#তুমিহীনা_বৃথা_সব

#সাদিয়া_সুলতানা_মনি

#পর্ব_দ্বিতীয় 


সাফওয়ান আর সাওদার গল্পটা শুরু হয় আজ থেকে সাড়ে পাচঁ কি ছয় বছর আগে। সাওদাহ যার পুরো নাম সাওদাহ বিনতে আজাদ আর সাফওয়ানের পরো নাম সাফওয়ান জুহায়ের আবির। সাওদা তিন ভাই বোনের মধ্যে মেঝো,,তার বাবা একজন সরকারি চাকরিজীবী,,মা গৃহিণী।। তার বড় ভাই ভার্সিটিতে শিক্ষার্থী থাকাকালীন দুজন বন্ধুর সাথে পার্টনারশীপে একটা ছোট বিজনেস শুরু করে। যা বর্তমানে ভালোই উন্নতি করেছে। আর ছোট ভাই বর্তমানে এইচএসসি দিয়েছে ।।


সাফওয়ানরাও তিন ভাই-বোন।। সাফওয়ান বড়,,তারপর রাতুল যে কিনা এইচএসসি দিয়েছে । সাওদার ভাই আয়মান আর সাফওয়ানের ভাই রাতুল তারা দুজন বেস্ট ফ্রেন্ড। বলতে গেলে তারা দুজন দুজনকে ছাড়া অচল। এবং তাদের সবার ছোট অনামিকা। যে অষ্টম শ্রেনির ছাত্রী। সাফওয়ান আর সাওদার পরিচয় হয় তাদের ভার্সিটিতে।।


উচ্চ মধ্যবিত্ত ঘরের সাওদাহ প্রথম দেখায় প্রেমে পরে গিয়েছিলো মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে সাফওয়ানের। সাফওয়ানও যে তাকে পছন্দ করতো না তা কিন্তু নয়,,কিন্তু সে যে পরিবারের বড় ছেলে তার উপর বাবা নেয়।।বাবার অনুপস্থিতিতে সব দায়িত্ব যে তার উপরই এসে পড়েছে তাই তো সাওদাকে ভালোবাসা সত্ত্বেও কখনো আগ বাড়িয়ে ভালোবাসার দাবী নিয়ে যায় নি।।


এই গল্পের সকল পর্ব এবং আপডেট জানতে "সাদিয়ার গল্পের জগৎ" পেইজটাকে ফলো করতে পারেন।

ভার্সিটির টপার ছিলো সাফওয়ান।।পড়ালেখার কথা বলা হোক বা আচার ব্যবহারে সব দিক দিয়ে সাফওয়ান ছিলো অতুলনীয়। সাফওয়ানের এইসব দিক দেখেই সাওদাই প্রথমে ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলো তাঁকে।। সাফওয়ান তাকে তথাকথিত রিজেক্ট না করে শুধু এটুকুই বলেছিলো--


--"আমি পরিবারের বড় ছেলে,, আমার পরিবারের সবার দায়িত্ব আমার উপর।।তার উপর আমরা মধ্যবিত্ত,, বলতে গেলে নিন্মবিত্তই। তোমার উচ্চ মধ্যবিত্ত বাবা কি তার আদরের রাজকন্যাকে কি এই গরিবের ঘরে সম্প্রদান করবেন..?"


সাওদা সেদিন কিছু না বলে চলে যায়। সাফওয়ান অনেকক্ষণ সাওদার চলে যাওয়া দেখে তারপর চলে যায় নিজের কাজের জায়গায়। সাফওয়ান জানতো এমন কিছুই হবে তাও সাওদার এমন নিরব প্রস্থান মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। সে তখন একটা রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম জব করতো। তারপর এক সপ্তাহ সাওদার সাথে তার দেখা হয় না। সাফওয়ান এর জন্য কিছুটা চিন্তিতও ছিলো। তার লাগবে না সাওদাকে নিজের জীবনে কিন্তু হুট করে গায়েব হয়ে গেলো কেন..?


এক সপ্তাহ পর যেদিন ভার্সিটিতে এসেছিলো সেদিন তাকে দেখতে একটু অসুস্থই লাগছিলো। হাতে ব্যান্ডেজও ছিলো। সাফওয়ান তার সাথে কথা বলার জন্য এগিয়ে গেলে সাওদা তাকে ইগনোর করে চলে যায়। সাফওয়ান সাওদার এরূপ আচরণে খুব অবাক হয় তার সাথে ভীষণ কষ্টও পায়। এতোদিন ধরে দেখে এসেছে কখনো সাওদাকে কারো সাথে এরূপ আচরণ করেনি। সাফওয়ানও দুঃখ ভরাক্রান্ত মনে ক্লাস করতে চলে যায়।


