শুভ্র_মায়ার_প্রেমকথন

#লিমা_ইমরাত


#পর্ব_২


 মাঝরাতে নে*শায় বুদ হয়ে ঢুলতে ঢুলতে নিজের বাংলোতে ফিরলো শুভ্র। মায়া তখন ঘুমে ধূলুমুলু অবস্থায় শুভ্রের জন্য অপেক্ষা করছে। শুভ্রর পা গুলো টলছে তখন; চোখে ঝাপসা দেখছে ক্ষণে ক্ষণে। নিজের কক্ষের সামনে এসে একটু দাঁড়ালো; অতঃপর ধাক্কা দিয়ে দরোজা খুলেই চোখে পড়লো মায়াকে। পরনে লাল রঙের থ্রী পিস ; ঘুম ঘুম চেহারায় ভয় এবং আতঙ্ক মিশ্রিত চাহনি। শুভ্র এগিয়ে গিয়ে মায়ার মুখমুখি দাঁড়াতেই বিদঘুটে গন্ধে মুখ কুচকে সরিয়ে নিলো মায়া। শুভ্রর জেদ চেপে বসলো এবার ; মায়াকে টেনে এনে কোমর জড়িয়ে ধরে মুখমূখী করলো । মায়া নিজেকে ছাড়াতে চেয়ে ছটফট করে উঠলো। শুভ্র বিরক্ত হয় ; কিঞ্চিৎ নিষিদ্ধ প্রেমাকাঙ্খা জাগ্রত হলে মনে।


___মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিস কেনো ? মন ভরে গেছে? এই ! এই তাকা আমার দিকে । দেখ তোর দহন কতটা পোড়াচ্ছে আমাকে । দেখতে পাচ্ছিস ? 


____ শুভ্র ভাই! ছাড়ুন আমাকে । ব্যথা পাচ্ছি আমি। আপনি নেশা করেছেন ; মাথা ঠিক নেই আপনার।


শুভ্র এবার মায়ার এক মুচড়ে ধরে চাপ দিলো । মায়া ব্যথায় কুকিয়ে উঠে অন্য হাতে চেপে ধরলো শুভ্রর শার্টের কলার। চোখ বেয়ে গড়িয়ে পরলো দুই ফোঁটা অশ্রু কনা । 


____তোর কি মনে হয় আমি পাগল? নেশা করার পরও আমার মস্তিষ্ক তোকে ভুলতে পারছে না ; আমি খেতে পারি না ; ঘুমাতে পারি না তোর জন্য ; কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারি না। তিলে তিলে আমাকে মারছিস তুই ! আমার জীবনে বিষবৃক্ষের ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছিস। এখন বলছিস তোকে ছেড়ে দিতে? তোকে ছেড়ে দিলে বাঁচতে পারবো আমি ? 


মায়া শান্ত হয়ে গেলো মুহূর্তেই। নিশ্বাস ধীর হয়ে উঠলো শুভ্রর কথায়। যেই ছেলেটা তাকে দুই চোক্ষে দেখতে পারে না সেই প্রথম দিন থেকে ; সেই ছেলে কিনা তাকে ছাড়া বাঁচতে পারবে না? এও বিশ্বাস করতে হবে? 


____মেরে ফেলুন আমাকে। বিসবৃক্ষ উপড়ে ফেলুন নিজের জীবন থেকে। এমনিতেই বেঁচে থেকে কি বা করবো আমি ? মানুষের বাঁচতে হলে কোনো শক্তপোক্ত উদ্দেশ্যের প্রয়োজন পড়ে ; একটা বিশ্বস্ত হাতের প্রয়োজন হয়। নিজের বলতে একটা মানুষ থাকতে হয়। আমার তো সেসব কিছুই নেই !


