#প্রণয়ের_প্রণতি

#পর্বঃ০৩

#Arshi_Ayat


তৃষ্ণা যে এভাবে প্যাঁচে ফেলবে এটা ভাবতে পারে নি জুনায়েদ।এখন তো বড় শালীরা পেয়ে বসেছে।কথায় কথায় খোঁচা দিচ্ছে।বেচারা জুনায়েদ কিছু বলতেও পারছে না।এরকম মজা করার অভ্যাস নেই ওর।সিরিয়াস টাইপের মানুষ সে।এই জায়গায় আবার ফারাবী থাকলে পাল্টা জবাব দিতে পারতো।এরা সবাই চুনোপুঁটি,এরা কেউই পারবে না ওর সাথে।যাইহোক কি আর করার কপাল খারাপ হলে!এভাবে শ্বশুরবাড়িতে সারা সন্ধ্যা শালীদের আর বউয়ের কাছে অত্যাচারিত হয়েই কাটলো।রাতের খাবারের পর তৃষ্ণার চাচাতো বোন নিপা ন্যাকা কন্ঠে জুনায়েদ কে বলল,'দুলাভাই!  

আজকে আপনি আমাদের সাথে মুভি দেখবেন।'

'না মানে আজকে থাক।'জুনায়েদ এর মোটেও মুভি দেখতে মন চাইছে না।কিন্তু তৃষ্ণা ও ছাড়ার পাত্রী নয় তৎক্ষনাৎ বলল,'ওরা কত আশা নিয়ে বসে আছে আপনার সাথে 'দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে' মুভিটা দেখবে।আপনি না করবেন না প্লিজ!'

তৃষ্ণার সাথে তাল মিলিয়ে নিপা,পারুল,রিয়াও প্লিজ প্লিজ বলা শুরু করলো।জুনায়েদ নিরুপায়!এমন একটা বউ যার আছে তার আলাদা করে শত্রুর প্রয়োজন হয় না।অগত্যা এতোগুলো মেয়ের মাঝে তাকে বসতে হলো মুভি দেখার জন্য তারপর তৃষ্ণা ওর গা ঘেঁষে বসেছে।যাইহোক মুভি শুরু হলো।তবে জুনায়েদের মুভিতে মন নেই ওর চিন্তা হলো এখান থেকে কোনরকম পালাতে পারলে বাঁচি।কিন্তু এতোগুলো মেয়ের মাঝ থেকে ওঠা অসম্ভব।তাই চুপচাপ বসে থাকতে থাকতে তন্দ্রা চলে এলো।হঠাৎ তৃষ্ণা কানে কানে বলল,'ওরা সবাই ঘুমিয়ে গেছে।এবার ঘরে চলুন।'

তৃষ্ণা জুনায়েদ কে নিয়ে ঘরে এলো।এখন রাত ১.০০ টা।জুনায়েদের ঘুমে চোখ ঢুলছে তাই সে আগেই শুয়ে পড়েছে।ও ঘুমিয়ে যাবার পর তৃষ্ণা জুনায়েদের মুখের ওপর উপুড় হয়ে মৃদু হাসলো।লহু গলায় বলল,'তোমাকে পেতে আমার যে কত কষ্ট করতে হয়েছে তা তুমি জানো না!আর এবার যখন পেয়েই গেছি আর হারাতে দেবো না।' তারপর কপালের ওপরের চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে একটা আলতো চুমু খেয়ে ওর পাশেই শুয়ে পড়লো।


ঘুম ভাঙার পর জুনায়েদের মনে হলো কেউ ওকে পেঁচিয়ে ধরেছে।মাথাটা ঘুরাতেই তৃষ্ণার ঘুমন্ত মুখ দেখে থমকে গেলো।গোলগাল মুখশ্রী,উজ্জ্বল শ্যামলা বর্ণের ত্বক,টিকালো নাক,জোড়া ভ্রু আর গালে গাড় একটা তিল,অন্যান্য মেয়েদের মত ওর অত ঠোঁট গোলাপী নয় তবে সুন্দর!চুলগুলো কোঁকড়া।জুনায়েদের চুলও কোঁকড়া।তারমানে ওদের বাচ্চাদের কোঁকড়া চুল হবে!আচ্ছা বাচ্চারা কি ওর মত শান্ত স্বভাবের হবে নাকি তৃষ্ণার মত হাড়ে বজ্জাত হবে?কনফিউশনে পড়ে গেলো জুনায়েদ।বিয়ের পরের দিন এতো গভীর মনযোগ দিয়ে তৃষ্ণার মুখখানা দেখছে জুনায়েদ।কে বলবে জেগে থাকলে এই মেয়ে মানুষকে জ্বালিয়ে খায়!এসব ভাবতে ভবতেই হঠাৎ তৃষ্ণার গলা কানে এলো।সে আহ্লাদী গলায় বলল,'হায়!আমি এতো সুন্দর হয়ে গেছি যে আপনি আমার থেকে চোখ সরাতে পারছেন না।'

এবার জুনায়েদের হুশ হলো।আর সাথে সাথেই নিজেকে গাট্টা মারতে মন চাইলো।এখন কি কি বলে কে জানে!

তৃষ্ণা আবারও একই রকম সুরে বলল,'বিয়ের পর নাকি মানুষ সুন্দর হয়ে যায়।তাই বোধহয় আমিও সুন্দর হয়ে গেছি।আচ্ছা বিয়ের পর ছেলেরা সুন্দর হয় না কেন?'

'ছেলেরা সবসময়ই সুন্দর।সেটা বিয়ের পর হোক আর আগে হোক।'

'এহ!আসছে আমার রুপবান'টা।চেহারার নাই ঢক!নাম রাখছে আবদুল হক।'

এটা বলেই তৃষ্ণা উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো আর জুনায়েদ আবারও বিষ্মিত!এই মেয়ে কি বলে গেলো?ওর চেহারা সুন্দর না?


