#আমার_ঘর_আমার_সংসার 


৪র্থ পর্ব+৫ পর্ব


-তাহলে শুন।তুর্জ যখন ভার্সিটিতে পড়ত।তখন তুর্জের সাথে লামিসা নামের এক মেয়ের রিলেশন হয়।প্রথমে ভালো বন্ধুত্ব হয় পরে আস্তে আস্তে সে বন্ধুত্ব প্রেমে রূপ নেয়।তুর্জের তখন মদের নেশা, অন্য কোন মেয়ের নেশা ছিল না।তখন আমার সোনার টুকরা ছেলে ছিল তুর্জ।লামিসার সাথে বন্ধুত্বটা আস্তে আস্তে প্রেমে গড়ায়।বেশ ভালোই কাটছিল ওদের সম্পর্ক।একদিন আমার ছেলে এসে আমাকে লাজুক মুখে বলল


-মা একটা কথা বলব।রাগ করবে না তো।


আমি হাসতে হাসতে উত্তর দিলাম


-কি কথা?রাগ কেন করব।টাকা লাগবে?


-আরে মা টাকা লাগবে না।তবে…

-কি রে আটকে গেলি যে।


-নাহ মানে।


-কি রে লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছিস মেয়েদের মত ঘটনা কি?


আমার ছেলে লজ্জা মাখা মুখে উত্তর দিল


-মা আমি লামিসাকে খুব পছন্দ করি।তুমি যদি চাও আমি ওকে বিয়ে করতে চাই।


আমারও মনে মনে লামিসাকে বেশ পছন্দ ছিল।মেয়েটা সুন্দরীও ছিল আর শিক্ষিতাও ছিল।আচার ব্যাবহার ও অনেক ভালো ছিল।তাই আমি ছেলের প্রস্তাবে আর অমত করেনি।তুর্জকে হাসতে হাসতে বললাম


-এতে লজ্জা পাওয়ার কি আছে?লামিসাকে আমার ও বেশ পছন্দ।কবে ওদের বাড়ি যাব আমাকে বলিস।


তুর্জ মাথা চুলকাতে চুলকাতে জবাব দিল


-তুমি যদি চাও কালকেই যাব ওর বাসা থেকেও অন্য জায়গায় বিয়ের প্রেসার দিচ্ছে।এজন্য যত তাড়াতাড়ি যাওয়া যায় ততই ভালো।


-আচ্ছা। কালকেই যাব তাহলে।ওদেরকে জানাতে বল।পরদিন সকালে আমি আর তুর্জ লামিসাদের বাসায় যাই।লামিসার মা,বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব রাখি।তারাও অমত করে নি।তারাও হাসি মুখে বলেছিল


-ছেলে মেয়ে পছন্দ করেছে এখানে আমাদের অমতের কিছু নেই।


কিছুদিনের মধ্যেই লামিসা আর তুর্জের বিয়ে হয়।বেশ ভালোই কাটছিল ওদের সংসার।কোন জগড়া বিবাদ কিছুই ছিল না।হাসি খুশি সুখী সংসার বলতে পার।


মা এবার কথাগুলো বলে একটু দম নিতে লাগলেন।আমি বুঝতে পারলাম না এত সুখী সংসার রেখে লামিসা কেন চলে গেল।তার মানে লামিসা কি পরকিয়াতে জড়িয়ে পড়েছিল।আমি মাকে প্রশ্ন করলাম


-মা লামিসাকে কি তাহলে পরকিয়াতে জড়িয়ে পড়েছিল?অন্য ছেলের সাথে কি চলে গিয়েছিল।


মা একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলল


-নাহ এমন কিছুই হয় নি।


-তাহলে?


