গল্প :- বান্ধবী যখন বউ
পর্ব :- ১১+১২+১৩+১৪+শেষ পর্ব
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
.
--কিছুদিন আগে মানে ঐদিন আমিও ঐ পার্কে আমার এক বান্ধবির সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম।
তখনি দেখলাম।
যাই বলুন কাব্য সাহেব আপনার গার্লফ্রেন্ড কিন্তু দেখতে অনেক সুন্দর!
--ম্যাম আপনি যেমন ভাবছেন তেমনটা ঠিক নয়।
ও আমার গার্লফ্রেন্ড ঠিক আছে। কিন্তু আবার ও আমার গালফ্রেন্ড নয়।
ম্যাম অবাক হয়ে বলল...
--ঠিক বুঝলাম না কাব্য সাহেব।
আসলে হয়েছে কি ম্যাম....
তারপর ম্যামকে সব খুলে বলি। প্রথম থেকে স্বর্নার সাথে যা যা হয়েছে, ও আমার সাথে যে প্রতারণা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং ওর জন্য আজ আমি ছন্নছাড়া পরিবার হারা হয়েছি এগুলো সব, এবং ওখান থেকে কি ভাবে এপর্যন্ত উঠে আসার গল্প বললাম।
আমার কথা শোনার পর দেখি ম্যামের দুই চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে।
--একি ম্যাম আপনি কাঁদছেন কেন।
--না না তেমন কিছুই না কাব্য সাহেব।
তারপর ম্যাম চোঁখের পানি মুছে বললো।
-:আচ্ছা কাব্য সাহেব আপনি এখন যা করছেন তাকি ঠিক। যদি মিরা নামের মেয়েটা আপনাকে সত্যিই সত্যিই মন থেকে ভালোবাসে।
আর সে যদি কখনো জানতে পারে আপনি ওর সাথে ভালোবাসার নাটক করছেন সত্যিকার অর্থে তাকে কখনো আপনি ভালোবাসেন না।
একবারও কি ভেবে দেখেছেন মেয়েটা কতটা কষ্ট পাবে কতটা আঘাত পাবে।
আর সে যদি এ কষ্টটা এ আঘাতটা সহ্য করতে না পেরে ভুল কিছু একটা করে বসে।
--না না ম্যাম এমনটা কিছুই হবে না। আমি এমন কিছু হতে দিবো না। আজকেই আমি মিরাকে আমার সাথে দেখা করতে বলবো।
আর দেখা করার পর আমি নিজেকে ওর কাছে এতটাই খারাপ প্রমানিত করবো। এতটাই খারাপ ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবো। যা মিরা কখনো কল্পনাও করতে পারবে না।
আর আমি জানি মিরা আর যাই করুক একটা খারাপ মানুষের কারনে নিজের ক্ষতি করবে না।
যাইহোক ম্যাম আপনি কি যেন বলতে চাইছিলেন।
--কিছুই না কাব্য সাহেব আপনি এখন আসতে পারেন।
তারপর আমি ম্যামের রুম থেকে বের হয়েই মিরাকে ফোন দিলাম। ফোন দেওয়ার কিছুক্ষণ পর মিরা ফোন ধরলো।
--হ্যালো মিরা।
--হ্যাঁ ব ববব বলো কাব্য।
--মিরা তোমার কি হয়েছে.? আর তুমি কাঁদছো কেন?
(হঠাৎ খুব চিন্তিত হয়ে বললাম আমি)
--না না কাব্য কিছুই হয় নি।
আমার আবার কি হবে। এই একটু মুড়ি ভাজা মেখে খাচ্ছিলাম তাতে মরিচ একটু বেশি খেয়েছি তো এজন্য কন্ঠশ্বর এমন শুনাচ্ছে।
(মিরা ফোফাতে ফোফাতে বললো)
--ওহ্ তাই বলো।
আমি তো ভাবলাম তোমার হয়তো কিছু হয়েছে।
--আচ্ছা আমার কথা বাদ দাও। কি জন্যে ফোন দিলা সেটা বলো।
--আজ আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবে।
--হুম বলো কোথায় আসবো। আর কখন??
--...........পার্কে ৪.৩০ আসবে। তোমার সাথে খুব জরুরি কথা আছে।
--আচ্ছা ঠিক আছে আমি আসবো।বাই।
--আচ্ছা বাই।
(তারপর মিরা ফোন রেখে দিলে,আমি ভাবতে লাগলাম হঠাৎ মিরার কন্ঠশ্বর এমন শুনাচ্ছে কেন? ধুর মিরা তো বললো কি না কি খেয়েছে।)
তারপর অফিসের কাজ শেষ করে চার টায় সময় পার্কে ওর সাথে দেখা করতে চপে যাই।
পার্কে গিয়ে দেখি মিরা আমার অনেক আগেই পার্কে চলে এসেছে। তারপর আমি ওর কাছে গিয়ে মিরা পাশে বসলাম আর বললাম।
--কখন এসেছ মিরা?
--এইতো একটু আগে। কি যেন বলতে চাইছিলা আমাকে।
আমি মিরার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখি ওর চোখ দুটো আগুনের মত লাল হয়ে আছে। তাই ওকে বললাম।
--কি ব্যাপার মিরা তোমার চোখ দুটো এত লাল আর ফুলে আছে কেন? তোমার কি কিছু হয়েছে।
--না না আমার এখনো কিছু হয় নাই। তবে হয়তো কিছু একটা হতে বাকি আছে এখন।
(মিরা খুব উদাশ হয়ে বললো কথাটা)
--মিরা আমি ঠিক তোমার কথার মানে বুঝলাম না।(অনেকটা অবাক হয়ে)
--তোমাকে বুঝতে হবে না কাব্য, কি বলতে আমাকে এখানে ডেকেছো তা বলো?
আর তাড়াতাড়ি বললে একটু ভালো হয়। বাড়িতে কাউকে কিছু বলে আসি নাই। বাড়ির সবাই আমার জন্যে চিন্তা করবে আবার।
--হুম বলছি।
দেখ মিরা আমি তোমাকে এখন যা বলবো তা তুমি ঠিক কি ভাবে নিবে যানি না।
হয়তো তুমি আমাকে ভুল বুঝবে কিন্তু বিশ্বাস করো মিরা আমার যে আর কিছুই করার নেই।
--কাব্য আমি তোমার কথা কিছুই বুঝতেছি না।
--মিরা তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। তোমার সাথে আমার রিলেশন রাখা সম্ভব নয়। আর আজকের পর থেকে আমার সাথে কোন রকম যোগাযোগ করার চেষ্টাও তুমি করবে না।
হঠাৎ কাব্যর মুখে এমন একটা কথা শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না মিরা। আর যখন শুনলো তখন মনে হলো মিরার মাথায় আকাশ ভেজ্ঞে পড়লো।
মিরা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে ছিলো কিছুক্ষণের জন্য।
তারপর হঠাৎ কেঁদে উঠে কাঁদতে কাঁদতে বললো।
--এসব তুমি কি বলছো কাব্য।
আমি কি কখনো কোনদিন তোমার কাছে কিছু ছেয়েছিলাম?? চাই নাই তো।
আর আমি যদি তোমার কাছে কোন অন্যায় করে থাকি। তাহলে তুমি আমাকে মারো কাটো যাই ইচ্ছা হয় করো কিন্তু এসব কি বলছো কাব্য?
--হ্যাঁ আমি ঠিকি বলছি মিরা,
--না না কাব্য আমি বিশ্বাস করি না, তুমি আমার সাথে মজা করছো না তো।
--না আমি মজা করছি না, যা বলছি সত্যি বলছি।
--না কাব্য প্লিজ এমন করো না, তোমার কি হয়েছে বলবে প্লিজ, আর যদি আমি কোন ভুল করে থাকি তাহলে তুমি আমাকে শাস্তি দাও,আমি কিছুই বলবো না
তবুও প্লিজ তোমাকে ভুলে যেতে বলো না।
(মিরা কাঁদতে কাঁদতে বললো)
--না মিরা তুমি কোন অপরাধ করো নাই।
আসলে হয়েছে কি মিরা কলেজে আমাদের ফ্রেন্ডরা সবাই ওদের গার্লফ্রেন্ডদের সাথে রুমডেট করেছে।
কিন্তু আমাকে দেখ আমি তোমাকে শুধু কিস ছারা আর কিছুই করতে পারি নাই।
আর আমি তোমাকে এটা করতে জোড় করতেও পারবো না। (মানে ফিজিক্যাল রিলেশন)
কারন আমি জানি তুমি এতে রাজি হবে না।
তাই মিরা দুঃখীত আমার পক্ষে তোমার সাথে রিলেশন রাখা সম্ভব নয়।
(বিশ্বাস করেন ভাই কথা গুলো বলার সময় মনে হচ্ছিলো আমি যেন নিজেই নিজের বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করছি)
তারপর মিরা কাঁদতে কাভদতে বললো।
--তাহলে এটাই কি তোমার কারন কাব্য যার জন্যে..
