তৃতীয় পর্ব +৪র্থ পর্ব
গল্প: সিদ্ধান্ত
ইউএসবিটা হাতে নেওয়ার পর থেকেই আমার মনে হচ্ছিল—আমি আর একা নেই।
এই ভাবনাটা হঠাৎ করে আসেনি।
এটা এসেছিল খুব সাধারণ একটা ব্যাপার থেকে।
ঘরের ঘড়িটা তখন টিকটিক করছিল না।
মিতুর বাসার দেয়ালঘড়িটা পুরোনো। ব্যাটারি প্রায়ই দুর্বল হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে ঘড়ি বন্ধ হয়ে যায়, আবার নিজে নিজেই চলতে শুরু করে। আগে এসব নিয়ে মাথা ঘামাতাম না। কিন্তু সেদিন খেয়াল করলাম—ঘড়িটা থেমে আছে। সময় দেখাচ্ছে রাত ২টা ৪৩।
আমি জানি তখন সময় ২টা ৫৭।
ঘড়ির কাঁটা না নড়লেও, আমার ভেতরের কাঁটা নড়ছিল। খুব দ্রুত।
এই ঘরে কিছু একটা ঠিক নেই—এই অনুভূতিটা ঠিক ভয় না। বরং মনে হচ্ছিল, কেউ খুব মনোযোগ দিয়ে আমাকে দেখছে। কথা বলছে না। শুধু দেখছে।
ঘরের কোণাগুলো অস্বাভাবিক রকম অন্ধকার লাগছিল।
লাইট জ্বালানো ছিল, তবু মনে হচ্ছিল আলো ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে না।
শব্দগুলোও যেন বদলে গেছে। পাশের বাসার টিভির আওয়াজ, রাস্তার কুকুরের ডাক—সবকিছু কানে আসছিল দেরিতে। যেন শব্দগুলো পথ হারিয়ে ফেলেছে।
আমি ইউএসবিটা টেবিলে রাখলাম।
কালো ছোট জিনিস। কোনো নাম নেই।
এই ছোট জিনিসটার ভেতরে এত বড় বড় সত্য—এটা ভাবতেই বুকের ভেতর চাপা ব্যথা উঠল।
মিতু বলেছিল, “তুই কাল সকালেই পুলিশের কাছে যাবি? ।”
আমি মাথা নেড়েছিলাম।
মাথা নাড়ানো সহজ। বিশ্বাস করা কঠিন।
কারণ এই খেলাটা শুরুই হয়েছে আইন, ক্ষমতা আর টাকার ওপরে ভর করে।
আর আমি?
আমি একজন জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট।
যে ভুল জায়গায় সঠিক হিসাব মিলিয়েছিল।
আর তার শাস্তি হিসেবে বিয়ের রাতে পালাতে হয়েছিল।
আমি জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। বাইরে গাছগুলো নড়ছিল। বাতাস নেই, তবু নড়ছে। ঢাকায় এসব হয়—আমি জানি। তবু সেদিন মনে হচ্ছিল, গাছগুলো কারও সঙ্গে কথা বলছে।
ঠিক তখনই রাত তিনটায় বিদ্যুৎ চলে গেল।
অন্ধকার একদম গাঢ় না। ঢাকার অন্ধকার কখনোই পুরো অন্ধকার হয় না। দূরের স্ট্রিটলাইট, পাশের ফ্ল্যাটের জেনারেটর—কোথাও না কোথাও আলো থাকে।
কিন্তু অদ্ভুত ছিল সময়টা।
বিদ্যুৎ যাওয়ার ঠিক এক মিনিট আগে আমার ফোনে একটা মেসেজ আসে।
“USB খুলেছ”
আমি প্রথমে বুঝতেই পারিনি কী দেখছি।
নম্বরটা সেভ করা নেই। কোনো প্রোফাইল ছবি নেই।
মেসেজটা খুব ছোট। কোনো আবেগ নেই। প্রশ্নবোধক চিহ্নও নেই।
আমি সঙ্গে সঙ্গে এয়ারপ্লেন মোড অন করলাম।
এই কাজটা আমি ইচ্ছা করে করেছি—নাকি ভয় পেয়ে, জানি না।
হার্টবিট এত জোরে হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল মিতু পাশের ঘর থেকে শুনতে পাবে।
আমি নিজের বুকের ওপর হাত রাখলাম।
হৃদপিণ্ড আমার কথা শুনল না।
পাঁচ মিনিট পর বিদ্যুৎ এলো।
পাঁচ মিনিট খুব বেশি সময় না।
কিন্তু সেই পাঁচ মিনিটে আমি বুঝে গেলাম—আমরা আর আড়ালে না, আমার অবস্থান প্রকাশ্য।
মিতু দৌড়ে এলো।
“কী হয়েছে?”
