#রুমির_প্রতিশোধ
#লামিয়া_ইসলাম
#শেষ_পর্ব
ইতিকে বাথরুমে এনে রেখে আমি আমার শাশুড়ির গায়ে থাকা ম্যাক্সিটা খুলে এনে নিজে পড়লাম। হাতে হ্যান্ড গ্লাভস পরে নিলাম।তারপর শাশুড়ির কিচেনে থাকা কুরবানীর গরু কাটার চাপাটি দিয়ে ইতির শরীরটাকে টুকরো টুকরো করলাম। দেখলাম ম্যাক্সিটাতে ছিটেফোঁটা রক্ত লেগেছে। প্রমানের জন্য এত টুকুই যথেষ্ট। ইতির শরীর থেকে যে পরিমানে মাংস বের হয়েছে সেখান থেকে ৫ কেজি আলাদা করে রাখলাম। বাকি মাংসগুলোকে শাশুড়ির ডিপ ফ্রিজে রাখলাম।আর ইতির মাথা,কলিজা, হৃদয় আর চোখ দুটোকে নিয়ে গিয়ে বাড়ির পানির ট্যাংকির মধ্যে ফেলে দিলাম। আমার শাশুড়ির সিমটাকে আবার তার ফোনে লাগিয়ে দিলাম।সব কাজ শেষে নিজের জামা কাপড় পড়ে আমার নিজের ফ্ল্যাটে গিয়ে ইতির মাংসগুলোকে সুস্বাদু করে রান্না করলাম।
কেবল তো ইতির উপর প্রতিশোধ নেয়া শেষ করলাম। আর আমার শাশুড়ির জন্য গর্ত তো আমি অলরেডি খুঁড়ে ফেলেছি। এবার আমার শশুর, ননদ, নন্দাই আর আমার প্রাণ প্রিয় স্বামীর পালা।
আমার শাশুড়ি বিকালে ক্ষীর রান্না করছিলো। আমি তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু আমার হাতে লুকানো ছিলো ভয়ানক বিষের শিশি। শাশুড়ি যখনি পায়েসে দেয়ার জন্য বাদাম কাটছিলো। সেই ফাঁকে পুরো শিশির সব বিশ ঢেলে দিলাম। এই বিষ যে খাবে তার মৃত্যু অনিবার্য। আর হবেই না কেনো এই ছোট একবোতল বিষের দাম নিয়েছে ৩ লক্ষ টাকা। অবাক হচ্ছেন তো এত দামি বিষ কিনলাম কেনো? এই বিষের বিশেষত্ব হচ্ছে রুগী ধুকে ধুকে অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে মারা যাবে। ভাগ্যক্রমে আমার শাশুড়ি আর বিকেল বেলা রোজিনা খালাদের বাসায় গেলো না। ভালোই হলো বেচারা তার পরিবারের সাথে আরো কিছু সময় কাটাতে পারবে।রাতে খাবারের সময় সে সবাইকে ক্ষীর খেতে দিলো। আমার বাদামে এলার্জি আমি কে ক্ষীর খাই না এটা সে ভালো করেই জানে তাই আর আমাকে খেতে বললো না। আর আমার শাশুড়িও দুধ দিয়ে রান্না করা জিনিস সেভাবে খায়না। খাওয়া শেষে আমি আমার স্বামীকে বললাম। আমাদের ফ্ল্যাটের চাবি খুঁজে পাচ্ছি না । যদিও আরিফ আমাকে কিছুক্ষন বকাবকি করলো। কিন্তু এত রাতে কোনো চাবিওয়ালাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না তাই রাতে আমরা শাশুড়ির ফ্ল্যাটেই ঘুমালাম। রাত ২ টা বাজতেই আমার স্বামী আর শশুর অসুস্থ হয়ে পড়লো। আর উপরে ননদের ফ্ল্যাট থেকেও খবর এলো যে ননদ আর নন্দাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সেই গভীর রাতেই তাঁদের নিয়ে আমি আর আমার শাশুড়ি হসপিটালে গেলাম।
