাটি পোশাক, ভরাট ব্যক্তিত্ব। পাশে বসা মানুষটার সাথে সমান তালে কথা বলছে।
কোথাও সেই ভেঙে পড়া, কাঁদতে থাকা মেয়েটার ছায়া নেই।
আমাকে দেখেও সে যেন দেখল না।
এক মুহূর্তের জন্য চোখাচোখি হলো। কিন্তু তার দৃষ্টিতে কোনো অভিযোগ নেই, কোনো কান্না নেই।শুধু এক ধরনের নির্লিপ্ত দৃঢ়তা।
আমার বসের সে মুহুর্তে আমার দিকে নজর পড়ে। আমি লজ্জায়,ভয়ে, অ*পরাধবোধে কাচুমাচু করতে লাগলাম। আমি নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। তিনি আমার নাম ধরে কাছে ডাকতেই আমি না চাইতেই তার সামনে যেতে হয়েছে। তবে আমার পায়ের কদম ফেলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। নাহিদা'কে এভাবে এতো গুলো বছর পর এভাবে দেখতে পাবো কখনো ভাবি নি। আমার বসের কাছে এগিয়ে যেতেই তিনি হাসি মুখে আমার সাথে নাহিদার পরিচয় করিয়ে দিলো। আমি শুনে একটু অবাক হয়েছি তবে বেশি হয়েছি নাহিদা'কে দেখে।
মেয়েটার চেহারা আগের চেয়ে অনেক গ্লো করছিল। হয়তো যত্নে আছে খুব তাই। শুনেছি নারী নাকি যত্ন ফেলে বয়স চল্লিশে এসেও কুড়ি বছর বয়সী মেয়েদের মতো দেখতে হয়। আমি মন প্রাণ উজাড় করে নাহিদা'কে দেখতে লাগলাম। তবে নাহিদা আমার দিকে নজর বুলালো না দ্বিতীয় বারের জন্য। সে আনমনে খাবারের চামুচ নাড়াচাড়া করছিল।
বসের সাথে টুকিটাকি কথা শেষ করে চলে আসলাম রেস্টুরেন্টের বাহিরে৷ বাহিরে বেরিয়ে পুনরায় রেস্টুরেন্টের দোতলায় তাকালাম একবার। গ্লাসের বাহির থেকে দেখলাম বস আর আমার প্রাক্তন পাশাপাশি বসে রয়েছে। কি বলছে শুনতে পাই নি বুঝতেও পাই নি। তবে সে মুহুর্তে তাদের দেখে যা বুঝলাম
যাকে আমি “বেটার অপশন” পেয়ে ছুড়ে ফেলেছিলাম, সে নিজেকে আমার চেয়েও অনেক উঁচু জায়গায় তুলে নিয়েছে।
আর আমি?
আমি দাঁড়িয়ে আছি নিজের তৈরি পাপের রাজ্যে।
হয়তো এইটাই বিচার। এটাই প্রকৃতির নিদারুণ প্রতিশোধ।
কেউ আমাদের জন্য ভেঙে পড়ে, আর আমরা যখন তাকে ভেঙে দিই—একদিন সেই ভাঙনের শব্দই ফিরে এসে আমাদের জীবনটাকে চুরমা*র করে দেয়।
এরপর আমি ব্যস্ত পায়ে এগিয়ে গেলাম রিক্সার কাছে। আমার ফ্রেন্ড শিহাব ও আমার সাথে ছিল। রিক্সায় চড়তে চড়তে আকাশের দিকে তাকিয়ে শিহাব'কে বললাম
"বুঝলি ভাই কেউ পেয়ে আপসোস করে আর কেউ হারিয়ে"
শিহাব আমার কথার মানে বুঝলো কি বুঝলো না আমি জানি না। আমি কেবল পুরো'টা পথ চেয়ে রইলাম আকাশের পানে৷ ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো পর পর কয়েক'টা দীর্ঘশ্বাস,,
রিক্সাটা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল। সন্ধ্যার আলো নিভে গিয়ে শহরের বাতিগুলো একে একে জ্বলে উঠছিল। রাস্তার ভিড়, মানুষের কোলাহল—সবকিছু যেন আমার কানে আসছিল, কিন্তু ভেতরে কিছুই ঢুকছিল না। আমি যেন অন্য এক জগতে চলে গেছি।
নাহিদার সাথে কাটানো দিনগুলো একে একে চোখের সামনে ভেসে উঠছিল।
ফোনে রাত জেগে কথা বলা, হঠাৎ রাগ করা, আবার একটু আদরে সব ভুলে যাওয়া, ভবিষ্যতের কত স্বপ্ন।
তার চোখে তখন ছিল আমার জন্য ভরসা।
আর আমি?