____তোর আমার হাতে মরার খুব সখ ? তোকে আমি অবশ্যই মারবো তবে ধীরে ধীরে। তোর মৃত্যু আমার হাতেই হবে! 


নেশার ঘোরে সমান তালে টলছে শুভ্র। কথা গুলো বলতে গিয়ে ঢলে পড়লো মায়ার ওপরে। দুই হাতে তাকে ঝাপটে জড়িয়ে নিলো মায়া। ততক্ষনে জ্ঞান হারালো শুভ্র। তার মতো তাগড়া যুবককে বেশি সময় ধরে রাখা সম্ভব হলো না মায়ার পক্ষে। কোনো রকমে বিছানায় শুইয়ে দিতে হাঁফিয়ে উঠলো মায়া। শুভ্রর জুতো খুলে রেখে ভালো মতো শুইয়ে দিলো; অতঃপর গায়ে কম্ফোর্টার টেনে দিয়ে বেরিয়ে এলো কক্ষ থেকে। 


___________________


সকলের ঝলমলে সূর্যের কিরণ এসে চোখে পড়তেই ঘুম ভেংগে গেল শুভ্রর। মাথা টা ভীষণ ভারী হয়ে আছে তার। মাথা ব্যথা নিয়েই উঠে চলে গেলো ওয়াশরুমে। শাওয়ার নেওয়া প্রয়োজন । ফ্রেশ হয়ে বাহিরে এসে খোঁজ করলো মায়ার। গত কাল রাতের ঘটনা যদিও তার মনে নেই ; তবে মায়ার তো তার কক্ষেই থাকার কথা। গায়ে টি শার্ট জড়াতে জড়াতে পা বাড়ালো নিচে ডাইনিং রুমের উদ্দেশ্যে। সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে শব্দ পেলো কিচেনে ; মায়া তখন শুভ্রর জন্য ব্রেকফাস্ট বানাতে ব্যাস্ত। 


____আমাকে ঘুমে রেখে চলে এলি কেনো ? আমি বলেছি তোকে ব্রেকফাস্ট বানাতে? সার্ভেন্ট ছিল না?


____সার্ভেন্ট দের হাতে ব্রেকফাস্ট বানালে সেটা মুখে রুচতো না আপনার। বড় মা লোক পাঠিয়েছিল একটু আগে। গত কাল থেকে আপনাকে ফোন পাচ্ছেন না। বাড়িতে ফিরতে বলছে আজকেই! 


____আমরা কোথাও যাচ্ছি না ! 


মায়া ভ্রু কুঁচকে তাকালো । অতঃপর শান্ত ভঙ্গিমায় জানালো " 


___আমরা বলতে ? আমি একটু পরেই চলে যাবো এখন থেকে। তবে চিন্তা করবেন না ; আপনাদের বাড়িতে আর ফিরবো না। এবার নিজের একটা ব্যবস্থা আমি নিজেই করে নিবো। আপনাদের মাঝে আর অশান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছি না !


" শুভ্র এগিয়ে এসে মায়ার বাহু টেনে নিজের মুখোমুখি করে শক্ত কন্ঠে বললো "


____যেখানে খুশি যা ! আই ডোন্ট কেয়ার এবাউট ইউ। কিন্তু আমাকে এই অসহ্য দহন থেকে মুক্তি দিয়ে তারপর যাবি। আমার জীবনের সুখ শান্তি ফিরিয়ে দিয়ে যাবি। এমনি এমনি তোকে পালাতে দিবো ? আমাকে দাবানলে পুড়িয়ে ছাই করে নিঃশব্দে চলে যাবি? উহু! 


মায়া হাসলো হালকা ; দুঃখের নদীতে যার বসবার ; সে কি নতুন করে দুঃখ অনুভব করবে? মায়া ও পারলো না অনুভব করতে। মা বাবা কে হারিয়ে মানুষের লাথি উষ্ঠা খেতে খেতে বড্ড হৃদয়হীন হয়ে গেছে মেয়েটা। আজ কাল কোনো দুঃখ কষ্ট যেনো তাকে ছুঁতে পারে না। তবে প্রসঙ্গ যখন শুভ্র ; তখন কেমন কেমন করে যেন মায়া নিজের খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে আসে। কঠোর শক্ত মেয়েটির আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্পর্শকাতর এক প্রাণ ; তার মাঝেই শুভ্রের বিচরণ চলে বহুকাল।পরবর্তী পর্ব পেতে লিমা ইমরাত - Lima Emrat পেইজে ফলো দিয়ে রাখুন!


