সীমান্তহীন_ভালোবাসা
পর্ব_২
মায়িশা_নুরাইন
- " এইবার কতদিনের ছুটিতে এসেছিস রে সারওয়ার? "
- " দশ দিনের। "
- " তাহলে তো হাতে বেশী সময় বাকী নেই। মেয়েটাকে কেমন দেখলি? পছন্দ হয়েছে? কথা আগাবো? "
সারওয়ারকে খেতে দিয়ে তার মা সুরাইয়া বেগম বিয়ে নিয়ে কথাবার্তা শুরু করেছেন। সারওয়ার একটু আগেই বাহির থেকে ফিরেছে। সে ছুটিতে বাড়িতে আসতেই মা পুত্রবধূর ইচ্ছা পোষন করে। সারওয়ার তেমন একটা বিরোধিতা করে নাহ। তার বিয়ে করার যে অনেক ইচ্ছে, তাও নয়। তবে মায়ের কথা ভেবেই বিয়েতে রাজি হয়েছে। বাড়িতে বউ আসলে মায়ের অনেক সুবিধা হবে। সারওয়ারের বাবা নেই, মারা গেছেন। তারা দুই ভাই, এক বোন,,, ছোট ভাই-বোনের সাথেই মা বাসায় থাকেন। বোনটা এখনো ছোট। তাই বাসায় বড় কোন মেয়ে মানুষ থাকলে মায়ের জন্যই ভালো হবে। সব ভেবেই সারওয়ার বিয়েতে রাজি হয়েছিলো।
তবে আজ রিদার সাথে কথা বলে তার বিয়ের প্রতি তেমন একটা আগ্রহ কাজ করছে নাহ। শুধুমাত্র মায়ের কথা ভেবেই বিয়েতে রাজি হয়েছে।
- " তোমার ইচ্ছা। চাইলে কথা বলতে পারো৷ "
- " এটা কেমন কথা বললি? বিয়ে করবি তুই, আমার মতামত দিয়ে চলবে নাকি? "
- " বিয়েটা আমি করলেও থাকবে তো তোমার সাথেই। ওত ভেবে আমার লাভ কি? "
- " কিন্তু আমি তো আরও ভাবছি বউকে তোর সাথে পাঠিয়ে দিবো। তুই ব্যস্ত থাকিস, কথা বার্তা হয় না। টেনশনে থাকি। এবার অন্তত বউকে ফোন দিয়ে তোদের খবর নিতে পারবো। "
- " ওসব হচ্ছে না আম্মু। এমনিই আমি ব্যস্ত থাকি। কাউকে সাথে নিয়ে ঝামেলা বাড়ানোর কোন মানে নেই। আর তোমারও একজন সাথী প্রয়োজন। তোমার সাথেই থাকবে৷ আর কোন কথা বলো নাহ। "
সারওয়ার খাবার শেষ করে উঠে পরে। ঠিক তখনই বাড়ির সদর দরজা দিয়ে পা টিপে টিপে একটা ছেলেকে বাসায় প্রবেশ করতে দেখা যায়৷ সারওয়ার রুমে না গিয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে পরে। তাকিয়ে তাকিয়ে ছেলেটার কাহিনী দেখতে থাকে। ছেলেটা আশেপাশে খেয়াল না করেই নিজের রুমের দিকে যেতে নিলেই পেছন থেকে সারওয়ার গম্ভীর কন্ঠে ডাক দেয়।
- " ওখানেই দাড়া। এক পা-ও সামনে আগাবি নাহ৷ "
সাথে সাথেই ইমনের পা সেখানেই আটকে যায়। পিছু ঘুরে বড় ভাইকে দেখেই একটা শুকনো ঢোক গিলে। পরক্ষণেই দরজার দিকে তাকায়। ইমনের চোখ ঘুরানোর দিকে খেয়াল করে সারওয়ারও সেদিকে তাকায়। দেখতে পায় দরজায় দাঁড়ানো একটা মেয়ে মাথা নিচু করে ভয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
