#তোমাকে_পাওয়ার_নেশা
#পর্ব_০২
#নুজাইফা_নূন
-” টেপ রেকর্ডার অফ কেন? চার্জ নেই নাকি?”
-” রওজা মৌন রইল।কথা বলতে ইচ্ছে করছে না তার। রওজার থেকে রেসপন্স না পেয়ে ইগো হার্ট হয় নিস্প্রভের। নিস্প্রভও কোনো কথা না বলে ড্রাইভে ফোকাস করে।বাইক চলছে নিজের গতিতে। কিছু সময় অতিবাহিত হতেই অকষ্মাৎ আকাশে মেঘের গর্জন শোনা যায়।প্রচন্ড গতিতে হাওয়া বইতে শুরু করে।
সূর্য টা মেঘের আড়ালে ঢেকে গিয়ে ঘন আঁধারে ছেয়ে যায় ধরনী।সেই সাথে তীব্র হাওয়া, বজ্র ধ্বনি ও বিদ্যুৎ চমক। আকস্মিক চমকে কম্পিত হয়ে ওঠে রওজার জীর্ন শীর্ণ বুক। রওজা দুহাতে নিস্প্রভকে আঁকড়ে ধরে। নিস্প্রভের শরীরে যেন বিদ্যুৎ বয়ে যায়।সর্বাঙ্গ শিরশির করে উঠে।”
-”সে সবসম মেয়েদের থেকে ডিসটেন্স বজায় রেখে চলে।কখনো কোনো মেয়ের এতো কাছাকাছি আসা হয় নি তার।একদিকে বৃষ্টিপাত অন্যদিকে উষ্ণতাপ।এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। নিস্প্রভ কী করবে বুঝে উঠতে পারে না।।
বৃষ্টির মধ্যে বাইক চালানোটাও রিস্কি। এদিকে বৃষ্টির গতিও বেড়েই চলেছে।সেই সাথে বজ্রপাত তো আছেই। ঝড়ের তাণ্ডবে রাস্তাঘাটও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে না। রওজা আশেপাশে তাকিয়ে একটা পুরোনো ঘর দেখতে পেয়ে নিস্প্রভের উদ্দেশ্য বললো,
-” আমার খুব ভয় করছে বেয়াই মশাই।এই ঝড় বৃষ্টির মধ্যে এতো রিস্ক নেওয়া টা ঠিক হবে না।সামনেই একটা পুরনো ঘর দেখা যাচ্ছে। আমরা চাইলেই ঐখানে গিয়ে আশ্রয় নিতে পারি।যখন বৃষ্টি কমে যাবে তখন বেরিয়ে পড়বো।”
-” রাস্তাঘাট বড্ড অচেনা লাগছে। বুঝতে পারছি না কোথা থেকে কোথায় এসে পড়েছি।সব হয়েছে তোমার জন্য। ননসেন্স একটা।”
-” এখন ঝগড়া করার সময় নয় নিস্প্রভ ভাই। প্লিজ চলো আমরা কোথাও আশ্রয় নিই। মাথার উপর বাজ , গাছপালা ভেঙ্গে পড়তে পারে। এই তোমার মতলব টা কী বলো তো? তুমি কী আমার বরকে বিধবা বানাতে চাও?আমার বাচ্চাদের মা হারা করতে চাও।মনে রেখো আমার যদি কিছু হয়।আমি কিন্তু তোমাকে ছেড়ে কথা বলবো না। একদম মার্ডারের মামলা ঠুকে দিব। জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়বো।”
-” উপায়ান্তর না পেয়ে নিস্প্রভ রওজার কথা মতো পুরোনো বাড়িতে আশ্রয় নেয়।তারা দুজনেই ভিজে গিয়েছে। নিস্প্রভ লক্ষ্য করে রওজা শীতে কাঁপছে। সে নিজের গায়ের শার্টটা খুলে পানি ঝরিয়ে নিয়ে রওজার হাতে দেয়। কাঁচুমাচু করে বলে,
-” জানি না কখন ঝড় বৃষ্টি থামবে।ভেজা কাপড়ে থাকলে তোমার ঠান্ডা লেগে যাবে।আপাতত আমার শার্ট টা গায়ে জড়িয়ে তোমার কাপড় থেকে পানি ঝরিয়ে নাও।”
-” অর্ধ নগ্ন ত্বরণ কে দেখে শুকনো ঢোক গিলে রওজা। ভেতরে ভেতরে শঙ্কা বিরাজ করে।সারা শরীর যেন অসাড় হয়ে আসে। নিস্প্রভ সেটা লক্ষ্য করে। রাশভারী কণ্ঠে বলে,
-”মেয়েরা মায়ের জাত। তাদেরকে অসম্মান করা তো দূরের কথা তাদের দিকে বাজে নজরেও তাকিয়ে দেখি নি কখনো। তুমি নিশ্চিতে থাকতে পারো।”
-” নিস্প্রভের কথায় ভরসা পায় রওজা।সে আড়ালে গিয়ে নিজের পোশাক চেঞ্জ করে নিস্প্রভের শার্ট গায়ে জড়িয়ে নিয়ে নিজের পোশাকের পানি ঝরিয়ে দড়িতে মেলে দেয়। তখনই বিদ্যুৎ চমকে ওঠে। সেই শব্দ কর্ণকুহরে প্রবেশ করতেই রওজা দৌড়ে গিয়ে নিস্প্রভকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে।
নিস্প্রভ ত্বরিত গতিতে দোয়েলের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। নিজের করা কার্যের জন্য লজ্জিত হয় রওজা । নিঃশব্দে মাটিতে বসে পড়ে।এদিকে বৃষ্টি থামার কোন নামই নিচ্ছে না। নিস্প্রভ এদিকে ওদিকে পায়চারি করতে থাকে।।ললাট জুড়ে বিস্তর ঘাম।
