গল্প :- বান্ধবী যখন বউ
পর্ব :- ০২+৩+৪+৫
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
.
-:তারপর আমি ওখান থেকে চলে আসি। আর রাত্রে হালকা কিছু খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরের দিন ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়েই কাজের উদ্দেশ্যে বের হলাম।
!
কিন্তু আজকেও যখন কোন কাজ না পেয়ে হতাশ হয়েই সন্ধার সময় বাড়ির দিকে আসছিলাম।
তখনি দেখি একটা লোক রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে পরে আছে।
তাকে এ অবস্থায় দেখে আমি অনেকটাই ভয় পেয়ে যাই।
এজন্য আমি দ্রুত ওখান থেকে চলে যেতে ধরলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই কেন যানিনা মনে একটা কথাই ভেষে উঠল। যদি লোকটা বেচে থাকে?
তাহলে ত লোকটাকে হাসপাতালে নিলে বাঁচতে পারে। কিন্তু আবার ভাবলাম যদি পুলিশ কেস হয়?
আর যদি পুলিশ আমাকেই তার এ অবস্থার জন্য দায়ি করে?
তবুও আমার মন আর বিবেক একটা কথাই শুধু বলছিলো,
মানুষের উপকার করাই মানুষের ধর্ম।
এজন্য আমি আর সাত পাঁচ না ভেবেই একটা অটো ডেকে লোকটাকে নিয়ে হাসপাতালে চলে যাই।
ওখানে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই দেখলাম ডাক্তাররা ওনাকে দ্রুত অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়।
আর এতে আমি একটু অবাকও হলাম। কেননা সাধারনত এরকম কোন রক্তাক্ত লোক কে যদি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে ডাক্তার রা বলে আগে পুলিশের পারমিশন নিয়ে আস। আরো কত কি?
যায় হোক ওনাকে ওটিতে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে দেখলাম মুহুর্তে হাসপাতালের চারপাশে পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছে।
(যেন মনে হচ্ছে ভিতরে কোন সন্ত্রাসি আছে। আর তাকে যেন ধরতে আসছে)
পুলিশের একজন অফিসার দেখলাম ডাক্তারদের সাথে কি বিষয় নিয়ে যেন কথা বলছিলেন।
আর ডাক্তাররা হাতের ইশার করে আমার দিকে কি যেন দেখিয়ে দিলো।
আর এতেই পুলিশ অফিসার তাকে আর কিছু না বলেই আমার দিকে খুধার্ত বাঘের মত আসছে।
(আমি ওনার চোখ মুখ দেখে কেমন যেন ভয় লাগছে।বার বার মনে হচ্ছে এই বুঝি আমাকে বলে বাবু মামা বাড়ী চল।)
অফিসার আমার কাছে এসেই বলতে লাগল..
--এই ছেলে তোমার নাম কি?(খুব শান্ত ভাবে) (অফিসার)
--স্যার আমি কাব্য আহম্মেদ
--তা তুমি স্যারকে কি ভাবে চেন। (অফিসার)
--স্যার আপনার কথা ঠিক বুঝলাম না। আমি আপনাদের কোন স্যারকে তো চিনি না।
--অহ্ সরি।
স্যার বলতে আমি বোঝাতে চেয়েছিলাম যে প্রন্সিপাল স্যার মানে যাকে তুমি হাসপাতালে নিয়ে এসেছো তাকে কি তুমি কোন ভাবে চেন?
--না স্যার ওনাকে তো আমি চিনি না। আমি রাস্তায় ওনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে এখানে নিয়ে এসেছি।
--ওহ্ আচ্ছা ঠিক আছে।
--স্যার আমি কি এখন যেতে পারি। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে।
--না এখন যাওয়া যাবে না। আগে স্যারের জ্ঞান ফিরুক।তারপর তাকে কিছু জিজ্ঞাসা বাদ করার পর যেতে পারবে।
(কি ঝামেলায় পড়লাম রে বাবা। কখন যে লোকটার জ্ঞান ফেরে। আর কখন যে বাড়ি যাবো।)
--কিছু বললে?(অন্য দিকে তাকিয়ে) (অফিসার)
--কই না স্যার।
(হায় আল্লাহ কিছু একটা করো। আমি বারবার আল্লাহকে ডাকছিলাম )
তখনি একটা নার্স এসে বলতে শুরু করল...
--আপনারা চাইলে এখন স্যারের সাথে দেখা করতে পারেন। (নার্সের কথা শুনে আমি এতটাই খুশি হলাম যে মন চাচ্ছে এখনি তারে একটা পাপ্পি দেই।)
--ঠিক আছে আপনি যান আমরা ভিতরে যাচ্ছি।(অফিসার)
(তারপর আমরা ভিতরে যেতেই লোকটা পুলিশ অফিসারকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুরু করলো)
--আরে বাবা ফরহাদ তুমি এখানে।(লোকটা)
--হ্যাঁ স্যার আমি।(সালাম দিয়ে)আপনি এখন কেমন আছেন।(অফিসার ফরহাদ)
--আমি ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?(লোকটা)
(ধুর কি লোকটা লোকটা করছি আসলে উনিতো একজন শিক্ষক তাকে তো স্যার বলে ডাকা উচিত)
--এই তো স্যার আছি মোটামুটি। তা স্যার আপনার এই অবস্থা কি ভাবে হল।(ফরহাদ)
--আমিও ঠিক বলতে পারি না আমার সাথে কি থেকে কি হয়ে গেলো। সন্ধায় একটু বাহিরে হাঁটতে কি বের হলাম। তখন কোথায় থেকে কিছু মুখোস পড়া ছেলে এসে আমাকে মেরে চলে যায়। যাইহোক ওসব বাদ দাও। তা তোমার সাথে এ ছেলেটা কে একে তো ঠিক চিনলাম না। (স্যার)
--স্যার ওর নাম হল কাব্য। এই কাব্য ই আপনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তা থেকে এখানে নিয়ে এসেছে।
--আরে তার বাবা তোমাকে যে কি ভাবে ধন্যবাদ দিবো সে ভাষা আমার কাছে নেই।
--স্যার এখানে ধন্যবাদ দেওয়ার কিছুই নেই। এটা আমার কর্তব্য, আর আল্লাহতালা তার প্রত্যেক বন্দাকে একে অপরের উপর কিছু অধিকার বা দায়িত্ব এবং কর্তব্য দিয়েছে আর আমি তারিই একটা পালন করার চেষ্টা করেছি মাত্র। (আমি)
--সবাই যদি তোমার মতো ভাবতো তাহলে আজ আমার এ অবস্থা হতো না। আর না পৃথিবীতে এত অশান্তি থাকতো।(স্যার)
--স্যার আমাকে এখন যেতে হবে। আর আপনি যদি কাউকে সন্দেহ করেন তাহলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন।(ফরহাদ)
--ঠিক আছে বাবা কিছু মনে করতে পারলে তোমাকে অবশ্যই জানাব।…………
ওহ তা বাবা কাব্য তুমি কি করো?(স্যার)
--এইতো স্যার বেকার বসে আছি আর কাজ খুঁজছি।
--কি বলো বাবা এই বয়সে কাজ খুঁজছো মানে। এখন তো তোমাদের লেখাপড়া করে নিজেকে তৈরি করার সময়। আর তোমার কথাবার্তা শুনে তো মনে হয় তুমি লেখা পড়া করো বা লেখাপড়া যানো।(স্যার)
--আর লেখাপড়া স্যার।
যে মানুষ নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারে সে করবে লেখাপড়া।
তবে হ্যা লেখাপড়া অবশ্যই করবো। কিন্তু তার জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে।
--তোমার কথা ঠিক বুঝলাম না।
--কিছু না স্যার, আমি এখন আসি।
--তা তুমি কতদুর পড়েছো।
--এইতো স্যার ইন্টার পরীক্ষা দিয়েছি।
--তা তোমার রেজাল্ট কি?
--50 স্যার
(রেজাল্টের কথা বলতেই আমার মনটা আবার খারাপ হয়ে গেলো। তবুও মাথা নিচু করে বললাম)
--ওহ তা তোমার এস এস সির রেজাল্ট কি ছিল?
--গোল্ডন এ প্লাস।বিজ্ঞান থেকে।
--কিহ গোল্ডেন পেয়েছিলে আর ইন্টারে এত খারাপ রেজাল্ট করলে কি ভাবে?(অবাক হয়ে)
--ঐ যে স্যার বললাম না নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছি। আর সে জন্য আজ আমি পরিবার থেকে আলাদা হয়েছি।
যাই হোক স্যার আমার কথা বাদ দিন। আমাকে এখন যেতে হবে।নআর কালকে আবার কাজের খোঁজে বের হতে হবে।
--স্যার :....(কি যেন ভাবছে)
--আসি স্যার।
এই বলে আমি যখনি রুম থেকে বের হতে যাব। তখনি স্যার বলে উঠলেন....
