পার্ট -২
মা বেচারা কা'ন্না করতে করতে চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে। ২০০৩ সালে বাবা মায়ের সাথে ছেলে জসিম রা*গ করে সেই যে বাড়ি থেকে চলে গেলো আর ফিরলো না। ছেলে জসিমের জন্য মা অপেক্ষার প্রহর আর শেষ হলো না । এই যেমন মাস যায় বছর যায় ছেলে জসিম আর ফিরলো না।
মা তো সন্তানকে এভাবে হা*রাতে পারে না। এই বি"চ্ছেদের বেদ'না সইতে পারছেনা।
অপেক্ষা করতে করতে করতে একদিন চিঠি এলে ২০০৭ সালে। ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার হামিদ মিয়া জসিমের ঠিকানায় পৌঁছাতে ভুল করলো না।
কেননা পোস্টমাস্টার হামিদ মিয়া জানতো জসিমের মা প্রতি মাসে একবার পোস্ট অফিসে গিয়ে ঘুরে আসে । তার ছেলে জসিম চিঠি পাঠাইছে কিনা জানতে।অবশেষে তার ছেলের চিঠি পোস্টমাস্টার হামিদ মিয়া হাতে পেল।
পোস্টমাস্টার চিঠি পেয়ে আর দেরি করলো না। সরাসরি জসিমের মায়ের বাড়িতে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করল।
ডাক দিল জসিমের মা খালাম্মা ঘরে আছেন। ও জসিমের মা ঘরে আছেন????
পোস্টমাস্টার হামিদ মিয়ার ডাক শুনে জসিমের মা-বাবা ঘর থেকে বের হলো। জসিমের মা ঘরের বাহিরে এসে বলে উঠল আমাকে জসিমের মা বলে কেউ ডাকে না অনেকদিন পর জসিমের মা বলে ডাক দিলো। আমার ছোট ছেলে অয়নের নাম ধরেই ডাকত অয়নের মা বলে ডাকতো।
কিন্তু আজ মা ভিন্ন নাম, ভিন্ন ডাক নাম শুনে অবাক। পোস্টমাস্টার কে জসিমের মা বলে উঠলো অনেকদিন পরে আমার জসিমের মা বলে ডাকতে শুনলাম তোমার কাছ থেকে। তা কোন খুশির খবর আছেনি।
পোস্টমাস্টার হামিদ মিয়া বললো আপনার ছেলে জসিম চিঠি পাঠিয়েছে। এই কথা শোনার সাথে সাথে চিঠি হাতে পেয়ে জসিমের মা বলে উঠলো আমার জসিম। আমার জসিম চিঠি পাঠিয়েছে,,,এক চি'ৎকার করে বে*হুশ।
এই খবরটা তার ম'স্তিষ্ক নিতে পারেনি।
প্রতিবেশীরা জসিমের মায়ের এই অবস্থা দেখে সবাই একসাথে জড়ো হয়ে যায়। অনেকে বলাবলি করছিল চিঠি খুলে আমরা পড়তে শুরু করি।
জসিমের বাবা বলল না জসিমের মাকে আগে সুস্থ করেন পরে চিঠি পড়বেন। সবাই চিঠি পড়ার জন্য আগ্রহ আছে। চিঠিতে কি লিখছে জানার আগ্রহ আছে।
এতো বছর পর হঠাৎ একটা গায়েব ছেলের চিঠি এসেছে।
পরে গ্রামের ডাক্তার এনে সাধারণ চিকিৎসা দিয়ে জ্ঞান ফিরছে জসিমের মায়ের। জসিমের মা জ্ঞান ফিরতেই চিঠির কথা জানতে চেয়েছে যে আমার ছেলের পাঠানো চিঠি কোথায়????
