গল্প :- বান্ধবী যখন বউ
পর্ব :- ০৬+৭+৮+৯+১০
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
.
-: এদিকে আমার দূর বাল এ জ্বড় মনে হয় আর আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না।
সেই কাল রাত থেকে জ্বর এসেছে কিন্তু ভালো হওয়ার কোন লক্ষন ই দেখছি না।
কিন্তু আমার এত শীত শীত লাগছে কেন।
কি আর করা কোন রকমে প্যারাসিটামল খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে যখন ঘুম থেকে উঠলাম।
তখন আমি যেন হঠাৎ আকাশ থেকে পড়লাম।
কারন আমি আয়নার সামনে গিয়ে দেখি আমার প্রায় সম্পূর্ন মুখে লিপস্টিকের দাগ লেগে আছে।
সেই সাথে আমার শরীরের বেশ কিছু জায়গায় কেটে যাওয়ার দাগও রয়েছে।
তবে কাটা দাগ গুলো দেখে মনে হচ্ছে কারো হাতের আঙ্গুনের বড় বড় নখের (আসটির) কারনে হয়েছে।
এসব দেখে মাথাটা কেমন যেন ভন ভন করছে আমার এমন কি হয়েছিল রাতে?
যার কারনে আমার মুখে লিপষ্টিকের দাগ এলো আবার শরীরেও...।
অনেক ভেবেও এ রহস্যের কুল কিনারা পাচ্ছিনা।
হঠাৎ কেন যেন মনে হলো আচ্ছা রাতে কি কেউ আমার ঘরে এসেছিল?
কিন্তু তা কি করে সম্ভব। আমার ঘরে আবার কে আসবে।
আর রাতে ঘুমানোর আগে তো ঘরের দরজা লক করেই ঘুমিয়েছিলাম।
কিন্তু কেউ যদি আমার ঘরে....
(ঠিক তখনি ফোনটা বেজে উঠল)
মোবাইলের স্কিনে তাকিয়ে দেখি মিরা ফোন দিয়েছে।
কল রিসিব করে কিছু বলবো তার আগেই মিরা বলতে লাগল...
--:কিরে একটা কল রিসিব করতে এত সময় লাগে হনুমান কোথাকার।(রাগি কন্ঠে)(মিরা)
--মাপ কর বোন আমি এতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম। তাই বুঝতে পারি নাই।
--:কি তুই এখনো শুয়েই আছিস মানে। কুম্ভ কর্নও তো মনে হয় তোর মতো ঘুমায়না। ও তো ওর কাজ ঠিক মত করত কিন্তু তোর যে কলেজ আছে সেটা কি তোর মনে নেই।(মিরা)
--আ আ আসলে হয়েছে কি মিরা?? (কিছুটা ভয় পেয়ে যা রাগি মেয়ে ও)
--আমি তোর কোন কথা এখন শুনতে চাইনা তুই আধা ঘন্টার মধ্যে কলেজে আসবি। এটাই ফাইনাল।
--আরে মিরা শোন তো..টু টু টু
(যা কেটে দিলো।
এইরে দেরী হয়ে যাচ্ছে তাড়াতাড়ি রেড়ি হয়ে নেই। এসব নিয়ে না হয় পড়ে ভাবা যাবে। তারপর রেডি হয়ে বের হবো তখনি আন্টি ডাক দিয়ে বলল..)
--বাবা কাব্য তোমার শরীর এখন কেমন আছে?
--এইত আন্টি মোটামুটি।
আচ্ছা আন্টি আমি এখন আসি কলেজের দেরী হয়ে যাচ্ছে।
তারপর হঠাৎ কি মনে করে যেন আন্টিকে বলে বসলাম আমি..!!
--আচ্ছা আন্টি রাতে কি কেউ আমার ঘরে এসেছিল??
আন্টি প্রথমে কিছুটা ঘাবরে গিয়ে পরে নিজেকে সামলে নিয়ে বলতে লাগল
--কই কেউ যায় নাই তো বাবা। কেন তোমার কি কিছু হারিয়ে গেছে? (আন্টি)
--না আন্টি এমনি বললাম আরকি। আমি এখন আসি তাহলে..
--আচ্ছা.!
.
.
.
(সালা হনুমান গাধা উল্লুকটা আসছে না কেন এখনো?
আজ এক বার আয় তোকে এমন মজা দেখাবো না।
মিরা মনে মনে এসব বলছে আর বার বার কলেজ গেইটের দিকে তাকচ্ছে।
--কিরে মিরা তুই বির বির করে কি বলছিস?
আর বার বার গেইটের দিকে তাকাচ্ছিস কেন? কাহিনি কি বলতো? (নীলা)
--আরে নীলা তুই বুঝতেছিস না কেন আমাদের দুলাভাই এখনো আসে নাই দেখে আমাদের মিরা তার জামাইকে গালি দিচ্ছে আর ঐ দিকে বার বার তাকিয়ে দেখছে যে দুলাভাই কখন আসে। (রিয়া)
--ঐ হারামির ঘরের হারামি এসব কি ফালতু কথা বলছিস।(মিরা)
--হ্যাঁ হ্যাঁ আমি তো ফালতু কথাই বলি।
তা না হলে আমাদের মিরা একটা ক্ষেতের থুক্কু ক্ষেত না এখন তো আমাদের দুলাভাই হবে।(রিয়া)
(একথা শুনে মিরা কিছুটা লজ্জা পেয়ে বলতে লাগল)
--রিয়া চুপ করবি তুই।
আমি কি তোদের কখনো বলেছি যে আমি কোন ক্ষেতের প্রেমে পরেছি। {মিরা}
(মুখে তোদের না বলছি তো কি হয়েছে আমিতো কাব্যকে সত্যি সত্যি ভালবেসেই ফেলেছি রে...... কিন্তু শুধু মুখে বলতে পারছি না..! হয়তো আর কোনদিন বলতেও পারবো আর না।
আচ্ছা ঐ হনুমানকে কি বলতে পারবো? হয়ত পারবো কিন্তু...)
--কিরে মুরা কি এত ভাবছিস।(রিয়া)
--তেমন কিছু না।রভাবছিলাম আজকে তোদের সবাইকে আমার পক্ষ থেকে ট্রিট দিবো
--আচ্ছা তাই নাকি। (সবাই একসাথে)
--কিরে তোরা আমাকে ছাড়াই কি ট্রিট খাবি। নাকি আমাকেও সাথে নিবি। (নীলা)
--তা তো নিবোই.! কিন্তু যে আমাদের ট্রিট দিবে সে তো এখনো বললো না কি জন্য আজ হঠাৎ করে আমাদের ট্রিট দিবে....(রিয়া)
--কিরে মিরা.......(নীলা)
--আরে ভাই বলছি বলছি।
তোদেরকে জিজ্ঞেস করতে হবে না। আমিই বলছি শোন তাহলে
:-আমি যখন গতকাল রাতে ঘুমাচ্ছিলাম তখন খুব ভয়ানক একটা স্বপ্ন দেখেছি। এরকম ভয়ানক স্বপ্ন আমি এর আগে কখনো দেখেছি বলে মনে হয় না আমার। আর স্বপ্নটার কথা মনে হলেই নিজেকে খুব অসহায় আর প্রচুর পরিমাণ ভয় লাগে।(মিরা)
--তা কি স্বপ্ন দেখেছিলি শুনি??(নীলা)
--হুম তাহলে শোন আমি স্বপ্নে দেখি যে,
আমি বিশাল কোন জনমানবহীন একটা এলাকায় দাঁড়িয়ে আছি। যেখান যে দিকেই চোঁখ যায় সেদিকেই শুধু সীমান্ত হীন পথ আর পথ। আমি কোথায় যাবো কি করবো বুঝতেছিলাম না। যেদিকেই ছুটে যাই সেদিকেই শুধু বালি আর বালি লক্ষ করি।
আর সেই সাথে আছে অসহনীয় সুর্যের তাপ।
আমার এমন মনে হচ্ছিল সূর্যের তাপে যেন আমার সম্পূর্ন শরীর ঝলসে যাচ্ছে। তবুও আমি অনেক কষ্টে কোন লোকালয়ের খোঁজে ছুটতে থাকি।
ছুটতে ছুটতে হঠাৎ আমি এক বিশাল খাদের কাছে এসে পরি। আর খাদের পাশেই একটা সেতু দেখতে পাই।
সেতুটা দেখে আমি যে কতটা খুশি হয়েছিলাম তা তোদের বলে বোঝাতে পারব না।
সেতুটা দেখে আমার মনে হয়েছিলো যে কোন পথিক যেমন মরুভুমিতে তৃষ্ণাপ্ত অবস্থায় একফোটা পানি ফেলে যতটা খুশি হয়।
আমিও মনে হয় সেতুটা দেখে ততটাই খুশি হয়েছিলাম।আর বার বার বলছিলাম এই সেতুটা পার হলে কোন লোকালয় পার।
আমি সেতুটা দেখে এতটাই খুশি হয়েছিলাম যে কোন কিছু না ভেবেই সেতুটার উপর উঠে পরি আর যখন আমি সেতুটার উপর মাত্র তিন পা এগিয়ে যাই।
হঠাৎ করেই সেতুটা অদৃশ্য হয়ে যায়।আর আমিও খাদের গভিরে হারিয়ে যাই।
তারপর কি হয়েছিলো আমার আর মনে নাই।
কিন্তু যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন আমি এমন কিছু দেখি যা দেখে আমি এতটাই ভয় পেয়েছিলাম যে তা তোদোর বলে বোঝাতে পারব না।(মিরা)
--ঐ থাম থাম একদম ফাজলামি করবি না। (রিয়া)
--না রে রিয়া আমার তো মনে হয় না মিরা কোন ফাজলামি করছে।
দেখছিস না স্বপ্নটার কথা মনে হতেই ও কেমন চুপসে গেছে। তুই একটু চুপ থাক আর মিরা তুই বল কি এমন স্বপ্ন দেখেছিস??(অধরা মিরার অন্য বান্ধবী)
--দেখ আমি বুঝতে পারছি তোরা আমার কথাগুলো শুনে মজা নিচ্ছিস। (মিরা)
--ওসব বাদ দে আর এটা বল কি দেখিছিলি তোর স্বপ্নে।....(অধরা)
--আমি দেখলাম যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন দেখি কেউ আমার হাত পায়ে আগুনের ছিকল দিয়ে বেধে রেখেছে। যার কারনে আমার হাত পায়ে অসহ্যকর ব্যাথা পাচ্ছিলাম।
আমি সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলাম কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করছিলো না।
হঠাৎ দেখি অনেক গুলো বিষাক্ত সাপ আমাকে ঘিরে ধরেছে।
আর সাপ গুলো আমার দিকে খুব হিংস্র ভাবে ছুটে আসছিলো..! যখন ওগুলো আমার কাছাকাছি আসে তখন সাপ গুলো আমাকে পেঁচে ধরে আমার মাথায় কামর বসাচ্ছিলো আর মাথা থেকে আমার যতো চুল ছিলো তা মাংস সহো তুলে ছুরে ফেলছিলো।
ঠিক তখনি কে যেনো আমার মাথায় গরম কিছু তরল ঢেলে দিলো।
যা আমার বেদনা হাজার গুন বাড়িয়ে দিয়েছিলো।আমার এমন মনে হচ্ছিলো আমার শরীরের চামরা.. মাংস.. হার.. সবকিছু যেনো গলে গলে এক হয়ে যাচ্ছিলো।
আর ঠিক তখন আমি চিৎকার করে ঘুম থেকে উঠি পড়ি…………………
অর ঘুম থেকে উঠেই ভাবতে থাকি এতক্ষণ আমি এ কি দেখলাম।
হঠাৎ তখনি আমার মনে পরে যে আমি হাইস্কুলে থাকতে স্যার একদিন আখিরাত বা পরকাল সম্পর্কে ঠিক এমনি বলেছিলো।
তাই আমি ঠিক করেছি যে আজ থেকে সব খারাপ অভ্যাস ত্যাখ কররো। সেই সাথে এতদিন যাদের সাথে বাজে ব্যবহার করেছি তাদের কাছে ক্ষমা চাইবো। (মিরা)
(ওরা সবাই মিরার কথা মনযোগ দিয়ে শুনছিলো। আর বেশ কিছুক্ষণ নিরব ছিলো)
তারপর নিরবতা ভেজ্ঞে রিয়া ও নীলা বলে উঠলো
--আচ্ছা তুই ও না মিরা.!