--হ্যা এটাই কারন। আর যদি তুমি আমার সাথে রিলেশন রাখতে চাও তাহলে আগামিকাল এই ঠিকানায় চলে আসিও।
আমি তোমার জন্যে অপেক্ষা করবো। আর বাড়ির মালিক আগামীকাল বাড়িতে থাকবে না।
এই বলেই আমি ওখান থেকে চলে আসি।
আর এদিকে মিরা যেন পাথর হয়ে গেছে।
মিরা ভাবতেও পারছে না কাব্য তাকে এমন কিছু একটা বলছে। ও অনেক কষ্টে ওখান থেকে বাড়িতে ফিরে আসে।
আর বাড়িতে এসে কাঁদছে আর ভাবছে এটা কি সেই কাব্য যাকে মিরা মন প্রাণ দিয়ে ভালোবেসে।
!
!
!
!
এদিকে আমি বাড়িতে এসে অনেকক্ষণ যাতব ঘুমানোর চেষ্টা করছি কিন্তু চোখে ঘুম আসছে না।
বারবার চোখের সামনে শুধু মিরার কান্নাভরা মুখটা ভেসে উঠছে।
বুকের বা পাশে প্রচুর পরিমাণে ব্যাথা হচ্ছে।
কানে কে যেন ফিস ফিস করে বলছে,??
কাব্য তুই আজ যা করলি তা একদম ঠিক করিস নাই।
কাব্য তুই কি ভুলে গেছিস ভালোবাসার মানুষকে ভুলে থাকতে কতটা কষ্ট হয়। না না আমি যা করেছি ঠিক করেছি। আমি মিরার ভালোর জন্যই এমনাটা করেছি।
যানি ও আমাকে আজকের পর ভুল বুঝবে। আর আগামীকাল ও এখানে আসবে না। এরকম হাজারো চিন্তা নিয়ে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। পরের দিন ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে আমি পড়তে বসতেই বাড়ির কলিং বেলের শব্দ কানে আসে। ভাবলাম হয়তো পেপার ওয়ালা এসেছে পেপার দিতে।এটা মনে করেই দরজা খুলে আমি যাকে দেখলাম।তাকে দেখে অবাক হয়ে গেলাম। কারন দরজা খুলে দেখি অরিন ম্যাম।
(মানে আমার অফিসের ম্যাম দরজার দাঁড়িয়ে আছেন)
--কি ব্যাপার কাব্য সাহেব আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?
ভিতরে আসতে বলবেন নাকি দরজা থেকে বিদায় করে দিবেন।
--ছিঃ ছিঃ ম্যাম কি বলছেন এসব। আসুন ভিতরে আসুন।
তারপর ম্যামকে আমার রুমে নিয়ে এসে বললাম।
--কি খাবেন ম্যাম চা না কফি?
--কিছুই খাবো না কাব্য সাহেব।
--কেন ম্যাম কিছু তো অন্তত খান। আজ প্রথমবার আপনি এই গরিবের ঘরে আপনার পা পড়লো।
--হুম হুম বুঝতে পারছি কাব্য সাহেব আমাকে তাড়াতাড়ি তাড়াতে চাচ্ছেন তাই খেতে বলছেন এতো তাই না।
(হাসতে হাসতে ম্যাম বললো)
--না না ম্যাম আপনি ভুল বুঝতেছেন।
আপনি এই প্রথম আসলেন আমার ঘরে। তাই আর কি।যাইহোক আমি কি জানতে পারি আপনি হঠাৎ এই গরীবের ঘরে আপনার পা পড়ার কারন??
--হ্যাঁ হ্যাঁ কাব্য সাহেব অবশ্যই জানতেই পারেন।
আসলে আপনার জন্য আমি একটা সারপ্রাইজ নিয়ে এসেছি আপনাকে দেওয়ার জন্য।
--সারপ্রাইজ তাও আবার আমার জন্য।
(অবাক খুব হয়ে বললাম)
--হুম সারপ্রাইজ।
আর তা কি সারপ্রাইজ সেটা জানতে হলে আপনি আপনার চোখ বন্ধ করতে হবে, চোখ বন্ধ করুন।
তারপর ম্যামের কথা মত আমি আমার চোখ বন্ধ করি।এবং বেশ কিছুক্ষণ পর ম্যাম বললো...!
--কাব্য সাহেব এবার আপনার চোখ খুলুন।
আমি ম্যামের কথা মত চোখ খুলতেই যা দেখলাম।
তা দেখে যেন আমি আকাশ থেকে পড়লাম।
কারন..…………
.
.
.
চলবে………………………♥♥
।
:-কাব্য কি এমন দেখলো? যে সে আকাশ থেকে পড়লো???
আপনাদের মতামত দিয়ে যান।গল্প :- বান্ধবী যখন বউ
পর্ব :- ১২
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
.
:- Happy New Year 2020..
আজ দেখো নতুন সপ্ন,,, ভুলে যাও সব পুরনো কষ্ট
আজ করো নতুন সব কল্পনা,,, ভুলে যাও সব পুরনো যন্ত্রনা। আজ থেকে শুরু হোক তোমাদের নতুন জীবন,
সুখের হোক সবার প্রতিটি ক্ষণ। এই কামনা করি আমি কাব্য আহম্মেদ সারাক্ষণ।
.
.
.
--কাব্য সাহেব এবার আপনার চোখ খুলুন।
আমি ম্যামের কথা মত চোখ খুলতেই যা দেখলাম।
তা দেখে যেন আমি আকাশ থেকে পড়লাম।
কারন আমি চোখ খুলতেই দেখি মিরা আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
তাও আবার খুব আপত্তিকর অবস্থায় সম্পূর্ন…!!
আমি সাথে সাথেই নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম।
--মিরা তুমি?
আর কি ব্যাপার তুমি এখানে কেন এসেছো? আর আমার সামনে এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেন? আর ম্যাম কোথায়.!!
(আমি চোখ বন্ধ করে বললাম)
--কেন এসেছি তুমি জানো না কাব্য। আমি তো তোমার ইচ্ছা পুরন করতে এসেছি। আর তুমি তো আমাকে ঠিক এভাবেই কাছে পেতে ছেয়েছিলে তাই না।
তাহলে এখন কেন এভাবে চোখ বন্ধ করে আছো কেন।
--মিরা প্লিজ আমি তোমাকে কিভাবে পেতে চেয়েছি তা তোমার থেকে আমাকে শিখিতে হবে না।
প্লিজ তুমি এখন কাপর পড়ে নাও এখান থেকে চলে যাও।
--কিহ্ চলে যাবো?
চলে যাওয়ার জন্য তো আমি আসি নি কাব্য।
আমি তোমাকে আজ আপন করে পাবো বলেই এসেছি। আর শুধু আজকের জন্য নয় সারা জীবনের জন্য। আর যদি আজকের পর আমি তোমাকে আপন করে না পাই, তাহলে এখান থেকে আমি না। আমার লাশ যাবে।
এই বলে মিরা আমাকে জরিয়ে ধরে কিস করতে শুরু করলো। আমি অনেক চেষ্টা করেও ওকে নিজের কাছ থেকে সরাতে পারছি না।
এক পর্যায়ে আমি আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না।
আস্তে আস্তে আমিও মিরাকে মিরার ডাকে সারা দিয়ে ওর মাঝে হারিয়ে যেতে থাকি।
এবং সব শেষে আমি বিছানায় শুয়ে আছি।
আর মিরাও সম্পূর্ন আপত্তিকর অবস্থায় আমার বুকের উপর শুয়ে আছে।
আমি শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম। না না এটা আমি কি করলাম। একটা মেয়ের সব চাইতে দামি জিনিটা আজ আমি তার কাছ থেকে নিয়ে নিলাম। এখন যদি আমি ওকে আমি না মেনে নেই তাহলে?
তাহলে তো আমি মিরার কাছে নয়। বরং নিজের কাছেই সারাজীবন অপরাধি হয়ে থাকবো। আর আমার পাপের ফল যদি কোন দিন আমার পরিবারের উপর দিয়ে যায়। তাহলে তো আমি বেচে থেকেও মরে যাবো।
আর নিজের এই অপরাধ বোধ থেকে বাচার একমাত্র উপায় হল মিরাকে মেনে নেওয়া।
কিন্তু মিরার বাবা কি আমাদের এই সম্পর্ক মেনে নিবে?
তাই আমি মিরাকে বললাম..
--আচ্ছা মিরা তোমার বাবাকি আমাদের এ সম্পর্ক মেনে নেবে?
--কেন নিবে না।
আমি তার একমাত্র চোঁখের মনি আমার সুখের জন্যে বাবা সব করতে পারে।
--হ্যাঁ মিরা হয়তো তোমার সুখের জন্যে তিনি তার জীবনটাও দিতে পারে।
কিন্তু একটা কথা ভেবেছো তিনি কি আদৌও আমাকে তোমার জন্যে পছন্দ করবে? কোথায় তুমি আর কোথায় আমি মিরা।
--কাব্য এসব কিছু নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না।
তোমার আর আমার সম্পর্কের কথা বাবা সব জানে।আর তিনি আমাদের এ সম্পর্ক মেনেও নিয়েছেন।
(মিরা আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো)
--কিহ্ সত্যি।
কিন্তু মিরা আমার একটা জায়গায় খটকা লাগছে যে তোমার বাবা আমাকে না দেখে কোন কিছু না শুনেই কি ভাবে মেনে নিলো?
