#আনটোল্ড_ডিজায়ার

#না_বলা_কথা

পর্ব_৩

 হাসিবুল ইসলাম ফাহাদ


নীড়ার স্কুটির পেছনে চড়ে হাসপাতালের দিকে যাচ্ছি। ওর কার্ড থেকে পেমেন্ট করা যাবে। ব্লা/ডের ব্যবস্থাও ও করেছে। 

মাথায় সাফার চিন্তার পাশাপাশি অন্য একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তা হল এতদিন নীড়ার শরীরে যে আ/ঘাতের চি*হ্ন গুল দেখেছিলাম সেগুলো ইচ্ছেকৃতভাবে নিজের শরীরে দিয়িয়েছে কিনা! 


খুব শীঘ্রই আমার চিন্তাভাবনা থেকে নীড়ার ব্যপারটা হারিয়ে গেলো।

আমার মাথায় তখন ঘুরছিলো সাফা কেমন আছে, ওর কি অবস্থা। 

হাসপাতালে পৌঁছাতে আমাদের বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়না। ডাক্তারের সাথে কথা বলে টাকা পেমেন্টের ব্যবস্থা করে নীড়া। 

জোগাড় হয়ে যায় এ বি পজেটিভ ব্লা/ডও। 

দুঃসময়ে নীড়ার এমন হুট করে এগিয়ে আসাটা সত্যি ই কল্পনার বাইরে ছিল আমার। তবে পৃথিবীতে একদম শুধু শুধু কেউ ই কিছু করে না। ওর সাথে বন্ডেজ ক্লাবে যেতে হবে।বন্ডেজ ক্লাব কি সেটা আমি এখনো জানিনা।হবে হয়ত কোন নাইট ক্লাব টাইপ কিছু একটা। তবে যাই হোক আমার যেতে কোন আপত্তি নেই৷ সাফার জন্য আমি সবকিছু করতে রাজি আছি। 

খুব দ্রুততম সময়ের ভিতরে সাফার অপারেশন এর ব্যবস্থা হয়ে যায়। বেশ কয়েকজন সিনিয়র ডাক্তার মিলে একত্রে অপারেশন পরিচালনার কাজে হাত দেন।

নীড়া সব কাজ শেষ করে ওর নিজের বাসায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যাওয়ার আগে সবার অগোচরে আমার দিকে তাকিয়ে মুখ বা/কা করে একটা ভেংচি কা*টে। 

সাবিহার শারিরীক অবস্থার অ"বনতি ঘটেছে।ও বার দুয়েক বমি করেছে। প্রেসার লো হয়ে গেছে। ডাক্তার ওকে চলে যেতে বলা সত্তেও চুপচাপ চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে অপলক শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সিলিং এর দিকে। মণিকার কাছে শুনেছি সাবিহা তার মোবাইল ফোনটি আছাড় মেরে ভেং/গে ফেলেছে, আমি তখন চলে যাওয়ার পরে। মণিকা বলেছে, আমি শুনেছি। এতটুকুই।সাবিহার কোন কার্যক্রম আমার মনে এখন কোন প্রভাব ফেলছে না। কারণ তখন আমার মন মস্তিষ্ক অনুভূতির পুরোটুকু জুড়ে শুধুমাত্র সাফার কথা ঘুরপাক খাচ্ছিলো। 

চেয়ারে বসে থাকা, পায়চারি করা,সৃষ্টিকর্তাকে ডাকা, ওটির রুম থেকে কখন ডাক্তাররা বের হবে তার অপেক্ষায় তীর্থের কাকের মত ওটির লোহার দরজার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিল না।

মনে মনে অনেক বেশি হতাশ হয়ে একটা চেয়ারে বসি। কখন যে বসেই ঘুমিয়ে পড়েছি, তা টের পাইনি। ঘুম ভাংগে মণিকার ধা/ক্কা-ধা/ক্কিতে। 

চোখ মেলে তাকাতেই ও জানায় ওটি থেকে ডাক্তাররা বের হয়েছেন। আমাকে ঘুমাতে দেখে তারা ডাকেন নি৷ ধীরেসুস্থে গিয়ে তাদের সাথে দেখা করতে বলেছেন। 

.

মনের ভিতর একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে আমি প্রায় ছুটে গেলাম ডাক্তার সীমান্তের কেবিনে। উনি-ই অপারেশনের লিড ডাক্তার ছিলেন। যাওয়ার পর আমাকে ঠান্ডা হয়ে বসতে বললেন। 

উনি প্রথমেই আমাকে বললেন, মিস্টার শহর আপনাকে এখন যা বলবো তা খুব শক্ত মন মানসিকতা নিয়ে শুনতে হবে অহেতুক কোন সিন ক্রিয়েট করবেন না। পৃথিবীতে চাইতে - না চাইতে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক ঘটনা ঘটে যায়। এবং যা একবার ঘটে যায় তা হাজার চেষ্টা করলেও বদলানো যায়না। তাই চুপচাপ সবকিছু মেনে নেয়াটাই হলো যথোপযুক্ত কাজ। 

আমার সাহস হচ্ছিলো না ডাক্তার কে নিজ থেকে কিছু জিজ্ঞেস করার। চোখ থেকে অনবরত অশ্রু গড়িয়ে পরছিল। 

ডাক্তার আমাকে এর পরেই বললেন, 

" সাফার অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে মিস্টার শহর।" 

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাফা কখনো কথা বলতে পারবেনা। ওর ভোকাল কর্ড মা/রা/ত্মকভাবে ক্ষ*তিগ্রস্ত হয়েছে। 

কথাগুলো শোনার পরে আমার অনুভূতি ঠিক কি রকম ছিলো সেটা আমি প্রকাশ করতে পারব না কিন্তু মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো,

ঠিক কি ভুলের জন্য নিষ্পাপ সাফা এতবড় একটা শাস্তি পেল?