-জানি না লামিসার কি হয়েছিল কোথায় গিয়েছে আর কেন গিয়েছে।লামিসাকে ৫ বছর যাবত পাওয়া যাচ্ছে না।বিয়ের ১ বছর পর যে কোথায় চলে গিয়েছিল বুঝতে পারে নি।জানতেও পারি নি।অনেক খুঁজ নিয়েছি খুঁজ পায় নি।সবাই তো বলে বসল পালিয়ে গিয়েছে কোন ছেলের সাথে।তুর্জ ও এখন ভাবে হয়ত লামিসা পালিয়ে গিয়েছে।এরপর থেকে তুর্জের বদঅভ্যাস গুলো বাড়তে থাকে।অনেকবার বিয়ের কথা বলেছি রাজি হয় নি।লামিসাকে কোনভাবেই তুর্জ ভুলতে পারে নি।লামিসার কথা শুনলেই তুর্জ রেগে যায়।লামিসা চলে যাওয়ার পর এমন একটা এটাক হয়েছিল।আর আজকে তুমি ওকে এসব নিয়ে বেশ কথা শুনিয়েছ তাই আবার এমন হল।আমার ভিতরেও একটা প্রশ্ন জাগল তাহলে লামিসা কোথায় গেল?মনে মনে বেশ অপরাধবোধ ও হল। কারন না জেনে উনাকে আমি অনেক কষ্ট দিয়েছি।এমনটা করা আমার উচিত হয় নি।কথা শুনতে শুনতেই ভোর হয়ে গিয়েছে।মসজিদে ফজরের আযানের ধ্বনি শুনা যাচ্ছে।আমি অযু করে নামাজে দাঁড়ালাম।রবের কাছে আমার স্বামীর সুস্থতা কামনা করলাম।আমার দুই নয়নে শ্রাবনের মেঘ যেন বেয়ে চলেছে।নামাজ শেষ করে এসে দেখলাম ডাক্তার সাহেব এসেছে।ডাক্তার সাহেবকে উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করলাম


-তুর্জের অবস্থা কেমন?


ডাক্তার সাহবে স্বস্তি ভরা গলায় জবাব দিলেন


-আমরা তো ভেবেছিলাম উনি হাঁটতে চলতে পারবে না।কিন্তু এটা তো ক্ষতি উনার হয় নি।হাঁটতে চলতে পারবে তবে কথা বলতে পারবে না।উনার মুখের ব্যায়াম গুলো বেশি বেশি করাতে হবে আর উনার সামনে বেশি বেশি কথা বলতে হবে।তাহলে হয়ত কথা বলতে পারবে আবার।আর আবারও সাবধান করে দিচ্ছি উনাকে কোনভাবে উত্তেজিত করা যাবে না।


আমি শান্ত সুরে জবাব দিলাম


-সেটা মাথায় থাকবে।আমি কি একটু দেখা করতে পারি উনার সাথে?


-হ্যা পারবেন।তবে যেকোন একজন যেতে পারবেন।আপনাদের মধ্যে কে যাবেন ভেবে একজন যান।


আমি কথাটা শুনে চুপ হয়ে গেলাম।মনে হয় আমার শ্বাশুড়ি মা যেতে চাইবে।কিন্তু ঠিক এ মুহুর্তে আমার শ্বাশুড়ি মা আমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল


-মা তুমিই যাও।


কথাটা শুনে আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না।দৌঁড়ে তুর্জের কাছে চলে গেলাম।দেখলাম উনি তাকিয়ে আাছে।আমি উনাকে ধরে কাঁদতে লাগলাম।উনি আমাকে ছাড়াতে চাইলেও আমি উনাকে ছাড়তে চাইলাম না।ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললাম


-আমাকে ক্ষমা করে দিন।আমি আর এমন করব না।আমি কিছু না জেনে এমন করেছি।আপনি যে সুস্থ আছেন এতেই আমি খুশি।একের পর এক এসব বলতে লাগলাম।হঠাৎ করে খেয়াল করলাম তুর্জ আমায় চিমটি দিয়ে বসল।আমি তুর্জের চিমটি খেয়ে তুর্জের দিকে তাকিয়ে দেখলাম তুর্জ কিছু একটা বলতে চাচ্ছে কিন্তু পারছে না।হাতে ইশারা দিয়ে যেন কি বুঝাতে চাচ্ছে।অনেকক্ষণ পর বুঝতে পারলাম উনি খাতা কলম চাচ্ছে।আমি একটা খাতা আর কলম জোগাড় করে উনাকে দিলাম।উনি কি একটা যেন লিখছেন।লিখার পর আমাকে দেখালেন।আমি লিখাটা দেখে বেশ লজ্জা পেয়ে বসলাম।উনি লিখেছেন


-তুমি আমার উপর এভাবে হামলে পড়েছ কেন?আর যা হয়েছে তো হয়েছেই এটা নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই।এত মাফ চাইতে হবে না।আর দয়াকরে আবার আমাকে ঝাপটে ধরে আমার উপর হামলে পড় না।