ওর চোখে ঘুম ছিল, কিন্তু ভয় ছিল না।
মিতু ভয় পেলে সেটাও স্পষ্ট হয়। আজ ভয়টা ওর চোখে পৌঁছাতে সময় নিচ্ছিল।
আমি কিছু বললাম না। শুধু ফোনটা এগিয়ে দিলাম।
ও মেসেজটা পড়ল।
ওর মুখ শক্ত হয়ে গেল।
এই মুখটা আমি চিনি। এই মুখ ও করে, যখন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
“আমরা দেরি করছি,” ও বলল।
তারপর বললো ,ওরা ওদের কাজ শুরু করে দিয়েছে।
সকালটা অদ্ভুতভাবে শান্ত ছিল।
শান্তি অনেক সময় ঝড়ের আগে আসে—আমি এটা বইয়ে পড়েছি। বাস্তবে যে এত নিখুঁত হয়, জানা ছিল না।
আমি ইউএসবির সব ফাইল খুললাম।
নামগুলো পরিচিত।
সংখ্যাগুলো খুব পরিচিত।
ভুয়া কনস্ট্রাকশন কস্ট।
ফুলানো বাজেট।
একই সাব-কন্ট্রাক্টর, ভিন্ন ভিন্ন নামে।
আমি হিসাব করছিলাম না।
আমি শুধু দেখছিলাম—এই কাগজগুলোর ভেতরে কতজন মানুষ চাপা পড়েছে।
আমি তিনটা পেনড্রাইভে সব কপি করলাম।
একটা ব্যাংকের লকারে রাখলাম—মিতুর আইডিতে।
একটা মিতুর কাছে।
আর একটা নিজের ব্যাগে।
কারণ আমার মাথায় তখন শুধু একটাই কথা ঘুরছিল—
যদি আমি না ও থাকি, সত্যটা যেন থাকে,অপরাধীরা যেনো যেভাবেই হোক শাস্তি পায়।
ঠিক তখনই বাবা ফোন দিলেন।
ফোনটা হাতে নিয়েও ধরতে ভয় লাগছিল।
আমি জানি না কেন—কিন্তু মনে হচ্ছিল, ফোন ধরলে আমি ছোট হয়ে যাব। দুর্বল হয়ে যাব।
তবু ধরলাম।
অনেকক্ষণ কেউ কিছু বললেন না।
আমি শুধু বাবার শ্বাসের শব্দ শুনছিলাম।
তারপর বাবা বললেন,
“কাল রাতে দু’জন লোক এসেছিল। খুব ভদ্র।”
ভদ্র—এই শব্দটা শুনে আমার গা শিউরে উঠল।
খারাপ লোকেরা বাংলাদেশে খুব ভদ্র হয়।
“বলল—তুমি ভুল বুঝেছ। ঘরে ফিরলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”
আমার হাত বরফ হয়ে গেল।
“তুমি কী বলেছ?” আমি খুব নিচু গলায় জিজ্ঞেস করলাম।
“আমি কিছু বলিনি,” বাবা বললেন।
তার গলা তখন আগের মতো দৃঢ় ছিল না।
“কিন্তু মা ভয় পেয়েছে। আমি নিজেও… চিন্তায় আছি মা।”
ফোনটা কে*টে গেল।
আমি অনেকক্ষণ ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
সময় শেষ।
লুকিয়ে থাকার সময় শেষ।
সন্ধ্যায় টিভিতে খবর চলছিল।
আমি দেখতে চাইনি। তবু চোখ চলে গেল।
রাশেদ গ্রে*প্তার হয়নি।
বরং সে এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ দিচ্ছে।
কালো স্যুট।
পরিপাটি চুল।
একদম শান্ত মুখ।
বলছে,
“আমার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ। সে ভয় পেয়ে পালিয়েছে। আমি চাই ও নিরাপদে ফিরে আসুক।”