সাবিহা যদি সাফাকে একটু টেক কেয়ার করত,

মেয়েটার জীবনের এতবড় একটা ক্ষতি হত না। 

ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলাম, রিলিজ করবেন কবে?

ডাক্তার জানালো দিন পাঁচেকের মধ্যেই। তবে গলার ঘা শুকানোর আগ পর্যন্ত বাসায় নিয়ে যাওয়ার পরেও সাফাকে বেশ কিছুদিন পাইপের মাধ্যমে বিশেষ প্রক্রিয়ায় খাবার খাওয়াতে হবে এবং এ কাজের জন্য বাসায় একজন নার্স রাখা অতি আবশ্যক।  

আমি ডাক্তারের কথা শুনে চুপচাপ বের হয়ে আসলাম। 

এসেই প্রথমে হাত পা ভালভাবে ধুয়ে প্রটেকশন নিয়ে সাফাকে দেখতে গেলাম। কয়েকটা পাইপ ওর গলার ভেতরে ঢোকানো। গলায় সাদা ব্যান্ডেজ করা। চোখ বুজে নিষ্পাপ একটা চেহারা করে ঘুমাচ্ছে মেয়েটা। ঘুমাচ্ছে অথবা ঘুম পারিয়ে রাখা হয়েছে। এই মেয়েটা যখন বড় হবে যদি সবকিছু জানতে পারে, কতবড় একটা ক্কষ্ট পাবে, 

আমার ওকে দেখে মনেই হচ্ছেনা ও কথা বলতে পারবে না।

সাফা জন্ম নেয়ার পর পর ই আমি প্রতিটা দিন অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি কবে ওর মুখ থেকে " আব্বু " বলে মিষ্টি একটা ডাক শুনতে পাব। 

  

( এরপর কে/টে যায় বেশ কিছু দিন)

.

.

.


সাফা অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছে। অফিস থেকে এক মাসের ছুটি নিয়েছিলাম প্রায়। আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি আছে। 

এই এক মাসে অনেক কিছু বদলেছে। সাবিহা মোবাইল ফোন ব্যবহার একদম ই বন্ধ করে দিয়েছে। বাসায় সাবিহার কোন ফোন নেই। বাসা থেকে বের হওয়ার কথা চিন্তা করা তো দূরে থাক, সাফাকে ছেড়ে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য ওয়াশরুমে গেলেও মাঝে মাঝে ফ্ল্যাশ না করে দৌড়ে চলে আসে। চোখের আড়াল হতে দেয়না একদম মেয়েটাকে। 

আমার প্রতি ভালোবাসা ভক্তি আগের থেকে বেড়ে গেছে বহুগুণ। 

একটা দু/র্ঘটনা হুট করেই যেন সবকিছু বদলে দিল।

সকালে উঠে নিজে নাস্তা বানিয়ে তারপর আমাকে ডেকে তোলে সাবিহা। 

আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে বসলে রুটির টুকরা ছিড়ে সাথে ভাজি বা ডিম নিয়ে আমার মুখে তুলে খাইয়ে দেয়। যদি একজন আরেকজনকে চা খাইয়ে দিতে পারতো সাবিহা মনে হয় আমাকে চাও খাইয়ে দিত। 

অদ্ভুত এক ব্যপার হলো ভালোবাসা যত তীব্রই হোক না কেন একজন কখনো তার পার্টনারকে চা খাইয়ে দেয়ার দক্ষতা অর্জন করার চেষ্টা করেনা। 

চা হলো একান্ত ব্যক্তিগত খাবার। কেউ ছোট ছোট চুমুক দিয়ে চা খায়। কেউ বড় বড় চুমুকে খায়। কেউ হালকা গরম খায়, কেউ প্রচন্ড গরম খায়। চা খুব সাধারণ একটা জিনিস হলেও এটা আরামসে খাওয়াটা মোটেই সাধারণ বিষয় নয়৷ অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া৷ 

আমার তো মনে হয় চায়ের কাপ তুলে পরিমিত পরিমানে খাইয়ে দেয়ার মত পার্টনার যে পাবে সে-ই পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী ভালোবাসা প্রাপ্তির খেতাবটাও পাবে৷ 

আমাকে খাইয়ে দেয়ার পরে নিজে খায় সাবিহা৷ এরপর বাবুর ছোট ছোট জামাকাপড়, কাঁথা ইত্যাদি কোনটা কখন কি ধুতে হবে বাবু কোন জামা পড়বে, কি খাবে, এগুল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে,এদিকে আমাকে বাইরে যেতে হয় বাজারের জন্য৷ বাজারে যাওয়ার আগে আমার গলা দুহাতে জড়িয়ে ধরে কপালে পাপ্পি দিয়ে দেয়া৷ বাজার থেকে ফেরার পরে নিজের ওড়না দিয়ে আমার কপালের ঘাম মুছে দেয়া, ফ্যানের নিচে আমাকে বসিয়ে ঠান্ডা শরবত এনে আমাকে খেতে দেয়া ইত্যাদি ছোট খাট অনেক কাজ ওর মধ্যে পরিলক্ষিত হয় যা আমি আগে কখনো ওর মাঝে খেয়াল করিনি। 

তবে যা-ই করুক না কেন ওর দিকে তাকালে আমি আর আগের মত ভালোবাসা অনুভব করিনা। একবার কোন কারণে কারো উপর থেকে বিশ্বাস উঠে গেলে তার প্রতি আর নতুন করে ভালোবাসা জন্মায় না৷ আমার মনে সাবিহার কাজকর্মে কোন প্রভাব পড়ছে না। 

ও যে মনে কোন অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আমাকে অতি ভক্তি দেখাচ্ছেনা সেটাও বা আমি কিভাবে শিওর হব?