আমি লজ্জায় লাল মুখ হয়ে মাথা নেড়ে বললাম


-আচ্ছা।

দুইদিন হাসপাতালে থাকার পর উনাকে বাসায় নিয়ে গেলাম।ডাক্তারের কথা মত উনার সাথে অনেক কথা বলতে লাগলাম।বেচারা মাঝে মাঝে আমার কথা শুনে হাসে আবার বিরক্ত ও হয়।কিন্তু আমার কথার ফুলঝুরি আর থামে না।উনি বিরক্ত হয়ে খাতায় লিখল


-তুমি এত বক বক কেন করছ পাগলের মত।বেশ বিরক্ত লাগছে।আমার রাগ উঠার আগে এখান থেকে বের হও তো।


-হ্যা আপনার কথায় আমি বের হয়ে যাই।আর আপনি এভাবে পড়ে থাকেন।আমি বের হওয়ার পর আপনার সেবা কে করবে শুনি?ঐদিন বাসায় যে রুব্বানকে নিয়ে এসেছিলেন।যে রুব্বানের জন্য আমাকে ঘর থেকে বের করে উনার সাথে থেকেছিলেন।সে রুব্বান তো আপনার এ হাল দেখে চলে গিয়েছিল।ঐগুলা তো আসে টাকার জন্য।কেন আপনি এসব করবেন।আমি আপনার স্ত্রী। একজন মানুষের জন্য তো আপনি আরেকজনকে কষ্ট দিতে পারেন না।আর সবাই তো এক না।আর এটা ভাব্বেন না যে আমি চলে যাব।চলে যাওয়ার হলে এত কিছু সহ্য করতাম না।আপনি শুধু আমার থাকেন।আপনার এ অবস্থা না হলে জানতামেই না আমি আপনাকে কতটা ভালোবেসেছি।আপনি যখন হাসপাতালে ছিলেন তখন উপলব্ধি করেছি যে আমি আপনাকে মনের অজান্তেই অনেক ভালোবেসে ফেলেছি।আর শুনেন আজকে নাকি চকলেট ডে।তাই আপনার জন্য চকলেট এনেছি।


উনি আবারও বিরক্ত মাখা মুখে কাগজে লিখলেন


-তুমি যাও তো।আমি চকলেট খাব না।আর পরের বার ঘরে আসলে একটা কস্টেপ নিয়ে আসবা।


আমি কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম


-আপনি কস্টেপ দিয়ে কি করবেন?


কাগজে লিখে জবাব দিলেন

-তেমার মুখে মারব।


আমি হাসি হাসি মুখে বললাম


-আপনি চকলেট টা না খেলে কিন্তু আমি আরও বক বক করব।জানেন তো কলেজে আমি অনেক বকবক করতাম।আমার পাশে কেউ বসত না আমার বকবকের জ্বালায়।


কাগজের গুটা গুটা অক্ষরে হাসি হাসি মুখে লিখে জবাব দিলেন


-সে তোমাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে।আর চকলেট খানা দাও।আমি খাচ্ছি।আর তুমি এখন বিদায় হও।


আমি চকলেটটা দিয়ে চোখ টিপুনি দিয়ে বের হয়ে গেলাম।


খানিক্ষন পর উনার রুমে এসে বেশ চমকে গেলাম।কারন উনি…


#আমার_ঘর_আমার_সংসার 


৫ম পর্ব


খানিকক্ষণ পর উনার রুমে এসে চমকে গেলাম কারন উনি একটা কাগজে লিখেছেন


-সরি তোমাকে এতদিন এভাবে কষ্ট দেওয়ার জন্য।তোমার সব ঠিক আছে।তবে তুমি বকবক টা একটু বেশি কর।বকবকানি আমার একদম ভালো লাগে না।


আমি উনার এ লিখাটা পড়ে এত খুশি হয়েছি যে কি বলব।আমি খাুশিতে নাচতে নাচতে বললাম


-বকবক তো একটু করতেই হবে।না হলে আপনি সুস্থ হবেন না।


কাগজে পুনরায় লিখলেন


-তোমার মত এরকম বকবক লামিসাও করত।কেমনে পার এত বকবক পকপক করতে?