আর একটা কথা বুঝতেছি না। তুমি আসার আগে আমার অফিসের ম্যাম এসেছিলো। তিনিইবা হঠাৎ করে কোথায় উধাও হয়ে গেলেন।
--আরে বুদ্ধু হাধারাম এখনো বুঝলে না। আমিই তোমার অফিসের বস ছিলাম। আর আব্বুর কথা তোমাকে শুনতে হবে না। এখন চল দুজনে এক সাথে গোসল করবো।
--না না আমি পারবো না।
তুমি আগে গোসল করে আসো তারপর আমি।
--কেন একসাথে করলে সমস্যা কি??
--আমার লজ্জা করে।
--কিহ্ লজ্জা করে? 🙉🙉🙉
এতক্ষণ তো লজ্জা করলো না। আর গোসল করতে লজ্জা করছে কেন?
(মিরা আমার নাক টিপে বললো)
--আসলে হয়েছে কি মিরা।
শুনেছি মেয়েদের নাকি গোসল করার পর তার ভিজা শরিরে দেখতে খুব সুন্দর লাগে। আর তুমি তো এমনিতেই এত সুন্দর তখন আমার আবারো তোমাকে আদর করতে মন চায়।
(একটু মুচকি হেসে বললাম)
--যা পাজি ছেলে।
এই বলে মিরা ফ্রেশ হতে চলে গেলো ওর ফ্রেশ হওয়া শেষ হলে আমিও ফ্রেশ হতে নিলাম।
তারপর আমি ওকে ওর বাড়িতে পৌছে দেই।
আমাদের জীবনের এ ঘটনার পার থেকে আমি মিরাকে মন থেকেই ভালোবাসার চেষ্টা করি।
যদিও মনের এক কোনে স্বর্নার নামটা এখনো বাসা বেধে আছে। যাইহোক আমাদের ভালোবাসা আর খুনসুটিতে আরো কিছুদিন চলে যায়। আর এ কয় দিন আমি স্বর্নাকে একটি বারের জন্যও দেখি নাই।
হয়তো আমাকে ভুলবুঝে চলে গেছে।
তারপর একদিন আমি মিরা আর নীলা কলেজে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম।
হঠাৎ করে ঠিক তখনি কোথায় থেকে যেন স্বর্না আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালো।
আমি স্বর্নাকে দেখে বিরক্ত হয়ে বললাম।
--একি আপনি আবার আমাদের বিরক্ত করতে আসছেন।
--কাব্য তোমার সাথে আমার কিছু ব্যক্তিগত কথা ছিলো। যদি একটু ...
(লীমা করুন ভাবে বললো)
--আমি কোথাও যেতে পারবো না। আপনার যা বলার এখানেই বলুন।
--কাব্য তুমি যদি একটু আমার সাথে দুরে কোথাও যেতে তাহলে...
--ঐ তোকে কাব্য কি বললো শুনতে পাস নাই। তোর যা বলার আমাদের সামনে বল।
(পাশ থেকে মিরা রেগে গিয়ে বললো)
তারপর স্বর্না একবার আমার দিকে আর একবার মিরার দিকে তাকিয়ে যা বললো।
তা শুনে আমি আর মিরা যেন আকাশ থেকে পড়লাম।
আর আমার তো পায়ের নিছ থেকে মাটি সরে গেছে মনে হলো………
কারন স্বর্না আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল।।
--কাব্য আমি তোমার সন্তানের মা হতে চলেছি।
আমি তো স্বর্নার কথা শুনে আকাশ থেকে পড়লাম।
ও আমার সন্তানের মা হতে চলেছে মানে।
নিশ্চিত স্বর্না আবার আমার সাজানো গোছানো এই জীবনটা নষ্ট করতে এসেছে।
আচ্ছা কি পায় এ মেয়ে সব সময় আমাকে আমার ভালোবাসার মানুষদের কাছ থেকে আলাদা করে।
ও কি চায় না আমি একটু সুখে থাকি।
আমার কষ্ট দেখে কি ও খুব আনন্দ পায়। না অনেক হয়েছে জীবনে অনেক অন্যায় অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করেছি। আজ আর না আমি যদি আজও যদি সহ্য করি। তাহলে আজ আমাকে মিরা নামটাকে হারাতে হবে। আর আমার জীবনট আবারো শুন্য মরুভুমি হয়ে যাবে। আর তা আমি মানতে পারবো না। তাই রেগে গিয়ে স্বর্নাকে বললাম।।
--হ্যালো আপনি এসব কি আবুল তাবুল কথা বলছেন।আমার সাথে তো আপনার কোন সম্পর্কই নেই তাহলে আপনি আমার দিকে কেন মিথ্যা অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন।
(এদিকে মিরা কিছুই বলছে না। শুধু আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে)
--বিশ্বাস করো কাব্য আমি কোন মিথ্যা কথা বলছি না।সত্যিই আমার পেটে তোমার সন্তানের অস্তিত বেড়ে উঠছে। দয়া করে তুমি আমাকে মেনে নাও কাব্য প্লিজ। তুমি যদি আমাকে মেনে না নাও তাহলে মরা ছারা আমার আর কোন পথ থাকবে না।
(স্বর্না কাঁদতে কাঁদতে করুন ভাবে বললো)
--না আমি বিশ্বাস করি না।
আপনি যা বলছেন সব মিথ্যা বলছেন। আমার আর আপনার মধ্যে এমন কোন সম্পর্ক হয় নাই। যাতে আপনি আমার সন্তানের মা হতে পারেন। আর আপনি এর আগেও আমার জীবনটা নষ্ট করতে চেয়েছিলেন।
আর আজ যখন আমি একটু সুখে আছি তখন আমার সুখ তোর সহ্য হচ্ছেনা। তাই তো।
(রেগে গিয়ে বললাম)
--কাব্য বিশ্বাস করো আমি যা বলছি সত্যি বলছি।
আমার পেটে তোমার...
(কাঁদতে কাঁদতে বললো স্বর্না)
--কি উল্টাপাল্টা কথা বলছেন হ্যাঁ।
আর শুন তোর কাছে কোন প্রমান আছে যে তোর পেটে আমার সন্তান আছে।
স্বর্না একদম নিশ্চুপ....
--জানি না কার না কার সাথে নষ্টামি করে এসেছিস আর বলছিস এটা আমার সন্তান।
আর হ্যাঁ একটা কথা কান খুলে শুনে রাখ আমি যদি আমার জীবনে খারাপ কিছু করে থাকি সেটা একমাত্র আমার এই কলিজার সাথে (মিরাকে দেখিয়ে বললাম) সাথে করেছি....
এজন্য যদি আমার সন্তানের মা কেউ হয় সে একমাত্র মিরাই হবে আর কেও না।
স্বর্না এবার আমার দিকে করুন ভাবে তাকিয়ে বললো।
--হ্যাঁ আমি যানি এখন আমি তোমাকে কোন প্রমান দিতে পারবো না কাব্য। তবে হ্যাঁ যে দিন ও পৃথিবীতে আসবে সেদিন তুমি চাইলে ডিএনএ টেষ্ট করে দেখতে পারো।
এরপর কিছুক্ষণের জন্য সবাই স্তব্ধ……
কিছুক্ষণ পর স্বর্না আবারো বলতে লাগলো।
--আচ্ছা কাব্য তোমার কি মনে আছে প্রায় দুই তিন মাস আগে তুমি বৃষ্টিতে ভিজে অফিস থেকে আসার কারনে তোমার খুব জ্বড় এসেছিলো। অবশ্য জ্বরটা আগে থেকেই একটু ছিলো।
যাইহোক সেদিন রাতের কথা কি তোমার মনে আছে?
কি হয়েছিলো সে রাতে।
(স্বর্না বললো)
--মনে থাকবে না কেন রাতে আমি প্যারাসিটামল খেয়ে শুয়েছিলাম। আর পরের দিন ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার জ্বড় ভালো হয়ে গেছে। কিন্তু এর সাথে তোর কি সম্পর্ক??
--হ্যাঁ সম্পর্ক আছে কাব্য।
কারন সে রাতে তোমার জ্বর সামান্য এ্রকটা প্যারাসিটামল খেয়ে ঠিক হয় নাই। হয়েছিলো আমার কারনে। আচ্ছা তুমি কি জানো সে রাতে আসলে কি হয়েছিলো। আরে হ্যাঁ তুমি জানবে কি করে। সে রাতে তো তোমার জ্বর এতটাই বেশী ছিলো যে তুমি বুঝতেই পারো নাই তোমার ঘরে কে এসেছিলো।
এবং তুমি যানতে চাও কি হয়েছিল সে রাতে?
তাহলে শুনো
সে রাতে যখন আমি তোমার ঘরে এসেছিলাম তখন দেখি তুমি জ্বড়ে কাপছো। হয়তো ভাবছো আমি কি ভাবে তোমার রুমে এলাম।
সেটা না হয় নাই বা জানলে। যানো তোমার জ্বড় দেখে আমি সারা রাত তোমার সেবা করে গেছি।
যাতে তুমি সুস্থ হয়। কিন্তু তোমার জ্বড় কমছিলো না।
বরং বারছিলো। আর তুমি ঠান্ডায় কাপছিলে।
তাই আমি যখন তোমার শরীরে যখন কম্বল দিতে যাবো। তখন তুমি আমাকে তোমার কাছে টেনে নাও।আর....