সেদিন সব ক্লাস শেষ করে,,নিজের পার্টটাইম জব থেকে যখন বাসায় ফিরলো তখন অপরিচিত তিনজন মানুষকে দেখে অনেক অবাক হয়েছিল।। অবাক হওয়ার কারণ তার বাবার মৃত্যুর পর সব আত্নীয় স্বজনরা তাদের সাথে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিয়েছিলো এই কারণে যদি তাদের দায়-দায়িত্ব নেওয়া লাগে । সাফওয়ান অতিথিদের সাথে পরিচয় আদান প্রদানের পর জানতে পারে তারা সাওদার বাবা-মা আর বড় ভাই। তারা সাওদার সাথে তার বিয়ের কথা বলতে এসেছিলো। তাদের মেয়ে নাকি সাফওয়ানকে বিয়ে করার জন্য খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করা থেকে শুরু করে হাতের রগও কে//টেছিলো।।।


সাফওয়ান আর তার মা এইসব কথাশুনে ভীষণ অবাক হয়ে যায়। সেদিন কথা বার্তা শেষে ঠিক করা হয় সাওদার অনার্সের ফাস্ট সেমিস্টার শেষ হওয়ার পর তাদের আকদ করে রাখা হবে। সাফওয়ান একটা ভালো চাকরি পেলে তখন মেয়েকে তারা উঠিয়ে দিবেন ধুমধাম করে। যেই কথা সেই কাজ,,দুই মাস পর সাওদার ফাস্ট সেমিস্টার শেষ হলে তাদের আকদ করা হয়। তারপরের সময়টা তারা চুটিয়ে প্রেম করে।হালাল প্রেম যাকে বলে। তাদের এতো সুন্দর রিলেশন দেখে অনেকেই হিংসে করতো।


এই গল্পের সকল পর্ব এবং আপডেট জানতে "সাদিয়ার গল্পের জগৎ" পেইজটাকে ফলো করতে পারেন।

সাফওয়ানের মাস্টার এক্সামের কয়েকমাস পর সে একটা মোটামুটি ভালো জব পায়। তখন সাওদা অনার্স সেকেন্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট। তারপর তাদের দুজনের ভালোবাসাকে সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য নিজেদের আত্মীয় স্বজনদের উপস্থিতিতে পুনরায় ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়া হয়।শুরু হয় তাদের সংসার জীবন। এর মধ্যে সাফওয়ান বিসিএস পরীক্ষা দেয় প্রশাসন ক্যাডারে। প্রথমবার উত্তীর্ণ না হলেও পরেরবার সাওদার অনুপ্ররণায় আর নিজের পরিশ্রমে সে পাশ করে। তারপর তাদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না।


এইসবের মাঝেও তারা কয়েকবার বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা করে,,কিন্তু তারা এক্ষেত্রে সফল হয় না। ডাক্তার দেখালেও সমস্যাটা যে কার তাও জানা যায় না।

___________________________


এতোক্ষণ তো অনেক শুনলেন অতীত এখন বর্তমান কি হয় তাই শুনি। সময় স্রষ্টার সৃষ্টি গুলোর মধ্যে একটি চমৎকার জিনিস হলো সময়,,যা কখনো থেমে থাকে না। দেখতে দেখতে আরো তিনদিন চলে যায়।।এই তিনদিনের প্রথম দু'দিন সাফওয়ান সাওদাকে ফোন না দিলেও গতকাল থেকে লাগাতার কল দিচ্ছে। গতকালও দিত না যদি না তার মা বলে কয়ে সাওদাকে ফোন দিতে বলতো। সাওদাকে কখনোই দু'বারের বেশি ফোন দেওয়া লাগতো না কিন্তু আজ আর গতকাল এই দু'দিনে কম করে হলেও ১০০+ ফোন দেওয়া হয়েছে তাকে। কিন্তু ফোন রিং হতে হতে কেটে যাচ্ছে। কতো মেসেজও করা হয়েছে তারও কোন রিপ্লাই নেই। এখন তো আবার বন্ধ বলছে। সাফওয়ানের চিন্তায় পাগল হওয়ার যোগার।।কই গেলো তার সাওদা...?কই গেলো তার বউ..?!