লামিসার কথাটা শুনে কেন জানি না লামিসাকে বেশ হিংসা লাগল।হিংসার পাহাড় টা নাক ফুলে বের হল।নাক ফুলাতে ফুলাতে বললাম


-আপনি মনে হয় লামিসাকে খুব বেশি ভালোবাসেন তাই না।


উত্তরে উনি লিখলেন

-সত্যি বলতে লামিসাকে অনেক ভালোবাসি আর আগেও ভাসতাম।লামিসা যে কোথায় চলে গেল বুঝতে পারলাম না আজও।কোন টাকা পয়সা নেয় নি।টাকা পয়সা নিলে হয়ত ভাবতাম টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়েছে।কিন্তু কোথায় যে গেল আজও তার হদিশ মিলল না।খুব কষ্ট হয় মাঝে মাঝে উত্তর খুঁজে না পেয়ে।


আমি বুঝতে পারলাম উনার ভিতরে বেশ কষ্ট হচ্ছে।কিন্তু এখন কোনভাবেই উনাকে কষ্ট পেতে দেওয়া যাবে না।আমাকেই যা করার করতে হবে।আমি উনাকে জড়িয়ে ধরে বললাম


-আমাকে কি লামিসা ভাবা যায় না।লামিসার মত আমাকে ভালো না বাসুন লামিসার ভালোবাসার থেকে একটু ভালোবাসা তো দিতে পারেন।আমি না হয় ঐটা নিয়েই থাকব।আমি তো আপনার স্ত্রী আমাকে কি ভালোবাসা যায় না।কাছে রাখা যায় না।আবার কি নতুন করে সব শুরু করা যায় না?


এবার ও উনি কথাগুলো শুনে আমাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছিল।কিন্তু আমি নাছোড়বান্দার মত ধরেই ছিলাম।উনি হুট করে আমাকে চিমটি দিয়ে বসল।চিমটি খেয়ে আমি আহ করে বলে উঠলাম


– কি ব্যাপার চিমটি দিলেন কেন?


উনি কাগজে রাগ রাগ মুখে বললেন


-তুমি হুট করে এভাবে ঝাপটে ধর কেন।


আমি লজ্জা মাখা মুখে উত্তর দিলাম

-আমার মন চাইছে।আমার কথার উত্তর গুলো কিন্তু পাই নি।


উনি গজগজ করে কাগজে লিখলেন


-সব তো শুরু করা যায় তবে আমার যে অনেক বদঅভ্যাস সেগুলো একদিনে ঠিক হবে না।আর লামিসার জায়গা দিতে পারব না।ওকে আমি যে কতটা ভালোবাসি বলে বুঝাতে পারব না।ওর জায়গা না দিয়ে যতটা পারা যায় শুরু করব।


যাক উনি যে নতুন করে সব শুরু করতে রাজি হয়েছে এটাই অনেক।আমি একটু হেসে বললাম


-আমার শুধু একটা রিকুইস্ট আপনি কোন রুব্বান বাসায় আনবেন না।মানে মেয়ের নেশাটা বাদ দিতে হবে।


উনি মাথা ঝাকিয়ে বললেন আচ্ছা।


আমার যে কি খুশি লাগছে বলে বুঝাতে পারব না।এত খুশি আগে কখনও লাগে নি।আমিও এখন বলতে পারব এটা আমার ঘর আমার সংসার।তুর্জকে আবার ঝাপটে ধরে বললাম


-আমি অনেক খুশি হয়েছি।আমার এতেই হবে।আমি আপনাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি।


উনি আবারও আমাকে চিমটি দিয়ে বসল।চিমটি খেয়ে আমি উনাকে ছাড়লাম।উনি আবারও লিখলেন


-তোমার সমস্যা কি?আর এভাবে ঝাপটে ধর কেন?ঝাপটে ধরতে না করেছি না।হুট করে ঝাপটে ধরে দম বন্ধ করে দাও।তোমার মত পাগল কম দেখেছি।


আমি একটু কপালটা কুচকে কানটা ধরে জিহ্বায় কামড় দিয়ে জবাব দিলাম


-জানি না কেন এমন করে ফেলি।অটো হয়ে যায়।


-পড়া লিখা কতদূর করেছ?


এইচ.এস.সি দিব।সামনে পরীক্ষা।


-এই মেয়ে তোমার সামনে পরীক্ষা আর তুমি এখানে এভাবে সময় নষ্ট করছ?