____মাফ করবেন ছোট সাহেব! চাইলেও আমি পারছি না আপনার কথা রাখতে। এসব নিছক ভিত্তিহীন চাওয়া আপনার। 


" শুভ্র রেগে গেলো এবার। ধাক্কা দিয়ে কিচেন থেকে বের করলো মায়াকে। পরতে পরতে নিজেকে সামলে নিলো মায়া। শুভ্র এসে পুনরায় হাত টেনে কোলে তুলে নিলো মায়াকে। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে উঠতে বললো"


___তোর অজান্তেই তুই আমার হয়ে গেছিস বহুদিন আগে। আমার থেকে মুক্তি তোর মৃত্যুর পরও মিলবে না। আখিরাতেও তোর ওপর আমার সবচেয়ে বেশি অধিকার থাকবে মায়া !


___আমাকে নামান শুভ্র ভাই। কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ? আমাকে যেতে দিন প্লীজ। আপনাদের জীবনে থাকতে থাকতে আমি ক্লান্ত ; হাঁফিয়ে উঠছে। এবার অন্তত আমার অবস্থার ওপর ছেড়ে দিন আমাকে!


____বার বার ছেড়ে দেওয়ার কথা বলছিস তুই? চল ! আজকে তোকে নতুন কিছু থেরাপি দিবো ; ইহকালে তুই আর আমাকে ছাড়তে চাইবি না তখন। মুক্তির কথা ভাবতেই তোর রুহ কেঁপে উঠবে! 


মায়াকে সফেদ রঙের বিছানায় ছুঁড়ে ফেললো শুভ্র । পরনে তখন লাল খয়েরী রঙের থ্রী পিস জড়ানো। ফর্সা শরীরে লাল রং টা কেমন ঝলমলিয়ে উঠলো মায়ার। গলায় সোনার পাতলা চেইন; সূর্যের আলোয় চিকচিক করলো ; তখন হুস হারা শুভ্র। আলতো হাতে ছুঁয়ে দিলো মায়ার নরম তুলতুলে মুখখানি। মায়া বুঝতে পারে শুভ্রর চোখে উম্মাদনা। তাইতো সরে যেতে চাইলো তক্ষুনি । শুভ্র বুঝি ছেড়ে দেওয়ার পাত্র? 


_____সবসময় এত পালাই পালাই কেনো ? তোর শাস্তি পাওয়া বাকি আছে এখনো । আমি ভুলে যায়নি ; তুই আমার সঙ্গে বেইমানি করেছিস। আমার অবর্তমানে বিয়ে করতে যাচ্ছিলি । আচ্ছা আমি যদি সময় মতো না পৌঁছতাম ! তাহলে কি করতি তুই? বিয়ে করে নিতি ওই হারা*মির বাচ্চা টাকে? সংসার করতি ওর সাথে? 


"পরক্ষনেই চোখের উম্মাদনা রূপান্তরিত হলো ক্ষোভে। নিজের রুক্ষ ঠোঁট দারা চেপে ধরলো মায়ার নরম রক্তাভ ওষ্ঠ। ওষ্ঠের ঘর্ষণে নাজেহাল করে তুললো মেয়েটাকে। মায়া কেঁপে উঠলো প্রতিটি অবাধ্য স্পর্শে। খমাছে ধরলো শুভ্রর হাতের উলটো পিঠ। চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়লো সুখের অশ্রু। কেনো জানি মনে হলো তার প্রতি শুভ্রর প্রত্যেকটি স্পর্শের বৈধতা রয়েছে। দৃঢ় অধিকারবোধ প্রকাশ পায় তার আচরণে !


চলবে,,,,


বাকি পর্বগুলা এই ওয়েবসাইটেই দেওয়া হয়েছে দেখেন।


[ বানান ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমা সুলভ দৃষ্টিতে দেখবেন। বেশি বেশি শেয়ার করুন।কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না ]

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url