.

.

.

দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে অবশেষে অফিসে উপস্থিত হলাম আমি৷ 

সবাই আমাকে দেখে সাফার কথা জানতে চাইলো। আমি জবাবে জানালাম ভালো আছে সাফা।এতদিন বাসায় থাকার দরুন, অফিসের কাজে একদম ই মন বসছে না। সাফার কাছে পড়ে আছে মনটা। সাবিহার ফোন নেই। মনিকাকে বেশ কয়েকবার ভিডিও কল দিয়ে সাফাকে দেখেছি। 

সাবিহা কোথায় আছে বা কি করছে একবার ও জিজ্ঞেস করিনি। মাঝে সাবিহা একবার কল দিয়েছে আমাকে। বলেছে মণিকার ছোট বাটন ফোনটা সাবিহা নিজের কাছে এনে রেখেছে। চাইলে ওকে আমি ঐ সিমে কল করতে পারি। আমি আচ্ছা বলে ফোন রেখে দিলাম। 

নীড়াকে অনেক দিন পর দেখলাম। ও আজ গোলাপি রঙ এর শাড়ি পরে এসেছে। সাথে ওর পাতলা ঠোঁটেও ম্যাচিং করে গোলাপী লিপ্সটিক।চুল অর্ধেক খোপা করা।

কলেজ পড়ুয়া বাচ্চাদের মত কিউট ও ছোট্ট লাগছিলো ওকে। সেদিনের কথা মনে পড়লো আমার। ওকে একটা থাপ্পড় দিলেই ওর সাদা গালটা একেবারে লাল টুকটুকে হয়ে যাবে৷ মনে মনে হাসলাম আমি।

নীড়া আমার দিকে তাকিয়ে বেশ কয়েকবার চোখ টিপ্পুনি দিয়েছে৷ হুট করে আমার মনে পড়লো বন্ডেজ কি সেটা গুগল করে দেখতে একদম ই ভুলে গিয়েছিলাম আমি। 

এখন মনে পড়লেও গুগল করতে ইচ্ছে করছে না৷ নীড়াকে জিজ্ঞেস করেই জেনে নিতে হবে। 

নীড়ার গাল দুটো আজ একদম সাদা দেখাচ্ছে। আগের মত আঘাতের চিহ্ন নেই৷ ও ছোটখাট বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে আমার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। 

ওর কার্যক্রমে আমি অদ্ভুত একটা আনন্দ পাচ্ছি।

একটু পর বেশ কয়েকটা ফাইল নিয়ে ও আমার ডেস্কে আসে৷ সবার সামবে এমন একটা ভাব করে যেন অনেক জরুরি কাজের জন্য ও কথা বলতে এসেছে আমার কাছে৷ কিন্তু এসেই ডেস্কের উপর ফাইলগুলো রেখেই আমাকে প্রথমে জিজ্ঞেস করে,

মিষ্টার শহর, সেদিনের চুমুটা কেমন ছিল বলুন, পুরো আ/গুন না?

আমি থতমত খেয়ে গেলাম। কিছু বলতে পারলাম না।

নীড়া ওর ঠোঁট দুটোর উপর নিজের জিহবা ঘুরিয়ে নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, তোমার লিপ্স গুলো কিন্তু খাঁটি ম*দের মত। তোমার বউ নিশ্চয়ই এতদিন তোমাকে খেয়ে নেশা করেছে তাই না?

ওর এমন সরাসরি কথাবার্তা শুনে আমার কথা ফুরিয়ে যায়। 

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জিজ্ঞেস করি, তুমি না বিবাহিত? তোমার হাজবেন্ড এসব জানলে তোমার ডিভোর্স হয়ে যাবে। 

ও উত্তর দেয়,

ডি/ভোর্সটা আমি ই ওকে দিয়েছি। একেতো নিজে কোন জব করত না, খেত বউয়ের টাকায়, আর বউকে সন্তুষ্ট করার মত শক্তিও ওর ছিলো না৷

নীড়ার কথা শুনে কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না৷ তবে ওর সাথে কথা চালিয়ে যেতে ভাল লাগছিলো আমার।  

সাবিহা বেশ কয়েকবার কল দিয়েছে৷ নীড়ার সাথে কথা বলার রেশ টা নষ্ট করতে চাইনি৷ তাই ফোন পিক করিনি। গল্পে গল্পে একপর্যায়ে জিজ্ঞেস করে ফেলি,

আচ্ছা বন্ডেজ ক্লাব কি, আমাকে বলো তো খুলে।

- তুমি ধারণা নাওনি?

- না।  

সমস্যা নেই৷ আজ অফিস ছুটির পরে তোমাকে নিয়ে যাব৷সব নিজ চোখে দেখে জেনে নিও। যাবে আমার সাথে?