– না মানে আমি তো বই নিয়ে আসে নি।


উনি আবার কাগজে লিখে বললেন


-মাকে গিয়ে এটা দিয়ে আসবে।


কাগজটা হাতে নিয়ে দেখলাম উনি লিখেছেন


-মা ইশিতার সামনে পরীক্ষা আমি না হয় জানতাম না।তুমি তো জানতে।তাহলে বই কেন কিনে দাও নি।আজকেই বই কিনে দিও।


আমি দৌঁড়ে লিখাটা মায়ের কাছে নিয়ে গেলাম।মা লিখাটা পড়ে হাসতে হাসতে বললেন


-তুর্জ একটু পড়া পাগল ছেলে ছিল।তোমাকে দেখো পড়ার জন্য কত প্রেসার দেয়।আজকে তোমার জন্য বই যদি না কিনে আনি দেখবে আমার উপর রাগ করে বসবে।আমি তোমার জন্য বই কনে আজকেই আনব।এখন তুমি তুর্জের গোসলের ব্যাবস্থা কর।


-আচ্ছা মা আমি যাচ্ছি।


এ বলে আমি তুর্জের রুমে গিয়ে তুর্জকে ধরে বাথরুমে নিয়ে যেতে লাগলাম।বেচারা জানি কি বলতে চাচ্ছে।বেচারার হাতে খাতা কলম ও নাই আর কিছু বলতেও পারছে না।আমি তুর্জকে জোর করে ধরে গোসল খানায় এনে গোসল করাতে লাগলাম।বুঝতে পারছিলাম উনি বেশ রেগে যাচ্ছে।তবুও গোসল করাতে লাগলাম।গোসল শেষে উনাকে বললাম


-হয়েছে এবার রুমে যান এ তোয়ালেটা পড়ে।আর খাটের উপর কাপড় রাখা আছে পড়ে নিবেন


তুর্জ আমার হাত থেকে তোয়ালে টা জোরে টান দিয়ে রুমে প্রবেশ করল।আমিও গোসল টা সেড়ে ফেললাম।।


গোসল থেকে বের হয়ে বেশ সারপ্রাইজ পেলাম।কারন এত অল্প সময়ে যে শ্বাশুড়ি মা বই নিয়ে আসবে বুঝতেই পারি নি।চক চকা তক তকা বই গুলো যেন টেবিলের উপর জলকাচ্ছে।আর তুর্জ সেগুলো হাত দিয়ে দেখছে।কি যে আনন্দ লাগছে।আমি আনন্দের চুটে তুর্জকে গিয়ে আবার ঝাপটে ধরে ছেড়ে দিলাম।জিহ্বায় কামড় দিয়ে কান ধরে বললাম


-ভুল করে ধরে ফেলেছি।আবেগে।রাগ করবেন না।প্লিজ।

উনি মুচকি হাসি দিয়ে হাতে ইশারা দিয়ে বললেন ঠিক আছে।আর আমাকে হাতে ইশারা দিয়ে বুঝালেন।এখন যেন খেয়ে পড়তে বসি।আমি মাথা নেড়ে হ্যা বলে দৌঁড়ে খাবার নিয়ে আসলাম।উনাকে খাবার দিলাম।নিজেও খেতে বসলাম।উনি আমাকে ভালো ভালো মাছের পিছ দিয়ে ইশারা করে খাওয়ার জন্য।আমি কত করে বললাম।আপনি খান। নাহ উনি কথা শুনলই না।উনি বুঝাল আমাকে অনেক পড়তে হবে আর খেতে হবে।খাওয়ার পর্ব শেষ করে পড়তে বসলাম।