হসপিটালে ডাক্তার কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে দিলো। ডাক্তার তাঁদের দেখে বললো এটা পুলিশ কেস। এর মধ্যেই সকাল হতেই বাড়ি থেকে ভাড়াটিয়াদের ফোন এলো। ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করছে যে পানি থেকে পচা কিছুর গন্ধ আসছে। আমার শাশুড়ি আমাকে বললো,
-রুমি তুমি বাড়ি গিয়ে ট্যাংকিটা পরিষ্কার করাও। আমি এখানে আছি। ট্যাংকিতে মনে হয় ইঁদুর বা বিড়াল পঁচে মরে আছে।
আমি জানতাম এমন কিছুই হবে।আমি হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় দেখলাম আমার বাবা মা হসপিটালে এসেছে। রাতে খবর পেয়ে তারা তখনই রওনা দিয়েছে। আমার সত্যিই বাবা মাকে দরকার ছিলো। কারণ আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি এতসব কিছু সহ্য করতে করতে।
বাসায় ফিরে ট্যাংকি পরিষ্কারের জন্য লোক নিয়ে আসলো। কিছুক্ষন পরেই ইতির মাথা পেয়ে লেবাররা চিৎকার শুরু করলো। পুরো বিল্ডিংয়ের সবাই এসে এখানে জড়ো হলো। পুলিশ ও এসে পড়লো কিছুক্ষনের মধ্যে। ইতির বাবা মাকেও খবর দেয়া হলো। তারা এসে আমার শাশুড়ির কথা বললো যে ইতি সর্বশেষ তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলো।এর মধ্যেই হসপিটাল থেকে খবর এলো আমার শশুর স্বামী ননদ নন্দাই সবাই বিষক্রিয়ায় মারা গেছে। তাই আমিও একটু অভিনয় করতে শুরু করলাম। হঠাৎ করে এসব শুনে শক হয়ে অজ্ঞান হওয়ার ভান করলাম। লোকজন আমাকে ধরে আমার ফ্ল্যাটে নিয়ে এলো। তারপর একে একে সব সাক্ষী আমার শাশুড়ির বিরুদ্ধে বলতে লাগলো। বাড়ির দারোয়ান থেকে শুরু করে ইতির বাবা মা সবাই আমার শাশুড়ির কথাই বললো। ইতিমধ্যে আমার শাশুড়ি ও বিমর্ষ অবস্থায় বাড়িতে ফিরলো। যদিও সে বাড়িতে ফিরে তার বিরুদ্ধে ইতিকে খুন করার অভিযোগ শুনে অনেকটা অবাক হলো। সে বার বার বলছিলো সে ইতিকে খুন করেনি। কিন্তু পুলিশ এবার তার ফ্ল্যাটে সার্চ করতে গেলো। ফ্ল্যাটে ঢুকেই পুলিশ একে একে ইতির খুনের প্রমান পেতে লাগলো। আমার শাশুড়ির ম্যাক্সি, খুনের চাপাটি সব কিছু তারা ফরেন্সিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা হলো। পুলিশ বার বার শাশুড়িকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো যে ইতির লাশের বাকি অংশ কোথায়। ইতিমধ্যে আমার খালা শাশুড়ি মেয়ে হারানোর দুঃখে প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছে। হঠাৎই এ সে প্রায় ক্ষিপ্ত হয়ে বললো,
-নিজের ছেলেকে দিয়ে বড় লোকের মেয়ে বিয়ে করিয়ে আমার মেয়েকে ঠকিয়েছিস। ৫ বছর ধরে আমার মেয়েটাকে আশা দিয়ে রেখেসিস। যখনি দেখলি বউয়ের বাবা তার নামে সব সম্পত্তি লিখে দিচ্ছে সেই লোভে আমার মেয়েকে তোর ছেলের জীবন থেকে সরাতে ইতিকে মেরে ফেললি। তুই একটা কালনাগানী।