--তা তুমি কি আর পড়তে চাও না।?
(পিছন ফিরে বলতে লাগলাম)
--পড়তে তো চাই স্যার।
কিন্তু পড়বো কি ভাবে বলুন। সামন্য যে আমি কলেজের চয়েজ দিবো তার টাকাই আমার কাছে নেই। সেখানে কি ভাবে অন্য কলেজে ভর্তি হবো।
--যদি তুমি পড়তে চাও। তাহলে তোমাকে আমি আমার কলেজে ভর্তি করাতে পারি।
--স্যার করুনা করছেন।
নাকি আমি আপনার জীবন বাচিয়েছি বলে তার প্রতিদান হিসাবে আমাকে আপনি আপনার কলেজে ভর্তি করানোর কথা ভাবছেন?
স্যার যদি এটা ভেবে থাকেন তাহলে ভুল ভাবছেন।আমি কখনো অন্যের উপকার করে তার থেকে সেই উপকারের প্রতিদান নেই না।
আর যদি করুনা করার কথা ভাবেন তাহলে তো আমি কোন দিনও আপনার সেই করুনার ভার নিতে পারবো না। আসি স্যার, আর আমার কথায় যদি মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে মাপ করবেন দুঃখীত....
--তুমি ভুল ভাবছো বাবা। আমি তোমাকে করুনা বা তুমি আমাকে যে উপকার করেছ তার প্রতিদান দিতে চাচ্ছি না।
আমি তোমার কথা শুনে বুঝতে পারছি তোমার মনের ভিতর খুব বড় একটা কষ্ট লুকিয়ে রয়েছে।
যার কারনেই হয়তো তুমি পরীক্ষার খারাপ রেজাল্ট করেছো।
আর হয়তো তুমি ভাবছো আমি আমার উপকারের প্রতিদান দেওয়ার জন্য তোমাকে আমি আমার কলেজে ভর্তি করাতে চাচ্ছি।
কিন্তু তাও না।
আমি তোমার ভিতর কিছু একটা করার ইচ্ছার যে প্রবনতা আছে তা দেখতে পারছি বিধায় আমি ভাবলাম তোমাকে আমার কলেজে ভর্তি করাবো।
এখন ভেবে দেখো তুমি তোমার লক্ষতে এগিয়ে যেতে চাও। নাকি বাকি সব দুর্বলদের মত পিছিয়ে পড়তে চাও। (স্যার)
(স্যারের এসব কোন কথাই আমার মাথা বা মনকে ছুতে পারলো না।)
কিন্তু একটা শব্দ ("দুর্বল") হঠাৎ এই শব্দটা কেমন যেন রাগ আর জেদ ধরিয়ে দিলো।
আমার কেন যেন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছে আমি দুর্বল নই,দুর্বল নই।
তখন মনের ভিতর একটা কথাই উকি দিল। প্রত্যেক মানুষ তার ভুল শুধরানোর একটা সুযোগ পায়। আর আমি যখন একটা সুযোগ পেয়েছি। তখন এটা হাত ছাড়া করা আমার জন্য একটা বোকামি।
কিন্তু আমি কি কারো করুনা নিচ্ছি?
--কিহ হল বাবা। এত কি ভাবছ?(স্যার)
--কিছু না স্যার (স্যারের কথায় আমার ভাবনার ছেদ ঘটল)
ভাবছিলাম আমি আপনার কলেজে ভর্তি হবো। তবে আমার একটা শর্ত আছে।
--কি শর্ত??
--আমার শর্ত এটাই যে আমি আপনার কলেজে ভর্তি হবো। তবে ভর্তির টাকা আমি আপনাকে দিয়ে দিবো।
--ওহ!
এই কথা আচ্ছা তোমার যা ইচ্ছা। আগামিকাল তুমি ****কলেজে যাবে।
আর আমি কলেজে তোমার কথা ফোন করে বলে দিব।
(স্যার)
--আচ্ছা ঠিক আছে,ধন্যবাদ স্যার।
--এখানে ধন্যবাদ দেওয়ার মত আমি কিছুই করি নাই।আর তুমিই তো বললে মানুষ হয়ে মানুষের উপকার করাই ধর্ম।
--তবুও স্যার।
আপনি হয়তো জানেন না আজ আমার মাথা থেকে কত বড় একটা চিন্তার বোঝা নেমে গেললো। যাই হোক স্যার আমি এখন আসি।
--ঠিক আছে সাবধানে যাও।
ছেলেটার সাথে মনে হয় আমার মতো ই কিছু একটা হয়েছে।
তা না হলে যতো খারাপ রেজাল্টই করুক না কেন কোন বাবা মাই তাদের সন্তানকে নিজেদের থেকে দুড়ে ঠেলে দেয় না।
বলেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ।(মনে মনে কথা গুল ভাবল স্যার)
!
!
!
আজ আমার খুব খুশি লাগছে। আজ যদিও একটা কাজও পেলাম না। তবে আল্লাহতালা আমাকে আজ যা দিয়েছেন তা আমার কাছে এতটাই দামি যা বলার মত না। যাইভহোক অনেক রাত হয়েছে। তাই আর কোন কিছু না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উপে ফ্রেস হয়ে দুটো বিস্কিট খেয়ে কলেজের সব কাগজ নিয়েই কলেজের দিকে একটু তাড়াতাড়িই বের হয়ে গেলাম।
(কি করবো বলেন এখন ত আর আমি বাবার হোটেলে থাকিনা। এখন নিজেকেই নিজের জন্যে সব করতে হয়)
যাই হোক প্রায় আধা ঘন্টা পড় আমি স্যার যে কলেজের প্রন্সিপাল সেই কলেজে পৌছে যাই।কলেজের ভিতর যাওয়ার সাথে সাথেই দেখি কলেজের ছেলে_মেয়েরা আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,আবার কেও কেও আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।
(হয়ত আমার পোশাক দেখে)
আমি সেদিকে খেয়াল না দিয়ে কলেজের অফিস রুমের দিকে যেতেই হঠাৎ করেই...কিছু একটার সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলাম। আর এদিকে পুরো কলেজে হাসির রোল পড়ে গেলো।
(হে আল্লাহ আমি কি কোন পিলারের সাথে ধাক্কা খেলাম নাকি।
কিন্তু পিলারের সাথে ধাক্কা খেলে তো আমার ব্যাথা পাওয়ার কথা, তাহলে আমি শুধু মাটিতে পড়ে গেলাম কিন্তু ব্যাথা পেলাম না কেন? ব্যাপারটা কি।
তাই মাটি থেকে উঠতে উঠতে সামনে তাকাতেই দেখি একটা মেয়ে)
(শুধু মেয়ে বললে ভুল হবে যেন একটা নীল পরী)
আমার সামনে রাগী লুক নিয়ে দাড়িয়ে আছে। তার আমার দিকে তাকিয়ে থাকা দেখে মনে হচ্ছে আমাকে যেন চিবিয়ে খাবে। তাই পরিস্থিতি সামলে নিতে আমি মাথা নিচু করে "সরি" বলতেই।
.....ঠাসসস,ঠাসসস (বুঝতে পারলেন না মেয়েটা আমাকে চড় মেরেছে। আর এত জোড়েই চড় মেড়েছে যে মনে হচ্ছে আমার সব কয়টা দাত বের হয়ে যাবে)
চড়ে মেরেই বলতে লাগল..
--কোথায় থেকে যে এসব খ্যাত লুইচ্চা ছেলে আমাদের কলেজে আসে আল্লাই জানে।(মেয়েটা)
--দেখুন আপু আমি ইচ্ছা করে..
--ঐ খ্যাতের বাচ্ছা খ্যাত এটাই বলতে চাচ্ছিসত তুই ইচ্ছা করে আমার সাথে ধাক্কা খাস নাই।?