(বলেই স্বর্না কাঁদতেছে)
স্বর্নার কথা শুনে আমি যেন পাথর হয়ে গেলাম।
কি বলবো আমি কিছুই বুঝতেছি না। তার মানে সে দিন সকালে আমি যা..………………
ঠাসস ঠাসস হঠাৎ কে যেন আমাকে চড় দিলো।
আমি তাকিয়ে দেখি আমাকে যে চড় দিয়েছে সে আর কেউ নয় মিরা।
আমি মিরাকে কিছু বলতে যাবো।নতার আগেই মিরা কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে চলে গেলো। মিরাকে এভাবে যেতে দেখে নীলাও ওর পিছনে দৌঁড়ে গেলো।
আমি এখন কি করবো কিছুই বুঝতেছি না।
আমার পাশেই স্বর্না দাঁড়িয়ে কাঁদতেছে। আর এদিকে কলেজের অনেকেই আমাদের তিন জনকে নিয়ে বাজে কথা বলছে।
কেউ কেউ তো বলছে সালা ক্ষেতটার সাথে কপাল ঘসা দরকার। তা না হলে এরকম হট দুটো মেয়েকে বিছানায় নিতে পারে ।
আবার কেউ কেউ বলছে দেখিস দুই দিন পর শুনতে পারবি এদুটো মালকে একবিছানায় নিয়ে থাকছে।
ওদের কথা গুলো বুকের ভিতর যেন সুচের মত ফুটছে।তাই মাথা নিচু করে কলেজ থেকে বের হয়ে আসি।
(আর এদিকে মিরা কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে আসে)
আমি ভাবতেও পারছি না কাব্য আমার সাথে এত বড় চিট করতে পারে। ওর যখন মেয়েদের দেহের প্রতি এতই লোভ ছিলো। তখন আমাকে বলতেই পারতো।আমি আমার দেহকে ওকে আরো আগে দিয়ে দিতাম।কিন্তু ও ঐ মেয়েটার সাথে ছিঃ।
এ কথা ভাবতেই দম বন্ধ হয়ে আসছে। বুকের ভিতর খুব কষ্ট হচ্ছে। এতটা কষ্ট আগে কখনো হয় নাই।
না এত কষ্ট আমি সহ্য করতে পারবো না। তার থেকে বরং আমি মরে যাবো। হ্যাঁ এটাই ঠিক হবে।
এটা ভেবে মিরা যখন গলায় দড়ি দিতে যাবে।
ঠিক তখনি কে যেম মিরাকে ঠাসস করে চড় দেয়।
মিরা মাথা তুলে তাকিয়ে দেখে যে নীলা ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
--এটা তুই কি করতে যাচ্ছিলি। তুই কি পাগল হয়ে গেছিস মিরা। (নীলা)
--হ্যাঁ হ্যাঁ আমি পাগল হয়ে গেছি। তুই আমাকে কেন বাঁচাতে আসলি। আমাকে মরতে দে প্লিজ আমাকে মরতে দে নীলা।
(কাঁদতে কাঁদতে বললো মিরা)
--আচ্ছা তুই মরে গেলেই কি সব ঠিক হয়ে যাবে।(নীলা)
--আমি কিছু যানি না। হ্যাঁ যানি কিছুই ঠিক হবে না।কিন্তু মরে গেলে তো আর এটা শুনতে হবে না আমার ভালোবালার মানুষের সন্তান অন্য কোন মেয়ের পেটে।এটাতো অন্তত দেখতে হবে না। ওর বুকে মাথা রেখে অন্য কেও শুয়ে আছে।(মিরা)
--যদি এসব শুনতে বা দেখতে না চাস তাহলে এমন কিছু কর।রযাতে তুই তোর ভালোবাসার মানুষকে কাছে পাস।(নীলা)
--না রে এমন কোন উপায় আমার জানা নেই যাতে করে আমার ভালোবাসার মানুষকে আমি কাছে পাবো।
কি করবো নীলা আমি তুই বল আমায়।
তুই তুই তো নিজেই শুনলি স্বর্না কি বলছে।
ওর গর্ভের সন্তানের বৈধতা দিতে ও ডিএনএ টেষ্ট করতেও ভয় পায় না। আমি যদি আইনের সহায়তাও নিতে চাই তখন, তখন কাব্যকে অপরাধির কাঠঘড়ায় দাঁড়াতে হবে। সবাই ওর নামে যা নয় তাই বলবে।
আর আমি তা শুনে বেচে থাকতে পারবো না।
তুই জানিস নীলা যারা প্রেমে ব্যার্থ হয়ে আত্যহত্যা করতো তাদের দেখলে আমার হাসি পেতো। ভাবতাম কি একটা তুচ্ছ কারনে তারা আত্যহত্যা করে।
কিন্তু আজ বুঝতে পারছি তারা কেন এ পথ বেচে নেয়।
(মিরা কাঁদতে কাঁদতে নীলাকে বলছে)
.
.
.
চলবে………………………♥গল্প :- বান্ধবী যখন বউ
পর্ব :- ১৩
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
.
:-তুই তুই তো নিজেই শুনলি স্বর্না কি বলছে।
ওর গর্ভের সন্তানের বৈধতা দিতে ও ডিএনএ টেষ্ট করতেও ভয় পায় না। আমি যদি আইনের সহায়তাও নিতে চাই তখন, তখন কাব্যকে অপরাধির কাঠঘড়ায় দাঁড়াতে হবে। সবাই ওর নামে যা নয় তাই বলবে।
আর আমি তা শুনে বেচে থাকতে পারবো না।
তুই জানিস নীলা যারা প্রেমে ব্যার্থ হয়ে আত্যহত্যা করতো তাদের দেখলে আমার হাসি পেতো। ভাবতাম কি একটা তুচ্ছ কারনে তারা আত্যহত্যা করে।
কিন্তু আজ বুঝতে পারছি তারা কেন এ পথ বেচে নেয়।
(মিরা কাঁদতে কাঁদতে নীলাকে বলছে)
--মিরা দেখ আমি তাদের কথা জানি না।
তারা হয়তো তাদের ভালোবাসার মানুষকে কাছে পাওয়ার কোন পথ খুঁজে পায় নাই। তাই এ পথ বেচে নিয়েছে।
কিন্তু তুই চাইলেই আমি তোকে পথ দেখাতে পারি যাতে করে তুই তোর ভালোবাসার মানুষকে চির জীবনের জন্য আপন করে নিতে পারিস। (নীলা)
--কিহ্ তুই সত্যি বলছিস তো।
তুই আমাকে আমার কাব্যকে এনে দিতে পারবি।
--হ্যাঁ পারবো।
কিন্তু সে জন্য তোকে একটা কাজ করতে হবে।
(নীলা)
--কি কাজ বল।
আমি কাব্যকে কাছে পাওয়ার জন্য সব করতে পারবো।তুই বল আমাকে কি করতে হবে।
(মিরা চোঁখের পানি মুছে বললো)
--তাহলে শোন.......…………………………
কি করতে পারবি তো??(নীলা)
--হ্যাঁ করতে পারবো। কিন্তু...
--কোন কিন্তু নয়।
যদি তুই তোর কাব্যকে কাছে পেতে চাস তাহলে তোকে এটা করতেই হবে। তা না হলে কোন দিনো তুই তুর কাব্যকে পাবি না।
একবার ভেবে দেখ মিরা কোন মেয়েই তার ভালোবাসার মানুষকে অন্য জনের সাথে সেয়ার করতে চায় না। এমন কি সে যদি তার অপন বোন হয়েও থাকে। এখন তুই বল তুই কি চাস কাব্যকে..(নীলা)
--না না কোন ভাবেই আমি তা হতে দিবো না।
কাব্য আমার শুধুই আমার। আমার ছারা কাব্য আর কারো নয় হতে পারে না।
--হুম এইতো বুদ্ধিমতি মেয়ে। চল কাজে লেগে পড়ি।(নীলা)
--হুম চল।
.
.
.
.
:- আর এদিকে আমি বাড়িতে এসে ভাবতে লাগলাম।
কি হচ্ছে এসব আমার সাথে। প্রথমে একজনকে ভালোবাসলাম সে আমার সাথে অভিনয় করলো।
এখন আবারও একজনকে ভালোবাসলাম....
আজ নিজের একটা ভুলের জন্যে তাকেও হারাতে হচ্ছে। এই উপর ওয়ালা তুই কি আমাকে খেলার পুতুল পেয়েছিস। যখন যেভাবে খুশি তখন সে ভাবে আমার জীবনটা নিয়ে খেলছিস।
এরমধ্যে হঠাৎ নীলার ফোনে আমার ভাবনার ছেদ ঘটলো। আমি ফোনটা রিছিব করে বললাম।
--হ্যালো নীলা বল। (আমি)
--হ্যালো কাব্য তুই এখন কোথায়।(নীলা)
--কেন আমি তো বাড়িতে। কি হয়েছে আর তোর গলা এমন লাগছে কেন?