- অবশ্যই যাব৷ 

আচ্ছা বেশি সময় ব্যয় করা যাবেনা তোমার ডেস্কে। সবার চোখ লাগবে। আমি উঠি এখন। 

- আচ্ছা। 

নীড়া চলে যাওয়ার পর আবার যখন সাবিহার কল আসলো, রিসিভ করলাম। 

সাবিহা জানালো তার অনেক একা একা লাগছে। আমি কখন বাসায় ফিরবো জানতে চাইলো।এমনিতে তো পাঁচটার পরেই বাসায় ফিরি। তবে

ওকে জানালাম অফিসের জরুরি কাজ পরে গেছে। ফিরতে অনেক রাত হবে।

অফিস ছুটি হয় বিকেল পাঁচটার দিকে। 

নীড়ার চোখেমুখে একটা কুটিল আনন্দ ঢেউ খেলছে।

কেন জানিনা, অকারণেই আমার বুকের মাঝে ধুকধুক করছে। এটা ভয়ের অনুভূতি কিনা তা বলতে পারব না,কারণ আমার ভেতরে অজানা একটা বিষয় সম্পর্কে জানার প্রবল আগ্রহবোধ টাও কাজ করছে।

নীড়ার পেছনে অনুসরণ করলাম। 

ওর স্কুটিতে চেপে বসার আগে জিজ্ঞেস করলাম,

এখন কি ক্লাবে যাব? 

উত্তরে নীড়া বললো- ধুর, না। 

- তবে?

আগে তোমাকে নিয়ে ঘুরব, তারপর শপিং করব, তারপর খাওয়াদাওয়া, তারপর ক্লাব।

নীড়ার চোখেমুখে অপার এক আনন্দ দেখতে পাচ্ছি।

ওর হাসিটাও আজ অনেক প্রানবন্ত লাগছে।

জিজ্ঞেস করলাম- কোথায় ঘুরতে যাচ্ছি?

- চন্দ্রিমাতে।

উদ্যানটা আমার বেশ পরিচিত। সাবিহার সাথে আমার অনেক সুখকর স্মৃতি আছে এখানে। 

নীড়া ওর পিংক কালারের স্কুটিটি পার্ক করে। এর একটু পর ই ঝামেলা বেঁধে যায়৷ ওর স্কুটির পেছনে সাদা রঙ এর একটা গাড়ি পার্ক করা ছিল। ওটার জানালা থেকে কে যেন একটা প্লাস্টিকের বোতল বাইরে ছুড়ে মারে। নীড়া গিয়ে বোতল হাতে তুলে আবার ঐ গাড়ির জানালা দিয়ে ভিতরে ছুড়ে দেয়৷ সাথে সাথেই জানালা দিয়ে বাইরে গলা বের করে উঁকি দেয় আন্টির বয়সি একজন মহিলা। সে অতি উত্তেজিত অবস্থায় এমন ভাবে গলাটা বের করেছে যে আরেকটু হলেই জানালার ফাঁকা দিয়ে টুপ করে বাইরে পরে যেত। ভাগ্যিস তার ইয়া বড় ভুড়ির রহমতে এমন একটা বিপদ থেকে বেঁচে গেলেন তিনি। 

- এএএই এইই বেয়াদব মেয়ে, তুমি এটা কি করলে?

- আন্টি আপনি যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করছেন। আমার যেটা করা বলে উচিত মনে করেছি সেটাই করেছি।

- চুপ করো বেয়াদব। আমি বোতল ফেলেছি দেখে দেশ নোংরা হয়ে গেছে, আর ঐ যে ঐ দেখ গাছের নিচে বসে একটা রিকশাওয়ালা যে প্রস্রাব করছে সেটা দেখছিস না?

- প্রস্রাবের থেকে প্লাস্টিক বেশি পরিবেশ দূষণ করে। আপনিও দরকার হলে ওখাবে গিয়ে প্রস্রাব করুন আমি কেন কেউ ই কিছু বলবে না। কিন্তু পলিথিন বা প্লাস্টিক যেখানে সেখানে ফেলা থেকে বিরত থাকুন। এগুল অপচনশীল। 

নীড়া মহিলাটির সাথে কথা কাটাকাটি করছে আমি দূর থেকে দেখছি৷ সাবিহা মোটেই এমন ছিল না৷ ও বরং ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করতো। 

বিজয়ের হাসি হাসতে হাসতে নীড়া আমার কাছে এসে বলে, একদম ঠিক শিক্ষা দিয়েছি মহিলাটাকে। আর কোনদিন রাস্তায় প্লাটিক ফেলবে না। 

- আমি কিন্তু ইচ্ছা করেই রাস্তার উপরে প্লাস্টিকের বোতল ফেলি।

নীড়া চোখ বড় বড় করে তাকালো।

বললো কেন? 

- আমাদের ফেলা প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে তা বিক্রি করে অনেকের সংসার চলে যায়৷টোকাই নামক এক মানুষের দল আছে আমাদের শহরে ওদের কাছে এগুলো খুব প্রয়োজনীয় । 

- ডাস্টবিনে ফেললে তো সেখান থেকেই নিতে পারে। 

- মানুষ যখন পুকুরে মাছকে খাবার দেয়, তখন কি সব খাবার একসাথে এক জায়গায় দেয় নাকি ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়?

- ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

কিছুক্ষন চুপ থেকে নীড়া বললো ওহ বুঝেছি।

মনটা হঠাৎ উদাস হয়ে গেল। নীড়ার সাথে ঘুরছি ঠিক ই কিন্তু আমার মনে পড়ছে সাবিহার কথা। ওর সাথে কাটানো মুহুর্তগুলো আমার জীবনের সবথেকে দামি অনুভূতি গুলোর ধারক। 

তবে সাবিহার মত নীড়া সবসময় গম্ভীর থাকেনা। খুব অল্পতেই হাসে ও৷বেশি হাসা মানুষগুলোর সাথে চলতে ভাল লাগে। চলার পথে গাছ থেকে টুপ করে একটা পাতা ছিড়ে হাতে দিয়ে যদি বলা হয়,

"পৃথিবীর কোন এক প্রেমিক তার ছা/গলিকে প্রেমিকাকে ভালোবেসে একটা পাতা উপহার দিল" 

এটুকুতেই ওরা বেশ খুশি হয়।

তবে নীড়ার আনন্দটা ঠিক কি নিয়ে সেটা বুঝতে আমার কষ্ট হচ্ছে। 

আমার বাহুর ভেতরে হাত ঢুকিয়ে বেশ কিছুক্ষন পার্কে হাঁটাহাঁটি করলো নীড়া। 

নীড়াকে জিজ্ঞেস করলাম, আমার স্ত্রী সন্তান আছে, তুমি জানো।

 তবুও আমার সাথে মিশছো কেন?

নীড়া সোজাসাপটা উত্তর দেয়,

আমার মনে হয় তুমি আমার জন্য পারফেক্ট মাষ্টার হতে পারবে।

যখন অফিসের বাকি কলিগদের তোমার ভরাট কন্ঠে ধমক দিতে, আমি তোমার এগ্রেসিভ এটিটিউড এর উপর ক্রাশ খেতাম। আমার তো ইচ্ছে করতো তোমার কাছে সারাদিন বকা শুনি, বকা তো ভালো। মার খেতে ইচ্ছে করত।

- মার খেতে ভাল লাগে এটা আমি এই প্রথম শুনলাম।

উঁহু, শুধু মার না। আমি ভালোবাসা ও ব্যাথা একসাথে উপভোগ করতে পছন্দ করি।

- কিভাবে সেটা উপভোগ করে?

পেইন উইথ প্লেজার, ক্লাবে গেলে বুঝবে। এখন ওসব বাদ দাও। আমি কিছুক্ষন তোমাকে আমার মন থেকে অনুভব করার চেষ্টা করি। 

 আমি হ্যাঁ না এমন কিছু একটা বলতে গিয়েও বলতে পারলাম না। 

বেশ ঘুরাঘুরি করলাম। বাদাম চানাচুর চা আইসক্রিম সহ অনেক স্ট্রিটফুড খেলাম আমরা। একটা বিষয় খেয়াল করলাম নীড়ার সাথে ঘুরতে বের হয়ে আমার বয়স কমে গেছে। 

আমি তুলনা দেয়ার চেষ্টা করলাম দুজনের ভেতরে।

সাবিহার সাথে ঘুরতে বের হলে অনেক গম্ভীর হয়ে থাকতে হয় একটা দায়িত্ববোধ থাকে নিজের ভেতরে। ওকে গাইড করতে হয়। ওর কথা শুনতে হয়।

কিন্তু নীড়ার সাথে ঘুরতে বের হয়ে মনে হচ্ছে ছোটবেলার দুই বন্ধু মিলে ঘুরতে বের হয়েছি। প্রথমদিকে একটু গম্ভীর থাকার চেষ্টা করেও লাভ হলোনা। 

কিছুক্ষন পর ই নীড়ার সাথে আমিও সেট হয়ে গেলাম। এদিক সেদিক তিড়িং বিড়িং করে লাফাচ্ছি, স্ট্রিট ফুড খাচ্ছি, মাঝে মাঝে একজন আরেকজন কে ধাওয়া দিচ্ছি কে কাকে ধরতে পারে দৌড়ে তা পরখ করে দেখছি, জীবনের এ অংশের আনন্দটা আমার কাছে এতদিন চাপা পরে ছিল। নীড়ার সঙ্গ পেয়ে যেন সব আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

বেশ ভালো একটা বিকেল সন্ধ্যা কাটালাম আমরা। 

এরপর নীড়া আমাকে নিয়ে গেল একটা শপিং মলে।

সেখানে গিয়ে ইয়োলো শো রুম থেকে আমার জন্য বেশ দামি গেঞ্জি, প্যান্ট এবং বেল্ট কিনে দিল। বললো ট্রায়াল রুম থেমে চেঞ্জ করে আসতে। আমি নীড়ার কথা মত চেঞ্জ করে আসলাম। নীড়া আয়নার সামনে এসে আমার গায়ের সাথে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে বললো দেখো আমাদের কত সুন্দর দেখাচ্ছে,

নীড়ার জামাকাপড় এর চয়েস ভাল মানতে হবে আমাকে আগের থেকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় লাগছিল ব্লাক কালার টি-শার্ট স্ক্রাচ করা স্কাই ব্লু জিন্স এবং স্নাকারসে। 

নিজের মনের অজান্তে নীড়ার কোমড়ে হাত দিয়ে ওকে আমার দিকে টেনে নিয়ে বললাম,

তোমাকে আমার পাশে সুন্দর দেখায়।।

নীড়ার আনন্দ মাখা মুখটা আগের থেকে আরো বেশি প্রফুল্ল হয়ে উঠলো। 

শপিং শেষে আমরা একসাথে খাওয়া দাওয়া করলাম। নীড়ার বিশাল আয়োজন। ক্যান্ডেল লাইট ডিনার। 

খাবারদাবার অর্ডার করে আমরা বসে আছি, নীড়া হঠাৎ আমার হাত চেপে ধরে বললো, এখন থেকে তোমাকে আমি মাষ্টার ডাকবো।

- ডেকে কি হবে?