সামান্য কি একটা স্বপ্ন দেখলি। আর ভয়ে পেয়ে বলছিস অন্যের কাছে ক্ষমা চাইবি।
একবার ভেবে দেখ মিরা তুই যদি সামন্য একটা স্বপ্ন দেখে সবার কাছ থেকে ক্ষমানচাস। তাহলে তোর আর ওদের মধ্যে পাথর্ক কি থাকবে?নতোর উচু মাথা নিচু হবে তা কি ভেবে দেখেছিলি?
আর একবার শুধু একবার ভেবে দেখ মিরা।
আমরা তোর বান্ধবী তাই তোর ভালো চাই..!
আর একটা কথা শুন আমার মনে হয় তুই জঘন্য কাজটার জন্য আমাদের ট্রিপ দিতে চাস??
কিন্তু আমরা তোর এত বড় অধপতনের ট্রিপ নিতে পারব না। স্যরি...
--দেখ তোরা হয়তো আমার কথা গুলোকে বিশ্বাস করবি কি না সেটা তোদের ব্যাপার।
তবে আজকে আমি তোদের যে জন্যে ট্রিট দিতে চাচ্ছি তা হলো আমি একজনকে মন থেকে ভালোবেসে ফেলেছি....(মিরা)
--যাক তাও একটা ভালো খবর।
কিহ্ তুই প্রেমে পড়েছিস। আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না।
(অধরা)
--না হলে নেই। তবে এটাই সত্যি।(মিরা)
--ছেলেটা দেখতে কেমন:রে। নিশ্চয় অনেক টাকাওয়াল মালিকের ছেলে.....(রিয়া)
.
.
.
.
চলবে…………………♥♥গল্প :- বান্ধবী যখন বউ
পর্ব :- ০৭
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
.
-:দেখ তোরা হয়তো আমার কথা গুলোকে বিশ্বাস করবি কি না সেটা তোদের ব্যাপার।
তবে আজকে আমি তোদের যে জন্যে ট্রিট দিতে চাচ্ছি তা হলো আমি একজনকে মন থেকে ভালোবেসে ফেলেছি....(মিরা)
--যাক তাও একটা ভালো খবর।
কিহ্ তুই প্রেমে পড়েছিস। আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না।
(অধরা)
--না হলে নেই। তবে এটাই সত্যি।(মিরা)
--ছেলেটা দেখতে কেমন রে। নিশ্চয় অনেক টাকাওয়ালা মালিকের ছেলে.....(রিয়া)
--আচ্ছা তোরা কি বলতো?
যেই শুনলি আমি প্রেমে পরেছি ওমনি তোরা আমার জামাইয়ের টাকা পয়সার দিকে চোখ দিয়েছিস।
কিন্তু নজর দিয়ে লাভ নেই শাঁকচূর্ণীরা।
(মুখ ভেংচি কেটে বললো মিরা)
--বা বা বা তা মিরা যাকে বিয়ের আগেই তোর জামাই বানাইলি সে কি যানে যে তুই ওকে ভালবাসিস?(নীলা)
--না..!
ওকে তো বলি নাই যে আমি ওকে ভালবাসি। তবে হ্যাঁ আজকেই ওকে আমার মনের কথা জানিয়ে দিবো।কিন্তু ওকি আমাকে ভালবাসবে?
(মুখটা মলিন করে বললো মিরা)
--আরে ইয়ার তুই যাকে ভালোবাসবি তার জীবনটাই পাল্টে যাবে। তোকে তো পাওয়া মানে সেই ছেলের জন্য আলাদিনের প্রদিব পাওয়ার সমান। তাই ওসব চিন্তা বাদ দে। আর এটা বল ছেলেটা কে??(নীলা)
--নারে..!
ও অন্য সবার থেকে সম্পূর্ণ অলাদা। অন্যদের মতো ওর টাকার প্রতি কোন লোভ নেই। সব সময় সৎ পথে চলতে চেষ্টা করে। তাছারা........(মিরা)
--তাছাড়া কি ?? (নীলা)
--তাছাড়া..! ও আমাকে শুধু বন্ধু ভাবে।
যদি আমি ওকে প্রপোজ করি আর ও অন্যকিছু ভেবে বসে তাহলে...??(মিরা)
--ওসব বাদ দে।
তুই যদি তোর মনের কথা তাকে না বলিস তাহলে কিন্তু পরে আজীবন আফসোস করবি। (নীলা)
--হ্যাঁ ঠিক বলেছিস তোরা আমি আজকেই কাব্যকে প্রপোজ করবো।(মিরা)
------কাকে প্রপোজ করবি বললি ???
(সবাই এক সাথে বলে উঠল)
--কাকে আবার যার কথা তোরা তোদের কানে শুনলি তাকে। কিন্তু বদটা এখনো আসছেনা কেন? (মিরা)
.
.
.
.
আমি কলেজে আসতেই দেখি সব কয়টা শয়াতান শাঁকচূর্ণীরা একসাথেই আছে.! আমি ওদের কাছে এসেই বললাম..!
--কিরে রিয়া নীলা..!
মিরার মুখটা আজ বাংলা পাঁচের মতো করে রেখেছে কেন।?(কাব্য)
--কিহ বললি হারামি একে তো আজ তুই দেরী করে আসছিস। তার উপর আবার বলছিস আমি আমার মুখ বাংলা পাঁচের মতো করে রেখেছি। আজকে তো তোকে আমি। বলেই মারতে শুরু করল মিরা.......
--আরে আরে মারবি না বোন প্লিজ। তুই তোর এই ছোট ভাইকে মাপ করে দে।(কাব্য)
(আরে কিছুই বুঝলাম না বোন বলার সাথে সাথেই মিরা আমাকে আরো জোরে জোরে মারতে শুরু করলো।আর ওর মার খেয়ে আমার অবস্থা কেরোসিন )
--আরে মিরা কি করছিস টা কি।
এভাবে মারতে থাকলে বেচারা আর এজীবনে বিয়ে করতে পারবে না।(রিয়া)
--ঐ তোরা চুপ থাক.!
কাল থেকে যখনি ওর সাথে কথা হয় তখনি ও আমাকে বোন বলে ডাকছে। আমি ওর কোন কালের বোন লাগি।
(মিরা)
--কোন কালের ই না।
এবারের মতো আমাকে ছেরে দে। জীবনে বেঁচে থাকতে তোকে আর বোন বলবো না।(কাব্য)
--মনে থাকে যেন।
বলেই আমাকে ছেরে দিল। আর আমি পিঠ ডলতে লাগলাম। হঠাৎ দেখি মিরা কেমন যেনো অন্য মনস্ক হয়ে আছে। আর মুখটা কেমন যেনো কালো করে রেখেছে। তাই আমি নীলাকে বললাম....
--কিরে নীলা...
মিরার কি হলো আবার। এইতো একটু আগে আমাকে দিব্যি মেরে তক্তা করে দিলো। আর মুহুর্তেই মুখটা কালো করে ফেললো কেনো। ওর কি কিছু হয়েছে??
--কি আর হবে।
বেচারি একজনকে খুব ভালোবেসে ফেলেছে।
কিন্তু বেচারি তাকে বলতেই ভয় পাচ্ছে যদি ছেলেটা ওকে ফিরিয়ে দেয়।(অধরা)
(অধরার কথাটা শুনে কেনো যেনো হঠাৎ বুকের মধ্যে চিন চিন করে ব্যাথা অনুভব করতে লাগলো।
আচ্ছা মিরা কোন ছেলেকে ভালোবাসে তা শুনে আমার এত কষ্ট হচ্ছে কেন)
--কিরে তোর আবার কি হল। তুই আবার তোর মুখটা এমন কালো করলি কেন।?(রিয়া)
--দূর তুই যে কি বলিস।
আমি আবার মন খারাপ করতে যাবো কেন।
আসলে হয়েছে কি বলতো কলেজে আসার পর থেকেই শরীরটা কেমন যেন করছে। তাই ভাবছিলাম যে বাসায় চলে যাব।(কাব্য)
--হঠাৎ বাড়িতে যাবি মানে ক্লাস করবি না?(রিয়া)
--না রে রিয়া ভালো লাগছে না। তোরা থাক আমি এখন গেলাম,
তারপর আমি ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসছিলাম। আমি যেই কলেজ থেকে বের হতে যাবো ঠিক তখনি হঠাৎ যানি না কি মনে করে আবারো কলেজের ভিতর দিকে যাচ্ছি। তা আমি নিজেও যানি না ।
.
.
.
--কি রে..!
বাঁদরটার আবার কি হলো যে ক্লাস না করেই চলে গেলো। (মন খারাপ করে বললো মিরা)
--আমার কি মনে হয় জানিস মিরা। কাব্যও তোকে হয়তো মনে মনে পছন্দ করে।(নীলা)
--কিহ্ তুই সত্যি বলছিস তো। কাব্য আমাকে ভালোবাসে।(খুশি হয়ে জিজ্ঞাস করলো মিরা)
--হ্যাঁ রে হ্যাঁ সত্যি বলছি.!
আচ্ছা তুই একবার ভেবে দেখতো কাব্যকে যখন অধরা বললো যে তুই কাউকে ভালোবাসিস তখন ও কিরকম রিয়েক্ট করলো।
আর ওর মুখটা দেখে তো মনে হচ্ছিলো যেন অনেক ও দামি কিছু একটা হারিয়ে ফেলেছে।
তাই বলছিলাম কি তুই যত তাড়াতাড়ি পারিস কাব্যকে তোর মনের ভিতরে জমিয়ে থাকা কথা গুলো বলে দে।তা না হলে এমনটা যেন আবার না হয়। তুই যাকে ভালোবাসিস তাকে অন্যকেউ যেন তার শাড়ীর আচলে না বাধে।
(বলেই হাসতে শুরু করলো মিরার অন্য সব বান্ধবীরা)
--ঐ তোরা একদম হাসবি না বলে দিচ্ছি।
কাব্য শুধু এ মিরার হবে অন্যকারো না..!