তোদের মত ছেলেদের আমার খুব ভাল করেই চেনা আছে। আমাদের মত বড় ঘড়ের সুন্দরি মেয়ে দেখলেই ধাক্কা খেতে মন চায় না।
(এরকম আর আনেক বাজে কথা বলে সে চলে যায়।আর আমি মাথা নিচু করে সব সহ্য করে নিলাম। আমি চাইলেই মেয়েটার প্রত্যেকটা কথার জবাব দিতে পারতাম। কিন্তু না আমি তা করলাম না।কারন আমি আমার জীবনে মেয়েদের সাথে কোন সমস্যা বা কোন সম্পর্কে জড়াতে চাই না।)
যাই হোক তারপর আমি অফিস রুমে গিয়ে এক স্যারের কাছ থেকে সহকারী প্রন্সিপালের রুমের ঠিকানা নিয়ে প্রন্সিপালের রুমের কাছে গিয়ে দরজায় নক করতেই
--কাম ইন। (সহ. প্রন্সিপাল)
আমি ধন্যবাদ স্যার।(সালাম দিলাম)
--তোমাকে তো চিনতে পারলাম না।(সহ. প্রন্সিপাল)
--স্যার আমাকে প্রন্সিপাল স্যার পাঠিয়েছেন।
--ওহ তুমিই তাহলে সেই কাব্য।
গতকাল রাতে স্যার আমাকে সব বলে দিয়েছেন। আর আমি সব কিছু প্রায় ঠিক করে রেখেছি। তা তুমি কি তোমার সব কাগজ পত্র নিয়ে এসেছ।(সহ. প্রন্সিপাল)
--হ্যা স্যার নিয়ে এসেছি।(মাথা নিচু করে বললাম)
এই নিন।
তারপর স্যার আমার সব কাগজ নিয়ে বলতে লাগলেন।
--তুমি আগামিকাল থেকে কলেজে আসতে পারো আর তোমার রোল হল ***।(সহ. প্রন্সিপাল)
তারপর আমি স্যারকে আবার সালাম দিয়ে মাথা নিচু করে কলেজের বাহিরে চলে আসি।
কলেজ থেকে বাড়িতে ফিরে………………
.
.
চলব………………????
.
-:চলবে না দৌড়াবে একটু বলবেন প্লিজ পাঠক/পাঠিকা গন?গল্প :- বান্ধবী যখন বউ
পর্ব :- ০৩
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
.
-: তারপর আমি স্যারকে আবার সালাম দিয়ে মাথা নিচু করে কলেজের বাহিরে চলে আসি।
কলেজ থেকে বাড়িতে ফিরে আবারও সেই কাজের খুঁজে বাহির হই।
তারপর সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমি ছোট একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে পাট টাইম জবের একটা চাকরি পেয়ে যাই।
আজ আমি অনেক খুশি কারন আজকে আমার জীবনটা যেন সম্পূর্ন পাল্টে গেলো। আজকে হয়তো আল্লাহতালা আমার উপর তার অশেষ রহমত দান করেছেন।
আর মনে মনে একটা কথাই ভাবছি আল্লাহতালা হয়তো এত দিন আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন।
যাই হোক এসব ভাবতে কখন যে বাড়িতে এসে গেছি বুঝতেই পারি নাই।
বাড়িতে এসে সামান্য কিছু খাবার খেয়ে বাড়ী ওয়ালার বাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম। তখনি দেখি বাড়ীওয়ালা আঙ্কেল আমার ঘরের দিকেই আসছেন।
আমি তাকে দেখে সালাম দিয়ে কিছু বলতে যাবো। তার আগেই তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন....
--আরে বাবা কাব্য গতকাল তুমি পড়াতে আসলেনা যে?আবার দেখলাম অনেক রাতে বাড়িতে ফিরছো। কাল কি কোন সমস্যা হয়েছিল?(চিন্তিত.হয়ে)
--না আঙ্কেল তেমন কোন সমস্যা হয় নাই। আসলে হয়েছিল কি....
(তারপর আমি তাকে সব কিছু খুলে বললাম)
--খুব ভালো করেছো বাবা। মানুষ মানুষের বিপদে এগিয়ে আসবে এটাই তো মানুষর ধর্ম ও মনুষ্যত্ব।
কিন্তু আমরা মানুষরা তো এখন শুধু টাকা অার ক্ষমতার লোভে আমরা আমাদের মনুষ্যত্ব বিবেক বিকিয়ে বা শেষ করে ফেলেছি।
(বলেই একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লেন)
যাই হোক বাবা আমি যে জন্য তোমার কাছে এসেছিলাম। বলছিলাম কি বাবা তুমিতো এখন রাজুকে পড়াতে যাবে।
--হ্যা আঙ্কেল....
আমিতো সেই জন্যই বাসা থেকে বের হলাম।
আর আঙ্কেল আপনাকে দেখে কেমন যেন মনে হচ্ছে আপনি আমাকে আরো কিছু বলতে চাচ্ছিলেন।?
--তুমি ঠিক ধরেছো।
আসলে তোমাকে যে কি ভাবে কথাটা বলি।
--আঙ্কেল আপনি বিনা সংকোচে বলতে পারেন। যদি আমাকে আপনার ছেলের মত ভাবেন।
--আসলে বাবা হয়েছে কি।
আমার এক বন্ধুর মেয়ে আমাদের এখানে থাকতে এসেছে।
আর তুমি যে ঘরটাতে থাকো ও প্রত্যেক বার এখানে আসলে ঐ ঘরেই থাকতে ভালবাসে। যদি তুমি......
--ঠিক আছে আঙ্কেল আমাকে কিছু দিনের সময় দিন।আমি অন্য অন্য জায়গায় না হয় একটা থাকার ব্যবস্থা করবো।
(মন খারাপ করে। আসলে এখান থেকে আমার কলেজ ও অফিস একটু কাছেই হয় তাই মনটা খারাপ হল)
--আরে বাবা তোমাকে আমি চলে যেতে বলছি না।
তুমি তো আমাদের বাড়ির উপরের ছোট ঘরটায় কিছু দিন যদি থাকতে। তাও যদি তোমার কোন আপত্তি না থাকে।
--ঠিক আছে আঙ্কেল আপনি যা ভালো মনে করেন।আসি আঙ্কেল।
তারপর আমি ওনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রাজুকে পড়াতে যাই।
আর রাজুকে পড়ানো শেষ করে আমি আবার রুমে.ফিরে এলাম!
এসে আমার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিলাম। আচ্ছা আমি একটা জিনিস বুঝলাম না বাড়িতে কোন আত্নীয় আসলে তাদেরকে তো সাধারনত গেষ্ট রুমে থাকতে দেওয়া হয়। তাহলে..?
ধুর আমিও না,,
তাদের আত্মীয় তারা তাকে কোথায় রাখবে সেটা তাদের বিষয়। এটা নিয়ে আমার না ভাবলেও চলবে।
সব কিছু গোছানো হয়ে গেলে আমি রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরলাম।
পরের দিন খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হলো।কারন আমার যা সামন্য জিনিস পত্র তা আঙ্কেলদের বাড়ির উপরের ঘরে উঠাতে হবে।
যাই হোক সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে ফ্রেস হয়ে আসতেই পেটের মধ্যে খুধার কারনে মোচর দিয়ে উঠলো।
কিন্তু আজকে আমাকে না খেয়েই বের হতে হবে।
(কি করবো বলুন আমার জন্য এখন কে খাবার তৈরি করে বসে থাকবে)
তারপর কোন কিছু না খেয়েই কলেজের উদ্দেশ্যে বের হতেই আন্টি বলে উঠল...।
--আরে বাবা কাব্য এই সময় কোথায় যাও। (আন্টি)
--এইতো কলেজে যাচ্ছি আন্টি। আপনি কি কিছু বলবেন।
--ওহ্ আমার তো মনেই ছিল না।
গতকাল রাত্রে তোমার আঙ্কেল আমাকে সব কিছুই বলে ছিলো। যাই হোক তা তুমি কি কিছু খেয়েছো।
--হ্যাঁ আন্টি।
এই মাত্রই খেয়ে বের হলাম।
(মিথ্যা কথা বললাম) আমি এখন আসি আন্টি দেরি হয়ে যাচ্ছে।
--কিন্তু আমার তো মনে হয় না তুমি কিছু খেয়েছো।
(আমার দিকে তাকিয়ে বলল)
সকাল থেকে তো দেখলাম তোমার জীনিস পত্র উপরে উঠালে। আর তার কিছুক্ষণ পরেই কলেজে যাচ্ছো।তাহলে তুমি খাবার রান্না করলে কখন?
(এইরে ধরা পরে গেলাম,এখন কি করি।)
--না মানে আন্টি। আসলে হয়েছে কি??