- তুমি সত্যি ই আমার মাষ্টার হয়ে যাবে। আমি হবো তোমার স্লেভ।

তুমি যা চাও আমার সাথে করতে পারবে।

কি উত্তর দিব ভাবছিলাম। 

এমন সময়ে খাবার চলে আসে। অকোয়ার্ড একটা সিচুয়েশন থেকে মুক্তি পাই আমি। 

খাবার শেষ করতে করতে রাত ৯ টা বেজে যায়।

ফোন কখন যেন সুইচড অফ হয়ে রয়েছে খেয়াল করিনি। নীড়ার থেকে একটু দূরে গিয়ে ফোন অন করি। 

অন করার কয়েক সেকেন্ডের ভেতরেই কল আসে সাবিহার। ফোন পিক করতেই ওপাশ থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই সাবিহার। জিজ্ঞেস করে কোথায় আছি।

আমার উত্তর দিতে ইচ্ছে করছিল,

" তুমি কখন কোথায় ছিলে আমি কি জিজ্ঞেস করেছি?"

কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম কাজে আছি৷ রাতে হয়ত ফেরা হবে না৷ 

বাবু কি করছে জানতে চাইলাম। জানালো ও ঘুমিয়ে পড়েছে৷ আমি ঠিক আছে বলে ফোন রেখে দেই।

অন্য কোন সময় হলে ও খেয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করতাম। কিন্তু সাবিহা খাক কিংবা না খাক তাতে আমার আর কিছু যায় আসেনা। 

.

.

.

৯ঃ৪৫ পর্যন্ত নীড়ার বাসার নিচে দাঁড়িয়েছিলাম। ও নিজের বাসায় ঢুকে চেঞ্জ করে এসেছে।

ড্রেস চেঞ্জ করে আসার পরে ওকে আমি একদম ই চিনতে পারলাম না৷ 

একটা পিংক কালার গেঞ্জির একপাশ থেকে অনেকটা নামানো৷ কাঁধের উপর থেকে ভেতরে পরিহিত ছোট ড্রেসের ফিতা দেখা যাচ্ছে। সাথে ব্লাক জিন্স এবং ব্লাক হাই হিল।গলায় ব্লাক চোখার,চোখে কালো কাজল। চাহনীতে এক সমুদ্র তৃষ্ণা 

ওকে এমন রূপে আমি আগে কখনো দেখিনি৷ 

এসে বললো, মাষ্টার, কখনো মুভি দেখেছেন হলে?

- হ্যাঁ 

- আজ আমরা বন্ডেজ ক্লাবে মুভি দেখবো৷ তবে এটা শুধুমাত্র এডাল্ট দের জন্য। 

এখানে কোন ডিজিটাক স্ক্রিনের পর্দা থাকেনা৷ সরাসরি লাইভ দেখা হয়।

- আমাকে এখানে নিয়ে যাওয়ার কারণ?

- শেখানো, হাউ টু বি এ পারফেক্ট মাষ্টার।

কথা বলতে বলতে স্কুটি চলে আসে একটা নামকরা শপিং মল এর সামনে৷ 

নীড়াকে ফলো করে লিফট বেয়ে একদম রুফ টপে চলে যাই। সেখানে নানারকমের সী ফুড ফাস্ট ফুড ও চায়নিজ খাবারের দোকান। 

এগুলোর ভেতরে মোটামুটি মানের একটা কোর্টে ঢুকে যায় নীড়া। ঢুকে একদম সরাসরি কিচেনে চলে যায়৷ পেছন পেছন যাই আমিও৷ কিচেনের একদম শেষ প্রান্তে তাকালেই কিছু পাটের চট ঝুলতে দেখা যায়। জায়গাটা বেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন। নীড়া এগিয়ে গিয়ে এক হাত দিয়ে চট সরায়। উন্মুক্ত হয় একটি গোপন লিফট।লিফটের ভেতর থেকে কেউ একজন বাইরে অবস্থান করা আমাদের ছোট একটা ছিদ্র দিয়ে দেখে নিল। একটু পর খুলে গেল দরজা। নীড়ার এখানে যাতায়াত আছে বোঝাই যায়৷

লিফট কতক্ষন ধরে নিচে নামে অনুমানের বাইরে। তবে একটা পর্যায়ে লিফটের চলন বন্ধ হয়৷ লিফট থেকে বাইরে বের হতেই কানে আসে ধুম ধারাক্কা নাচ গানের শব্দ।পুরো কামরা লাল নীল আলো আর ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ। 

আমাদের মত এখানে অনেকেই জোড়ায় জোড়ায় আছে। অনেকে সিংগেল। মদ খেয়ে মাতলামো করছে। কিছু কিছু মেয়েরা ট্রে তে মদের গ্লাস নিয়ে বিক্রির জন্য সবার মাঝে হাঁটাহাঁটি করছে। তাদের বুকে কোন কাপড় নেই৷ একদম উদোম। নিচে হালকা কোন রকমের একটা কাপড় পেঁচিয়ে পড়া। মাতাল অবস্থায় অনেকেই ওদের গায়ে হাত বুলাচ্ছে। কিন্তু এতে মেয়েগুলোর কোন ভ্রুক্ষেপ ই নেই৷ তারা ব্যস্ত তাদের হাতের দামি ড্রিংকস গুল টাকাওয়ালা লোকদের খাইয়ে পকেট থেকে বেশি বেশি টাকা খসিয়ে নিতে। 

নীড়া দুই গ্লাস ড্রিংক্স নেয়৷ 

আমার দিকে এগিয়ে দিলে আমি খেতে অসম্মতি জানাই৷ বলি আমি অভ্যস্ত নই৷ কিন্তু নীড়া বলে এরপর যা দেখতে যাচ্ছি তা তোমার স্বাভাবিক মাথা নিতে পারবেনা৷ 