- " কোথায় ছিলি তোরা? "
ভাইয়ের গম্ভীর কন্ঠ শুনে ইরিন কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে। তাদের ভাইটা এমন দ'জ্জাল কেন? ভয়ে সে উত্তরটাও দিতে পারছে নাহ। ইরিনকে চুপ থাকতে দেখে ইমনই মুখ খুলে।
- " আসলে ভাইয়া, একটু ক-কাজে গিয়েছিলাম। ও-ই লাইব্রেরিতে,,,"
- " কাজ? লাইব্রেরিতে কাজ? কি কাজ করেছিস? লাইব্রেরি পরিষ্কার করতে গিয়েছিলি নাকি? "
- " না মানে... "
- " সত্যি কথা বল। মিথ্যা বলা আমি পছন্দ করি নাহ। "
এবার ইরিন একটু আগায়। মৃদু কন্ঠে বলে,,
-- " আমিই ইমনকে নিয়ে গিয়েছিলাম। একটু ফুচকা খেতে ইচ্ছে হয়েছিলো, তাই। "
-- " তারপর ফুচকা খেতে গিয়ে কখন দুপুর পার হয়ে গেছে, টের পাসনি, তাই তো? "
ইরিন চুপ করে থাকে। এমনি হলে সে চুপ থাকতো নাহ। তবে আজ তারা ভুল করে আসছে। আর বুঝাই যাচ্ছে, সারওয়ার সেটা কোনভাবে জেনে গেছে। তাই ভাইয়ের সামনে মিথ্যে বলতে পারছে নাহ।
-- " মারামারি করেছিস কেন? "
সুরাইয়া বেগম দ্রুত এগিয়ে আসেন।
-- " কিরে, কিসের মারামারির কথা বলছিস? কি করেছে তারা? "
-- " তোমার ছেলে বাহিরে মারামারি করে এসেছে আজকে।
শুধু সে একা নয়, তোমার মেয়েও সাথে ছিলো৷ "
-- " কিহ? ইরিন? কি বলছে তোর ভাই? আর ইমন? তুই কিছু বলিস নাহ কেন? "
-- " ওই শ'য়তান দুইটার মা'ইর খাওয়ার মতোই কাজ করেছিলো আম্মু। আমার সাথে ইরিনকে দেখে আজেবাজে কথা বলছিলো। আজকাল এদের জন্য ভাই-বোন হয়েও একসাথে বাহিরে বেরুতে পারি নাহ। প্রচন্ড রা'গ উঠেছিলো। তাই ইচ্ছে মতো পি'টিয়ে এসেছি৷ "
-- " তোরা বড় হবি নাহ? ভাই-বোন বাহিরে যাচ্ছিস ভালো কথা,, কোথাও ঝামেলা দেখলে এড়িয়ে চলে আসতে বলি নি? তোদের ভাই কত বড় একটা চাকরি করে জানিস নাহ? তোদের একটু ভুলের জন্য সব সারওয়ারের উপর দিয়ে যাবে। কবে বুঝতে শিখবি তোরা?
ইমনের মুখে আসল কাহিনী শুনে সারওয়ার একটু নরম হয়। ইমন আর ইরিন জমজ ভাই বোন। তবে তাদের চেহারার মধ্যে কোন মিল নেই, নন-আইডেন্টিক্যাল জমজ ওরা। দুজনের চেহারাতে সাদৃশ্য খুবই কম, একদম খুঁটিয়ে না দেখলে বুঝাই যায় নাহ৷
সারওয়ার রিদার সাথে দেখা করে মাইন্ড ফ্রেস করার জন্য একটা খালি জায়গায় গিয়ে প্রকৃতি উপভোগ করছিলো। তখন সেখানে তার এক ফ্রেন্ডের সাথে দেখা হয়ে গিয়েছিলো। তার থেকেই জানতে পেরেছে, রাস্তায় কোথায় নাকি ইমন আর ইরিন মিলে দুটো ছেলেকে পি'টিয়েছে। শুধু এর পেছনের কারণটা জানতে পারে নি।
এখন সব শুনে সারওয়ার বলে,,