জসিমের বাবা তখন সান্ত্বনা দিলো। আর বললো তুমি ধৈর্য ধরো। অপেক্ষা কর সবাই চিঠিতে কি লিখছে জানার জন্য বসে আছে । তুমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে তাই চিঠিটা কেউ পড়েনি । চিঠি টা আমার কাছে আছে তুমি কি শুনতে চাও।
জসিমের মা বলল হ্যাঁ আমি শুনতে চাই।
জসিমের ছোট ভাই অয়ন চিঠি পড়া শুরু করল।
চিঠি,,,,,,,,,
প্রিয়,,,
মা-বাবা আসসালামুয়ালাইকুম কেমন আছো। আশা করি তোমরা ভালো আছো। নিশ্চয় আমাকে তোমরা অনেক খুঁজছো। কেননা তোমরা আমার ছবি দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছো সেই পত্রিকা আমার হাতে এসেছিল আমি দেখেছি। সেই নি'খোঁজ বিজ্ঞাপন দেখে অনেক কান্না করেছি। আমি এখনো তোমাদের কথা ভেবে মাঝে মাঝে কা"ন্না করে বালিশ ভিজিয়ে ফেলি। কিন্তু তোমাদের সামনে দাঁড়ানোর সাহস পায়নি বলে আসেনি। আজ অনেক বছর পেরিয়ে গেলে তোমাদের সাথে দেখা নেই। হয়তো তোমরা ভেবেছিলে আমি ম"*রে গেছি। আমি তো ম"*রার মতই আছি। তোমাদের ২ জন কে অনেক মিস করি। জানো মা আমি কেন তোমাদের থেকে লুকিয়ে আছি।
কেন বাড়ি আসছি না।
সেদিন তোমরা আমার আর সাদিয়ার ভালোবাসা যখন মেনে নেওনি। বিশেষ করে বাবা বিয়ে দিবেনা বলছো তখন আমার অনেক রা*গ হয়ে ছিলো। তাই বাবার সাথে আমি যে অপ'*রাধ করেছি। বড় বেয়া"দবি করেছি। আজো আমি নিজেকে ক্ষ*'মা করতে পারছি না। বাবার সামনে কি ভাবে দাঁড়াবো সেই সাহস পাচ্ছিলাম না। জানো মা আমি তোমাদের অনেক মিস করি। খুব মনে পড়ে। কিন্তু পরে আবার সেদিন তুমি ছেলে না বলে অ'স্বীকার করেছো। এরপর আমি এগুলা চিন্তা করে আর বাড়ি ফেরার সাহস পাচ্ছিলাম না।
আমি তোমাদের উপর অভিমান করছি না। আমার ভুলের প্রা'য়শ্চিত্ত অনুভব করছি। জন্ম দাতা পিতার সাথে আমি যে অপ'রাধ করেছি তা আমাকে কু*রে কু*রে খাচ্ছে।
বাবার কাছে একটা অনুরোধ থাকবো। তোমার বে*"য়াদব ছেলেকে তুমি ক্ষ*মা করে দিও। ক্ষ"*মা করে দিও। আমি সেদিন অবুঝ ছিলাম। প্লিজ বাবা আপনি আমায় ক্ষ*মা করবেন। প্লিজ বাবা। বাবা আপনার ছেলে আপনার সাথে অনেক বড় অপ'*রাধ করে ফেলেছে।যা ক্ষমার অ'যোগ্য। আপনি ক্ষমা না করলে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন না।
মাগো ও মাগো তোমার কথা খুব মনে পড়ে। সেই যে তোমার হাতে ভাত খেয়েছি আজ অনেক বছর যাবত তা মিস করছি। আমি জানি আমাকেও তুমি সবচেয়ে বেশি মিস করো। হয়তো আমার কথা ভেবে অনেক কা*ন্না করো। আমি মাঝে মাঝে তোমাকে স্বপ্নে দেখি মা।
আমার ছোট ভাই অয়ন এখন বড় হয়েছে। আশা করি আমার কথা মনে করলে অয়ন কে দেখবা।
মা আমি ফিরবো একদিন যেদিন বাবার কাছে ক্ষ*"মা চাইতে পারবো। যেদিন আমার সেই সাহস হবে তোমাদের ২ জনের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষ"মা চাইতে পারবো। আমি সেদিন ফিরবো।