আর যদি ভুল করেও কেউ আমাদের দুজনের মধ্যে আসে তো তাকে আমি উপরে তুলে দিবো।
আর একটা কথা মনে রাখবি মিরা যাকে ভালোবাসে তাকে পাওয়ার জন্য মিরা সব কিছুই করতে পারে।
(রাগ করেই বললো মিরা)
--কুল ইয়ার কুল।
এতে রেগে যাচ্ছিস কেনো। শান্ত হ আর ভাব তুই কি ভাবে কাব্যকে তোর মনের কথা বলবি।(রিয়া)
--দূর কোন ভাবাভাবি নেই কালকে যখন আমার কলিজাটা আসবে।
তখনি ওকে আমি আমার মনের কথা আমার ভালোবাসার কথা বলবো।
(বলেই লজ্জা পেল মিরা)
--থাক থাক আর লজ্জা পেতে হবে না হে লজ্জাবতী!
আর তার থেকে বরং একটা কাজ কর যাকে ভালোবাসিস তাকে প্রপোজ করে আয়।(রিয়া)
--ওকে এখানে কোথায় পাবো।নওতো.......(মিরা)
--সামনে তাকিয়ে দেখ..……(রিয়া)
--রিয়ার কথা মত সামনের দিকে তাকিয়ে দেখে,
কাব্য কলেজে ফিরে আসছে। আর কাব্যকে ফিরে আসতে দেখে মিরা মনে মনে খুব খুশি হয়।
কিন্তু হঠাৎ তখনি আবার ওর মনটা খারাপ হয়ে যায়।
(কারন কিছুক্ষণ আগেই ছেলেটা কতো হাসি খুশি ছিলো। কিন্তু যখন ও জানতে পারলো আমি কোন ছেলেকে ভালোবাসি তখনি ওর হাসিটা কোথায় যেনো হারিয়ে গেলো।
হয়তো ও আমাকে মনে মনে ভালোবাসতো বা লাইক করতো। কিন্তু কখনো মুখ ফুটে বলতে পারে নাই। আর বলবেই বা কেনে সে দিন আমি যখন এই পেত্নি গুলোর সাথে বাজি ধরেছিলাম তখন তো ও সব শুনে ফেলেছিলো। কিন্তু আমাদের সাথে হনুমানটা এমন ভাবে মিশতো যেনো ও কিছুই জানে না।আচ্ছা ওকে যখন আমি আমার মনের কথা বলবো তখন কি ও আমাকে ভুল বুঝবে।(মিরা)
--কিরে মিরা তোর আবার কি হলো যে এমন মন মরা হয়ে গেলি।(রিয়া)
--তেমন কিছুই নারে।
ভাবছিলাম আজকে আর ওকে কিছু বলবো না।
অন্য একদিন বলবো।(উদাস হয়ে বললো মিরা)
--ঠিক আছে তোকে কিছু বলতে হবে না।
তার থেকে বরং আমিই তোর বরটাকে চুরি করে নিয়ে যাই।(মজা করে বললো নীলা)
--ঐ চুন্নির ঘরের চুন্নি শাঁকচূর্ণী।
ভুলেও আমার জানটার দিকে নজর দিবি না। যদি দিস তো তাহলে তোর চোঁখ তুলে মারবেল খেলব।
(রেগে লাল হয়ে বললো মিরা)
--আরে বা বা বা কি ভালোবাসা। এতই যখন ভালোবাসিস তাকে তাহলে তোর মনের কথা বলতে ভয় পাচ্ছিস কেন?( নীলা)
--কি বললি শাঁকচূর্ণী আমি ভয় পাচ্ছি।ভতাও আবার আমি।ভতোরা এখানে বসে বসে দেখ আমি কি করতে পারি।(রাগ করে বললো মিরা)
--আরে আরে বোন আমার কথায় কথায় এত রাগ করিস কেন। আর কিইবা করতে চাচ্ছিস তুই।(রিয়া)
--আমি এক্ষুণি কাব্যকে আমার মনের কথা বলে দিবো।আর ও রাজি হলেই কলেজের সবার সামনেই ওকে জরিয়ে ধরবো। বলেই মিরা কাব্যর দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো।
মিরা যখন কাব্যর কাছে আসে আর কাব্যকে কিছু বলতে যাবে।
তখনি মিরা শুনতে পায় একটা মেয়ে পিছন থেকে কাব্যকে কাব্য কাব্য বলে ডাকছে আর দৌঁড়াচ্ছে।
মিরা ভাবলো মেয়েটা হয়তো অন্য কাউকে ডাকছে।কারন পৃথিবীতে তো আর একটা কাব্য নেই আরো অনেক কাব্য নামের মানুষে আছে।
তাই মিরা ও অদিকে মন দিলো না। তবুও হঠাৎ করেই কিছু একটা হারানোর ভয়ে....
মনের ভিতর একটা অজানা ভয় কাজ করছিলো।
আর তা অন্য কিছু নয় বরং কাব্যকে হারানোর ভয়. কাজ করছে। তাই সে আর দেরী না করেই কাব্যর কাছে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে যায়।
আর তখনি হঠাৎ...………
থেমে যায় মিরা ওর পা যেন আর সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে না। কারন মিরা দেখলো মিরা কাব্যর কাছে যাওয়ার আগেই.....
মেয়েটা কাব্যকে জরিয়ে ধরে আছে। যা দেখে মিরার মাথায় যেন আকাশ ভেজ্ঞে পড়লো। না এ আমি কি দেখছি আমি কি ভুল দেখছি।
আমার সাথে এমন কেন হচ্ছে মেয়েটাকি কাব্যকে ভালোবাসে। ওকি আমার কাছ থেকে কাব্যকে কেড়ে নিতে এসেছে।
হে আল্লাহ আমি কি করবো তুমিই বলে দাও। আমিতো কাব্যর জন্য ভালো হতে চেয়েছিলাম।
ওকে আজ আমার মনের কথা গুলো বলতে চেয়েছিলাম তাহলে তুমি কেন এটা করলে।
ওর জীবনে কি তুমি আমাকে না রেখে অন্য কাউকে রেখেছো।(মিরা)
.
.
.
.
আর এদিকে হঠাৎ কেউ আমাকে জড়িয়ে ধরায় আমি অবাক হয়ে গেলাম।
আরে যে কলেজে আমাকে কেউ দেখতেই পারে না। সেখানে আমাকে কোন মেয়ে জরিয়ে ধরেছে।
ভাবতেই আমার খুব অবাক লাগে। তবে কেন যানি মন চাচ্ছিলো মেয়েটাকে আমিও জরিয়ে ধরি।
কারন মেয়েটার স্পর্শ কেন যানি খুব পরিচিত পরিচিত মনে হচ্ছিলো।
আর তার শরীরের গন্ধটাও কেন যানি আমার খুব কাছের মানুষের মতো লাগছে।
তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে আমি মেয়েটার কাছ থেকে নিজেকে ছারানোর চেষ্টা করছি।
কিন্তু আমি যতই নিজেকে ছারিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। ততই মেয়েটা আমাকে আরো জরিয়ে ধরে কাঁদছে।
হঠাৎ মেয়েটার কান্না শুনে বুকের ভিতর একটা অজানা ব্যাথা অনুভব করলাম। যানি না কেন মেয়েটার কান্না সহ্য হচ্ছিলো না আমার।
আর মিরা দুর থেকে দেখে কাব্য মেয়েটাকে ছারানোর চেষ্টা করছে। আর ওর মুখে বিরক্তির ছাপ।
যা দেখে মিরা ভাবছে... কাব্য মেয়েটাকে ছারানোর চেষ্টা করছে কেন?
তাহলে ওকি মেয়েটাকে চেনে না?
কথাটা ভাবতেই মিরার মন থেকে কাব্যকে হারানোর ভয় দুর হয়ে যায়।
আবার এটা ভাবে আমি যেমন কাব্যকে ভালোবাসি। ঠিক তেমনি কাব্য হয়তো আমাকে ভালবাসে।
তা যদি না হতো তাহলে মেয়েটাকে ছারানোর চেষ্টা করতো না।
আর মেয়েটাকে দেখে বেশ বড় ঘরেরই মনে হচ্ছে।
সে যেই হোক আমার তাতে কি ওর সাহস কি করে হয় আমার ভালোবাসার মানুষকে জরিয়ে ধরার।
দাঁড়া ছেমরি তোকে দেখাচ্ছি মজা। এই বলে মিরা ওদের দিকে রাগে ফুসফুসতে আসে।(মিরা)
.
.
.
.
আর এদিকে আমি অনেক চেষ্টা করছি কিন্তু বার বার ব্যার্থ হচ্ছি।বকিছুক্ষণ পর মেয়েটা আমাকে ছেরে দেয়।
যাক বাবা অবশেষে ছেরে দিয়েছে। আর একটু হলে তো বুকের সব হাড় ভেজ্ঞে যেতো।
কিন্তু হঠাৎ দেখি কারো হাত খুব দ্রুত আমার গাল বরাবর আসছে। আমি ভয়েই চোঁখ বন্ধ করে ফেলি।
ঠাসসসস..…………………
আমি যখন চোখ খুলে তাকাই তখন যা দেখলাম তা দেখে আমার পা কাপা শুরু হয়েছে।
আমি দেখলাম মিরা আমার দিকে কেমন চোখ মুখ লাল করে তাকিয়ে আছে।
আরে আপনারা হয়তো ভাবছেন চরটা মিরা আমাকে মেরেছে?
আসলে তা নয়। ও চরটা আমাকে মারে নাই,
আর আমি তো ওর রাগি মুখটা দেখেই ভয়ে কাপছিলাম।
আসলে মিরার এই রুপ আমি আগে কখনো দেখি নাই।
তারপর হঠাৎ আমার মনে হলো মিরা যদি চড়টা আমাকে দিয়ে থাকে তাহলে আমার গালে তো ব্যাথা পাওয়ার কথা।
তাহলে আমি ব্যাথা পেলাম না কেন?
যা জোরে শব্দ হল এতে আমাকে এতক্ষণে হাসপাতালে থাকতে হতো।
তাহলে চড়টা যদি ও আমাকে না দিয়ে থাকে...
তাহলে কাকে দিলো?
হঠাৎ আমার চোখটা মাটির দিকে যেতেই দেখি।
যে মেয়েটা আমাকে জরিয়ে ধরেছিলো সেই মেয়েটা এখন মাটিতে পড়ে আছে।
আরে আমার বুঝতে বাকি রইলো না কি হয়েছিলো তখন।
আমি মেয়েটার মুখ দেখতে পাচ্ছিলাম না কারন ওর মুখটা চুলে ঢাকা পরেছে।
তবে এটা ঠিক বুজতে পারলাম মেয়েটার ঠোট কেটে গেছে।
মেয়েটা ওর ঠোট মুছে মাটি থেকে উঠতে উঠতে বললো
--ঐ তুই কেরে আর তোর এতবড় সাহস তুই আমাকে চড় মারিস.....