--বুঝতে পেরেছি আর কিছু বলতে হবে না। আমার সাথে চলো কিছু খেয়ে তারপর কলেজে যাবে।
--থাক না আন্টি আমি না হয় বাহিরে খেয়ে নেবো।
--আমরা থাকতে তুমি বাহিরে খাবে কেন। আমি কি কখনো তোমাকে আর রাজুকে আলাদা চোঁখে দেখেছি।নাকি তুমি আমাদেরকে আপন ভাবতে পারো নাই।
--আন্টি আপনি এসব কি বলছেন। এখানে আমার আপনারা ছাড়া আর কোন পরিচিত মানুষ আছে যাদের আপন ভাববো। আর দেখুন আমার আজকে কলেজের প্রথম দিন। তাইই..…………
--আমি কি আর তোমার মা যে তুমি আমার কথা শুনবে। মা হলে ঠিকি শুনতে। (মুখটা কালো করে বললো)
--ঠিক আছে আন্টি আপনি আমার খাবার রেডি করুন।আমি আসছি।
(কি করবো বলুন। যখনি মায়ের কথা বললো। তখন বুকের ভিতর কেমন যেন খুব কষ্ট হচ্ছিলো)
তারপর আন্টি খুশি মনে আমাকে খেতে দিলো।
আর আমি চুপচাপ খেয়ে কলেজে চলে আসলাম।
কলেজে আজকে আসার পরও দেখছি সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে। আমি সে দিকে মন না দিয়ে মাথা নিচু করে নিজের ক্লাস খুজে নিয়ে শেষ ব্রাঞ্চে বসলাম।
সামনের দিকে অবশ্য বসার জন্যে অনেক জায়গা ছিলো। কিন্তু সবাই আমাকে দেখে এমন ভাবে বসেছে যে সেখানে বসতে যেন তাদেরই অসুবিধা হচ্ছে।
প্রায় ১০ মিনিট পর স্যার ক্লাসে এসে ক্লাস নিচ্ছিলেন।হঠাৎ করেই তিনি আমাকে দেখে বলে উঠলেন..
--এই লাষ্ট ব্রাঞ্জ স্টান্ড আপ। (স্যার)
(আমি মাথা নিচু করে দাড়িয়ে গেলাম)
--তুমি কি এই কলেজের ছাত্র।(বলেই আমার দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে)(স্যার)
--হ্যা স্যার।নতুন ভর্তি হয়েছি।
--নতুন ভর্তি হয়েছো ভালো কথা। কিন্তু নিজের দিকে একবার তাকিয়ে দেখছো। তোমাকে দেখে তো মনে হচ্ছে তুমি এখানে পড়তে নয় বরং......
--ক্ষেত স্যার ক্ষেত......
ক্ষেত মানে জমি চাষ করতে এসেছে।
(বাহির থেকে একটা মেয়ে বললো। হঠাৎ কারো আওয়াজ শুনে ক্লাসের বাকী সবাই ঐদিখে থাকিয়ে এক সাথে হাসতে শুরু করল)
--আরে মা তুমি....
মিরা তুমি আজ এত দেরি করলে যে।? (স্যার বললো)
--আর বলবেন না স্যার আজ রাস্তায় যা ট্রাফিক জ্যাম ছিলো। (মিরা)
(মেয়েটার গলার আওয়াজ শুনে আমার কেন যানি খুব চেনা চেনা লাগলো। মনে হচ্ছে এর আগেও কোথাও তার গলার স্বর আমি শুনেছি।
আমি. মেয়েটার দিকে তাকাতেই আমার হাত আপনা আপনি আমার গালে চলে গেল।
হ্যাঁ আপনারা হয়তো ভাবছেন আমার হাত গালে কেন গেলো?
তাহলে শুনুন মেয়েটা আর কেউ না গতকাল যে মেয়েটা আমাকে চড় মেরেছিল এ সেই মেয়ে)
--ঠিক আছে মা ভিতরে আসো।(স্যার)
--আর এই যে ক্ষেত বাবু। এটা তোমাদের কোন গ্রামের কলেজ নয় যে যখন যা হাতের কাছে পাবে তখন তাই পড়ে কলেজে আসবে। আজকের পর থেকে ভালো ভাবে কলেজে আসবে মনে থাকে যেন।
(স্যার আমাকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বললো)
--আমি মাথা নারালাম।
--এখন বসে পড়ো। আর ডিয়ার স্টুডেন্ট, আজকে আমি তোমাদের কোন ক্লাস নিবো না।
আজকে আমি তোমাদের সবার পরিচয় জানবো। কারন তোমরা তো জানই আমাদের কলেজে কিছু রাজনৈতিক সমস্যার কারনে আমরা কিছুদিন তোমাদের ক্লাস নিতে পারি নাই।
তাই আমার মনে হয় এখানে যারা আজ উপস্হিত আছে। তারা হয়তো অনেকেই একে অপরের সম্পর্কে জানো না।
তাই প্রথম থেকে সবার পরিচয় জেনে নেই।
তারপর সবাই একে একে নিজেদের পরিচয় দেয়।
আর এতে মিরার ও পরিচয় জানতে পারি।
ওর বাবা ঢাকা শহরের সব চাইতে বড় মাল্টি ন্যাশনাল কম্পানির মালিক মো:জাহাঞ্জাগীর আলমের ১ম বা ২য় সন্তান।
আপনারা হয়তো ভাবছেন ১ম বা ২য় সন্তান কেন বললাম?
কারন ওরা নাকি জমজ বোন।
যাই হোক সব শেষে যখন আমার পরিচয় দেওয়ার পালা তখনি স্যার বলে উঠলো
--তুমি শুধু কষ্ট করে তোমার নামটা বলেই বসো।(স্যার)
কি আর করা মনটা খারাপ করে নিজের
নাম :- #কাব্য_আহম্মেদ (নীল) বলে বসে পড়লাম।
আর মনে মনে বললাম হায়রে দুনিয়ার মানুষ তোরা শুধু বাহিরের চাকচিক্যটাই দেখলি। ভিতরটা দেখলি না।
তারপর ক্লাস শেষ হলে আমার কর্মস্থলে আসি।
এখানে এসে মনটা একটু ভালো হয়ে গেলো। কারন এখানে কেও কারো টাকা পয়সা দামি পোশাক দেখে না। শুধু মানুষের প্রতিভা দেখা হয়।
এরপর থেকেই আমার নতুন জীবনের পথ চলা শুরু হয়।
এখন আমার জীবনের একটাই লক্ষ্য নিজের অতিথ ভুলে সব কিছু আবার নতুন করে শুরু করা।
(আর এই নতুন জীবনে থাকবেনা স্বর্নার মতো কোন স্বার্থপর কোন মেয়ের স্থান)
সব কিছু ভুলে আমি পুনরায় পড়াশুনায় মন দেই।
আর নিয়মিত কাজও করি।
অনেক কষ্টে আমি আবার সেই আমি কে পুনরায় তৈরি করি।
কি আযব দুনিয়া যে আমি ছিলাম কোন এক কলেজের স্যারদের চোখের মনি।
কিন্তু সে আমি ই আজ অন্য কোথাও নিজেকে সবার সামনে ক্ষেত আর লেখাপড়ায় অমনযোগী ছাত্র হিসাবেই উপস্থাপন করলাম!!
আর মিরা?
ওর কাছে তো আমি প্রায় সব সময় ই অপমানিত হয়।
তারপর একদিন যানি না কি মনে করে আমি কলেজের পিছনে পুকুর পারের দিকে যাচ্ছিলাম।
তখনি কতকগুলো মেয়ের হাসাহাসি আর গলার আওয়াজ পেলাম।
মনে মনে ভাবলাম হয়তো মেয়ে গুলোও আমার মত এখানে একটু নিরিবিলি থাকতে এসেছে।
কিন্তু যখনি আমি ওদের প্রায় কাছাকাছি এসেছি।তখনি দেখি মিরা আর ওর বেশ কিছু বড়লোক বান্ধবী কি নিয়ে যেন কথা বলছে আর হাসাহাসি করছে।
তাই ওদের দেখে যেই আমি চলে আসবো।
তখনি আমি ওদের কিছু কথায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম।আর কেন হলাম তা শুনুন.......
আমি যখনি ওখান থেকে চলে আসা ধরলাম তখনি হঠাৎ করেই মিরার বান্ধবী নীলা বলে উঠল...
--আচ্ছা তোরা বলতো আমাদের কলের সব চাইতে সুন্দরি মেয়ে কে???
--কে আবার আমাদের মিরা। আর তুই কি চোখেও দেখিস না ওর আগে পিছে কত বড় লোকের ছেলেরা ঘুরঘুর করে। (ওর এক বান্ধবী)
--ঐ থাম থাম শুধু কি বড়লোকের ছেলেরাই
আমাদের কলেজে যতো ছেলে আছে সবারি একই অবস্থা।
(ওদের মধ্যে অন্য একজন)
--নারে আমার তো মনে হয় না। আমাদের মিরা......