একটু “বেটার অপশন”-এর লোভে সেই ভরসাটা ভে*ঙে চুরমা*র করে দিয়েছিলাম।
রিক্সার হাওয়ায় আমার চুল এলোমেলো হচ্ছিল, কিন্তু বুকের ভেতরের অস্থিরতা থামছিল না।
আজ তাকে দেখে বুঝলাম।ও আর আগের জায়গায় নেই।
ও নিজের ভাঙা টুকরোগুলো জোড়া দিয়ে নতুন করে দাঁড়িয়েছে।
আর আমি এখনও দাঁড়িয়ে আছি সেই ধ্বং*সের জায়গাতেই।
বাসায় পৌঁছে দরজা বন্ধ করতেই এক অদ্ভুত নীরবতা আমাকে ঘিরে ধরল।
আলমারির ড্রয়ার খুলতেই ছোট একটা ড্রয়ার থেকে আবার সেই রাবার ব্যান্ডটা চোখে পড়ল।
আমি কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলাম।
তারপর ধীরে ধীরে ব্যাগ বের করলাম।
কাপড় গুছাতে গুছাতে মনে হচ্ছিল আমি পালাচ্ছি।কিন্তু এটা ভীরুতার পালানো নয়।
এটা স্বীকারোক্তির পালানো।
আমি জানি, যে সুখ-শান্তি আমি তাকে দিতে পারিনি, যেটা তাকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সেই শান্তি থেকে আমার কোনো অধিকার নেই তাকে বঞ্চিত করার।
বহু কষ্টে গড়ে তোলা তার বর্তমানের সামনে আমি কোনো ছায়া হয়ে দাঁড়াতে চাই না। তবে খুব করে চেয়েছি একটা বার তার কাছে হাত জোর করে ক্ষমা চাইবো। তবে তার সামনে দ্বিতীয় বার দাঁড়ানোর শক্তি টুকু আর ফেলাম না। আমি নাহিদার চোখের দিখে তাকিয়ে বুঝেছি শুধু কেবল আমার জন্য ঘৃনা'ই দেখতে ফেলাম।আমি জানি ক্ষমা চাইলে সে ক্ষমা করে দিবে ওর মন'টা ভীষণ নরম। তবে তার রব কি আর আমায় ক্ষমা করবে? বা সে কি মন থেকে ক্ষমা করতে পারবে আদোও?
চলবে?
( প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এতো ছোট পর্বের জন্য। আমি এই টুকু লিখেছি পড়ার মাঝখানে যে সময়টুকু পেয়েছি সে সময়ের মধ্যে। ভেবেছিলাম কাল একটা বড় পর্ব দিবো। তবে একটা পেজে দেখলাম আমি ৪নাম্বার পর্ব আপলোড দি নাই সে পেজে কি আগা মাথা ছাড়া ৪নাম্বার পর্ব দিয়ে দিয়েছে। যেটা দেখে মনে হলো যে টুকু লিখেছি সে টুকু এই মুহুর্তে আপলোড করে দেওয়া উচিত।)
কেমন লাগলো জানাবেন?