বলেই যে মিরাকে মারতে যাবে তখনি মেয়েটার মুখ থেকে ওর চুল সরে যায়।
আর মেয়েটার মুখ থেকে চুল সরে যাওয়াতে আমি যাকে দেখলাম তাকে দেখে যেন আমি পাথর হয়ে গেলাম।
আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি কাকে দেখেছি।
আরে এটা আর অন্য কেউ নয় এটা স্বর্না।
এদিকে স্বর্না মিরাকে চড় দিতে গিয়েও থেমে যায়।
আর মিরার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
কিন্তু হঠাৎ করেই স্বর্না মিরার দিকে একরাস বিরক্তি ও রাগ নিয়ে তাকাচ্ছে।
মিরার ও একই অবস্থা মিরাও প্রথমে একটু অবাক হলেও
তার কিছুক্ষণ পরপরই স্বর্নার দিকে একই ভাবে তাকিয়ে আছে।
আর আমি শুধু স্বর্নার দিকে তাকিয়ে আছি।
ওকে দেখে আমার মনের ভিতর যেন আবার নতুন এক ভালবাসার ফুল ফুটতেগল্প :- বান্ধবী যখন বউ
পর্ব :- ০৮
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
.
-: কিন্তু হঠাৎ করেই স্বর্না মিরার দিকে একরাস বিরক্তি ও রাগ নিয়ে তাকাচ্ছে।
মিরারও একই অবস্থা মিরাও প্রথমে একটু অবাক হলেও
তার কিছুক্ষণ পরপরই স্বর্নার দিকে একই ভাবে তাকিয়ে আছে।
আর আমি শুধু স্বর্নার দিকে তাকিয়ে আছি।
ওকে দেখে আমার মনের ভিতর যেন আবার নতুন এক ভালবাসার ফুল ফুটতে লাগলো।
কিন্তু যখন ওর অবহেলা আর আমার সাথে যে জঘন্য ভালোবাসার নাটক করেছিলো তা মনে পরতেই সেই ভালোবাসার ফুল ঝরে পরে এক রুক্ষ মরুভুমিতে পরিনত হলো।
তারপর আমার ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে স্বর্না বললো...
--শাঁকচূর্ণী তোর সাহস হয় কি করে আমাকে চড় মারার?(রেগে গিয়ে বললো স্বর্না)
--মেরেছি তো বেশ করেছি।
তোর সাহস কি করে হয় কাব্যকে জড়িয়ে ধরার।
আর একবার যদি তুই ওকে জড়িয়ে ধরেছিস বা ওর ১০০ হাতের ভিতরেও আসিস তাহলে সেটা তোর জন্যে খুব খারাপ হবে বলে দিলাম।
(মিরা রাগ করে বললো স্বর্নাকে)
--আমি কাব্যকে ১বার কেন হাজার বার জড়িয়ে ধরবো।তাতে তোর কি হ্যাঁ।
আর কি যেন বললি আমি যেন ওর ১০০ হাতের ভিতরেও না আসি। তাহলে শুনে রাখ আমি সব সময় ওর সাথে ছায়া হয়েই থাকবো। তাতে তোর কি।
কে হয় ও তোর।(স্বর্না)
(ওরা দুজন যেভাবে কথা বলছে। তাতে মনে হচ্ছে ওরা দুজন দুজনকে আগে থেকেই চেনে। আর ওদের ভিতর নিশ্চয় আগে কিছু একটা হয়েছিলো)
--কে হয় ও আমার তুই জানতে চাস।
তাহলে শোন ও আমার ফ্রেন্ড হয় ফ্রেন্ড। আর তুই খুব ভালো করেই জানিস আমি যাদের ফ্রেন্ড মন করি।তাদের কাছে তোর মতো কিছু মানুষকে দেখতেই পারি না।(মিরা)
--হা হা হা ফ্রেন্ড হোস ফ্রেন্ডের মত থাকবি।
অযথা উটকো অধিকার দেখাতে আসবি না বুঝেছিস।আর একটা কথা কান খুলে শুনে রাখ আজকের পর থেকে আমি যেন তোকে কাব্যর আশেপাশেও না দেখি। কাব্য শুধু আমার। আর কারো নয় শুধুই স্বর্নার।(স্বর্না)
--ও তোর মানে কি বলতে চাচ্ছিস তুই?(মিরা)
--মানে এটাই আমি কাব্যকে ভালোবাসি।
আর শুধু আমি যে কাব্যকে ভালোবাসি এটা নয়,
কাব্যও আমাকে ভালোবাসে(স্বর্না)
!
!
এদিকে আমি স্বর্নার মুখে ভালোবাসার কথাটা শুনে আমার মাথায় যেন আগুন জ্বলছে। তবুও নিজেকে শান্ত রেখে বললাম..
--এই যে হ্যালো আপনি কে আপনি?
(স্বর্নাকে উদ্দেশ্য করে)।
...আর পাগলের মত কি সব বলছেন। আমি আপনাকে ভালোবাসি মানে?
আমি তো জীবনে প্রথম আপনাকে দেখছি।
...আর তুই (মিরারকে উদ্দেশ্য করে বললাম)
তুই এই মেয়েটার সাথে এত কথা বলছিস কেন?
কোথায় থেকে যে এসব উটকো ঝামেলা আসে।
(একটু বিরক্ত হয়ে বললাম)
--কাব্য তুমি আমাকে চিনতে পারছো না।
তুমি তোমার ভালোবাসাকে চিনতে পারছো না।
(অবাক হয়ে বললো স্বর্না)
--ঐ শাঁকচূর্ণী তোকে তো বলেই দিয়েছে যে ও তোকে চেনে না। আর জীবনে আজ ই প্রথম তোকে দেখলো। তাহলে আবার কথা বলছিস কেন?
আর দেখ স্বর্না এখনো সময় আছে ভালোয় ভালোয় এখান থেকে চলে যা।(মিরা)
--মিরা তুই চুপ থাক।
আর কাব্য তুমি এতটা কি করে পাল্টে গেলে যে আজ আমাকেই চিনতে পারছো না।
ওহ্ বুঝতে পেরেছি তুমি আমার উপর রাগ অভিমান করে আছো। আসলে এটাই স্বাভাবিক তোমার সাথে আমি যা করেছি তাতে যে কেউ এমনটা করবে।
কিন্তু আমি তোমার পায়ে পরছি তুমি আমাকে মাপ করে দাও কাব্য প্লিজ..(কাঁদতে কাঁদতে বললো স্বর্না)
--আরে আরে আপনি কি বলছেন এসব।
আপনার উপর আমার কিসের রাগ অভিমানের কথা বলছেন। আর আপনাকে তো আজ ই প্রথম দেখলাম মনে হয়, যখন আজ প্রথম বার দেখলাম আপনাকে তাহলে এ সব রাগ..অভিমান.. কোথা থেকে আসছে। আপনার মনে হয় কোথাও ভুল হচ্ছে দুঃখীত....
আর মিরা আমি বাড়ি গেলাম। কোথায় ভাবলাম আজ ক্লাস করবো কিন্তু তা আর হলো না।
বলেই আবার কলেজ থেকে বের হয়ে আসলাম আমি।
আমি আসার সময় দেখি কলেজের অনেকেই আমাদের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
এদিকে স্বর্না কাঁদতে কাঁদতে চলে যায়।
মিরারও এ ঘটনার পর আর কিছুই ভালো লাগছে না।মনের ভিতর যেন অজানা এক ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
তাই মিরাও ঠিক করলো সেও আজ আর ক্লাস করবে না। বাড়ি চলে যাবে।
ঠিক তখনি মিরার বান্ধবিরা মানে নীলারা এসে মিরাকে বললো…………
--কিরে কোথায় যাস। ক্লাস করবি না।(রিয়া)
--নারে ভালো লাগছে না। তোরা থাক আমি বাড়ি গেলাম(মিরা)
--আরে আরে কি হয়েছে মিরা শোন তো...(রিয়া)
কিন্তু মিরা কিছু না বলেই চলে যায়।
!
!
আর এদিকে আমি বাড়িতে এসে শুয়ে শুয়ে ভাবছি।স্বর্না এখানে কেন? আবার কি চায় ও।
আমার জীবনটা তো একবার প্রায় নষ্ট করেও কি ওর মনের জ্বালা মেটে নাই।
না আর ভাবতে পারছি না। মাথাটা খুব ব্যাথা করছে।চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি কখন আর যে ঘুমিয়ে গেছি বুঝতেই পারি নাই। পরের দিন খুব সকালেই আমার ঘুম ভেজ্ঞ যায়। আজ আর কলেজে যাই না। কলেজে না গিয়ে আমি অফিসে যাই। অফিসে এসে নিজের কেবিনে বসতেই পিয়ন চাচা এসে বলল ম্যানেজার স্যার নাকি আমাকে ডেকেছেন। তাই আমি স্যারের সাথে দেখা করতে যাই। স্যারের রুমের দরজা নক করে বললাম..
--মে আই কাম ইন স্যার?
--ইয়েস কাম ইন.! (স্যার)
--স্যার আমাকে ডেকেছিলেন।
(রুমের ভিতরে ঢুকে দেখি স্যারের মুখে চিন্তার ছাপ)
--ওহ্ কাব্য তুমি। তা কেমন আছো?
--এই তো স্যার আলহামদুলিল্লাহ্ আপনাদের দোয়া আর আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি।
...স্যার যদি কিছু মনে না করেন তাহলে একটা প্রশ্ন করি?
--হ্যাঁ অবশ্যই। বলো কি জানতে চাও?
--না মানে স্যার আজ আপনাকে দেখে কেন যানি মনে হচ্ছে কিছু একটা নিয়ে চিন্তায় আছেন?
স্যার একবার আমার দিকে তাকিয়ে একটা দির্ঘশ্বাস ফেলে আমাকে যা বললো তা শোনার জন্য আমি মোটেও প্রস্তু ছিলাম না। নিমিসেই আমার চোখেমুখে অন্ধকারের কালো মেঘে ঢেকে গেল। কারন.. স্যার আমাকে বললো..
--কাব্য তোমাকে কথাটা কি ভাবে বলবো বুঝতে পারছি না। আর কথাটা শোনার পর তুমি আমাদের কি ভাববে এটাও বুঝতেছিনা।
--স্যার আপনার যা বলার তা আপনি নির্দ্বিধায় বলতে পারেন। যদি আমি কোন অপরাধ করে থাকি তাও..