--- " ছেলে দুটোর পরিচয় কি? জানিস কিছু? "
--- " এলাকার বখাটে হবে হয়তো। তুমি আর প্যারা নিও নাহ। আমরাই শায়েস্তা করে দিয়েছি। বদমাশ গুলোকে একেবারে মে'রে ফেলতে ইচ্ছে হয়েছিলো। "
--- " হয়েছে অনেক। ফ্রেস হতে যাহ। পরে এসে খাবার খেয়ে নিস। "
তারপর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,,
--- " আম্মু, আমি রুমে যাচ্ছি। অনেক ক্লান্ত আমি, ঘুমাবো। ডেকো নাহ আমায়৷
সারওয়ার সোজা রুমে এসেই বিশ্রাম নেওয়ার জন্য শুয়ে পরে। এমনিতে সব সময় কাজে ব্যস্ত থেকে অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই মাঝে মাঝে এমন ছুটিতে আসলে শরীরে হাজারো ক্লান্তি ভর করে। মনে হয় আবারও কাজ করার মতো সকল শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। অথচ ছুটি শেষে নিবাসে ফেরত গেলে পুনরায় সব ঠিকঠাক হয়ে যায়। এভাবেই চলছে জীবন,,,,
******************
-- " আম্মু, আমাদের ভার্সিটি থেকে ট্যুরে নিয়ে যাবে। টাকা লাগবে অনেক,,"
-- " আবার কিসের ট্যুর? দু'মাস আগেই নাহ কোথা থেকে ঘুরিয়ে আনলো। আবার কোথায় যাবে? "
রিদা একটু থতমত খেয়ে বলে,,
-- " আব...বান্দর, বান্দরবান নিয়ে যাবে। এবারেরটা ফিল্ড ট্রিপ। পড়াশোনার ট্যুর এটা। "
-- " আমাকে কি মনে হয় তোর? বোকা আমি? ফিড ট্রিপে বান্দরবান নিয়ে যাবে? এত দূরে? সত্যি কথা বল,,, "
মায়ের ঝাঁঝালো কন্ঠ শুনে রিদা মাথা নামিয়ে নেয়। মায়েক কাছে ধরা খেয়ে গেছে। মায়েরা শিক্ষিত হলে এটাই সমস্যা। পড়াশোনা নিয়ে মিথ্যা বললে সহজেই ধরে ফেলে।
রিদাকে মাথা নামাতে দেখে নওশীন বেগম বলেন,
-- " কি চাস তুই? বিয়ে নিয়ে কি সমস্যা? সব মানুষ কি এক? সবাই কি খারাপ হয়? ভালো মানুষের কি অভাব দুনিয়াতে? "
-- " তাহলে অন্য কোন ভালো মানুষকে ধরে আনো। তাও এই লোকটাকে বাদ দাও। তাছাড়া ওনার বয়স দেখেছো? আমার বয়সের দ্বিগুণ বড় হবে। বুড়ো লোক একটা,,"
-- " ৩১ বছর হলেই মানুষ বুড়ো হয়ে যায়? তোরই তো ২০ হয়ে যাচ্ছে। কতই আর ডিফারেন্স? ছেলেটাকে দেখেছিস নাহ? বয়স বুঝা যায়? কত ভদ্র একটা ছেলে, ভালো চাকরি করে। তারপরও কিসের ফা'লতু অজুহাত দিচ্ছিস৷ "
-- " আমার বিশ নাহ, উনিশ হয়েছে বলো। মেয়েদের বয়স বাড়িয়ে বলতে নেই জানো নাহ। আমি এখনো সুইট সিক্সটিনই রয়ে গেছি।হুহ,,
-- " বুড়ি দামড়ি মেয়ে বলে কি!! বয়স নিয়ে ঝামেলা তুই শুরু করেছিস। ছেলেদের এমন বয়সকে বেশী বলে নাহ। "
-- " সেটা বাদেও অ'ভদ্রতামি করেছে আমার...."