তাই একটু ড্রিংস করে নেয়াটা জরুরি । ও আরো জানায় আর এটায় তেমন নেশা হবেনা৷ কিন্তু শরীরে উত্তেজনা বাড়বে৷ 

আমি নাক সিটকে কয়েক চুমুকে খেয়ে নিলাম। 

নীড়া এবার আমাকে নিয়ে এগিয়ে গেল সামনে। কয়েকটা দরজা পার হয়ে একটা রুমের সামনে নিয়ে আসে আমাকে। গেটে হাত পা বাঁধা একটা অর্ধ উলঙ্গ মেয়ে বসে আছে এমন একটা পোস্টার লাগানো। নীড়া দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে। ভিতরে ঢোকার পর পর ই বুকের ভিতর ধুক করে উঠে আমার৷ 

সিলিং থেকে নেমে এসেছে একটা লম্বা তার। সে তারের মাথায় ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা ১০০ ওয়াটের একটা লাল লাইট 

পুরো রুমকে আলোকিত করে রাখার দায়িত্ব নিয়েছে। লাইটের নিচেই রাখা একটা চেয়ার। চেয়ারের চারপাশে থাকা আরো কিছু মোটা মোটা শিকল ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দেখে মনে হচ্ছিল এটা একটা টর্চার সেল।

নীড়া হুট করে বাইরে গিয়ে আবার কয়েক সেকেন্ডের ভেতরেই চলে আসে। ওর হাতে দুটো সাদা রঙ এর টিকেট। আমরা রুমের অন্য কোনায় গিয়ে বসি৷ সেখানে ঐ ঝুলে থাকা লাল লাইটের বাতি পৌঁছায় না। আমরা সব ক্লিয়ার দেখতে পেলেও যারা লাইটের আলোর নিচে থাকবে তারা আমাদের দেখতে পারবেনা৷ 

আমাদের মত আরো বেশ কয়েক দম্পতি বসা আছে অন্ধকারের ভেতরে। তারাও আমাদের মত কিছু একটা দেখতে এসেছে।দম্পতি কেন বললাম। জুটি বলা ভাল, হয়ত আমাদের ই মত তারাও।আমার কাছে অবশ্য সার্কাসে বসে পশু পাখির নানা ধরণের পারফরম্যান্স দেখার মত ফিল হচ্ছিল। 

কিছুক্ষন পরে শুরু হয় আসল ঘটনা।

প্রথমেই এক হাতে একটা চেইন ও অন্য হাতে মিডিয়াম সাইজ একটা লাঠি নিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করে এক মাঝবয়েসী ছেলে।চেইনের অপর প্রান্তে বাঁধা আছে একজন মেয়ে৷ যে কুকুরের মত চার হাত পায়ে হামাগুড়ি দিয়ে হেঁটে ভেতরে আসে। নীড়া আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে ভালো ভাবে দেখে শিখে নাও৷ কিভাবে ডমিনেন্স করতে হয়। নীড়া প্রায় আমার কোলে উঠে বসেছে। তার চোখ তখন মঞ্চের দিকে । 

মাঝবয়েসী ছেলেটা মেয়েটাকে লাঠি দিয়ে ইশারা করতেই মেয়েটা চেয়ারে উঠে বসলো৷ ছেলেটা মেয়েটাকে কি কি যেন বলছে, শোনা যাচ্ছে না। হুট করে মেয়েটার গালে সজোরে একটা চড় বসালো।এক চুলের মুঠি ধরে পেছন দিকে টান দিয়ে অন্য হাতের বেশ কয়েকটা আংগুল মেয়েটার মুখের ভেতরে ঢুকিয়ে ভেতর বাহির করতে শুরু করলো৷ এত জোরে চুল টানছিল যে মনে হচ্ছিল মেয়েটার মাথার চুল সব উঠে যাবে। মেয়েটাকে দেখে তবুও মনে হচ্ছেনা যে সে খুব বেশি ব্যাথা পাচ্ছে বরং তার চোখে খেলা করছে ছেলেটার প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা আর আনুগত্য। 

ছেলেটা কিছুক্ষন পরে মেয়েটার মুখ থেকে হাত বের করে আনে৷ নিজের প্যান্টের চেইন খুলে ফেলে একটানে৷ এরপর আরো একটা ঘৃণ্যতম দৃশ্য হজম করতে হয় আমার। ছেলেটা তার নিজের পুরু_ষাঙ্গ বের করে মেয়েটার মুখের ভেতরে প্রবেশ করায়৷ এর মাঝে বেশ কয়েকবার চড় দিতে দেখা যায় ছেলেটিকে।চড়ের শব্দগুলো আমাদের কানে এসে লাগছে৷ আমি ওদের থেকে চোখ সরিয়ে নীড়ার দিকে তাকাই। নীড়া বেশ উপভোগ করছে৷ 

একটু পর চেয়ার সরিয়ে ফেলা হয়। মেয়েটার হাত পেছন দিকে নিয়ে পড়ানো হয় হ্যান্ডকাফ। 

লোহার ভাড়ি শেকল গুল নামিয়ে আনা হয় আরো নিচে। সেগুলোর সাথে মেয়েটিকে বেঁধে শূন্যে তুলে দেয়া হয় কিছুটা। 

মেয়েটাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে এভাবে শিকলে বদ্ধ হয়ে শূন্যে ভাসতে ওর অনেক কষ্ট হচ্ছে। লোহার শেকল হাত পায়ের মাংসের ভেতরে কেটে পড়েছে।