--না কাব্য তুমি কোন অপরাধ কর নাই।
তুমি তো আমাদের সবার গর্ব। তুমি আমাদের এখানে পাট টাইম জব করেও আমাদের কম্পানিকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছো। যার জন্যে কম্পানি তোমার কাছে রিনি। আর আমাদের কম্পানি অনেক ভাগ্য করে তোমার মত একজন কর্মচারি পেয়েছে।
কিন্তু আজ আমাদের কম্পানির জন্য অনেক খারাপ একটা দিন যে তোমার মত একজন সৎ ও ভালো কর্মচারি হারাতে যাচ্ছি বলে।(স্যার)
--স্যার আপনার কথা আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না।আমি আবার কোথায় হারিয়ে যাবো।
(অবাক হয়ে বললাম)
--কাব্য তোমাকে আমাদের কোম্পানি হারাতে যাচ্ছে মানে হচ্ছে.. আমি তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম যে তোমাকে আর আমরা আমাদের কম্পানিতে রাখতে পারবো না। তোমার সব পাওনা তোমার একাউন্টে ট্যান্সাফার করে দেওয়া হয়েছে।(স্যার)
--স্যার আপনি এসব কি বলছেন।
প্লিজ স্যার এমন টা করবেন না স্যার।
অনেক কষ্টে আমি এই চাকরিটা পেয়েছিলাম স্যার।
আর আজ যদি চাকরিটা চলে যায় তাহলে আমাকে পথে বসতে হবে স্যার।
আমি আমার লক্ষে পৌঁছাতে পারবো না স্যার।
আমি যদি কোন ভুল করে থাকি তাহলে আপনি আমাকে যে শাস্তিই দেন না কেন আমি তা মাথা পেতে নেবো। তবুও আপনি আমাকে বের করে দিবেন না স্যার। আমি আপনার পায়ে পড়ছি স্যার।
(কাঁদতে কাঁদতে)
--আরে আরে কাব্য এটা কি করছো তুমি।
তুমি আমার ছোট ভাইয়ের মত। তুমি কোন অপরাধ করো নাই। আসলে কি হয়েছে।
তোমার মনে আছে কি গত মাসে একটা প্রজেক্টের কাজ তুমি সহ আরো চার জনকে দিয়েছিলাম।(স্যার)
--হ্যা মনে আছে স্যার।
আমার প্রজেক্টের ফাইলটা তো আপনাকে দিয়েই দিয়েছি। সেখানে কি কোন..(আমি)
--কাব্য তুমি যেমনটা ভাবছো তেমন কিছুই না...
আর তুমি তো জানতে গতমাসে অন্য একটা কম্পানির একটা মিটিং হওয়ার কথা ছিলো ঐ প্রজেক্টের উপর।
আর দুর্ঘটনা বসতো মিটিং এর ডেডটা পিছিয়ে যায়।হঠাৎ করেই গতকাল তারা মিটিং এর জন্যে আমাদের কাছে আসে আর প্রজেক্টের ফাইলটা দেখতে চায়।
এবং এই প্রজেক্ট সম্পর্কে আমাদের সাথে তাদের কথা হয়। যাই হোক তোমার ফাইলটা দেখে ওরা খুশি হয়।
আর আমদের সাথে কাজ করতে রাজিও হয়।
সেই সাথে তারা এটাও বলেছে আমরা চাইলে তাদের সাথে একটানা ৫বছরের যেকোনো প্রজেক্টের উপর কাজ করতে পারি।
--কিন্তু স্যার....! এটা তো ভালো খবর।
কিন্তু এটা বুঝতে পারছি না এর সাথে আমার চাকরি যাওয়ার সম্পর্ক কি?
--সম্পর্ক আছে কাব্য।
ওরা বলেছে ওরা আমাদের সাথে কাজ করতে রাজি আছে। কিন্তু তারা আমাদের একটা শর্ত দিয়েছে যে আমরা যেন ভবিষ্যৎতে তোমার সাথে কোন যোগাযোগ না রাখি। আর আজকের মধ্যেই যেন তোমার সব পাওনা মিটিয়ে দেই। এখন তুমি হয়তো বুঝতেই পারছো...(স্যার)
--আপনাকে আর বলতে হবে না স্যার।
আমি সব বুজতে পেরেছি, আমি আসছি।
(আজ নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে স্যার।
কারন আমি হয়তো নিজের স্বপ্নগুলো সত্যি করতে পারবো না।
(আপনারা হয়তো ভাবছেন একটা চাকরি চলে গেছে তো কি হয়েছে। একটা গেছে আর একটা চাকরি পাবো। আরে ভাই এটা বাংলাদেশ এদেশে চাকরি পাওয়া মানে সোনার হরিণ হাতে পাওয়া।
আর তা পাওয়া মুখে বলা যতটা সহজ বাস্তবে ততটা সহজ নয়। যাই হোক মন খারাপ করে চলে যাবো।তখনি স্যার বলল..……
---আরে কাব্য তুমি কই যাও?
আর এতে মন খারাপ করার কি আছে।
দেশে কি আর চাকরির অভাব আছে।
আর যাই হোক তোমাকে তো একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। তারা আমাদের একটা অফার দিয়েছে (স্যার)
--স্যার অফারটা আপনাদের দিয়েছে।
আমি তো আর আজ থেকে আপনাদের অফিসের সদস্য নই। তাই সেটা আমার না জানলেও চলবে।(আমি)
--কষ্ট করে একটু শুনে তো যাও। হয়তো কথাটা শুনলে তুমিও খুশি হবে।(স্যার)
--ঠিক আছে স্যার এত করে যখন বলছেন বলুন কি বলতে চান(আমি)
--ওরা শর্ত হিসেবে এটা বলেছে যে।
ওরা ওদের কম্পানিতে তোমাকে চাকরি দিতে চায়।আর তোমার বেতন আমাদের থেকে দ্বিগুন দিতে চায়।(স্যার)
--কি বললেন স্যার আবার একটু বলবেন প্লিজ?
--হ্যাঁ ঠিকি বললাম
আমি তো স্যারের কথা শুনে অবাক হয়ে গেছি।
কিন্তু আমি এটা বুজতেছি না তারা আমাকে আমাদের কম্পানি থেকে বের করে দিতে বলে আবার নিজেদের কম্পানিতেই চাকরি দিতে চায় কেন?
(আমার ভাবনার চেদ ঘটয়ে স্যার বললো..)
--আরে ভাই কাব্য এবার তো একটু হাসো।
তোমার মুখে এমন মেঘের ছায়া মানায় না।
(আমি স্যারের কথা শুনে একটা মুচকি হাসি দিলাম)
--আর একটা কথা আগামিকাল ওরা তোমার সাথে কথা বলতে চায়।(স্যার)
স্যারের কথা শুনে মনটা এখন একটু ভালো হলো।
তারপর স্যারের সাথে বেশ কিছু সময় কাটিয়ে ফুরফুরে ম্যাজাজে বাড়িতে ফিরে আসি।
আর পরের দিক ঠিক সময় মত নতুন অফিসে চলে আসি। অফিসে আসতেই একটা লোক এসে বললো।
--স্যার ম্যাম আপনাকে ভিতরে ঢেকেছেন।
(লোকটার কাপড় দেখে বুজতে পারলাম ইনি এই অফিসের পিয়ন)
--কিন্তু চাচা আমি তো ম্যামের রুম কোনটা তা জানি না। আপনি যদি একটু বলে দিতেন তাহল খুব ভালো হতো।(আমি)
--ঠিক আছে স্যার আপনি আমার সাথে আসুন ।
তারপর পিয়ন চাচা আমাকে সাথে করে ম্যামের রুমে নিয়ে যায়। আর ম্যাম কে বলেন।
--ম্যাম স্যার এসেছেন।(চাচা)
--ঠিক আছে আপনি যান। আমি কথা বলে নিচ্ছি।(ম্যাম)
(তারপর চাচা চলে যান। এবং আমি মাথা নিচু করে আছি)
--আপনার নাম তাহলে কাব্য।
(নাইচ টু মিট ইউ কাব্য) (ম্যাম)
(ম্যামের কন্ঠটা কেন যানি পরিচিত পরিচিত মনে হচ্ছে।তাই আমি তাকে দেখার জন্যে যেই মাথা উচু করে তার দিকে তাকালাম।
আমি তাকিয়ে দেখি যে ম্যাম একটা বোরকা পরে আছে। কিন্তু বোরকার আড়ালে কে তা বুঝতে পারছি না। আমার শুধু বারবার মনে হচ্ছে বোরকার আড়ালে যে আছে। তাকে হয়তো আমি চিনি)
--কি হলো কিছু বলছেন না যে আপনাকে কিছু একটা জিজ্ঞাসা করেছি।
(একটু কর্কস কন্ঠে)
--স্যরি ম্যাম।
একটু ট্যানশনে ছিলাম তো। যাই হোক আমার নাম কাব্য আহম্মেদ। যাকে আপনারা..………(আমি)
আমাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে ম্যাডাম বলতে লাগল।
--আপনাকে কিছু বলতে হবে না। আপনার সম্পর্কে আমি সব কিছুই যানি। আপনি কে, কোথায় থাকেন।কখন কি করেন।(ম্যাম)
আমি অবাক হয়ে বললাম………
--ঠিক বুঝলাম না ম্যাম। আপনি কি ভাবে আমার সম্পর্ক জানেন। আমিতো আজকেই প্রথম..(আমি)
(ম্যাম একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললো)
--আমার অফিসে যাকে আমি কাজে রাখবো।
তার সম্পর্কে একটু হলেও তো খোঁজ রাখতে হবে।বলাতো যায় না কখন..।
যাই হোক আপনাকে যে জন্য আজ ঢেকেছি তা হলো আপনার কাজ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।
সেই জন্য আমরা আপনাকে আমাদের কম্পানিতে কাজ করার জন্য নিয়েছি। আসা করি আপনি আগের কম্পানিতে যেমন কাজ করতেন আমাদের এখানেও ঠিক তেমনি কাজ করবেন। আর কাজের প্রতি যেন কোন………………………
.
.
.
.
চলবে………………………………♥♥♥♥ লাগলো।
কিন্তু যখন ওর অবহেলা আর আমার সাথে যে জঘন্য ভালোবাসার নাটক করেছিলো তা মনে পরতেই সেই ভালোবাসার ফুল ঝরে পরে এক রুক্ষ মরুভুমিতে পরিনত হলো।
তারপর আমার ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে স্বর্না বললো...
.
.
চলবে……………………♥♥♥
.
৮ম পর্ব আগামী শনিবার দেওয়া হবে...গল্প :- বান্ধবী যখন বউ
পর্ব :- ০৯
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
.