(এরপর নীলা কি আর বলতে পারে..! পড়তে চোখ রাখুন আমার প্রোফাইলে)
.
.
.
চলবে………………::::গল্প :- বান্ধবী যখন বউ
পর্ব :- ০৪
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
.
-:--আচ্ছা তোরা বলতো আমাদের কলের সব চাইতে সুন্দরি মেয়ে কে???
--কে আবার আমাদের মিরা। আর তুই কি চোখেও দেখিস না ওর আগে পিছে কত বড় লোকের ছেলেরা ঘুরঘুর করে। (ওর এক বান্ধবী)
--ঐ থাম থাম শুধু কি বড়লোকের ছেলেরাই
আমাদের কলেজে যতো ছেলে আছে সবারি একই অবস্থা।
(ওদের মধ্যে অন্য একজন)
--নারে আমার তো মনে হয় না। আমাদের মিরা আমাদের এই কলেজের সব ছেলেদের ক্রাস আর সব চাইতে বেশী সুন্দরী।(নীলা)
--ঐ কানার বৌ কানি।
মনে হয় আজ সকালে তুই বুড়ীগঙ্গঅর পানি দিয়ে তোর চোখ ধুয়েছিস। আর না হয় তোর মাথার ঠিক নেই।
জানিস না মিরা যদি শুধু একবার………(রিয়া)
--ঐ থাম আর শোন আমার মাথা ঠিক আছে।আচ্ছা তোরা একটা জিনিস খেয়াল করেছিস।(নীলা)
--কী (সবাই একসাথে)
(ওদের এসব কথা শুনে মিরা শুধু হাসতেছে)
--বেশী কিছু না তোরা কি জানিস আমাদের কলেজের এমন একজন বান্দা আছে যে আজ পর্যন্ত আমাদের কলেজের কোন মেয়ের দিকেই ভালে করে তাকিয়ে পর্যন্ত দেখে নাই। আর মিরাকে তো মনে হয় আরো একদম ই দেখতেই পারে না।(নীলা)
--ঐ তোর আজাইরা পেচাল বন্ধ কর।(রিয়া)
--ঐ সালি কি বললি আমি আজাইরা পেচাল পারছি।(নীলা)
--তা নয়তো কি?
ঐ তোরাই বল আমি কি কিছু ভুল বললাম। (বাকি মেয়েদের উদ্দেশ্য করে বললো রিয়া)
--না তুই তো...একদম ঠিক বলেছিস।
(রিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলছে অন্যান্য বান্ধবীরা)
--ঠিক আছে মানলাম আমিই ভুল আর তোরা সবাই ঠিক। কিন্তু সবাই একবার ভেবে দেখতো আমার ক্ষেত বাবু কাব্যর কথা।(নীলা)
--ওর কথা ভেবে আমরা কি করবো?
আমাদের কি আর কোন কাজ নেই যে ঐ ক্ষেত মার্কা ছেলের কথা ভাববো। (সবাই এক সাথে)
--তোদের সময় কে নষ্ট করতে বলছে?
আচ্ছা একটু ভেবে দেখতো আমাদের ক্ষেত বাবু আজ পর্যন্ত কোন মেয়ের দিকে তাকিয়ে দেখেছে?
আর আমাদের কথা ছাড়..
যেখানে মিরার মত বড় লোক আর সুন্দরি মেয়ের সামনে পিছনে আমাদের কলেজের সব ছেলে ঘুড় ঘুড় করে।
সেখানে আমাদের ক্ষেত বাবু তো ওর দিকে ভুল করেও তাকায় না।
আর তাই আমার তো মনে হয় মিরাও আমাদের মত আর দশ পাঁচ টা সাধারন মেয়ের মতই। (নীলা)
.
.
.
--ঐ নীলার বাচ্চা তোর তো সাহস কম না তুই আমার সামনে থেকে আমাকেই বলছিস যে আমি আর দশ পাঁচ জন সাধারন মেয়ের মত।
(রেগে গিয়ে বললো মিরা)
--তা নয়তো কি।
তুই যদি আমাদের মধ্যে সত্যি সত্যি সবচেয়ে বেশী সুন্দরি হতি। তাহল ঐ ক্ষেত বাবু এতদিনে তোর প্রেমে হাবুডুবু খেতো। (নীলা)
--:ঐ হারামি চুপ কর।
তা না হলে কিন্তু তোরে আজকে আমি...(মিরা)
--তুই কিছুই করতে পারবি না।
যদি পারিশ তাহলে ঐ ক্ষেত বাবুকে তোর রুপের প্রেমে আর প্রেমের জ্বালেয়ে ফাসিয়ে দেখা।(নীলা)
--:ঠিক আছে ওকে যদি আমি যদি ২মাসের মধ্যে আমার প্রেমের জ্বালে না ফাসিয়েছি তাহলে আমার নামও মিরা নয়।
--মিরা তুই আর একবার ভেবে দেখ। পরে যেন বলিশনা....(নীলা)
--: মিরার ভাবাভাবি শেষ ওকে আমি আমার প্রেমের জ্বালে ফাসিয়েই ছারবো।(মিরা)
--যদি না পারিশ কি করবি?? (নীলা)
--: মিরা পারেনা এমন কোন কাজ নেই।
আর যদি সত্যি না পারি তাহলে তোরা যা খেতে চাইবি তোদেরকে আমি তাই খাওয়াব। আর যদি পারি তাহলে কিন্তু তোকে আমাদের সবাইকে খাওয়াতে হবে।(মিরা)
--ওকে ডান।(নীলা)
--ডান।
আর চোখ খুলে দেখতে থাক এই মিরার খেলা সরি মিরার প্রেমের খেলা।
(আর এদিকে ওদের কথাবার্তা শুনে আমার মনে মেয়েদের প্রতি ঘৃনা আরো দ্বিগুণ বারতে থাকে।
এই মেয়েরা আসলে কি ভাবে নিজেকে?
তাদের আল্লাহতালা সুন্দর করে পূথিবীতে পাঠিয়েছে বলে কি তারা তাদের সৌন্দর্যের অহংকারে যা খুশি তাই করবে।
তারা কি আমাদের মত সহজ সরল ছেলেদের খেলনা পেয়েছে।
যে যখন যার ইচ্ছা হবে সে তার স্বার্থ পুরন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের নিয়ে খেলবে।
আর যখন ইচ্ছা হবে টিস্যু কাগজের মত ছুরে ফেলে দেবে।
না তা হবে নাভক্ত কখনো না………
তোমরাদের যা ইচ্ছা তা ছেলেদের সাথে তোমরা করতে পারো না।বআর মিরা তুমি যতো চেষ্টাই করনা কেন আমাকে কোন মিথ্যা মায়ায় ফেলতে পারবে না।হা হা হা
এসব ভাবতে ভাবতে বাড়িতে চলে আসি)
.
.
.
.
#কয়েক_দিন_পর....
আমি বেশ কয়েকদিন থেকেই লক্ষ করছি কে বা কারা যেন আমাকে ফলো করছে......
তবে না কাউকে তো দেখতেই পাই না তাহলে??
মনে হয় আমি এখানে একা একা থাকি আর কারো সাথে নিজের মনের ভিতর জমে থাকা কথা গুলো সেয়ার করতে পারছিনা বলে হয়তো কোন ভ্রমের ভিতর ডুবে যাচ্ছি।
আর আমি কার সাথেই বা কথা বলবো?
কলেজে কেউ তো আমাকে সহ্য ই করতে পারেনা।
তবে একটা বিষয় আমাকে খুব ভাবাচ্ছে!
মিরাকে আমি বেশি কদিন থেকে না জানলেও।
এ সামন্য কয়েক দিনেই যত টুকু ওর সম্পর্কে জেনেছি।
ও কিনা যদি একবার কিছু একটা করতে চায় তাহলে সেটা যে কোন কিছু বিনিময়ে হলেও করে ছারে।
কারন ও নিজেকে নিজে মনে করে....
মিরা কারো কাছে হারতেই শেখে নাই আর কারো কাছে হারার জন্য জন্মেও নাই মিরা।।।
তাহলে?
কিন্তু মিরা ওর বান্ধবীদের সাথে বাজি ধরার পর আমাকে তেমন ইমপ্রেস করার মত কিছুই করে নাই কেন?......
দূর হয়তো মিরা রাগের মাথায় ওর বান্ধবীদের সাথে বাজি ধরেছিলো। আর পরে হয়তো মিরা এটাও ভেবেছে যে আমার সাথে ওর তো কোন ভাবেই মানায় না।বতাই ওর থেকে দুরেই থাকি।
.
.
.