উপস্থিত সবাই তাঁদের কথা শুনে অবাক হয়ে গেলো। লোকজন ছিছি করতে লাগলো আমি নিজেও অনেক অবাক হয়ে গেলাম। কিভাবে একজন মা তার মেয়ের অন্যায় কে বছরের পর বছর প্রশ্রয় দিতে পারে।যদিও সেও তার শাস্তি পাবে। নিজের একমাত্র মেয়েকে হারানোর কষ্ট সে সারাজীবন অনুভব করবে।
পুলিশ আমার শাশুড়িকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেলো। সাথে আমাকে আর আমার খালা শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হলো।
বেশ কিছুক্ষন জিজ্ঞাসাবাদের পর আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু আমার খালা শাশুড়িকে এখনো তাঁদের কাস্টাদিতেই রাখা হয়েছে।
বাসায় ফিরে দেখতে পাই আমার স্বামী, শশুর আর ননদ, নন্দাইয়ের লাশ পোস্টমর্টেম শেষে নিয়ে আসা হয়েছে। আমার বাবা তাঁদের দাফন কাফনের ব্যবস্থা করে। ঠিক পরের দিন বাসায় আবার পুলিশ আসে। ইতির লাশের বাকি অংশ গুলো তারা খুঁজতে এসেছে। পুরো বাড়ির সব জায়গা খোজা শেষে তারা আবার আমার শাশুড়ির ফ্ল্যাটের তল্লাশি নেয়। এবার তারা সাথে ফরেন্সিক এক্সপার্ট নিয়ে এসেছিলো। আর তাই ফ্রিজে ওতো মাংস দেখে ফরেন্সিক এক্সপার্টের সন্দেহ হয়। তাই তারা মাংসগুলো পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায়। তারপর আর পুলিশ এই বাড়িতে আসে নি। কারণ ডিএনএ পরীক্ষায় এটা প্রমান হয়ে গিয়েছিলো মাংসগুলো ইতির। আর আমার শশুরবাড়ির পরিবারের বাকি সদস্যদের পেটেও ক্ষীরের সাথে বিষ পাওয়া গেছে। তাই সব সাক্ষী প্রমান আমার শাশুড়ির বিরুদ্ধে চলে যায়। আর আমার শাশুড়ির যাবৎ জীবন জেল হয়। শুনেছি আজকাল নাকি তার মানসিক ভারসাম্য ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পুলিশ কিছুদিন পর তিনতলার ফ্ল্যাট টা খুলে দেয়। কিন্তু আমি আর তিন তলায় যাওয়ার সাহস পাইনি। আমার ভয় করে অনেক। এই পুরো বাড়িটাকেই আমার কাছে যেন কেমন লাগে? আমার স্বামীর ব্যবসাটা এখন আমিই দেখাশুনা করি। আমার মা বাবা ও বর্তমানে আমার সাথে এইখানেই থাকে।
যদিও এই বাড়িতে আর আমরা বেশিদিন থাকবো না। কারণ এই বাড়িটা আমি বিক্রি করে অন্য জায়গায় একটা বাড়ি কিনেছি। এই অভিশপ্ত বাড়িটা থেকে আমি অনেক দূরে যেতে চাই। পারলে আমি আমার অতীতের স্মৃতি গুলো মুছে ফেলতাম। হ্যা তবে আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া করি যে আমি ওই জানোয়ার গুলোর হাত থেকে বেচে গিয়েছি। বাবা আমাকে এবার বিয়ে দেয়ার কথা বলেছিলো। কিন্তু আপাতত আমি এইসব নিয়ে কিছু ভাবছি না। সম্পর্কে জড়াতে ভয় লাগে। আবার যদি কোনো মুখোশধারী মানুষ জীবনে আসে। তাই নিজেই নিজেকে ভালো রাখার প্রতিজ্ঞা করেছি।
(সমাপ্ত )