--ঠিক বুঝলাম না ম্যাম। আপনি কি ভাবে আমার সম্পর্ক জানেন। আমিতো আজকেই প্রথম..(আমি)
(ম্যাম একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললো)
--আমার অফিসে যাকে আমি কাজে রাখবো।
তার সম্পর্কে একটু হলেও তো খোঁজ রাখতে হবে।বলাতো যায় না কখন..।
যাই হোক আপনাকে যে জন্য আজ ঢেকেছি তা হলো আপনার কাজ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।
সেই জন্য আমরা আপনাকে আমাদের কম্পানিতে কাজ করার জন্য নিয়েছি। আসা করি আপনি আগের কম্পানিতে যেমন কাজ করতেন আমাদের এখানেও ঠিক তেমনি কাজ করবেন। আর কাজের প্রতি যেন কোন অবহেলা না দেখি।(ম্যাম)
--ঠিক আছে ম্যাম (মাথা নিচু করে বললাম )
--আপনি এখন আসতে পারেন। আমি করিম চাচাকে বলে দিচ্ছি আপনার কেবিন দেখিয়ে দেওয়ার জন্যে।(ম্যাম)
--জ্বী ম্যাম
তারপর করিম চাচা আমাকে আমার নতুন কেবিনে রেখে যায়।
আমি আমার কেবিনে আসার পর অনেকেই আমার সাথে কথা বলতেছে।
অবশ্য আমিও ভদ্রতার সাথে তাদের সাথে কথা বলছি।আর তাদের সাথে কথা বলে আমার খুব ভালোই লাগলো।
যাই হোক তারপর যে যার যার মত কাজের যায়গায় চলে যায়।
আর আমিও আমার কাজ করতে থাকি। কাজ শেষে যখন আমি আমার ফাইলটা ম্যাডামকে দেখাই।
তা দেখে তিনি খুব খুশি হন। আর এটাও বলেন এভাবে কাজ করতে থাকলে আমার জন্যে ভবিষ্যতে ভালো কিছু অপেক্ষা করবে।
ম্যাডামের কাছে নিজের প্রশংসা শুনে খুব ভালোই লাগলো।
তারপর ম্যাডামের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়িতে চলে আসি।
আর বাড়িতে এসে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে গোসল করতে চলে যাই।
তারপর গোসল করে বের হতেই দেখলাম আমার টেবিলের উপর খাবার রাখা।
আমি ভাবলাম হয়তো বাড়িওয়ালী আন্টি রেখে গেছেন।
মাঝে মধ্যেই তিনি আমার জন্যে খাবার রেখে যান।
(ওহ্ আপনাদের একটা কথা বলতে ভুলেই গেছি বাড়িওয়ার ছেলেকে আমি এখন আর পড়াই না)
তারপর আমি খাবার খেয়ে পড়তে বসি।
তারপর পড়তে পড়তে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি বুঝতেই পারি নাই।
পরের দিন ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে কলেজে চলে যাই।
কলেজে যাওয়ার সাথে সাথেই দেখলাম স্বর্না কোথা থেকে যেন আমার সামনে এসে দাঁড়ালো।
আমি ওকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে ধরলাম।
কিন্তু ও আবার আমার সামানে দাঁড়িয়ে যায়।
তাই বিরক্ত হয়ে বললাম………
--কি ব্যাপার আপনার সমস্যাটা কি এভাবে আমার রাস্তা আটকাচ্ছেন কেন?
আর একটু সরে যান রাস্তা ক্লিয়ার করেন আমাকে ক্লাসে যেতে হবে।(আমি)
--আমার কোন সমস্যা নেই।
তবে আমি একটা কথা জানতে চাই তুমি আমার সাথে গতকাল এমন ভাবে কথা বললে কেন?
যান গতকাল সারারাত আমি একটুও ঘুমাতে পারি নাই।(স্বর্না)
--আপনি ঘুমাতে পারেন নাই কেন তা আমি করে জানবো। আর একটা কথা আমি অপরিচিত কারো সাথে কথা বলে অভস্ত নই।
তাই আসা করি আজকের পর আপনি আমাকে বিরক্ত করবেন না।(আমি)
--কিহ্ আমি তোমাকে বিরক্ত করি।
এটা তুমি বলতে পারলে কাব্য। যে তুমি আমার সাথে একদিন কথা না বলে থাকতে পারতে না।
সব সময় আমার ছোট ছোট ইচ্ছা গুলো তুমি পুরন না করতে পারলে মন খারাপ করতে সেই তুমি আজ আমার সাথে কথা বলতে বিরক্ত বোধ করছো।
(করুন ভাবে কথাগুলো বললো স্বর্না)
আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম কথাগুলো বলার সময় স্বর্নার চোখে পানি। আর ওর চোখে পানি দেখে মনে হচ্ছে যে কেউ আমার কলিজায় সুচ ফুরছে)
তারপরেও নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম।
--দেখুন আপনার মনে হয় কোথাও ভুল হচ্ছে,
আর মাথায় সমস্যা আছে। ভালো কোন ডাক্তারকে দেখান। আসি খোদা হাফেছ।
তারপর ওকে পাস কাটিয়ে কলেজের পিছনে আসি।এসে দেখি মিরা মন খারাপ করে বসে আছে।
তবে মিরার চোখ দুটো দেখে আবার মনে হচ্ছে।
মিরা কারো প্রতি চরম রেগে আছে। কিন্তু কার প্রতি? তা জানি না। যাইহোক ওর কাছে এসে বললাম।
--কিরে তোর আবার কি হল যে আজ এভাবে এখানে বসে আছিস? তাও আবার একা।(আমি)
তারপর মিরা একবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল
--আচ্ছা কাব্য আমি কি খুব খারাপ।
(উদাস হয়ে বললো মিরা)
--আরে কে বললো তুই খারাপ। তুই অনেক ভালো রে বান্ধবী। আর তোর মনটা তোর চেয়ে আরো ভালো ও কোমল। হয়তো যখন তুই রেগে যাস তখন ব্যাপারটা আলাদা।
যাইহোক কিন্তু তুই আজ এ প্রশ্ন কেন করলি।(আমি)
--এমনি করলাম।
কেন যানি না হঠাৎ জানতে ইচ্ছা করলো।
আচ্ছা কাব্য সত্যি করে একটা কথা বলবি তুই কি স্বর্নাকে আগে থেকেই চিনিস। (মিরা)
হঠাৎ মিরার এমন কথার কি উওর দিবো তা আমার জানা নেই। তারপরেও অনেক কষ্টে বললাম!
--না ওনাকে আমি চিনি না। আর ওনার নাম যে স্বর্না তা এখনি তোর কাছ থেকে জানলাম(আমি)
--তুই সত্যি বলছিস তো কাব্য। (কিছুটাহ খুশী হয়ে)
আচ্ছা তোকে একটা কথা বলবো কিছু মনে করবি না তো।
--হুম বল। কি বলবি?
--আসলে কাব্য কথাটা যে তোকে কি ভাবে বলি।
--আরে বোন কি বলবি বলে ফেল। এত সংকোচ করছিস কেন। যদি না বলতে চাস তাহলে বলিস না।
আমি মিরাকে বোন বলে ডাকায় ও রেগে গিয়ে বলল ঐ আমি তোর কোন জন্মের আপু লাগিরে। আজকে তোরে আমি খাইছি। বলেই আসে পাশে কি যেন খুঁজতেছে।
মিরার রাগ দেখে আমার সুবিধার মনে হচ্ছে না।
তবে ওর রাগি মুখটা দেখতে খুব ভালো লাগছিলো।
তাই ভাবলাম ওকে আর একটু রাগিয়ে দেই।
তাই ওকে বললাম.......
--ঠিক আছে আজ থেকে তোকে আর বোন বলে ডাকবো না। বউ বলে ডাকবো। বলেই ওখান থেকে পগার পার হয়ে যাই।
জানি না পাগলিটা আমাকে ধরতে পারলে কি করতো।যদি ধরতে পারে তাহলে আমি আর আপনাদের মাঝে থাকুম না।হি হি হি।
আর এদিকে মিরা মন খারাপ করে ভাবছে।
ধ্যাত কেন যে এত সংকোচ করলাম। তখন যদি ওকে বলে দিতাম তাহলে...হঠাৎ করেই ও আপন মনে হাসতে থাকে মিরা। আর মনে মনে বলে।
আচ্ছা ও কি আমাকে ভালোবাসে। হয়তো বাসে তা না হলে কেন বললো ও এখন থেকে আমাকে বউ বলে ডাকবে।
কিন্তু ওর মুখে বউ ডাকটা আবার শুনতে ইচ্ছা করছে।তবে একটু লজ্জাও লাগছে।
আচ্ছা দেখি পাগলটা কোথায় গেল।
তারপর মিরা কলেজের ভিতরে এসে কাব্যকে মনে মনে খুঁজতে থাকে।
তারপর মিরা আর আমাকে খুজে পায় না দেখে নিজেই নিজের মাথায় হালকা করে চড় দিয়ে বলে কেন যে ওকে ভয় দেখাতে গেলাম। বেচারা এমন ভয় পেয়েছে যে কলেজ থেকে পালিয়েছে।
তবে পালিয়ে যাবে কোথায় চাঁদ তুমি যেখানেই যাবে তোমার ছায়া হয়ে আমিও সেখানেই যাবো।
তোমার আর আমার মধ্যে কাউকে আসতে দিবো না।সে যেই হোক না কেন। (মিরা)
!
!
!
এভাবে আরো কিছু দিন চলে গেলো।
আর এই কয়েক দিনের মধ্যে একটা দিনও বাদ যায় নি। যে স্বর্না আমার কাছে ক্ষমা চাইতে আসেনি।
কিন্তু এখন আবার কিছু দিন থেকে লক্ষ করছি মিরাও আমাকে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে।
ও যখনি কিছু বলতে যাবে তখনি কিছু না কিছু একটা হয়ে যায়,, কিছু একটা ঘটনা তো ঘটবেই।
যাইহোক এভাবে যতই দিন যাচ্ছে ততই স্বর্না তার অধিকার আমার উপর খাটাতে চাইছে।
ওকে যতই অপমান করি না কেন। স্বর্না সব সহ্য করছে।আর এখন আমার মনেও স্বর্নার প্রতি পুরানো ভালোবাসা জাগে উঠছে।
এদিকে আবার হঠাৎ আমার অফিসে এক উটকো ঝামেলা শুরু হয়েছে।
প্রথম প্রথম ম্যাম আমার সাথে খুব ভালো ব্যবহার করলেও। কিন্তু কিছু দিন হলো ম্যাম আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করছে। তবে তা কাজের জন্যে নয় বরং অফিসে কলিগদের সাথে কথা বলার জন্যে।
বিশেষ করে মেয়েদের সাথে আমাকে কথা বলতে দেখলেই রাগারাগি করে।
এইতো আজ বলবে এর সাথে কথা বলতে পারবেন না।কাল বলবে ওর সাথে কথা বলবেনা।
আমার সাতে কি হচ্ছে এসব কিছুই বুঝতে পারছি না।মনে হচ্ছে আমি পাগল হয়ে যাবো।
কি করবো...কি করবো না……………
এরকম হাজারো চিন্তা মাথায় ঘুরছে আমার।
তারপর অনেক ভেবে একটা সিদ্ধান্ত নিলাম।
সিদ্ধান্তটা হলো স্বর্নার কারনে যেহেতু আমার জীবনের সব রং হারিয়ে গেছে। তাই আর না।
স্বর্নাকে আমার জীবন থেকে সরাতে হবে।
আর এদিকে যতদিন না আমি আমার লেখা পড়া শেষ করছি তত দিন যত কষ্টই হোক এখানে চাকরি করবো।আজ থেকে কোন মেয়েদের সাথে কথা না বললেই ম্যাম আর আমাকে কিছু বলবে না।
কিন্তু স্বর্না?