তবে আজকে ক্লাস করার সময় হঠাৎ দেখি মিরা আমার দিকে এক পলকে তাকিয়ে আছে। আমার কাছে ব্যাপারটা কেমন যেন হজম হয় নি!! খুব অদ্ভুত মনে হলো ব্যাপারটা...
আর আমি যখন ওর দিকে তাকাচ্ছি তখনি দেখি মিরা খুব লজ্জা পেয়ে ওর মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে।
বুঝলাম কিছুই.....
তারপর ক্লাস শেষ হলে যখন আমি ক্লাস রুম থেকে বের হবো। তখনি হঠাৎ মিরা আমার সামনে এসে দাঁড়ায়।
তাই আমি ওকে যেই পাশ কেটে যাবো। তখনি ও আবার আমার সামনে এসে দাড়ায়।
--কি ব্যাপার!
আপনি এভাবে আমার সামনে বারবার আসছেন কেন?
(মাথাটা নিচু করেই কথাটা বললাম)
--আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই। এতে তোর কোন অসুবিধা আছে।ব(রাগি ভাব নিয়ে বললো মিরা)
--দেখুন আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে। আপনার যদি কিছু বলার থাকে বলতে পারেন। আর যদি না থাকে তাহলে আমাকে দয়া করে যেতে দিন।
(আমিও একটু রাগি মুডে কথাগুলো বললাম। কারন কেন যানি আজ আমার মনটা একদম ভাল নেই)
--OMG বাবু দেখছি রাগ করতেও জানে দেখছি।
(বলেই হাসতে শুরু করলো)
(আমি মিরাকে আবারো পাশ কেটে যখনি যাবো)
--ঐ তোকে যেতে বলেছি কি??(মিরা)
--না। কিন্তু...
--কিন্তু কি হ্যা। এটাইতো বলবি তোর দেরী হয়ে যাচ্ছে...
কিন্তু তোকে তো এখন আমি যেতে দিচ্ছি না, বলেই আমার কলার ধরে বলতে লাগল..
-:আগে আমাকে এটা বল তোর এতো ভাব কিসের হ্যা।
--:আরে আপনি এভাবে আমার কলার ধরছেন কেন?
আর আমি কখন আপনার সাথে ভাব নিলাম?
(আর কোথায় আমি আর কোথায় আপনি)
(কথাগুলো বলার সাথে সাথেই দেখলাম মিরার চোখগুলো সম্পূর্ণ লাল হয়ে গেছে রাগে, আমি মিরার এই লুক দেখে খুব ভয় পেয়ে গেলাম)
--ভাব নিস না মানে। আমিতো দেখি ১০০ বার ভাব নিস। আচ্ছা আর একটা কথা বল আমাদের এখানে যারা পড়তে আসে। তাদের প্রত্যেকের বন্ধু/বান্ধবী আছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তোর কোন ফ্রেন্ড/বন্ধু/বান্ধবী নেই কেন? এটা তোর ভাব ছাড়া আর কিই বা হতে পারে?
--ফেফেফ্রেন্ড থাকা না থাকার সাথে ভাবের কি আছে আছে তাইতো বুঝলাম না। (ভয়ে ভয়ে)
--তোকে এত বেশী বুঝতে হবে না।
কালকের মধ্যেই যেন আমি তোর একটা ফ্রেন্ড দেখতে পাই। বন্ধুত্ব করবি.....
--:আরে আযব তো আমার ফ্রেন্ড দিয়ে কি কাজ হবে।তাছাড়া এখানে আমি যখন থেকে এসেছি তখন থেকেই সবাই আমাকে এড়িয়ে চলে।
তাই এই কলেজে আমার কোন ফ্রেন্ড নেই।
আর তাছাড়া এখানে এমন কোন ছেলেও নেই যে আমার সাথে বন্ধুত্ব করবে।
(এক নিশ্বাসে বলে ফেললাম)
--কেন বন্ধুত্ব কি শুধু ছেলেদের সাথেই হয় মেয়েদের সাথে বুঝি হয় না।?
--তা হবে না কেন।
কিন্তু আমি চাইনা আমার জীবনে ২য় বার কোন মেয়ে বন্ধু হয়ে আসুক।
আর তাছাড়া এ কলেজে যে মেয়েরা পড়ে তাড়া ভুল করেও........
--আমি এত কিছু শুনতে চাই না।
তোর যখন কোন ফ্রেন্ড নেই তাহলে আজ থেকে আমি আর আমার এই চার বান্ধবী তোর ফ্রেন্ড।
আর আগামীকাল থেকে তাড়াতাড়ি কলেজে আসবি।
যদি দেড়ি করিস তো তোর সাথে যে কি করবো....
কথাগুলো বলেই মিরা চলে গেলো। আর এদিকে যেন আমার দেহে প্রান ফিরে এলো।
হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি পাজি মেয়েটা আমার সময়ের বারোটা বাজিয়ে দিছে।
তাই তাড়াতাড়ি কলেজ থেকে বাড়ির দিকে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম।
কারন আপনারা তো জানেন ই আমাকে আবার আমার কর্মস্থলে যেতে হবে।
.
.
.
.
--আচ্ছা মিরা তুই কি কিছু মিস করেছিলি,, বা করছিস বলে মনে হয়। (নীলা)
--আমি আবার কি মিস করলাম বা করছি বলে তোর মনে হচ্ছে। (মিরা)
--না এ জন্যই বলছি যে কিছুদিন আগেতো তুই আমাদের কাছে......
-:স্যরি আমার কাছে আর এদের সামনে কিছু একটা নিয়ে বাজি ধরেছিলি....(নীলা)
--থাকভথাক তোকে আর বলতে হবে না।
আমি কিছুই ভুলি নাই বুঝলি বোকা মেয়ে।
(নিলার মাথায় টোকা মেরে)
--হ্যাঁ তা তো নিজের চোঁখেই আজ সব দেখলাম।
কেমন করে আমাদের সবার প্রিয় মিরা ক্লাসের ভিতর একটা ক্ষেত ছেলের দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হাসছিলো।
আবার ক্লাস শেষে সেই ক্ষেত ছেলেকেই নিজ থেকে বন্ধুত্বের হাত বাড়ীয়ে দিলো।(নীলা)
--:এতে অবাক হবার কি আছে তা বুঝলাম না?
আর থাকলো তোর সাথে আমার বাজি ধরার কথা সেটা তো আমি কখনো ভুলবো না।
সেই জন্য আমি আমার প্লান নিজের মতো করে সাজিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি..(মিরা)
-+কেমন প্লান করেছিস তা বুঝতেই পারছি।
এমন যেন না হয় তুই নিজেই ঐ ক্ষেতটার প্রেমে পড়ে যাস। আর ও তোকে.... (রিয়া)
--ঐ তুই থাম।
এই মিরা কারো প্রেমে পড়বে তাও আবার ঐ ক্ষেতমার্কা একটা ছেলের.. কখনো ই না....
ওর তো আমার বাড়ির চাকর হবারো যোগ্যতাও নেই।
নেহাৎ তোদের সাথে বাজি ধরেছি বলেই ওর সাথে আজ বন্ধুত্বটা করলাম।
যাতে ওকে আমার প্রতি উইক করতে পারি।(মিরা)
--আচ্ছা বন্ধুত্ব করলি ভালো কথা।
তবে ও যে তোর প্রতি উইক হবে তা শিউর হচ্ছিস কি ভাবে।?(রিয়া)
--সিউর হচ্ছি এই জন্যে যে...(হঠাৎ স্তব্ধ)
--কি হলো থেমে গেলি কেনো। (নীলা বলে উঠলো)
--:তা যেনে তোদের কাজ নেই। তোদের কাজ হচ্ছে.........
.
.
.
চলবে................?গল্প :- বান্ধবী যখন বউ
পর্ব :- ০৫
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
.
--আচ্ছা বন্ধুত্ব করলি ভালো কথা।
তবে ও যে তোর প্রতি উইক হবে তা শিউর হচ্ছিস কি ভাবে।?(রিয়া)
--সিউর হচ্ছি এই জন্যে যে...(হঠাৎ স্তব্ধ)
--কি হলো থেমে গেলি কেনো। (নীলা বলে উঠলো)
--তা যেনে তোদের কাজ নেই। তোদের কাজ হচ্ছে গেম দেখা।
তোরা শুধু দেখবি আর এত বেশী কিছু জানা ভালো নয়।(মিরা)
--তাও ঠিক!!
এত বেশী জেনে আমাদের কি কাজ। তোদের দুজনের মধ্যে যেই জিতুক বা হারুক না কেন পেট তো আমাদের ই ভরবে।(রিয়া)
(রিয়া এটা বলেই সবাই একসাথে হাসতে শুরু করল)
.