এভাবে ঝুলন্ত অবস্থাতেই ছেলেটা মেয়েটির পরিহিত সব বস্ত্র টেনে ছিড়ে ফেলে। 

উন্মুক্ত হয়ে যায় মেয়েটির ফর্সা দেহ। ছেলেটা শেকলের বাঁধা মেয়েটির চারদিকে ঘুরে ঘুরে কিছুক্ষন দেখে। যেন একটা বাঘ তার খাবার কে দেখছে।

একটু পর পাশের টেবিলে থাকা একটা স্কেল নিয়ে মেয়েটির রানে -বুকে প্রচন্ড জোরে আঘাত করে। ফর্সা দেহটি স্কেলের আঘাতে লাল হয়ে উঠে মুহুর্তেই। আঘাতের পর আঘাত দিয়ে 

পশুর মত নির্মম ভাবে হামলে পরে মেয়েটির উপর। স্বাভাবিক যৌ_ন মিলনের থেকে বেশ হিংস্র ভাবে মিলন প্রক্রিয়া চালাতে থাকে ছেলেটি। এবার সাথে যোগ করে নেয় চামড়ার একটি বেল্ট। যৌ_ন মিলনের মাঝে মাঝেই চামড়ার বেল্ট দিয়ে আঘাত করে মসৃণ একটা শরীর রক্তবর্ণ করে দেয়।নীড়া ইতিমধ্যে অনেক উত্তেজিত হয়ে পড়েছে। ও আমার দিকে তাকিয়ে বললো জানতে চেয়েছিলে না বন্ডেজ কি যেটা দেখলে এটাই হলো বন্ডেজ। কিছু মেয়েরা এরকম পেইন উইথ প্লে_জার পছন্দ করে, আমিও চাই তুমি আমাকে এভাবে অনেক আঘাত কর ও শারিরীক শান্তি দাও। 

আমার হাত ধরে টান দিয়ে উঠিয়ে ফেলে নীড়া। বলে, চলো।

আমি জিজ্ঞেস করি কোথায়?

ও জানায় - ওর বাসায়। 

ওর বাসায় এর থেকেও অনেক বেশি ইন্সটুমেন্ট রয়েছে। আজ আমাকে নীড়ার মাস্টার হতে হবে। 

.

.

.

নীড়ার স্কুটি চেপে ওর বাসার নিচে আসার আগেই সাবিহার ফোন আসে।

রিসিভ করার পর ওপাশ থেকে কান্না জড়িত কন্ঠ শুনতে পাই।

- সাফা অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছে তুমি একটু তাড়াতাড়ি বাসায় আস। 

সাফার কথা শুনেই আমি নীড়াকে স্কুটি থামাতে বলি। রাত তখন দেড়টা।

নীড়া সাফার অসুস্থতার কথা জানালে ও আমাকে আটকায় না। তবে ওর চোখে আমি এক রাজ্যের হতাশা খুঁজে পাই।


.

.

.

রিকশা নিয়ে বাসার দিকে যাচ্ছি। একটু আগে কি দেখেছি তা আমার মাথাতে নেই। মাথায় সাফার চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। 

হঠাৎ আমার রিকশার সামনে এসে দাঁড়ায় কালো রং এর একটি প্রাইভেট কার।

সেখান থেকে নেমে আসে চারপাঁচ জন মানুষ। সবার হাতে দেড় ফুট সাইজের লোহার রড। 

রিকশাওয়ালা রিকশা থামিয়ে পাশে দাঁড়ায়। লোকগুলোর ভেতর হাতা কাটা ড্যানিমের শার্ট পড়া ধূসর চোখের এক ছেলে এসেই আমার মাথায় সজোরে আঘাত করে।

ফিনকি দিয়ে রক্ত ছিটে পরে রিকশাওয়ালা চাচার নাকমুখে। তিনি চিৎাকার করতে করতে দৌড়ে কোথায় যেন চলে যান।

এরপরে আরো কয়েকটি এলোপাতাড়ি আঘাত এসে আমার শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। চোখ বন্ধ হয়ে আসে আমার। স্পষ্ট টের পাই আমাকে টেনে গাড়িতে তোলা হচ্ছে।

নড়ার মত শক্তি নেই। তবে জ্ঞান হারাইনি। 

চোখ বন্ধ করে অস্ফুট স্বরে উচ্চারণ করলাম " সাবিহা!"

শেষপর্যন্ত সাবিহা আমাকে ট্রাপে ফেলল!

যে ছেলেটা আমাকে প্রথম আঘাত করেছিলো ওর গলায় চেইনের সাথে F বর্ণের একটা লকেট ঝুলানো।

ফারহান এরকম লকেট পড়ত। সাবিহার কাছ থেকেই জেনেছি। কিছুক্ষন বাদে গাড়ি থামে। আমি সব টের পাচ্ছি কিন্তু কিছু অনুভব করা বা নড়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। কোন একটা উঁচু ব্রিজের ওপর থেকে আমাকে ছুড়ে ফেলা হয়েছে নিচে। ঝুপ করে পানিতে পরার পরে ক্রমে ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছি নদীর গভীর পানির তলদেশে।


চলবে


সকল পর্বের লিংক 👇

https://www.facebook.com/share/p/14YthfzLwpQ/


সকলে লাইক কমেন্ট করুন।নতুন পর্ব পোস্ট করার পর সবার আগে টাইমলাইনে পেতে Støry Wørld পেজটিতে ফলো দিয়ে রাখুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url