ও যেভাবে আমার পিছনে আঠার মতো লেগে আছে।ওকে কি ভাবে আমার পিছন থেকে সরাবো।
এমনিতেও স্বর্নাকে আমি আমার কাছ থেকে যতই দূরে রাখতে চাচ্ছি ততই সে আমার কাছে আসছে।
তাই এখন আমাকে এমন কিছইু করতে হবে যাতে স্বর্না নিজে থেকেই আমার জীবন থেকে হারিয়ে যায়।
কিন্তু কি করা যায়?
আচ্ছা ও যদি এবার আমাকে সত্যিই ভালোবেসে থাকে তাহলে নিশ্চয় ও আমার সাথে কোন মেয়েকে দেখতে পারবে না।
আর ও তো মিরাকেও আমার পাশে দেখতে পারেনা।
হ্যাঁ মিরাকে দিয়ে যদি কিছু দিনের জন্যে মিথ্যা প্রেমের অভিনয় করানো যায়।
তাহলে হয়তো স্বর্না নিজ থেকেই আমার জীবন থেকে চলে যাবে।
কিন্তু মিরা কি রাজি হবে?
কি করা যায় কি করা যায় ঠিক তখনি মনে পড়ে আমার সাথে বন্ধুত্ব করার আগে মিরা আমার সাথে প্রেমের বাজি ধরে ছিলো।
আচ্ছা যদি রিয়া আর নীলাদের বলে মিরাকে আমার সাথে প্রেমের অভিনয় করতে বলি????
দূর কি ভাবছি এসব রিয়া নীলাদের বললে ওরা তো মিরাকে সব সত্যি বলে দিবে। আর তাছারা বাজিতে তো ওরাই ঠকবে।
তাই আমাকে এমন কিছুই করতে হবে যাতে সাপও মরবে আর লাঠিও ঠিক থাকবে।
ঠিক তখনি আমার মোবাইলে একটা কল আসে।মোবাইলের দিখে তাকিয়ে দেখি মিরা কল দিয়েছে।
তাই কলটা রিসিভ করি।
--হ্যালো মিরা বল.!
--কিরে কি করছিস এখন।
--কি আর করবো। শুয়ে শুয়ে স্বপ্নের ভিতর ভবিষ্যৎত বউয়ের সাথে রোমান্স করি। (ফাজলামি করে বললাম)
--হি হি হি তাই নাকি তা মেয়েটা কে রে??
(মিরাও হাসতে হাসতে বললো)
--এত হাসিস না জানিস মেয়েটা কে ছিলো??
--জানি না বলেই তো তোকে জিজ্ঞাসা করলাম কোন মেয়ে তোর জীবনটা ত্যাছপাতা করতে তোর স্বপ্নে আসলো। খুব কষ্ট হচ্ছে মেয়েটা জন্য। হি হি হি।
--আচ্ছা যত পারিস হেসে নে। যখন মেয়েটার নাম শুনবি তখন তোর সব কয়টা দাত পড়ে যাবে।
--আচ্ছা তাই নাকি।
তাহলে তো মেয়েটার নাম শুনতে ইচ্ছা করছে প্রচুর।
--মেয়েটার নাম হলো, মেয়েটার নাম হলো………!
--ঐ মেয়েটার নাম হলো নাম হলো, বলছিস কেন? তাড়াতাড়ি বল মেয়েটা কে?
--এত তারা কেন রে বান্ধবী।
আর আমার মতো লিজেন্ড ছেলের স্বপ্নে আসা মেয়েটা তো খুব স্পেশালিষ্ট হবে তাই না।
আর তার নামটাও স্পেশাল। তাই তার নামটা ফোনে বলে অপমান করতে চাই না। (আমি বললাম)
--আচ্ছা বলবি নাতো ঠিক আছে বলিস না।
আর আমি জানতেও চাই না। আচ্ছা শুন আগামিকাল ঠিক সকাল ১০টায় আমার সাথে পার্কে দেখা করবি। যদি এক মিনিট ও লেট করিস তাহলে তোর প্যান্ট খুলে তুকে রাস্তায় দাড় করিয়ে রাখবো।হু।
--আরে আরে রাগ করছিস কেন।
শোন তো..টু টু টু।
--যাহ্ কেটে দিলো।
মিরার সাথে কথা বলে মনটা এখন একটু ভালো হলো। কিন্তু পরক্ষনেই আবার সব টেনশন মাথায় ভর করলো।
তারপরেও সব কিছু ভুলে ঘুমিয়ে যাই।
পরের দিন সকালবেলা মিরার ফোনে আমার ঘুম ভেজ্ঞে যায়। আর আমি মোবাইলের তাকিয়ে দেখি ১০টা ১০বাজে।
হে আল্লাহ আর এ দশ মিনিটের ভিতরে মিরা তিরিশটা কল দিয়েছে।
যা দেখে আমার মাথা গেছে। এখন ওর কাছে গেলেও বিপদ না গেলে আরো বেশী বিপদ।
যাইহোক তাড়াহুড়ো করে কোন রকমে ফ্রেস হয়ে পার্কে যাই মিরার সাথে দেখা করতে।
আমি দূর থেকে মিরাকে দেখেই বুঝতে পারছি ও আমার উপর কতটা রেগে আছে।
আর শুধুই বারবার আমাকে কল দিতেছে।
কিন্তু আমি তো ভয়েই ওর কল রিসিভ করি নাই।
ওর রাগ দেখে খুব ভয় হচ্ছে। না জানি আমাকে কাছে পেলে কি করবে। তবুও মনে মনে আয়তুল কুরছি পড়ে বুকে ফু দিয়ে সামনে এগোতে থাকি।
(আমি মিরার কাছে যাচ্ছি বন্ধুরা যদি বেচে থাকি তাহলে আপনাদের সাথে আবারো দেখা হবে।)
আমি ওর কাছে যেতেই ও আমার দিকে রাগি ভাবে তাকিয়ে আছে। যেন আমাকে এক্ষুণি খেয়ে ফেলবে।ওর রাগ দেখে খুব ভয় লাগছে। মুখ থেকে যেন কোন কথা বের হচ্ছে না আমার। তবুও সাহস করে বলেই ফেললাম।
--কিরে তুই কখন আসলি মিরা।
--কুত্তা বাঁদর আমি কখন আসছি তা তোকে জানতে হবে না। আগে এটা বল তোর মোবাইল কোথায়।
আর এত গুলো কল দিলাম তা ধরলি না কেন?
কোন মাইয়ার সাথে টাংকি মারলি এত সময় ধরে।
(আল্লাহ মিরা রাগি ভাবে বললো একসাথে এতগুলো কথা)
--না মানে নানা মানে না মানে...(আমি)
--কি না মানে না মানে শুরু করেছিস হ্যাভ।
গতকাল রাতে তোকে কি বলেছিলাম তোর মনে নাই।আজকে তোকে তো আমি খাইছি।
কিন্তু আগে এটা বল কোথায় ছিলি এতক্ষণ।
আমি নিশ্চিত তুই তোর স্বপ্নে দেখা মেয়েটার সাথে দেখা করতে গেছিলি তাই না।(মিরা বললো)
(আমি ভয়ে ভয়ে বললাম)
--মিরা তুই এত রাগ করছিস কেন?
আমি বলছি তো কি হয়েছে, আসলে হয়েছে কি গতকাল রাতে অফিসের কিছু কাগজ দেখতে দেখতে অনেক রাত হয়ে গেছিলো তাই ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়েছে। (মিথ্যা বললাম)
--এই শয়তান একদম মিথ্যা বলবি না।
আমি খুব ভালো করেই জানি তুই অফিস থেকে কোন কাগজ বাদায় আনিস নাই।
(অগের থেকেও দ্বিগুন রেগে বলল)
এবার আমি অবাক হয়ে বললাম…………
--মিরা তুই কি করে জানলি যে আমি অফিস থেকে কোন কাগজ নিয়ে আসি না।
--আ আ আমি কি করে জানবো। আমিতো এমনিই বললাম। (তোতলাতে তোতলাতে)
আর তুই একে তো দেরী করলি। আর এসেই আমার সাথে ঝগরা শুরু করলি কাব্য।
--যা বাবা আমি আবার কখন তোর সাথে ঝগরা করতে গেলাম।:তুইতো আগে...
--আমি কি হ্যাঁ আমি কি?
আমি তোর সাথে কোন দুঃখে ঝগড়া করতে যাবো।আমি তো তোকে একটা গুরুত্বপূর্ন কথা বলতে ঢাকলাম আর তুই এখানে আসতেই আমার সাথে ঝগড়া শুরু করলি।
(কি মেয়েরে বাবা নিজের দোস ধরলো না উল্টে আমায় দোশারফ করলো। দেখিস তোর কোন দিন বিয়ে হবে না। মনে মনে বললাম)
--ঐ কাব্যর বাচ্চা কি ভাবছিস এত?
আর যদি আমাকে মনে মনে গালি দিস তাহলে তোর ভবিষ্যত খারাপ আছ।
--আরে আমার ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে যে আমি তোকে গালি দিবো? তা তুই আমাকে কি যেন বলবি বলছিলি।
--তোর সাথে ঝগড়া করতে গিয়ে ভুলেই গিয়েছিলাম।যাইহোক বলতো আজকে আমাকে দেখতে কেমন লাগছে।
তারপর আমি মিরার পা থেকে মাথা পর্যন্ত তাকিয়ে যেন হঠাৎ কোন এক স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে যাচ্ছি।
মিরা আজ একটা কালো সিল্কের শাড়ি পরে আসছে, হাতে ম্যাচিং করা কালো চুড়ি, কপালে ছোট একটা কালো টিপ, আর ঠোঁটের ছোট ঐ তিল।
এ যেন পরীর রাজ্য থেকে আমার সামনে কোন এক পরী দাড়িয়ে আছে।
আর সে রাজ্যের সমস্ত সৌন্দর্য যেন এই পরীর কাছে তুচ্ছ। মিরাকে কালো এই শাড়িটাতে যা লাগছে না, আমি মিরাকে যতই দেখছি ততই যেন ওর প্রেম..
.
.
.
চলবে………………♥♥
।
বিঃ দ্রঃ আজ আর Nice,, Next,, Wow না লিখে।
দুই একটি লাইন আপনাদের ভালোবাসা জড়িয়ে কমেন্টে লিখেন, তাহলে দেখবেন আগামী পর্ব থেকে আরো ভালো কিছু আপনাদের মাঝে নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।
।গল্প :- বান্ধবী যখন বউ
পর্ব :- ১০
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
.
-: তারপর আমি মিরার পা থেকে মাথা পর্যন্ত তাকিয়ে যেন হঠাৎ কোন এক স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে যাচ্ছি।
মিরা আজ একটা কালো সিল্কের শাড়ি পরে আসছে, হাতে ম্যাচিং করা কালো চুড়ি, কপালে ছোট একটা কালো টিপ, আর ঠোঁটের ছোট ঐ তিল।
এ যেন পরীর রাজ্য থেকে আমার সামনে কোন এক পরী দাড়িয়ে আছে।
আর সে রাজ্যের সমস্ত সৌন্দর্য যেন এই পরীর কাছে তুচ্ছ। মিরাকে কালো এই শাড়িটাতে যা লাগছে না, আমি মিরাকে যতই দেখছি ততই যেন ওর প্রেমে পড়ে যাচ্ছি……..