.
.
এদিকে আমি ভাবছি এ কেমন মেয়েরে বাবা।
এটা কোন কথা হলো আমার কোন বন্ধু নেই বলে আমাকে ওর সাথেই বন্ধুত্ব করতে হবে।
না আমি কারো সাথেই বন্ধুত্ব করব না। যেমন আছি ভালো আছি।
কিন্তু ও যেই মেয়ে ওর সাথে বন্ধুত্ব না করলে যদি আমার কোন ক্ষতি করে দেয়। তাহলে আমি তো আমার লক্ষে পৌঁছাতে পারবো না।
তার থেকে বরং ওর সাথে বন্ধুত্বই করি।
পড়ে কি হবে তা তখন দেখা যাবে।
.
.
.
#পরের_দিন...
মিরার কথা মত অন্য দিনের তুলনায় একটু তাড়াতাড়িই কলেজে আসলাম।
আর কলেজে ঢুকতেই একটা মেয়েকে পিছন থেকে দেখে আমি সেই পরিমানের ক্রাস খেলাম।
কেন যেন মনে হচ্ছে আমি আবার নতুন করে কারো ভালবাসার চাঁদরে নিজেকে জড়িয়ে নেই।
কিন্তু তখনি স্বর্নার কথা মনে পড়তেই ভালবাসা আর মেয়েদের প্রতি একটা তীব্র ঘৃনা আমার মনের ভিতর বাসা বাঁধল।
--ঐ কি দেখিস এভাবে আমার দিকে।
(মিরা একটু মুচকি হেসে)
--কিছু না। (আল্লাহ এটা মিরা ছিলো)
(মিরার ডাকে কল্পনা থেকে বাস্তবে ফিরে আসলাম)
--ঠিক আছে চল আমাদের সাথে।(মিরা)
(কিছু না বললেই হলো! আর বাবু তুমি যে আমার প্রতি একটু একটু উইক আছো।
তা বুঝতে আমার আর বাকি নেই। এটা ভাবতেই মিরার মনে যেন আন্দের বন্যা বইতে লাগল)
--ঠিক আছে ক্লাসে চলুন।
--ক্লাসে চলুন মানে। আমি কি তোকে ক্লাসে যেতে বলেছি। (মিরা)
--না তা বলতে যাবেন কেন। আপনি বললেন...
--ঐ আমি কি তোর বড় নাকি যে সব সময় আপনি আপনা করিস।(চোখ দুট লাল করে)
--তো কি করে বলবো বলুন। আপনি তো অনেক ধনি পরিবারের মেয়ে।তাই..
--তাই কি হ্যাঁ।
হতে পারি আমি অনেক ধনি পরিবারের মেয়ে কিন্তু তার আগে আমি একজন মানুষ।
আর এই মানুষ শব্দটার গায়ে কি পৃথিবীর কোন বইয়ে ধনি গরিব লেখা আছে?
যে ধনি তাকে আপনি বলে ডাকতে হবে..
আর শোন আমরা যখন একই ক্লাসে পড়ি তাই আজ থেকে তুই আমাকে তুই বলেই ডাকবি।
(রাগি মুডে বললো কথাগুলো মিরা)
--আরে সাব্বাষ মিরা তুই তো একদম ফাটিয়ে দিচ্ছিস।(রিয়া বলে উঠলো)
আমি মিরার কথার লজিক দেখে অবাক হয়ে আছি। আমি কি বলবো বা কি উত্তর দিবো তার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না…………… সত্যিই পৃথিবীর…………
:-আচ্ছা এখন মিরা বললো বইয়ে মধ্যে মানুষের ভেদাভেদের কোন কথা বলে নাই।
বরং প্রত্যেক মানুষকেই এক নজরে দেখা হয়েছে এখানে। কিন্তু আমি এটা বুঝতেছিনা যে মেয়ে এত দিন আমি গরিব বলে সবার সামনে আমাকে অপমান করতো!
আজ সেই মেয়েই এত সুন্দর সুন্দর নীতি কথা বলছে। ব্যাপারটা কেন যেন হজম হচ্ছে না। কিছুতো একটা কারন অবশ্যই আছে)
--ঐ কি ভাবছিস এতো (মিরা)
--কিছু না।
--তুই কিছু না বললেও তোর মুখ দেখে এটা বুঝতে পারছি যে, তুই হয়তো কিছু একটা ভাবছিস
হয়তো এটা ভাবছিস যে আমার মতো একটা খারাপ বদমেজাজি মেয়ে কি ভাবে তোকে নিজের ফ্রেন্ড বানাতে চাইছে?
:-তাহলে শোন এখানে যারা আছে এরা সবাই আমার সাথে ফ্রেন্ডসিফ করেছে আমার টাকা দেখে, নয়তো আমার সৌন্দর্য দেখে।
কিন্তু তুই এরা সবার থেকেই আলাদা।
আর আমি দেখলাম একমাত্র তুই এখানে আজ পর্যন্ত কোন মেয়ের বন্ধুত্ব করা তো দূরের কথা কারো সাথে ভালো করে কথাও বলিস নাই।
আর তাই আমি নিজে থেকেই তোর সাথে বন্ধুত্ব করতে চাই......(মিরা)
--:কিন্তু আমি তো আপনাকে বলেছি আমার কোন ফ্রেন্ড নামক প্যারার প্রয়োজন নেই।
(মনে একটু সাহস এনে বললাম কথাটা)
--ঐ সালা আমি যখন বলেছি তোর ফ্রেন্ডের দরকার আছে। মানে দরকার আছে। আজ থেকে আমরা সবাই ভালো বন্ধু বুঝলি।
আর ভালো বন্ধুরা যেমন একে অন্যের পাশে থাকে ঠিক তেমনি তুইও আমাদের পাশে থাকবি।
(চোখ দুটো লাল করে বললো মিরা)
--ঠিঠিঠিক আছে। আমি মানছি আমার ফ্রেন্ডের দরকার আছে।
আর আপনি এবং আপনার সব ফ্রেন্ডরাই এখন থেকে আমার ফ্রেন্ড।
(কি করবো আপনারাই বলুন যেমন মেয়ে এরা! আমি যদি এদের কথা না শুনি তাহলে কপালে অনেক দুঃখ আছে আমার তাই ওদের কথায় রাজি হয়ে গেলাম)
তারপর থেকেই মিরা আর ওর বান্ধবিদের সাথে থাকতে থাকতে আমিও নিজের অজান্তেই ওদেরকে নিজের ব্রেষ্ট ফ্রেন্ড মরে নিলাম।
আর হবেই না কেন ওরা সব সময় আমার সাথে হাসি তামাসা,রাগ অভিমান করতো আবার আমার লেখাপড়ায় ওরা অনেক হেল্প করতো। যা একমাত্র কোন সত্তিকারের ফ্রেন্ডরাই করে থাকে।
আমি ওদের সাথে ফ্রেন্ডসিফ করার পর থেকে প্রায় আমার অতিথের দুঃখ কষ্ট গুলো ভুলেই গেছি।
শুধু মাঝে মাঝে স্বর্নার কথা একটু মনে পড়তো।
আজ প্রায় ২মাস হলো ওদের সাথে আমার ফ্রেন্ডসিফ হয়েছে।
আর ইদানিং দেখছি মিরা কেমন যেন আমার উপর খুব ছোট ছোট বিষয় গুলোর উপর অধিকার খাটানো শুরু করেছে। আমি এটা করতে পারবো না ওটা করতে পারব না।
আর যদি কোন দিন কলেজে দেরি করে যাই তো হাজার প্রশ্ন করতে থাকবে।
বলবে কেন দেরি করেছি। কোন মেয়ের সাথে চক্কর চলছে কিনা। রাস্তায় কোন মেয়ের দিকে তাকিয়েছি কি না। এরকম হাজারো প্রশ্ন করবে।
আর মিরার এরকম পাগলামি দেখে নিলারা সবাই হাসতে শুরু করবে।
যদিও প্রথম প্রথম আমার খারাপ লাগতো। আর মনে মনে খুব কষ্ট পেতাম.....
(কারন মিরা আমার সাথে যেরকম অচরন করতো যে কথা গুললো বলতো এক সময় কেউ একজন আমার উপর ঠিক এরকমি অধিকার ফলাতো)
কিন্তু কেন যানি না তবুও ঐ কষ্টের মাঝেই একটা অজানা সুখ অনুভব করতাম করতাম।
যাই হোক আজ রাত থেকেই শরীরটা কেমন যেন জ্বর জ্বর লাগছে।
তাই ভাবছিলাম আজ আর কলেজে যাবো না।
ঠিক তখনি মিরার ফোন আসল..