আমি টিভির দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
এই সেই মানুষ, যে আমার নাম দিয়ে কাগজে কাগজে সব বৈধ করতে চেয়েছিল।
এই সেই মানুষ, যার চোখে এক ফোঁটা অপরাধবোধ নেই।
ঠিক তখনই দরজার কলিংবেলটা বেজে উঠল।
একবার।
দুইবার।
এই বেলটা সাধারণ না।
এতে তাড়া নেই। রাগ নেই।
এতে আত্মবিশ্বাস আছে।
মিতু আমার দিকে তাকাল।
আমি জানতাম—পুলিশ না।
কারণ পুলিশ হলে এতো শান্ত ভাবে কলিং বেলটা চাপতো না।
আমি ব্যাগটা কাঁধে নিলাম।
ভেতরে ইউএসবি।
আর ভেতরে আমার শেষ ভরসা।
দরজার ওপাশ থেকে একজন পুরুষের কণ্ঠ এল—
খুব শান্ত।
খুব পরিচিত।
“আমি শুধু কথা বলতে চাই,” সে বলল।
“তুমি জানো—আমরা তোমাকে খুঁজে বের করতেই পারি। কিন্তু আমি চাই তুমি নিজে দরজাটা খুলো।”
রাশেদ।
এই নামটা এখন আর মানুষের নাম না।
এই নামটা একটা দরজা।
যেটা খুললে, আর বন্ধ করা যায় না।
মিতু ফিসফিস করে বলল, “পেছনের সিঁড়ি।”
আমি একবার চোখ বন্ধ করলাম।
শ্বশুরের চোখটা ভেসে উঠল।
ভয়ের নয়—অনুতাপের।
আমি দরজার দিকে এগোলাম না।
আমি পেছনের দরজা খুললাম।
কারণ এই গল্পে,
নিরাপদ থাকা আর সঠিক কাজ করা—এক জিনিস না।
আর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি—
এবার আমি পালাব না।
আমি সামনে যাব।
অন্ধকারের ভেতর দিয়েই যাব।
কারণ কাউকে না কাউকে তো আলো জ্বালিয়ে রাখতে হবে—যদিও তার নিজের হাত পুড়ে যায়।
(চলবে…)
চতুর্থ পর্ব
গল্প: সিদ্ধান্ত
লেখা: 1 Minute With Mitu
পেছনের সিঁড়িটা অন্ধকার ছিল না।
আবার আলোও বলা যায় না।
ঢাকার পুরোনো ফ্ল্যাটগুলোর পেছনের সিঁড়িতে যেমন আলো থাকে—
একটা টিউবলাইট, যেটা ঠিকমতো জ্বলে না, আবার নিভেও যায় না।
দেখলে মনে হয়, ও নিজেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।
আমার ভেতরের অবস্থাও তখন ঠিক তেমন।
মিতু দরজাটা খুলে দিল।
এক সেকেন্ড দেরি করল না।
আমাদের দু’জনের আর কথা বলার কিছু বাকি ছিল না।
আমি এক পা নামালাম।
তারপর আরেক পা।
ঠিক তখনই নিচ থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এলো—
খুব আস্তে, কিন্তু অদ্ভুতভাবে পরিষ্কার।
“ওখানে যেও না।”
আমি থেমে গেলাম।
এই গলাটা রাশেদের না।
মিতুরও না।
একজন পুরুষ।
বয়স আন্দাজ করা যায় না।
গলায় হু*মকি নেই।
আবার অনুরোধও নেই।
আমি ধীরে মাথা তুললাম।
সিঁড়ির নিচে একজন লোক দাঁড়িয়ে।
সাধারণ পোশাক।
কোনো ব্যাজ নেই।
কিন্তু চোখে এমন একটা ভাব—
যা অনেকদিন ক্ষমতার আশেপাশে থাকলে আসে।
ক্ষমতার ভেতরে না।
কিন্তু খুব কাছাকাছি।
“আপনি কে?”