বাড়িতে যে একটা কল করে হেল্প চাইবে তার ও জো নেই। বৃষ্টির পানিতে ভিজে ফোন সুইচঅফ হয়ে গিয়েছে। অবশ্য একবার অন হয়েছিল। সেটাও কয়েক সেকেন্ডের জন্য।রওজার ফোনের ব্যাটারি ডাউন।সব মিলিয়ে একটা বাজে সিচুয়েশন ক্রিয়েট হয়েছে।”
-”ঘরের মধ্যে অমানিশা আঁধারে ছেয়ে আছে। মাঝে মধ্যে এক চিলতে দ্যুতি ছড়িয়ে বিজলী চমকে ওঠে ঘর আলোকিত হয়ে উঠছে। নিস্প্রভ কী করবে বুঝতে না পেরে মাটিতে বসে পড়ে।। বড্ড আনইজি লাগছে তার। চঞ্চলা তরুণী রওজাও কেমন যেন নুইয়ে পড়েছে।
সে নিঃশব্দে এসে নিস্প্রভের পাশে বসে নিস্প্রভের
এক হাত নিজের মুঠোয় পুরে নেয়।ভীত তটস্থ হয়ে
নিস্প্রভের গা ঘেঁষে বসে। রওজার মুখশ্রীতে ভয়ের ছাপ লক্ষ্য করে নিস্প্রভও মৌন রইল । দুজনেই ক্লান্ত থাকার দরুন কিছু মূহূর্ত অতিবাহিত হতেই তারা ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমায়।”
_______________
-” চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ কর্ণকুহরে প্রবেশ করতেই তন্দ্রা ঘোর কাটে রওজা, নিস্প্রভের। নিস্প্রভের পরনে শুধু মাত্র একটা সাদা গেঞ্জি।তার শার্ট দোয়েলের গায়ে জড়ানো রয়েছে। তারা দুজন খুবই ঘনিষ্ঠ হয়ে শুয়ে রয়েছে।এটা দেখে যতোটা না অবাক হয়েছে তার থেকেও বেশি অবাক হয়েছে ঘরের মধ্যে মানুষের সমাগম দেখে।
সেখানে নিস্প্রভ,রওজার পরিবারের সদস্যসহ আরো অনেক অপরিচিত লোকজন উপস্থিত রয়েছে। দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েকে এই অবস্থায় দেখে সবাই ছিঃ ছিঃ করতে শুরু করেছে। তাদের মধ্যে থেকে একজন বয়স্ক মহিলা বলে উঠলো,
-” ছিঃ ছিঃ ছিঃ।নষ্টামি করার আর জায়গা পেলে না।আমার বাড়িটাই বেছে নিলে? অপবিত্র করে দিলে আমার বাড়িটা।”
-” নিস্প্রভ সবাইকে সবটা বলার চেষ্টা করে। কিন্তু কেউ নিস্প্রভের কথা শুনতে চায় না। নিস্প্রভের বাবা নাজিম তালুকদার এসে নিস্প্রভের গালে ঠাস ঠাস করে থা'প্পড় মেরে দেয়। ক্ষোভ নিয়ে বলে,
-” ছিঃ ছিঃ ছিঃ।তুমি যে আমার ছেলে ।এটা ভাবতেও লজ্জা লাগছে আমার।আমার মানসম্মান সব ধুলোয় মিশিয়ে দিলে। ছিঃ লজ্জায় ম'রে যেতে ইচ্ছে করছে আমার।”
-” বিশ্বাস করো বাবা তোমরা যা ভাবছো সেরকম কিছুই হয় নি।ঝড় বৃষ্টির জন্য আমরা এই বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম।কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতে পারি নি।”
-” জাস্ট শাট আপ।তোমার মুখে একটা কথাও শুনতে চাইছি না আমি।যে কলঙ্কে দাগ তোমাদের গায়ে লেগেছে।আমি চাই তুমি সেই কলঙ্কের দাগ ধুয়ে মুছে সাফ করে দাও।”
-” তুমি ঠিক কী বলছো আমি বুঝতে পারছি না বাবা।”
-” তুমি আমার অতি আদরের সন্তান।আমি তোমাকে আমার শিক্ষা, আদর্শে বড় করেছি।আমি জানি তুমি কোন ভুল করতে পারো না। কিন্তু সেটা আমি আমার পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করবে। কিন্তু এখানে বাইরের যারা উপস্থিত আছে,তারা কেউই বিশ্বাস করবে না।সবাই নিজ চোখে তোমাকে আর দোয়েল কে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখেছে।এটা তোমার জন্য লজ্জাজনক না হলেও রওজার জন্যে লজ্জাজনক বটে।তুমি পুরুষ মানুষ।আর পুরুষ মানুষ বলতেই স্বর্ণের আংটি বাঁকাও ভালো। কিন্তু রওজা?মেয়েটা এই কলঙ্ক নিয়ে কীভাবে বাঁচবে?আমার ঘরেও মেয়ে আছে।আমি একজন বাবা হয়ে কোনো মেয়ের সর্বনাশ দেখতে পারি না।আমি চাই তুমি এক্ষুনি এই মুহূর্তে রওজাকে বিয়ে করবে।কলঙ্ক মুক্ত করবে রওজাকে।”
চলমান..
পরের পর্বগুলা এখানেই দেওয়া হবে তাই, এই ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন।