-- " আরেকটা মিথ্যা বললে সোজা থা'প্পড় খাবি। যাহ, তোর বিয়ে করতে হবে নাহ। ঘরে খুঁটি লাগাবো তোকে দিয়ে। ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া করতে হচ্ছে তোর জন্য। আমাদের বান্ধবীদের সম্পর্কটাও নষ্ট হবে এবার। "
নওশীন বেগম রা'গে গজগজ করতে করতে চলে যায়। রিদা মাথা নামিয়ে দাড়িয়ে ছিলো৷ তখন তার ছোট বোন তুবা এসে পাশে দাড়ায়। সে এবার ইন্টারে পড়াশোনা করছে। এ বছর এইচএসসি দিবে। বোনের সাথে তার দোমুখো সম্পর্ক। এই ভালো, এই খারাপ। তবে দুজনেই আবার দুজনের বিপদে পাশে এসে দাড়ায়। কাছাকাছি বয়স বলে দুজনের মধ্যে আন্ডারস্ট্যান্ডিং টাও বেশ ভালোই।
-- " কি করবি এবার? সত্যিই বিয়েটা করবি নাহ? এত ভালো পাত্র হাত ছাড়া করে ফেলবি? "
-- " হু। "
-- " পরে পস্তাবি না তো? তোর তো স্বভাবই, ভালো জিনিস ফেলে দিয়ে, পরে আবার টুকিয়ে নিস। এবারও এমন হবে না তো? "
রিদা নরম গলায় বলে,,
-- " নাহ। আমি শিউর এবার। আর্মি মানুষ আমার পছন্দ নাহ তুবা। আমি পারবো নাহ সারাজীবন টেনশন নিয়ে বেঁচে থাকতে। ওরা দেশ সেবা করতে গিয়ে পরিবারের কথা ভুলে যায়। যোগাযোগটাও বন্ধ হয়ে যায় কখনো। বাকী সব ফালতু কারণ বাদ দিলেও, এই হারিয়ে ফেলার ভীতিটা কি বড় কারণ নয়? তুই জানিস তো, আমি সাধারণ কেন পছন্দের জিনিস হারানো নিয়েও কত ভয়ে থাকি। আর সেখানে আমার স্বামীর কথা, ভবিষ্যতের ব্যাপার নিয়ে ছেলেখেলা করি কিভাবে বল? "
তুবা সব শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। সে বয়সে ছোট হয়েও যতটা বুঝদার, তার বড় বোন ততটাই অবুঝ। খুবই সেন্সিটিভ সে, অল্পতেই ভেঙে পরে। তার দ্বারা এসব পেশার মানুষের বউ হওয়া সত্যিই সম্ভব নাহ। সে পারবে নাহ সারাজীবন ভয় ভীতি, শঙ্কা নিয়ে জীবন কাটাতে।
-- " ঠিক আছে, যা ভালো মনে হয় কর। দেখি, আব্বু-আম্মু কি সিদ্ধান্ত নেয়। "
****************
রাতে খাবারের পর, রিদার বাবা রিদার সাথে কথা বলতে আসেন। রিদা তখন খেয়ে দেয়ে বাড়ান্দায় গিয়ে বসে ছিলো। বাবাকে দেখেই উঠে দাঁড়ায়।
-- " আব্বু, বসো এখানে। হটাৎ আসলে যে,,,"
-- " আমার মেয়ের কাছে আমি আসতে পারি নাহ? "
রিদা বাবার কথায় হেসে ফেলে। রিদার বাবা কবির ইসলাম, পেশায় একজন বেসরকারি চাকুরীজীবি। দুই মেয়ের সবচেয়ে ভালো বন্ধু তিনি। মায়ের চেয়েও মেয়েরা বাবার জন্য বেশী পা'গল। কবির সাহেবও মেয়েদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন। যাতে সবসময় কাছে না থাকলেও, মেয়েদের সাথে বাবার কোন দূরত্ব সৃষ্টি না হয়।
-- " অবশ্যই পারো। বসো আব্বু,,"
কবির সাহেব বসে মেয়ের পড়াশোনা নিয়ে কিছু কথা বলেন। রিদাও উৎসাহী হয়ে কত ঘটনাই বাবার সাথে শেয়ার করে। সবসময় সুযোগ না পাওয়ায়, মাঝে মাঝে সময় করে তাদের বাবা মেয়ের ভালোই আড্ডা বসে। বেশীরভাগই রিদার সাথেই কথা হয় ওনার। তুবা সবসময় এগিয়ে আসে নাহ। সে একটু অন্যরকমই। তবে রিদা অনেক সফ্ট মনের মেয়ে। বাবার সবচেয়ে বড় ন্যাওটা সে।