--কিরে কই তুই।
--আমি বাড়িতে। কেন কিছু কি বলবি?
--ঐ হারামি বাড়িতে কি ঘোড়ার ঘাস কাটছিস।
যে এখনো বাড়িতেই আছিস।
আর কখন থেকে আমরা তোর জন্যে ওয়েট করছি হ্যাঁ সে দিখে খেয়াল আছে তোর......
--মিরা তুই আমাকে মাপ কর বোন। আজকে আমি কলেজে যেতে পরবো না। রাত থেকেই কেমন যেন জ্বর জ্বর লাগছে।
--:কিহ তোর শরীর খারাপ আর তুই এখন বলছিস।
--আরে বোন রাগ করছিস কেন। আমার তেমন কিছুই হয় নাই। সামন্য একটু জ্বর ঔষধ খেলেই সেরে যাবে।
--:হ্যা ওনার তো ঔষধ খেলে এমনিতেই জ্বর সেরে যাবে। তুই এখনি তোর বাড়ির........
টূ টূ টূ........
(ফোনটা কেটে দিলাম তা না হলে এ মেয়ে সরাসরি এখানে চলে আসতো)
--যা হারামিটা কলটা কেটে দিলো।
--তো কি হয়েছে। সামন্য তো জ্বর ই এসেছে।(নীলা)
--সামান্য জ্বর তো কি হয়েছে মানে।
ওর জ্বর এসেছে। আর আমাকে একবার জানানোরও প্রয়োজন মনে করলো না।
(নিলার উপর রেগে গিয়ে বললো মিরা)
--আরে আরে মিরা তুই নীলার উপর রাগ করছিস কেন?
আর ক্ষেতটার উপর তোর এত দরদ উতল্লে পরছে কেন।
ও বাঁচলো না মরলো তাতে তোর বা আমাদের কি?
(রিয়া একটু রাগান্বিত কন্ঠে বললো কথাগুলো)
--হ্যাঁ একদম ঠিক বলেছিস তুই .রিয়া।
ক্ষেতটার সামান্য কি জ্বর এসেছে এতে মিরার এতো লাগছে কেন বুঝতেছিনা। কোথাও এমন নয়তো মিরা তুই ঐ ক্ষেতটার প্রেমে পড়ে গেলি!(নীলা)
--কিহ্ প্রেমে পড়বো আমি তাও আবার কাব্যর সাথে তোরা এটা ভাবলি কি করে?(মিরা)
--এটা আবার বলা লাগে নাকি। তুই ক্ষেতটার জ্বরের কথা শুনেই যে ভাবে রিয়েক্ট করে বললি ক্ষেতটার জ্বড় আর তোকে কেন জানালো না।(রিয়া)
--দূর তোরাও না।
সামান্য এ টুকু একটা কথাকে কেন্দ্র করে তোরা এত দুর ভেবে বসলি। আরে কাব্য তো আমার শুধুই ফ্রেন্ড যেমনটা তোরা আমার কাছে।
আর ফ্রেন্ড তো অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াবে এটাই স্বাভাবিক তাই না।
আচ্ছা ওসব কথা এখন বাদ দে চল ক্লাসে যাই।(মিরা)
--ঠিক আছে চল।
কাব্যকে নিয়ে মানে ক্ষেতটাকে নিয়ে আমাদের এত না ভাবলেও চলবে। ওর জন্য যার ভাবার সেই ভাববে।(রিয়া)
--সালি তোকে তো আমি..…...যা দুটাই পালিয়ে গেলো।
একদিকে কাব্যটাও আজকে আসবেনা। এ বান্দরনি দুটোও পালিয়ে গেলো। দূর ভালো লাগছে না।
তার থেকে বরং বাড়িতে চলে যাই।(মিরা)
--আচ্ছা নীলা, মিরার ব্যাপারটা কি বলতো?(রিয়া)
--আমি আবার কি বলবো।(নীলা)
--আরে গাধি মিরা আর কাব্য সম্পর্কে বলছি।
মিরা শুধুকি কাব্যকে ওর প্রেমে ফাসানোর জন্যে বন্ধুত্ব করেছে। নাকি ওর প্রেমে মিরা সত্যিই পড়েছে....(রিয়া)
--দেখ আমি যতদুর জানি কাব্য মিরাকে শুধুই একজন ফ্রেন্ড মনে করে।
কিন্তু...(নীলা)
--কিন্তু কি? (রিয়া)
--আমার মনে হয় আমাদের মিরা কাব্যর প্রেমে পড়ছে আর তাও আবার খুব গভীর ভাবে।(নীলা)
--দূর কি যে বলিস না তুই......(রিয়া)
--আমি যা বুঝতে পেরেছি তাই বলছি।
তাছাড়া দেখছিস না। মিরা এখন কাব্যর ছোট ছোট বিষয় গুলতে কেমন অধিকার ফলায়।
এই যেমন ধর কাব্য যদি কোন মেয়ের দিকে তাকিয়ে দেখে তাহলে মিরা কেমন রিয়েক্ট করে।
আর ইদানিং দেখছিস না কাব্যকে আমাদের সাথেও বেশি কথা বলতে দেয় না। সব সময় কেমন চোঁখে চোঁখে রাখে। আর আজকের ব্যাপারটাই ধরনা।
কোন মেয়ে কি এমনি এমনি কোন ছেলের উপর অধিকার খাটায়। যদি না তাকে সে ভালবাসে।(নীলা)
--ঠিক তো আমি এতকিছুত ভেবে দেখি নাই।
আর মিরা যদি সত্যিই ওকে ভালবাসে তাহলে তো ওর কপাল পুড়লো। (রিয়া)
--আমিও তো তাই চাই। (ফিস ফিস করে বলল নীলা)
--তুই কিছু বললি। (রিয়া)
--না মানে বলছিলাম কি মিরার কপাল পুড়বে কি করে।যদি আমরা দুই জন মিলে কান্য আর মিরাকে মিল করিয়ে দেই।(নীলা)
--আরে গাধি ওটা বলছি না।
আমি বলছি যে মিরা যদি কাব্য মানে ক্ষেতটাকে ভালোবাসে তাহলে একে তো মিরা বাজিতে হারবে। আর এক দিকে ওর পরিবারও মেনে নেবে না এটা।মাঝখান থেকে মিরার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে।(রিয়া)
--তোকে বা আমাকে ওসব নিয়ে ভাবতে হবে না।
আমি এখন আসি।
(নীলার মুখে রয়েছে রহস্যময় এক অজানা হাসি)
.
.
.
.
রাতে মিরা শুয়ে শুয়ে কি যেন ভাবছিল ঠিক তখনি ওর কাব্যর কথা মনে পড়ে...
আর কাব্যর কথা মনে পড়তেই নিজে নিজেই মুচকি মুচকি হাসতেছে।
আর নিজেই নিজেক বলছে সকালে যখন রিয়া আর নীলা বলললো আমি নাকি ক্ষেতটাকর ধুর কাব্যকে ভালোবাসি।
তখন তা শুনে আমি মনে মনে খুশি হয়েছিলাম কিন্তু কেন।???
আর আমি তখন ওদেরকে রাগ ই বা দেখালাম কেন?
আর আমি যেখানে নিজেই রিয়া এবং নীলাদের সাথে কাব্যর বন্ধুত্ব করিয়েছি শুধু ওকে আমার প্রেমে ফেলানোর জন্যে......
কিন্তু এখন কেন আমি কাব্যর সাথে ওদের কথা বলা দেখতে পারিনা?
কেন বার বার কাব্যর উপর আমার সব যতো ভাললো লাগা? ইচ্ছা? ,অধিকার সব আমার কেন?
দূর আমি কেন এসব ভাবছি।
আবার পরক্ষনেই ভাবছি তো বেশ করছি।
যাকে ভালবাসিইইই…………………………
যা এটা কি বলছিস তুই মিরা শেষ পর্যন্ত তাহলে তুই।
যা ভাবতেই লজ্জা লাগছে!..
এরপর কোলবালিসকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
.
.
.
.
এদিকে আমার ধুর বাল এ জ্বড় মনে হয় আর আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না।
সেই কাল রাতে জ্বর এসেছে কিন্তু ভালো হওয়ার কোন লক্ষন ই দেখছি না।
কিন্তু আমার এত শীত শীত লাগছে কেন।
কোন রকমে প্যারাসিটামল খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে যখন ঘুম থেকে উঠলাম।
তখন আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। কারন আমি যখন...
.
.
.
চলবে…………………♥♥
.
আপনাদের মূল্যবান মতামত দিয়ে যাবেন।