সেদিন একজনের রাগ আরেকজনের উপর দেখিয়ে কি যে ভুল করেছে তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।। সাফওয়ানের কাছে সাওদার যত ক্লাসমেট,,ফ্রেন্ড জানা পরিচিত ছিলো সকলকে সাফওয়ান ফোন দিয়েছে,, কিন্তু কারো কাছে যায়নি বা যোগাযোগ করেনি সাওদাহ।


--"আচ্ছা তোমার সাথে সাওদা যোগাযোগ করলে আমাকে খবর দেবে। আল্লাহ হাফেজ।"


বরাবরের মতোই এইবারও হতাশ হয়ে ফোন রাখে সাফওয়ান।। সাফওয়ানের সকল কথাই তার মা দরজায় দাঁড়িয়ে শুনে। সে সাফওয়ানের পাশে বসে বলে--


--"সাফু,,আমার মনে হয় সাওদার পরিবারকে সাওদার নিখোঁজ হওয়ার খবরটা দেওয়া উচিত। তাদের মেয়ে আজ কতোগুলো দিন ধরে নিখোঁজ পরে ভালো-মন্দ কিছু একটা হলে আমাদের দোষ হবে।"


--"ভালোমন্দ হবে মানে..?!সাওদার কি হবে মা..?!ওর কিছু হলে তোমার ছেলে যে শেষ হয়ে যাবে এমন কথা বলো না মা।"


মায়ের কোলে মুখ লুকিয়ে নিজের অশ্রুগুলো মুক্ত করে দেয় সাফওয়ান। কেন সেদিন ওই কথাগুলো বলতে গেলো..?!কেন এতো বড় আঘা//ত দিলো সে সাওদাকে? আগে বাহিরের লোকেরা বললেই সাওদা কেমন পাগলের মতো করত। সেদিন সাফওয়ান নিজেই এই কথা বলেছিলো তাহলে এখন তার অবস্থা কেমন আছে..?! কার কাছে গিয়ে নিজের পাগলামি করছে.?!

এই গল্পের সকল পর্ব এবং আপডেট জানতে "সাদিয়ার গল্পের জগৎ" পেইজটাকে ফলো করতে পারেন।

বিকেলের দিকে সাওদার ভাই-ভাবী,, আর তার ছোট ভাই আসে।।অনেকদিন ধরে সাওদা তাদের সাথে যোগাযোগ না করায় তারা নিজেরাই এসে পরেছে।সাওদার বড় ভাই আজমাদকে তার মা বলেছে মেয়েকে নিজের সাথে করে নিয়ে আসতে,,অনেকদিন দেখেন না সে তার কন্যাকে।।


সাওদার পরিবারকে এমন একটা পরিস্থিতিতে কেউ আশা করেনি। সাফওয়ান বাসাতেই ছিলো,, সে ভেবে পাচ্ছে না আজমাদকে কি জবাব দেবে। বলা বাহুল্য সে আর আজমাদ সমবয়সী।। সাফওয়ানের পরিবার তাদের খাতিরদারিতে কোন কার্পণ্য করে না। সাওদার ভাবী বেশ কয়েকবার তার কথা জিজ্ঞেস করেছে কিন্তু সাফওয়ান আর তার মা কোন না কোন কথা বলে কাটিয়ে দিয়েছে।। 


রাত ৮টার দিকে তারা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।তাই আজমাদ সাফওয়ানের মাকে বলে---


--"চাচী!!আর রাত করবো না,,এখন আমরা উঠি।সাওদাকে একটু ডেকে দেন না। আম্মা তাকে সাথে করে নিয়ে যেতে বলেছে,,নাহলে বলেছে আজ আমাদের তিনজনকে বাসায় ঢুকতে দেবে না।


কথাটা বলে আজমাদ,, তার স্ত্রী হেসে দেয়। সাফওয়ান আর তার মা একে অপরের দিকে তাকায়। সাফওয়ান এই ভয়টাই পাচ্ছিল। সে আরো আগে বলে দিতে চেয়েছিলো কিন্তু তার মা-ই বললো আগে খাওয়া-দাওয়া করুক তার পর বলতে। এখন তারা নিজেরাই জিজ্ঞেস করছে এখন আর লুকানো মানে হয় না।


সাফওয়ান গম্ভীর কন্ঠে আজমাদকে বলে--


--"আসলে আজমাদ,, একটা কথা আমরা তোমাদের থেকে গোপন করেছি।"


সাফওয়ানের এমন গম্ভীরপূর্ণ কন্ঠ শুনে তারা সকলেই হাসা-হাসি থামিয়ে সাফওয়ানের দিকে তাকায়।।আজমাদ তাকে জিজ্ঞেস করে ---


--"কি গোপন করেছ..?"


সাফওয়ান ফুসফুস ভর্তি করে শ্বাস নেয়,, তারপর চোখ বন্ধ করে বলে---


--"সাওদাকে আজ তিনদিন ধরে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।"


সাফওয়ানের এমন বক্তব্যে আজমাদ আর হিয়া (সাওদার ভাবী) যেন আকাশ থেকে পরে।।তারা বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে সাফওয়ান আর তার মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।


 ~~চলবে..?!


[কেমন হয়েছে জানাবেন কিন্তু। ভুল ক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন 🤍]



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url