তৃষ্ণা বের হতেই দরজায় ডাক পড়লো।জুনায়েদ এগিয়ে যাবার আগেই তৃষ্ণা ওর পথ আগলে দাড়িয়ে বলল,'আমি দেখছি।আপনি যান ফ্রেশ হন।'

জুনায়েদ কিছু না বলে ওয়াশরুমে ঢুকলো।কিন্তু ওয়াশরুম থেকেই তৃষ্ণার গলার আওয়াজ পাওয়া গেলো ও গলা হাকিয়ে বলছে,'নিপা!তুই যা।আমি তোর দুলাভাই একসাথে গোসলে যাবো।আমাদের নাস্তা পরে দিয়ে যাস।'


জুনায়েদ আবারও হতভম্ব!কি বললো ও এগুলো?ওরা দুজন একসাথে গোসল করতে যাবে!তাও আবার নিপাকে বলল।জুনায়েদ পণ করলো আজ আর রুম থেকেই বের হবে না।লজ্জায় মুখ দেখাবে কি করে?এই তৃষ্ণাটা না কি যে করে!এখন ওর বোনগুলো এসে মজা নেওয়া শুরু করবে।


ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে জুনায়েদ বলল,'কি বললেন আপনি এগুলো?'

'শোনেন নি?আমি তো যথেষ্ট জোরেই বললাম।'

'শুনেছি কিন্তু কেন বললেন?'

'মন চেয়েছে।এবার আসুন গোসল করি।'

'আমি করবো না গোসল।'

'না করেন।আমি করে আসি।পরে আপনার চুল ভেজা না দেখলে মানুষ অনেক কথা ওঠাতে পারে।আগেই সতর্ক করলাম।'

এটা বলেই তৃষ্ণা ওয়াশরুমে চলে গেলো আর জুনায়েদ ধপাস করে খাটে বসে পড়লো।এখন মনে হচ্ছে কালকে ওর ও পালিয়ে যাওয়া উচিত ছিলো।


অগত্যা জুনায়েদকে ও গোসল করতেই হলো।তারপর নাস্তা খেয়ে জুনায়েদ ঘরেই বসে ছিলো কিন্তু শান্তি নেই তৃষ্ণার বোনগুলো এসে মজা নেওয়া শুরু করলো।জুনায়েদ মনে মনে বলল,'এ যাত্রায় বাঁচতে পারলো বাবা আর শ্বশুর বাড়ির নাম নেবো না।'


দুপুরের খাবারের পর জুনায়েদ আর তৃষ্ণা রওনা হলো বাড়ির পথে।বাড়ি এসেই দেখে ড্রইং রুমে ফারাবী আর ওর বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছে।তৃষ্ণাকে দেখে ওরা কেমন করে যেনো চাইলো।কিন্তু তৃষ্ণা সবার দেখে তীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।আর মনে মনে বলল,'তোদের সবার সাথে পুরোনো হিসেব বাকি আছে।সময় আসছে সব হিসাব চুকাবো।রেডি থাকিস।'


তৃষ্ণা উপরে চলে গেলো আর জুনায়েদ ওদের সাথে বসে কিছুক্ষণ কথা বলে একটা প্রয়োজনীয় কলে বাইরে গেলো।


সন্ধ্যায় ফারাবী বাসায় ছিলো না।বন্ধুদের সাথে বেরিয়েছে।শ্বাশুড়ি নিজের ঘরে সিরিয়াল দেখছে।জুনায়েদ আর শ্বশুর বাইরে।এটাই সুযোগ।তৃষ্ণা ফারাবীর ঘরে গেলো নিশ্চুপে।ঘরে একটা মিনি ক্যামেরা আর রেকর্ডার সেট করে দিয়ে চলে আসলো।এবার আসল খেলা শুরু!


জুনায়েদ বাসায় এলো রাত নয়টায়।ঘরে ঢুকেই দেখলো তৃষ্ণা বই পড়ছে।জুনায়েদ কে দেখে তৃষ্ণা বই বন্ধ করে বলল,'হানিমুনে কোথায় যেতে চান?'

'আমার ছুটি নেই।কাল থেকেই কলেজে যেতে হবে।'

'ছুটি নিয়ে নেবেন।বিয়ে করছি!হানিমুনে যাবো না তা কি হয়?'

'আচ্ছা আপনার যেতে ইচ্ছে করলে যান।আমি টিকিট করে দেবো।'

'হানিমুনে একা গিয়ে মাছি মারবো?নাকি অন্য ব্যাটা নিয়ে যাবো?'

জুনায়েদ তৃষ্ণার কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে ফেললো।রাগ হলো যেনো!যতই হোক বিয়ে করা বউ তো!একটা তো অধিকার এসেই যায়।আর যাই হোক বউয়ের মুখে বরের নাম ছাড়া অন্য কারো নাম মানায় না।জুনায়েদ গম্ভীর স্বরে বলল,'এই সপ্তাহে হবে না।আগামী সপ্তাহে ছুটি ম্যানেজ করে নেবো।'

জুনায়েদের গলার স্বর শুনেই তৃষ্ণা বুঝলো সাহেব রাগ করেছে তাই সে ওর সামনে দাড়িয়ে আচমকা গলা জড়িয়ে ধরে বলল,'আহারে!রাগ হয়েছে আমার বরটার?থাক কান্না করে না!অন্য ব্যাটা নিবো না।নিজের ব্যাটা ই নিবো।'


চলবে....

সব পর্বের লিংক এক সাথে দিছি পড়ে নিন 👇

https://www.facebook.com/share/p/1CDjHZJ5GZ/

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url