--হ্যাঁ অনেক কিছুই হয়ে গেছে রে কাব্য।
তুই যত তাড়াতাড়ি পারিস মিরাকে আটকা।(নীলা)
--কেন কিকি কি হয়েছে মিরার আর ও এখন কোথায়।(হঠাৎ খুব ভয় পেয়ে বললাম)
--দেখ কাব্য এত কিছু বলার সময় সময় নেই।
তুই শুধু এটুকু শোন যে মিরা স্বর্নাকে কে মারার জন্য ওকে উঠিয়ে এনেছে।
আর তুই যত তারাতারি পারিস মিরাদের পুরাতন গোডায়োনে চলে আয়।(নীলা)
হঠাৎ আমি নীলার কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লাম।
--প্লিজ নীলা তুই যে ভাবেই পারিস মিরাকে একটু আটকা আমি আসছি। আমি বেঁচে থাকতে মিরাকে কোন অন্যায় করতে দিবো না।
একথা বলেই আমি মিরাদের পুরাতন গোডায়োনে যাওয়ার জন্য বের হলাম।
তারপর আমি যখন মিরাদের গোডায়োনে পৌঁছে যাই।তখন যা দেখলাম তা দেখে আমি অবাক হয়ে যাই।
কারন আমি দেখলাম মিরাদের পুরাতন গোডায়োনে তালা ঝুলছে। কোথাও এমনটা নয় তো। আমার এখানে আসতে দেরি হয়ে গেছে। তাই সিয়র হওয়ার জন্য যখনি আমি নীলাকে ফোন দিতে যাবো। ঠিজ তখনি কে যেন আমার মাথায় শক্ত জাতিয় কিছু দিয়ে আঘাত করে।
ফলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আর যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন আমি যা দেখলাম তা দেখে দ্বিতীয় বারের মত অবাক হয়ে যাই।
কারন যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন আমি নিজেকে একটা রুমের মধ্যে শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পাই।আর রুমটাই সম্পূর্ণ ফুল দিয়ে সাজানো।
একটু পর হঠাৎ শুনতে পায় রুমের বাহিরে কে বা কারা যেন কথা বলছে।
তাই আমি বিছানা থেকে উঠে যাবো তখনি মাথা ঘুড়ে আবারো পড়ে যাই। মাথাটা কেন যেন ব্যাথা করছে।তবুও অনেক কষ্টে দরজা পর্যন্ত যাই।
তারপর রুমের দরজা খুলে আমি যা দেখলাম আর শুনলাম তাতে আমি যেন তৃতীয় বার আকাশ থেকে পড়লাম।
কারন আমি দরজ খুলে দেখলাম যে মিরা আর স্বর্নাকে কেউ খুব বাজে ভাবে মেরেছে।
ওরা মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছে। আর ওদের এ অবস্থা দেখে একটা মেয়ে পাগলের মত হাসতেছে।
মিরা আর স্বর্নাকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে আমার দম যেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
তারপর আমি যখনি দৌড়ে ওদের দুজনের কাছে যাবো। ঠিক তখনি মিরা মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে বললো..........
--নীলা তুই এসব কি করছিস আমাদের সাথে।
তুইতো আমাকে সাহায্য করতে চেইছিলি।(মিরা)
(আমি মিরার মুখে নীলার নামটা শুনে আমার সব কিছু যেন গুলিয়ে যাচ্ছে)
--হা হা তোকে আমি সাহায্য করতে চেয়েছি।
কই কখন? আমার তো মনে পড়ছেনা।
(নীলা খুব অবাক হয়ে বললো)
--কেন তুই আমাকে বলিস নাই যে তুই আজকে আমার সাথে আমার ভালবাসার মানুষের মিল করে দিবি।তাহল তুই কেন আমার উপর এত অত্যাচার করছিস।(মিরা)
--আচ্ছা এমনটা বলেছিলাম বুঝি। তাহলে তোকে হয়তো এটাও বলেছিলাম যে পৃথিবীর কোন মেয়েই তার ভালোবাসার মানুষকে অন্যের সাথে শেয়ার করতে চায় না। তাহলে একবার ভেবে দেখ আমি কি করে তোদের দুই বোনের সাথে আমার ভালোবাসা শেয়ার করবো। (নীলা)
(কিহ্ এটা আমি কি শুনছি মিরা আর স্বর্না দুই বোন।কিন্তু ওদের মাঝে কিসের এত শত্রুতা।
ওদের যখন এক সাথে দেখি তখন তো ওদের দেখলে মনে হয় যেন একজন আরেক জনের জীবন নিতে পারলেই খুশি হতো। আর নীলাই বা এসব বলছে কেন? আমার ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে নীলা আবার বলতে লাগলো..)
--শুন মিরা যেখানে কোন মেয়ে তার ভালোবাসার মানুষকে তার আপন বোনের পাশেই থাকতে দেখতে পারে না। সেখানে তোরা দুই বোন কি না আমার ভালোবাসার মানুষেকে তোদের বিছানা পর্যন্ত নিয়ে গেছিস।(নীলা)
(নীলার কথা শুনে আমি যেন এবার ৪র্থ বারের মত একটা বড় ধরনের শক খেলাম।
কি বলছে এসব নীল। তার মানে কি ওরা আমাকে শুধু আজ পর্যন্ত ঠকিয়েই এলো। আর আমি বোকার মত ভালোবেসে গেছি)
--আর যেখানে আমার থাকার কথা ছিলো সেখানে তোরা ছিলি। আমি কি ভাবে একষ্ট সহ্য করবো বল তোরা।(নীলা)
(এতক্ষণ এসব কথাগুলো মিরা এবং স্বর্নাকে উদ্দেশ্য করে করে বললো নীলা)
.
.
.
.
--নীলা তুই এসব কি পাগলের মত কথা বলছিস।
তুই আবার কাকে ভালোবাসিস আর আমি কেনই তোর ভালোবাসার মানুষের কাছে যাবো।
(মিরা খুব অবাক হয়ে প্রশ্নটা করলো নীলাকে)
--হ্যাঁ হ্যাঁ আমি পাগল হয়ে গেছি।
যে কাব্যকে কাছে পাওয়ার জন্য আমি ছোট থেকেই ওকে পাগলের মত ভালোবেসে আসছি। আর তাকে? তাকে তোরা দুই বোন আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিবি তা আমি কি ভাবে হতে দেই।(নীলা)
হঠাৎ নীলার এমন কথা শুনে মিরা আর স্বর্না যেন আকাশ থেকে পড়লো। সাথে সাথেই ওরা একসাথে বলে উঠলো।
--কি বললে তুমি নীলা কাব্য তোমাকে ভালোবাসে মানে? আমি বিশ্বাস করি না। তুমি মিথ্যা বলছো। কাব্য তোমাকে ভালোবাসে না। (স্বর্না)
--আমি কি এটা বলেছি যে কাব্য আমাকে ভালোবাসে?
আমি তো এটা বলেছি যে আমি ওকে ভালোবাসি। তবে হ্যাঁ ও আমাকে ভালোবাসতো। কিন্তু…………
কিন্তু একমাত্র তোর কারনে ও আমাকে ভালোবাসে নাই। তুই আমাদের দুইজনের মাঝখানে কাটা হয়ে ছিলি। (নীলা)
--তুমি এসব কি বলছো নীলা আমিতো কিছুই বুঝতেছিনা।(স্বর্না)
--আচ্ছা তাহলে শুন তোর কি নীশা নামের কোন মেয়েক মনে আছে। যখন তুই(pgc)তে পড়তি।(নীলা)
--হ্যাঁ মনে আছে কিন্তু তুমি ওকে কি ভাবে চেনো।(স্বর্না)
--আমি ওকে চিনবো কেন? আর চেনারও কি প্রয়োজন হুম? কারন নীশা আর কেউ নয় আমি।
আর জানিস স্বর্না আমি আমার জীবনে সব চাইতে বড় কষ্টটা কখন পেয়েছিলাম?