-- " তোমার আম্মুর সাথে কিছু নিয়ে মন কষাকষি হয়েছে? মায়ের মন খারাপ দেখলাম। "
রিদা মাথা নাড়িয়ে বলে,,
-- " জানোই তো, কিছুদিন ধরে আম্মুর ওই বান্ধবী আন্টির ছেলের সাথে বিয়ের কথা বলছে। কিন্তু ছেলে আর্মি, তাই না করে দিয়েছি। সেজন্যই রাগ করেছে। "
-- " না করেছো কেন? সারওয়ার ছেলেটা সত্যিই ভালো ছেলে। ওর সাথে কথা হয়েছে আমার। ওদের পরিবারটাও অনেক ভালো। তুমি ভালো থাকবে সেখানে। "
-- " আমার মন সায় দিচ্ছে নাহ আব্বু। আমার ভয় হয় খুব।
আমি শান্তি পাবো নাহ এই বিয়ে করলে। সারাক্ষণ টেনশনে থাকতে হবে আমায়। প্লিজ আব্বু, কিছু একটা করো তুমি। "
-- " কি করতে বলছো এখন? বিয়ের সিদ্ধান্ত তোমার আম্মুর ছিলো কিন্তু। "
-- " আমি একটু ঘুরতে যেতে চাই। একটু দূরে, বান্দরবানে। ততদিনে আম্মুর রা'গ কমে যাবে। "
-- " অনুমতি চাচ্ছো? দিতে পারছি নাহ তো। গার্ডিয়ান ছাড়া তোমায় এত দূরে পাঠাতে চাচ্ছি নাহ। এখন তো এই কথা বলে আমায় টেনশনে ফেলতে চাচ্ছো। "
-- " মামার বাসায় যাবো। তোমাদের তো সময় হয় না। তুবাকে সাথে নিয়ে যাই? "
-- " আমার তো মন সায় দিচ্ছে নাহ। তোমাদের দুই বোনকে নিয়ে আমি এমনিই টেনশনে থাকি। বিশেষ করে তোমায় নিয়ে। তুবা তোমার থেকেও বেশী ম্যাচিউর একটা মেয়ে। "
-- " কিছুই হবে নাহ আব্বু। প্লিজ যাই? মামা-মামী থাকবে তো। মামার সাথে কথা বলে নাও। "
রিদার মামা, সেলিম ইসলাম, সেখানকার একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করেন। চাকরীসূত্রে পরিবার নিয়েই সেখানে থাকে। ছোট একটা ছেলে আছে ওনার। কয়েকমাস হলো, সেখানে পোস্টিং হয়েছে ওনার৷ তারপর এখন পর্যন্ত রিদারা কেউ সেখানে যায় নি।
রিদার এমনিতেই পাহারের প্রতি একটু বেশীই আকর্ষণ আছে। আর বান্দরবান একটা পাহাড়ি এলাকা, রিদার পছন্দমতো একটা জায়গা। অনেকদিন ধরেই ভাবছিলো, সুযোগ করে সেখান থেকে ঘুরে আসার। এতদিনে হয়তো সেই সুযোগটা হলো।
বাবা বেশী একটা মানা করবে নাহ। যেহেতু মামা আছে সেখানে, তাই মায়েরও দ্বিমত করার কোন কারণ ছিলো নাহ। শুধু সমস্যা একটাই,, এই বিয়ে নামক প্যারা৷
***********
-- " মা, বাদ দাও এসব বিয়ের কথা। বাচ্চা মেয়ে একটা। কথা বলেই বুঝতে পেরেছিলাম। বয়সে বড় হলেও বাচ্চামো যায় নি। পারবে নাহ সংসার করতে। তোমার বান্ধবীকে বলে দাও, এসব বিয়ের কথা ভুলে যেতে। "
-- " কিন্তু, মেয়েটা মিথ্যে বললো কেনো তোকে নিয়ে? আমি রিদা মেয়েটাকে এমন ভাবি নি। দেখতে তো ভদ্র মেয়েই মনে হয়েছিলো। বিয়ে ভাঙতে এমন কাহিনী করবে, আমি আশা করি নি। "
-- " আহহা, বললাম তো। ভুলে যাও এসব। রুমে যাও, রেস্ট করো গিয়ে। "
সুরাইয়া বেগম মাথা নেড়ে চলে যান। তবে মাথা থেকে রিদা মেয়েটার কথা যাচ্ছেই নাহ। সুরাইয়া বেগম আর নওশীন বেগম কলেজ লাইফের বান্ধবী ছিলেন। বেশ ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিলো তাদের। তবে, বিয়ের পর হটাৎই দুজনের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে যায়। অনেক বছর তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিলো নাহ। বছর খানিক আগে, হটাৎ করেই অন্য এক বান্ধবীর মাধ্যমে তাদের পুনরায় যোগাযোগ হয়। দুজনেই খুব ইমোশনাল হয়ে পরেছিলো।