তবে এতটুকু জেনে রাখো তোমার ছেলে তোমাদের ছাড়া ভালো নেই। আমার কোনো ঠিকানা তোমাদের দেওয়া হয়নি। আমি ইচ্ছে করেই দেইনি। আমাকে খোজার চেষ্টা করো না। আমার অনু*শোচনার সমাপ্তি ঘটলে আমি নিজেই আসবো।
তোমাদের জন্য মন থেকে দোয়া করি। আমি একটা চাকরি করি ছোটখাটো। এতোটুকু জেনে রাখো। আবার বলছি আমাকে খোঁজার চেষ্টা করো না খুঁজে পাবেনা।
আজ রাখছি ,,,আমার জন্য দোয়া করো।
ইতি
তোমাদের বে"*য়াদব ছেলে জসিম।
জসিমের এমন চিঠি পড়ে তার বাবা-মা ফু*পিয়ে ফু*'পিয়ে কা"ন্না করছে।
প্রতিবেশীরা সেদিন অনেক কা"ন্না করছে। মা ভেবেছে অনেকদিন পর ছেলের চিঠি যখন পেয়েছে তারা ছেলেকে পাবে কিন্তু তার ছেলে এখনও তাদের সামনে আসতে চাইছে না। হয়তো ল'জ্জায় ,হয়তো অনুশো*চনায় ভু"গছে, হয়তো অপ"*রাধবোধে ভুগছে, এইজন্য তাদের ছেলে তাদের সামনে এখনো আসতে চায় না ।এটা ভেবে তার আরো বেশি কা"ন্না করছে।
বাবা চি*ৎকার করে কা'ন্না করছে আর বলছে আমি তোকে ক্ষ"মা করে দিয়েছি বাবা। তুই চলে আয় বাপ। মা ও কা"ন্না করছে। কিছু সময়ের জন্য ঘরের ভিতরে কা"ন্নার শব্দ এমন হচ্ছিল মনে হচ্ছে কেউ মা"*রা গেছে। মা/*রা যাওয়ার মতই অবস্থা এক গায়েবী চিঠি এসেছে কিন্তু তার ছেলের দেখা মেলেনি বা কোথায় আছে তা জানলো না। কোনো ঠিকানা উল্লেখ করেনি।
বড় আশা নিয়ে তারা ভেবেছিল এই বুঝি চিঠি যখন এসেছে তার ছেলে ফিরে আসবে।
কিন্তু চিঠি পড়ার পরে তার ভিন্নতা খুঁজে পায়।
জসিম যে মেয়েটিকে ভালোবাসতো সাদিয়া সে এই চিঠির খবর শুনে চলে এসেছে। এসে জানতে পারলো জসিমের অবস্থা,, কিন্তু জসিম ফিরবে কিনা এটা জানতে পারলো না। সেও জসিমের মায়ের সাথে বসে কা"ন্না করে আবার চলে গেছে। এই মেয়েটি জসিমকে এক নজর দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে। অন্য জায়গায় বিয়ে হলেও আজও জসিমকে ভুলতে পারেনি।
হয়তো একদিন তারা দুজন দুজনকে কঠিন ভালোবাসছিল আল্লাহ উপর থেকে মিলাইনি তাই আজ দুজনে আলাদা।
যাইহোক সেদিনের পর থেকে আবারো জসিমের জন্য তার বাবা-মা অপেক্ষা করতে লাগলো। জসিমের মা জসিমের জন্য অপেক্ষা করতে করতে একটা সময় চোখে সমস্যা দেখা দেয়। কম দেখা শুরু করে । কারণ জসিমের জন্য ম্যাক্সিমাম সময় কাঁদতো।
এভাবে দেখতে দেখতে আরো ৩ বছর চলে যায় সালটা ২০১০ সাল। জসিম আর যোগাযোগ করে না। জসিমের মা দিন দিন চোখে কম দেখতে শুরু করে। একদিন সত্যি সত্যি সে অ'ন্ধ হয়ে যায়.........চলবে।
লিখতে গিয়ে কান্না
করে দিছি। আজ,,,
লেখক মোঃ সোরমান হোসেন রবিন।
সত্য ঘটনা: অভিমান করে বাড়ি ছেড়েছি ২০০৩ সালে
খুব শীঘ্রই তৃতীয় পার্ট দেওয়া হবে। পরের পর্ব পেতে এই ওয়েবসাইটেই বিজিট করুন।