--কিরে কাব্য এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে কি দেখছিস। আমাকে কেমন লাগছে বললি না তো।
(মিরা একটু লজ্জা পেয়ে বললো)
--অপূর্ব।
কি দেখবো আর আমার পরীকে দেখছি। মন চাইছে সারাজীবন তোমার নেশায় যেন আমি মাতাল হয়ে যাই।
(আমি যেন এখনো কল্পনার ভিতর আছি) বুঝতেও পারি নাই কি বলে ফেলেছি মিরাকে।
----সত্যিইইই বলছিস তুই? (মিরা খুশি হয়ে বলল)
--আরে এত খুশি হয়ে লাভ নেই। তুই আমার বন্ধু হস তাই তোর মন রাখতে মিথ্যা বলেছি। সত্যি কথা বলতেকি তোকে না দেখতে একদম পেত্নির মত লাগছে শাঁকচূর্ণী একটা।
(বুঝতেই পারছেন মজা করে বললাম)
--কিহ্ সত্যিই আমাকে দেখতে খুব খারাপ লাগছে।
(মন খারাপ করে বলল মিরা)
আমি মিরার চোঁখের দিকে তাকিয়ে দেখি ওর চোখে পানি ছল ছল করছে মনে হচ্ছে এখনি কেঁদে দিবে।
--আরে পাগলি মন খারাপ করছিস কেন। আমি তো তোর সাথে মজা করছিলাম।
সত্যি কথা বলতে তোকে আজ অনেক কিউট আর অনেক সুন্দর লাগছে মিরা।
তুই যদি আমার ফ্রেন্ড না হয়ে গালফ্রেন্ড হতি তাহলে তোকে আমি এখনি জড়িয়ে ধরে একটা ইয়ে দিতাম।(আমি)
--তুই চাইলেই কিন্তু এটা সম্ভব কাব্য।
(মিরা একটু লজ্জা পেয়ে বললো)
--মানে কি সম্ভব??
--আচ্ছা কাব্য তুই কি কিছুই বুঝিস না।
শুন একটা মেয়ের হাতে গুণা তিন জন বান্ধবী ছারা।
একটামাত্র ছেলে বন্ধু আছে। আর সে ছেলে বন্ধুটার ছোট ছোট বিষয় গুলোতে অধিকার খাটায় সে।
তাকে সে সব সময় অন্য মেয়েদের থেকে দুরে সরিয়ে রাখে।
তার ভালো খারাপ যাই হোক না কেন সব পরিস্থিতে তার ছায়া হতে চায়। সে তোর কাছে কি চায় এটা কি তুই বুঝিস না।(মিরা)
--মিরা তোর কথার মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝতেছি না আমি।
--তুই সত্যিই কিছু বুঝতেছিস না কাব্য।
--না।
আচ্ছা যা বলার পরিস্কার করে বল।
--ঠিক আছে তাহলে শোন
কাব্য আমি তোকে ভালোবাসি। আর শুধু ভালোবাসি না খুব খুব ভালবাসি। I Love You Kabbo♥
I Love You Very Much
(মিরা চোখ বন্ধ করে কথাগুলো বলল)
(কিহ্ মিরা আমাকে ভালবাসে এটা শুনে আমি কি বলবো কিছুই বুঝতেছি না।
মিরা আমাকে ভালোবাসে এটা শুনে আমার মনের ভিতর কেমন যেন একটা শান্তির বাতাস বয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু হঠাৎ মনে হলো ও যদি আমার সাথে নাটক করে?
ধুর আমি এসব কি ভাবছি ও যদি আমার সাথে নাটকও করে তো করুক।
আর আমি তো নিজেই চাচ্ছিলাম যে মিরা যেন আমার সাথে মিথ্যা প্রেমের নাটক করুক। উপর আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যেই করে)
--কিরে কাব্য কিছু বলছিস না যে। প্লিজ তুই আমাকে না করিস না তুই না করলে আমি ঠিক থাকতে পারবো না।তোকে না পেলে আমি মরে যাবো কাব্য।
(কাঁদতে কাঁদতে বললো মিরা)
হঠাৎ মিরার মুখে মরার কথা শুনে আমার বুকটা কেমন যেন কেপে উঠলো।
(যানি ও হয়ত মিথ্যা কথা বলছে। তবুও ওর মুখে মরার কথা শুনে আমার যে খুব কষ্ট হচ্ছে।)
--চুপ কর মিরা একদম চুপ।
আমি কি বলেছি নাকি যে আমি তোকে ভালোবাসি না।আমিও তোকে ভালবাসি মিরা। কিন্তু ভয়ে বলতে পারি নাই। যদি তুই আমার সাথে তোর বন্ধুত্ব নষ্ট করে দিস।
আর হ্যাঁ আরেকবার যদি তুই মরার কথা বলেছিস তো।তোর আগে তুই আমার মরা...…………
(আমি আর কিছুই বলতে পারলাম না। কি ভাবে বলবো কেউ আমার ঠোট দুটো যে তার রসাল মিষ্টি ঠোট দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। হ্যাঁ সে আর কেউ নয় মিরা।
প্রায় ৩মিনিট পর ও আমাকে ছেরে দেয়। এখন দুজনেই হাপাচ্ছি। আর আমি জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে নিতে বললাম।
--মিরা এভাবে কেউ কিস করে। আর একটু হল তো মা..……………
(আর কিছু বলতে পারলাম না। কারনটা নিশ্চয় বুঝেছেন)
এবার তো প্রায় ৫মিনিট।
৫মিনিট পর ছারা পেয়ে আমি আবারো হাপাতে হাপাতে মিরাকে কিছু বলতে যাবো।
তার আগেই আমি মিরার পিছনে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়।
কারন আমি মিরার পিছনে তাকিয়ে দেখি যে..
স্বর্না দুর থেকে আমাদের দেখে কাঁদতেছে।
হঠাৎ ওর কান্না আমার মনে ছুরির মত আঘাত করতেছে। কিন্তু মুহুর্তেই ওর দেওয়া কষ্ট মনে হতেই আমার মুখে পৈশাচিক হাসি ফুটে ওঠে। স্বর্নাকে দেখিয়ে আমি মিরাকে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরে বলি।
--এভাবে কেউ কিস করে পাগলী।
--কেউ না করলেও আমি করি। তোর কোন সমস্যা
--না না কোন সমস্যা নেই। তবে একটা কথা এখনো কি তুই আমাকে তুই বলেই ডাকবি ডাকটা কেমন জানি বেমানান লাগছে।
--ওহ্ আচ্ছা এই কথা ঠিক আছে। আজ থেকে আমি তোকে তুমি বলে ডাকবো। আর তুইও আমি তুমি বলে ডাকবি।
--হ্যাঁ ঠিক আছে আমার রাজকন্যা রাইসার আম্মু।
--এই এই এক মিনিট এই রাজকন্যা রাইসাটা কে আর ওর আম্মুটাই বা কে?
(হঠাৎ মিরা একটু অভিমানের শুরে বললো)
--আরে আরে পাগলী রাগ করছিস কেন। রাজকন্যা রাইসা হলো আমাদের ভবিষ্যৎ মেয়ের নাম আর তার আম্মু যে সেতো আমার সামনেই আছে।
--যাহ্ কাব্য তুমিও না।
যানো আমি কতটা ভয় পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম বিয়ের আগেই আমাকে সতিনের মুখ দেখতে হবে।
(বলেই আমাকে জড়িয়ে ধরে মিরা)
আর এদিকে স্বর্না এসব সহ্য করতে না পেরে ওখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে চলে যায়। ও কাঁদুক তাতে আমার কি। ওর জন্য আজও আমি প্রতিরাতে কাঁদতে হয়। ওর জন্য আজ আমি বাবা মা থাকা সত্যেও অনাথের মত চলতে হচ্ছে।
যাইহোক এর পর থেকে স্বর্নাকে দেখিয়ে দেখিয়ে আমিও মিরার সাথে প্রেম করতে থাকি।
এখন আর স্বর্না আমার কাছে এসে ক্ষমা চায় না।
বরং দুর থেকে আমাদের দেখে কাঁদতে কাঁদতে চলে যায়।
আর কিছুদিন থেকে দেখছি স্বর্নার চোখের নিচে কালো দাগ পড়েছে। আর আগের থেকে অনেকটা শুকিয়ে গেছে।
এভাবে আরো কিছুদিন চলে যায়।
.
.
.
একদিন অফিসে বসে বসে ভাবছি আমি এখন মিরার প্রতি এত দূর্বল হয়ে পড়ছি কেন?
আর ইদানীং মিরার কোন আচরনেও মনে হচ্ছে না ও আমার সাথে অভিনয় করছে।
কিছু একটা করতে হবে। কিন্তু কি করি কি করি..ঠিক সেই সময় আমার ভাবনার অবসান ঘটিয়ে পিয়ন চাচা এসে বলল। আমাকে নাকি ম্যাডাম ডেকেছে। তাই সব চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে ম্যাডামের রুমে গেলাম।
ম্যামের রুমের দরজা নক করে বললাম...!
--মে আই কাম ইন ম্যাম। (আমি)
--ইয়েস কাম ইন। তা মিঃ কাব্য কেমন যাচ্ছে দিন কাল।
(ম্যাম)
--এইতো ম্যাম আলহামদুলিল্লাহ্ ভালোই যাচ্ছে।
তা আপনি আমাকে কি জন্য ডেকেছিলেন?
--দিন কাল তো ভালো যাওয়ারি কথা। আজ কাল যা করে বেরাচ্ছেন..
আমি অবাক হয়ে বললাম
--ঠিক বুজলাম না ম্যাম।
--এখন তো বুঝবেন না কাব্য সাহেব।
কিছুদিন আগে দেখলাম একটা মেয়েকে পার্কের ভিতর জড়িয়ে ধরে আছেন।
মেয়েটা নিশ্চয় আপনার গার্লফ্রেন্ড??
আমি অবাক হয়ে বললাম
--আপনি কি ভাবে জানলেন ম্যাম।
--কিছুদিন আগে মানে ঐদিন আমিও ঐ পার্কে আমার এক বান্ধবির সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম।
তখনি দেখলাম।
যাই বলুন কাব্য সাহেব আপনার গার্লফ্রেন্ড কিন্তু দেখতে অনেক সুন্দর।…………
.
.
.
চলবে………………♥♥
.
(আজ সারাদিন পর সন্ধাবেলা একটু ফ্রি হলাম,
এজন্য চিন্তা করলাম ছোট করে হলেও ১টা পর্ব দেওয়া যাক।
এজন্য এখন ১০ম পর্ব দিয়ে দিলাম।
একটা ধন্যবাদ তো নিশ্চয় পাওয়ার যোগ্য? নাকি………………)