কলেজ লাইফে কত দুষ্টুমি করেছে দুজনে মিলে। তাদের বন্ধুত্বকে বেষ্ট ফ্রেন্ডশিপ জুটি বলতো সবাই। মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায়, সব ভুলে সম্পর্ক গাঢ় করতে দুজন মিলে ছেলেমেয়েদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এর মাঝে সুরাইয়া বেগম একবার বান্ধবীর বাসায় গিয়েছিলেন। তখন রিদার সাথে ওনার দেখা হয়েছিলো। প্রথম দেখায় মেয়েটা বেশ চোখে লেগেছিলো। ছিমছাম চেহারার, মোটামুটি সুন্দরী মেয়েটার মধ্যে বেশ মায়া মায়া ভাব ছিলো। তাই মেয়েটাকে, নিজের ছেলের বউ বানাতে ওমন প্রস্তাব দিয়ে বসেছিলেন। তবে মেয়েটা যে রাজি হবে নাহ, সেটা ভাবতেও পারেন নি৷
সুরাইয়া বেগম চলে যেতেই, সারওয়ার চিত হয়ে বিছানায় শুয়ে পরে। ভাবতে থাকে গতকালকের কথা। গতকাল কফিশপে সে নিজে গিয়ে অপেক্ষা করছিলো। মেয়েটা এসেছিলো পাক্কা পয়তাল্লিশ মিনিট লেইট করে। সারওয়ারের কাছে সময়ের মূল্য অনেক বেশী। তবুও মেয়েটাকে কিছুই বলে নি সে। ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করে গেছে৷
মেয়েটা আসতেই, প্রথম দেখায় তার কাছে বেশ ভালো লেগেছিলো। বয়স কম মেয়ের, সেটা দেখেই বুঝা গিয়েছিলো৷ কফি অর্ডার দিয়ে কিছুক্ষণ বসে ছিলো। দুজনের কেউ-ই কথা বলে নি। সারওয়ার শুধু তাকিয়ে থেকে মেয়েটাকেই পর্যবেক্ষণ করছিলো। তারপর কফি আসতেই কথা বলা স্টার্ট করে।
তবে মেয়েটাকে দেখে যতটা সরল, ভদ্র মেয়ে মনে হয়েছিলো,,, মেয়েটার ব্যবহার দেখে পরে আর সেসব মনে হয়নি। বলা যায়, সারওয়ারের মনটাই ভেঙে গিয়েছিলো।
যদিও মেয়েটাকে একটু ভয় দেখাতে জোর করে বিয়ের কথা বলেছিলো। তবুও মেয়েটার মধ্যে তেমন কোন রিয়েকশন দেখা যায় নি। যেন সে তার সিদ্ধান্তে অটল। আর সারওয়ার জোর করে বিয়ে, সংসারের উপর বিশ্বাসী নয়। এসব তার পার্সোনালিটির সাথে যায় নাহ।
তাই সব শেষে সিদ্ধান্ত নেয়, এই বিয়ের কথা বাদ। বিষয়টা যেহেতু বেশী দূর গড়ায় নি, তাই এখানেই স্টপ করে দেওয়াই ভালো হবে। সবারই নিজ নিজ জীবনে ভালো থাকার অধিকার আছে। মিস. রিদাকেও সে ছেড়ে দিলো।
অ'ভদ্রতামি করার জন্যও শাস্তি দিলো নাহ। তবে বিয়েটা ঠিক হয়ে গেলে গতকালকের ব্যবহারের জন্য ঠিকই শাস্তি পেতো মেয়ে। মেয়েটার ভাগ্য ভালো যে সে সারওয়ারের ভাগ্যে নেই। নয়তো নিজে অ'ভদ্রতামি করে উল্টো দোষ তার ঘাড়ে চাপানোর জন্য কঠিন শাস্তি পেতে হতো তাকে।
চলবে..............?
পরের পর্ব গুলা এই ওয়েবসাইটেই দেওয়া হয়েছে দেখেন?
(ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন সবাই। আশা করি আপনাদের মনমতোই লিখতে পারবো। নায়িকা চরিত্র হবে সফ্ট মনের, একটু চঞ্চল টাইপের। নায়ক গম্ভীর, পেশা অনুযারীই তার চরিত্র। অবশ্যই রোমান্টিক গল্প, রোমান্স থাকবে, স্বল্প পরিমাণে। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। সবাই রেসপন্স করবেন প্লিজ❤️)