আহ….কতদিন পড় বই হাতে নিলাম।নতুন বইয়ের গন্ধ যেন আমাকে মাতাল করে দিচ্ছে।বইগুলো দেখে খুশিতে নাচতে লাগলাম।ঠিক এ সময় খেয়াল করলাম।তুর্জ আমার ঘাড়ে তার ঠোঁট দিয়ে সুরসুরি দিচ্ছে।আজকে তুর্জের স্পর্শ আমার কাছে অন্যরকম লাগছে।মনে হচ্ছে এ স্পর্শ পেয়ে আমি আবেগে ডুবে যাচ্ছি।নিজেকে সামলানোর ব্যার্থ চেষ্টা করলাম।মুহুর্তের মধ্যেই কি যে অণুভুতি জাগল বুঝতে পারি নি।তুর্জের ভালোবাসার স্পর্শ পেয়ে ভালোবাসার সাগরে ডুবে গেলাম।শীতল অণুভুতিতে মনটা শান্ত হয়ে গেল।প্রবল জড় যেন সবকিছু তছনছ করে দিয়ে আবার থেমে গেল।এক পশলা ভালোবাসার মেঘ আমার চোখ দিয়ে নামল।ইশ এ ভালোবাসার ছোঁয়ায় তো আমি এতদিন খুঁজছিলাম।আজকে পেয়ে যেন আমার অশান্ত মন শান্ত হল।আমি স্বস্তি পেলাম।তুর্জকে অনেকক্ষণ জড়িয়ে ধরে রাখলাম।আদো আদো হাতে তুর্জ আমার কপালে পড়ে থাকা চুল সরিয়ে একটা চুমু একে দিল।মনের গহীনে থাকা সব কষ্ট যেন নিমিষেই মিলিয়ে গেল।আমি এক আদুরে লজ্জাবতী লতা হয়ে গেলাম।খানিকক্ষণ পর তুর্জের থেকে নিজেকে ছাড়াতে চাইলাম কিন্তু তুর্জ ছাড়ল না।


মনে মনে ভাবতে লাগলাম এত ভালোবাসা আমার কাপলে সইবে তো।ভাবতে ভাবতে নিশ্চুপ হয়ে গেলাম।তুর্জের চিমটি খেয়ে ভাবনার ঘোর কাটল।আমি তুর্জকে ছেড়ে উঠলাম।আর বললাম


-হুট করে চিমটি দিলেন কেন।


তুর্জ ইশারা দিয়ে বলল আমি এত চুপ হয়ে আছি কেন।আমি বললাম।


-এমনি।

পরের দিন সকালে খেয়াল করলাম তুর্জ কোথায় জানি যাচ্ছে।আমি জিজ্ঞেস করলাম


-আপনি এ অসুস্থ শরীর নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন।


তুর্জ কাগজের গুটা গুটা অক্ষরে লিখলেন


-আমি এখন ঠিক আছি।আর একটু বাইরে যাচ্ছি।আর এখন আবার ঝাপটে ধর না। আমি বাইরে থেকে এখনেই চলে আসব।আর মায়ের ফোনটা হাতে রেখ।মাঝে মাঝে মেসেজ দিব ওকে।আর তুমি এখন পড়তে বস।


এ বলে উনি চলে গেলেন।


আমি পড়তে বসলাম।খানিকক্ষণ পর উনি মেসেজ দিলেন


-তোমার বডি সাইজ কত?


মেসেজটা দেখে কেমন জানি লাগছিল।হুট করে উনি বডি সাইজ জিজ্ঞেস করল কেন?আমি একটু লজ্জাও পাচ্ছিলাম।মেসেজের রিপ্লাই এ সাইজটা বললাম।কিন্তু কিছুটা রাগ ও হল।কতটা শয়তান।কিসব জিজ্ঞেস করে।


বেশ কিছুক্ষণ পর কলিং বেল এর শব্দ পেয়ে দৌঁড়ে গেলাম।বুঝতে পারলাম উনি এসেছে।দরজা খুলে দেখলাম উনি দাঁড়ানো হাতে কিছু জিনিস পত্র নিয়ে।আমি সব কিছু নিজ হাতে নিয়ে উনাকে সাথে করে রুমে ঢুকলাম।আর বললাম


-লজ্জা কি নাই আপনার কি সব মেসেজ দেন?


উনি হাসতে হাসতে ইশারা দিল।ব্যাগ গুলো খুল।আমি ব্যাগ গুলো খুলে অবাক হয়ে গেলাম।কারন উনি আমার জন্য অনেক গুলো জামা,ড্রেস আর শাড়ি এনেছে।


বেশ ভালোই কাটছিল আবার দিনগুলো।তুর্জকে নিয়ে কিছুদিন পর হাসপাতালে যাই।হুট করে তুর্জ….


পরের পর্বে শেষ করে দিবো এই ওয়েবসাইটেই দেওয়া হয়েছে দেখেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url