:-যখন তুই এটা জানতি যে আমি কাব্যকে ভালোবাসি।তারপরেও তুই আমার বন্ধবী হয়ে তুই আমার ভালোবাসার মানুষকে কেড়ে নিয়েছিলি।
তুই একবারো কাব্যর প্রতি আমার ভালবাসাটা বুঝিস নাই।
তাই রাগে আমি আমার এই মুখে প্লাস্টিক সার্জারি করে তোর চিহারা নিয়ে তোকে ওর কাছে খারাপ বানাই।
আর ও যখন রাগ করে এখানে আসে। তখন আমি ওকে আমাদের কলেজে ভর্তি করানোর জন্য অনেক বড় একটা গেম খেলি।
কিন্তু আমি এটা জানতাম না এই কলেজে মিরার মত সুন্দরি মেয়ে আছে।
তখন মিরাকে দেখে আমি খুব ভয় পেয়ে যাই।
যদি কাব্য আবার ওকে ভালোবাসে। তাই আমি দ্বিতীয় বারের মত আবার প্লাস্টিক সাজারি করি। আর মিরার সাথে বন্ধুত্ব করি।
আর মিরাকে কাব্যর সাথে মিথ্যা প্রেমের অভিনয় করে ওকে ছ্যাকা দেওয়া প্লান করি।
কারন কাব্য যখন একাকীত্ব অনুভব করবে আর তখন আমি আমার প্লান মত সেই সময় কাব্যর পাশে দাঁড়াতাম। যাতে কাব্যকে আমার প্রতি মেন্টালি এবং ফিজিক্যালি দূর্বল করতে পারি।
এরপর সব কিছুই আমার প্লান মতই চলছিলো। কিন্তু মাঝখান থেকে এ শালি কি না(মিরাকে উদ্দেশ্য করে) এক স্বপ্ন দেখে আমার সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে কাব্যকে ভালোবাসতে লাগলো।
তারপর আমি কাব্যকে ওর কাছ থেকে দুরে সরানোর জন্য কোন প্লান করবো। তার আগেই স্বর্না তুই যে কোথায় থেকে টপকিলি বুঝতেই পারলাম না।
তখন আমি ভাবতে লাগলাম কি করে এক ঢিলে দুই পাখি মারা যায়।
তারপর অনেক কষ্টে যখন একটা প্লান করলাম। সেটাও তোদের দুই জনের কারনে ভেস্তে গেলো। যখন শুনলাম স্বর্না মা হতে চলেছে। আর মিরার সাথেও কাব্যর ফিজিক্যাল রিলেশন হয়েছে।
তখন আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। মাথায় শুধু একটা কথাই আসছিলো যে করেই হোক তোদের দুটোকে শেষ করবো।
আর যখন দেখলাম মিরা আত্যহত্যা করতে যাচ্ছে।তখন প্রথমে ভাবলাম একটা পথের কাটা নিজেই আমার পথ থেকে সরে যাচ্ছে। আর বাকি থাকলি তুই স্বর্না।
আর তোকে আমার পথ থেকে সরানোটা আমার বা হাতের কাজ ছিলো। কিন্তু আমার ধরা পরার ভয় ছিলো। তাই ঠিক তখনি মাথায় একটা আইডিয়া চলে আসে যাতে শাপও মরে আর লাঠিও না ভাজ্ঞে।
তাই আমি মিরাকে বাচিয়ে বিয়ের প্রলভন দেখিয়ে এখানে নিয়ে আসি। আর তোকে এটা বলে এখানে নিয়ে আসি যে তোর কারনে মিরা কাব্যক মেরে ফেলতে চাচ্ছে। আর আমার জানটাকে মানে কাব্যকে এখানে এটা বলে ডাকি যে মিরা স্বর্নাকে মেরে ফেলতে এখানে নিয়ে আসছে। হা হা হা
এখন তোরা মরার জন্যে তৈরি হয়ে নে।(নীলা)
--ছিঃ তুই এতটা খারাপ। আমি ভাবতেও পারছি না তোর মত একটা মেয়েকে নিজের বান্ধবী ভাবতেও ঘৃনা লাগছে।(মিরা)
--হা হা সে তোরা যাই আমাকে বল। আমার তাতে কিছুই যায় আসে না। একটা কথা জানিস কি তোরা ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে everything is fair& love..........
যাইহোক আজকে খুব আফসোস লাগছে কারন তোরা আমার হাতে মরবি।
একথা বলেই মিরা আর স্বর্নার দিকে দুই হাতে দুইটা রিবালভার দিয়ে মারার জন্য রেডি হয়েছে।
।
।
।
চলবে………………………♥♥♥
.
গল্প :- বান্ধবী যখন বউ
পর্ব :- ১৪ এবং শেষ
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
.
--হা হা সে তোরা যাই আমাকে বল। আমার তাতে কিছুই যায় আসে না। একটা কথা জানিস কি তোরা ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে everything is fair& love.......... যাইহোক আজকে খুব আফসোস লাগছে কারন তোরা আমার হাতে মরবি। একথা বলেই মিরা আর স্বর্নার দিকে দুই হাতে দুইটা রিবালভার দিয়ে মারার জন্য রেডি হয়েছে।
.
.
.
.
এদিকে আমি নীলার মুখে এসব কথা শুনে পুরাই স্তব্ধ হয়ে গেলাম।
আমি এখন কি করবো,, কিছুই মাথায় আসছেনা।
আমি যা দেখেছি আর যা শুনেছি তা কি ঠিক শুনেছি।নাকি ভুল? আমি...আমি কি করবো এখন কিছুই মাথায় আসছে না। শুধু একটাই কথা………
আর এটা ভাবতেই মনের ভিতর আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে,,!! যে আমার জীবনটা এভাবে এলোমেলো করে দিয়েছে তাকে শাস্তি পেতে হবে।
.
.
.
তারপর আমি হাত তালি দিতে দিতে নিশার দিকে এগিয়ে গিয়ে বললাম।
(এখনকার নীলা আর আগের নাম নীশা)
--বাহ্ নীশা বাহ্।
কী অসাধারন তোর ভালোবাসা। আমাকে তুই এতটাই ভালোবাসতি যে ভালোবাসার জোরে তুই আমাকে আজ আমার পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে দিলি। আর দুইটা র্নিস্বপাপ মেয়ের কাছে আমাকে অপরাধী বানিয়ে দিলি। সত্যিই তোর ভালোবাসা মহৎ রে। তোর এমন জঘন্য নীচু মনের ভালোবাসা দেখে তোকে স্যালুট করতে মন চাচ্ছ।(আমি)
--কাব্য......কাব্য তুমি আমাদের বাঁচাও(মিরা)
আমি মিরার দিকে তাকিয়ে আবারো নিশার দিকে তাকালাম। নিশা আমাকে দেখে যেন ভুত দেখার মত চমকে উঠলো। তারপর তোতলাতে তোতলাতে বললো…………..
--কাব্য তোমার জ্ঞান ফিরলো কখন।(নিশা)
--অনেক আগেই ফিরেছে। উপর ওয়ালার কি টাইমিং দেখ এতগুলো দিন যাকে অপরাধি ভেবে এসেছি আজ যদি আমার জ্ঞান না ফিরতো তাহলে আমি হয়তো জানতেই পারতাম না যে আসল অপরাধি স্বর্না নয় তুই।
আজ আমার নিজের প্রতিই ঘৃনা আসছে যাকে আমি ভালোবাসতাম তাকে আমি হয়তো কখনো চিনতেই পারি নাই। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও স্বর্না।
(স্বর্না শুধুই আমার দিকে তাকিয়ে আছে)
:- কি অপরাধ করেছিলাম তোর সাথে হ্যাঁ.!
কি অপরাধ করেছিলাম আমি যার কারনে তুই আমার সাথে এত বড় খেলা খেললি।
(চিৎকার করে বললাম কথাটা)
--কি বললি তোর কোন অপরাধ নেই কাব্য?
আচ্ছা তুইকি সব কিছু ভুলে গেছিস? তুই ভুলতে পারলেও আমি পারি নি। সেই ছোট থেকেই আমি তোকে ভালোবেসে আসছি। সেই ছোট থেকে। যখন আমি এটা বুঝতে পেরেছি ভালোবাসা কি,, সেই তখন থেকেই আমি তোকে আমার স্বপ্নের পুরুষ ভেবে কত রঙ্গিন স্বপ্ন দেখেছিলাম। আর তোক কত ভাবে আমার ভালোবাসা বোঝাতেও চেয়েছিলাম। কিন্তু তুই কি করলি আমার ভালোবাসা না বুঝে এই শাঁকচূর্ণী স্বর্নাকে ভালোবাসলি। আর জানিস আমি যখন জানতে পেরেছিলাম তখন কতটা কষ্ট পেয়েছিলাম। না তুই জানিস না। তুই জানবি কি করে? তুই তো তখন ঐ স্বর্নার সাথে সুখের এক রঙ্গিন দুনিয়া তৈরি তে ব্যস্ত ছিলি। জানিস আমি বার বার,, বার বার একটা কথাই দিন রাত ভাবতাম আমি ওর থেকে কোন অংশে কম ছিলাম? যে স্বর্নার কপালে কেন তুই লেখা থাকবি?
আর ওর সুখ আমার সহ্য হতো না। তাই ওকে তোর জীবন থেকে সরানোর জন্য আমি ওর রুপ নেই।
আর তোর লেখাপড়ার ক্ষতি করি। আর ওকে তোর কাছে খারাপ বানাই। আমি ভেবেছিলাম তুই এত কষ্টের ভিতর নিজেকে একা মনে করবি। আর আমি তখন তোর পাশে থাকবো। কিন্তু না তুই সব কিছু ভুলে আবারো নতুন করে মিরাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলি। আর এবার মিরার জীবনা সুখের সাগরে ভাসিয়ে দিলি। কিন্তু এত কিছু করার পরেও আমি কি পেলাম? কিছুই না। শুধু কষ্ট ছাড়া আর কি?
আর আমি কি এতটাই অবহেলার পাত্রী হয়েছি যে আমিই শুধু সারাজীবন কষ্ট করে যাবো।
আর অন্যরা আমার ভাগের সব সুখ লুটে নিয়ে যাবে।নো নেভার। যে সুখ আমি পাই নাই তা ওদের কেও পেতে দিবো না। আজকে ওদের আমি শেষ করে তোর সাথে আমি বিয়ে বসবো। তারপর দুজনে ছোট একটা স্বপ্নের সংসার সাজাবো। যেখানে শুধু তুমি আর আমি আর আমাদের ছোট দুইটা ছেলে মেয়ে থাকবে।
:- এই কাব্য বল না তুমি আমাকে বিয়ে করে আমার স্বপ্ন গুলো পুরন করবে প্লিজ কাব্য বলো না। (নিশা)
.
.
--কিহ্ আমি বিয়ে করবো তোকে। আমার জীবন থাকতে নয়। তোর স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে।(আমি)
--কিহ্ তুই আমাকে বিয়ে করবি না।(নিশা)
--না করবো না।(আমি)
--কাব্য ভালোয় ভালোয় বলছি। আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যাও। তা না হলে...(নিশা)
--কি তা না হলে। আমাকে মারবি তো মেরে ফেল (আমি)
--না না তোমাকে মারতে যাবো কোন দুঃখে।
তুমি মরে গেলে আমার কি হবে। তবে হ্যাঁ তুমি জানতে চাইলে না আমি কি করবো। তাহলে এই দেখো......
ঠাস ঠাস করে স্বর্নাকে গুলি করি।(নিশা)
আমি চিৎকার করে………
--স্বর্নাআয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া
বলেই ওর দিকে দৌঁড়াতে ধরলাম।(আমি)
--খবরদার কাব্য একপাও নড়বে না।
যেখানে আছো সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকো। নয়তো তোমার আঁদরের মিরাকেও শেষ করে দিবো।(নিশা)
--নিশা তুই কি পাগল হয়ে গেছিস। তুই কি ভাবে এটা করতে পারলি। একটা বারও কি তুই এটা ভাবলি না স্বর্না মা হতে চলছে।(আমি)
--হ্যাঁ হ্যাঁ আমি পাগল হয়েগেছি। তোমাকে ভালোবেসে।
আর আমার ভালোবাসার পথে সব চেয়ে বড় কাটা ছিলো এই স্বর্না। কারন ও তোমার সন্তানের মা হতে চলেছিলো। ও যত দিন বেঁচে থাকতো তত দিন তোমাকে আমার করে পাবো না। এখন আর থাকলো মিরা,, আর তুমি যদি মিরাকে জীবিত দেখতে চাও তাহলে আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যাও কাব্য।
যদি রাজি না হও বুঝতেই পারছো।(নিশা)
--না তুমি...না তুমি ওই ডাইনিকে বিয়ে করতে রাজি হবে না। এতে যদি ও আমারো জীবন নিয়ে নেয় তো নিক। আমি ওকে তোমার পাশে দেখতে পারবো না কাব্য।
(মিরা কাঁদতে কাঁদতে বললো)
--ঐ শাঁকচূর্ণী চুপ একদম চুপ।
বেশি কথা বললে না তোর অবস্থাও তোর বোনের মতো হবে।
(এদিকে স্বর্না মৃত্যুর যন্ত্রনায় ছট ফট করছে। যা আমার সহ্য হচ্ছে না। ওকে যদি হাসপাতালে না নেওয়া হয় তাহলে যে কোন মুহুর্তে স্বর্না মারা যেতে পারে)
:- জান তোমাকে বলছি প্লিজ একটু ভেবে দেখো স্বর্নার পর তুমি যাকে নিজের থেকেও বেশী ভালোবাসো।
সেই মিরারও এমন ভাবে কষ্ট পেতে পেতে মরে যাবে।
আর তুমি তাকি দেখতে পারবে? মিরার সেই ভয়ানক কষ্ট তুমি সহ্য করতে পারবে কাব্য।
(নিশা শয়তানি হাসি দিয়ে বললো)
--কাব্য তুমি আমাদের কথা ভেবো না, আমাদের যা হওয়ার হবে, কিন্তু তুমি নীলাকে বিয়ে করার জন্য জীবনেও রাজী হবে না।
--চুপ একদম চুপ।
বেশি কথা বললে না তোর অবস্থাও তোর বোনের মতো হবে।
(এদিকে স্বর্না মৃত্যুর যন্ত্রনায় ছট ফট করছে। যা আমার সহ্য হচ্ছ হচ্ছে না। এই মুহুর্তে ওকে যদি হাসপাতালে না নেওয়া হয় তাহলে যেকোন মুহুত্যে স্বর্না মারা যেতে পারে)
আর জান তোমাকে বলছি একটু ভেবে দেখো স্বর্নার পর তুমি যাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসো। সেই মিরা এমন ভাবে কষ্ট করে মরে যাবে।
আর এতা তুমি দেখতে পারবে? ওর সেই ভয়ানক কষ্ট তুমি সহ্য করতে পারবে?
(নিশা শয়তানি হাসি দিয়ে বললো)
আমি কি করবো কিছুই মাথায় আসছে না। এখন যদি ওকে বিয়ে করতে রাজি না হয় তাহলে স্বর্না মারা যেতে পারে। সেই সাথে নিশা মিরাএও ক্ষতি করতে পারে।অনেক ভেবে দেখলাম আমি যদি নিশাকে বিয়ে করি তাহলে আমার কাছের দুজন মানুষ তো বেঁচে থাকবে।আর ওরা বেচে থাকলে আমি হাজারো কষ্টের মধ্যেও একটা সুখ খুজে পাবো। তাই আমি নিশাকে বললাম..
--তোকে বিয়ে করতে আমি রাজি আছি। তবে আমার একটা শর্ত আছে।(আমি)
--সত্যি বলছো তুমি আমাকে বিয়ে করবে। আমি স্বপ্ন দেখছি না তো। এই আবার বলো না তুমি আমাকে বিয়ে করতে সত্যি রাজি আছো।(নিশা)
--হ্যা আমি তোমাকে বিয়ে করতে রাজি আছি। তবে আমার একটা শর্ত আছে।(আমি)
--তুমি আমাকে বিয়ে করতে রাজি আছো। আজ আমি খুব খুব খুশি। বলো তোমার কি শর্ত। তোমার যা মন চায় আমি তাই তোমাকে দিতে রাজি আছি।(নিশা)
--আমার শর্ত হলো এই যে তুমি আজ এখন এই মুহুর্তে মিরা এবং স্বর্নাকে ছেরে দিবে। আর আমাদের স্বর্নাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দিবে।(আমি)
(মিরা শুধু আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর কান্না করছে)
এরপর নিশা আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে কি জেন ভাবলো। আর তারপর বলল..
--হ্যাঁ ঠিক আছে তুমি যখন বলছো তখন আমি মিরাকে ছেড়ে দিবো। আর স্বর্নাকেও হাসপাতালে নিয়ে যেতে দিবো। কিন্তু তার আগে তোমাকে এখন এই মুহুর্তে আমাকে বিয়ে করতে হবে।(নিশা)
--নিশা তুই কি পাগল হয়ে গেছিস। এই মুহুর্তে তোকে আমি কি ভাবে বিয়ে করবো। আর এখন যদি তোকে বিয়ে করতে যাই তাহলে কি হতে পারে তুই কি ভেবে দেখেছিস একবার।
একটিবার কি ভেবে দেখেছিস মুখে বিয়ে করবো বলটা যত সহজ বাস্তবে ততটা সহজ নয়। বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজির দরকার। আর কাজির এখানে আসতে অনেক সময় লাগবে।
নিশা প্লিজ তুই একটু বোঝার চেষ্টা কর আমরা বিয়ে পড়েও করতে পারবো। আগে স্বর্নাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দে প্লিজ।(আমি)
--হা হা মিস্টার কাব্য তুমি নিজেকে খুব চালাক ভাবো তাই না। আমি তোমাদের যেতে দিবো আর তুমি আমার সাথেই গেম খেলবে। তা আমি হতে দিতে পারি না। আমি তোমাকে এখনি বিয়ে করবো। আর তার জন্য কাজির কোন দরকার নেই।(নিশা)
--দেখ নিশা পাগলামো করিস না। কাজি ছারা কি ভাবে বিয়ে হতে পারে।(আমি)
--সেটা তোমাকে ভাবতে হবে না। এই নাও এই কাগজে ছোট একটা সিগনেচার করে দাও। তাহলেই হবে।(নিশা)
--কিসের কাগজ এটা(আমি)
--আমাদের বিয়ের কাবিন নামা। এটাতে যত তাড়াতাড়ি তুমি সই করবে। তত তাড়াতাড়ি ওদেরকে আমি ছেরে দিবো।(নিশা)
--তারপর আমি মনের সব দুঃখ কষ্ট রাগকে মনের ভিতর পাথর চাপা দিয়ে নিশার হাত থেকে কাগজ টা নিতে যাবো। তখনি মিরা কাঁদতে কাঁদতে বললো..
--না কাব্য না......
তুমি এটা করতে পারো না। আমি নিজের চোখে তোমার সাথে ঐ বিশ্বাসঘাতকের বিয়ে হতে দেখতে পারবো না।এমন দৃশ্য দেখার আগে তুমি আমাকে মেরে ফেলো।
মেরে ফেল আমাকে প্লিজ।(মিরা)
(আমি শুধুই মিরার দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে মনে মনে বললাম। মিরা তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। এটা করা ছারা তোমাদের বাচানোর ২য় কোন রাস্তা আমার জানা নেই। তবে তুমি এটা মনে রেখো নিশাকে আমি বিয়ে করলেও কোন দিন ও আমার সাথে সংসার করতে পারবে না। কারন তোমাদেরকে এখান থেকে নিরাপদে বের করে দিয়ে। আমি কি করবো তা তোমরা ভাবতেও পারছো না)
তারপর নিশার কাছ থেকে কাগজটা নিয়ে যখনি সিগনেচার করতে যাবো। তখনি একটা ভয়ানক আত্নচিৎকার আমার কানে আসে। যার ফলে আমার অন্তর আত্না পর্যন্ত কেপে ওঠে। আমি ভয়ে ভয়ে পিছনে তাকিয়ে যা দেখলাম তা দেখে আমি যেন পাথর হয়ে গেছি।রএকি দেখছি আমি আমি....
--কাব্য তুই যদি ওই ডাইনি নিশা কে বিয়ে করিস ! তাহলে এই কাচ দিয়ে আমার হাতের রগ কেটে এখানেই মারা যাবো।(মিরা)
(মিরা একটা কাচের টুকরা হাতের উপর দিয়ে বললো কথাটা)
তারপর আমি সাথে সাথেই মিরার কাছে যার আর ওকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু কিছুতেই মানলো না..! আর এদিকে স্বর্না বেহুশ হয়ে পড়ে আছে.
তারপর মিরা যখনই সেই কাচের টুকরো দিয়ে নিজের হাত কাটতে যাবো,,,,
ঠিক তখনই কেউ একজন বল্লো নিশা তোমার খেলা খতম………………
কথাটা শুনেই আমি পিছনে ফিরে অবাক
কারন যে এই কথাটা বললো তাকে দেখেই খুব বেশী অবাক হয়েছি।
কারন কথাটা যে রিয়া বল্লো
(আর আপনারা জানেন রিয়া মিরার বান্ধবী। আর রিয়ার সাথে পুলিশ ও নিয়ে এসেছে)
আর এদিকে নিশা পুলিশের দিকে তাকাতেই আমি তার হাতের বন্দুক টা কেড়ে নিয়ে ফেলে দিলাম
আর পুলিশ এসে নিশা কে ধরে নিয়ে গেলো যাওয়ার আগে নিশা বল্লো
--কাব্য তোকে আমি পেয়েই ছাড়বো(নিশা/নীলা)
--আরে শালি চুপ কর আগেই নিজেই বাঁচ তারপর...
তারপর রিয়াকে আমি বল্লাম...
--আরে রিয়া তুই এসব কি করে জানলি?
--আমি মিরাকে ফলো করেই সব শুনছিলাম ! তারপর পুলিশ কে ফোন করলাম?(রিয়া)
--তোকে কি বলে যে ধন্যবাদ দেই?(আমি)
--আচ্ছা এসব কথা ছাড় আর স্বর্নাকে নিয়ে চল হাসপাতালে..!
তারপর মিরা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো......
--তাড়াতাড়ি স্বর্নাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে...
--হুম..!(একটু খুশি হয়ে)
তারপর মিরাকেও দেখলাম ও খুশি। মিরাকে খুশী দেকে মনে হলো সে আমাকে পেয়ে খুব খুশি
তারপর আমরা সবাই স্বর্নাকে নিয়ে হাসপাতালে চলে গেলাম।
.
.
.
অনেকক্ষন ধরে হাসপাতালে বসে আছি কারো মুখে কোন কথা নাই।
তারপর একটু পর আমি বললাম।
--আমারই সব দোষ স্বর্নার এ অবস্থার জন্য
--কাব্য শুধু নিজেকে দোষি ভেবো না। দেখবে লিমা আপু থুক্কু লিমা সতিন থুক্কু লিমা আপু ঠিকই বাঁচবে....
--হুম তাই যেনো হয় (আমি বললাম)
একটু পর যেখানে স্বর্নার ট্রিটমেন্ট চলছিলো সেখান থেকে একটা ডাক্তার বের হয়ে এসে মুখ কালো করে বললো।
--সরি মিঃ কাব্য। (ডাঃ)
--কি হয়েছি স্বর্নার। (অনেকটা কেঁদে)
--মিস স্বর্নার কিছুই হয়নি তবে?(ডাক্তার)
--তবে কি ডাক্তার সাহেব?
--বাচ্ছাটাকে বাচানো সম্ভব হলো না। পেটে আঘাত পাওয়ার ফলে আমরা বাচ্ছাটাকে বাচাতে পারলাম না।(ডাক্তার)
--ডাক্তার সাহেব আমরা কি স্বর্নার সাথে কথা বলতে পারি।
--হুম অবশ্যই তবে বেশি কথা বলবেন না.!
তারপর মিরা আর আমি স্বর্নার কাছে গেলাম।
স্বর্না আমাদের দেখার সাথে সাথেই।
--কাব্য আমি জানি এখন তুমি আমাকে আরো ঘৃণা করবে! কারন আমি বাচ্চার মা আর তুমি বাবা হতে পারবে না....(স্বর্না)
--আরে পাগলী যা হয়েছে ভুলে যাও। সব নিয়তি
তবে আজকেই আমি তোমাকে আর মিরাকে বিয়ে করবো......
কারন আমি দুজনকেই খুব ভালোবাসি। আর মিরা তুমি কি বলো?(মিরাকে উদ্দেশ্য করে)
(সুপ্রিয় পাঠক/পাঠিকা স্বর্না এবং মিরা আপন বোন না। চাচাতো বোন যেটা মিরার কাছ থেকে স্বর্না সম্পর্কে জানার পর জানলাম)
--হ্যাঁ আমিও রাজি (মিরাও খুশি হয়ে)
--তবে এখানে একটা কথা?(স্বর্না)
--আবার কি স্বর্না? (আমি)
স্বর্না আর কথাটা বলতে পারলো না, কারন রিয়া গিয়ে।
স্বর্নার বাবা মাকে নিয়ে এসেছে।
--মারে তুই ঠিক আছিস তো (স্বর্নার আব্বু আম্মু)
--হুম আব্বু/আম্মু আমি সম্পূর্ণ ঠিক আছি।
তারপর আমি লিমার বাবা মায়ের সাথে বিয়ের কথাবার্তা পাকা করলাম/আর মিরার আব্বু আম্মুর সাথে কথাবার্তা আগে থেকেই মিরা বলে রেখেছেন।
তারপর মিরাও তার আব্বু আম্মুকে ফোন মরে তাদেরও আসতে বললো।
আর একটু পর মিরার আব্বু আম্মুও এলো। এবং তারাও মেয়ের কথা চিন্তা করে বিয়েতে রাজি হলো।
(এরপর সবার মাঝখানে স্বর্না বলে উঠলো)
--আমি চাই আমরা বিয়ে করার পর তোমার মা বাবার কাছে যাবো! কারন ওখানেই তো আমার,, মিরার,,এবং তোমার ঘর।(স্বর্না)
--কিন্তু আমি যাবো না,
কারন আব্বু আম্মু আমাকে ভুল বুঝে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে.....(আমি)
--দেখো কাব্য এবার তোমাকে দেখলে তারা তোমাকে আপন করেই নিবেই,ওরা এখন ভুল বুঝতে পেরেছেন, আর মা বাবার সাথে সন্তানের রাগ মানাই না।(মিরা)
--কিন্তু।(আমি)
--কোন কিন্তু নয়..(মিরা/স্বর্না)
.
.
.
তারপর আর কি। এর কিছুদিন পর স্বর্না সুস্থ হলো । এবং দুই পরিবারের সমন্নয়ে তাদের দুই পরিবার মিলে ধুমধাম করে বিয়ের কাজ সম্পূর্ণ করলো।
(আর প্রিয় পাঠক/পাঠিকা আপনাদের বুঝতে হবে আমার দুইডা বউ আর বউদের একটাই কথা তারা শ্বশুড় বাড়িতে বাসর করবে)
অবশ্য আমার মা বাবাকে ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আগেই এবং তারাও তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তারপর বিয়ে হবার পর রাতে চললাম ট্রেনে চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে আর পৌছে গেলাম রাতে মানে একটু রাতেই ধরুন 8 টায়। তারপর বাসার ভিতরে যেয়ে তো আমি অবাক কারন আমাদের বাড়িটা সম্পূর্ণ ভাবে ফুল নিয়ে সাজানো হয়ছে। বাসার ভিতরে মা বাবা আমাকে দেখে এসে জড়িয়ে ধরলো।ভআর আমার কাজিনরা এসে স্বর্না এবং মিরাকে ঘরে নিয়ে গেলো।আর আমি চলে গেলাম ছাদে চাঁদ দেখছতে।
একটুপর কাজিনরা এসে আমাকে জোড় করে বাসর ঘরে ঢুকিয়ে দিলো।
তারপর...........
তারপর স্বর্না এবং মিরক আমার কাছে এসে পায়ে ধরে সালাম করলো তারপর তাদের দুজনকে আমি জড়িয়ে ধরলাম।
এরপর শুরু হলো আমাদের নতুন একটা জীবন ! যেখানে নেই কোন হিংসা।
শুধু আছে সবসময় ভালোবাসা দিয়ে পরিপূর্ণ।
আমার এই জীবনের গল্পটা এখানেই সমাপ্ত....
……………♥সমাপ্ত♥……………
বিঃদ্রঃ আমার ফ্রেন্ড লিষ্টে কিছু কিছু পাঠক/পাঠিকা আছে, যাদের পাঠক বললে ভুল হবে তারা আমার প্রিয়জন……………♥
তারা আমার কলিজার টুকরা একেক টা,,,
তাদের অনুপ্রেরণাই আমার গল্প লিখা,,,
এবং এই গল্পটা আমি আমার সব পাঠক/পাঠিকাদের উৎসর্গ করলাম,,,,
.
#ধন্যবাদ আপনাদেরকে,সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন,আবার দেখা হবে ইনশাআল্লাহ্ অন্য কোনো গল্পের মাঝে।
.
(ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ)
.