প্রশ্নটা করতে গিয়ে বুঝলাম—এই কণ্ঠটা আমার নিজের না।
লোকটা একটু হাসল।
এই হাসিটা রাশেদের হাসির মতো না।
এটা জানে—কখন হাসতে হয়, আর কখন থামতে হয়।
“আমার নাম জানাটা জরুরি না,” সে বলল।
“কিন্তু আপনি যে ব্যাগটা ধরে আছেন—ওটার ভেতরের জিনিসটা জরুরি।”
মিতু এক ধাপ এগিয়ে এলো।
“আপনি পুলিশ?”
লোকটা মাথা নাড়ল।
“না।
কিন্তু আমরা পুলিশকে খবর দিয়েছি।”
এই ‘পুলিশ’ শব্দটা শুনে আমার বুকের ভেতর কেমন যেন ঠান্ডা লাগল।
একসময় এই শব্দটা নিরাপত্তার কথা মনে করাত।
এখন মনে হয়—একটা বন্ধ দরজা।
“রাশেদ কোথায়?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।
লোকটা একটু দেরি করে বলল,
“উপরে। আপনার দরজার সামনে।”
আমার মাথার ভেতর দ্রুত হিসাব চলতে লাগল।
উপরে রাশেদ।
নিচে অচেনা লোক।
মাঝখানে আমি—একটা ব্যাগ আর কিছু অস্বস্তিকর সত্য নিয়ে।
“আপনি আমাদের সাহায্য করতে এসেছেন?”
আমি সরাসরি জিজ্ঞেস করলাম।
লোকটা চোখ নামাল।
এই ভঙ্গিটা মানুষ করে, যখন পুরো সত্য বলা নিরাপদ না।
“আমরা চাই—আপনি বেঁচে থাকুন,” সে বলল।
“আর কিছু কাগজ ঠিক জায়গায় পৌঁছাক।”
এই ‘আমরা’ শব্দটা আমি আগেও শুনেছি।
ব্যাংকের বোর্ডরুমে।
অডিট মিটিংয়ে।
সবচেয়ে ভয়ংকর কাজগুলো সবসময় ‘আমরা’ দিয়েই শুরু হয়।
“সঠিক জায়গা কোথায়?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।
লোকটা এক সেকেন্ড চুপ করে থাকল।
তারপর বলল,
“যেখানে গেলে আপনি আর নিয়ন্ত্রণে থাকবেন না।”
আমি হেসে ফেললাম।
নিজের হাসি শুনে নিজেই অবাক হলাম।
“আমি এতদিন নিয়ন্ত্রণেই ছিলাম না,” আমি বললাম।
“আমি শুধু সেটা জানতাম না।”
উপরে হঠাৎ দরজায় ধাক্কার শব্দ।
একবার।
দুইবার।
রাশেদের গলা—
এখন আর শান্ত না।
এখন বিরক্ত।
“এই নাটক বন্ধ করো,” সে চিৎকার করল।
“আমি জানি তুমি ভেতরেই আছো।”
মিতু আমার হাত চেপে ধরল।
ওর হাত ঠান্ডা।
কিন্তু কাঁপছে না।
“সময় নেই,” লোকটা বলল।
“এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
আমি জানতাম।
এই মুহূর্তটা আসবেই।
আমি ব্যাগটা শক্ত করে ধরলাম।
তারপর লোকটার দিকে তাকালাম।
“আপনি যদি সত্যিই সাহায্য করতে চান,” আমি বললাম,
“তাহলে আমাকে পুলিশের কাছে না—প্রেসের কাছে নিয়ে যান।”
এই প্রথম লোকটা একটু অবাক হলো।
“ঝুঁকি জানেন তো?” সে বলল।
“জানি,” আমি বললাম।
“কিন্তু এই গল্পটা ফাইলে গেলে চাপা পড়বে।
লাইভ হলে—থামানো যাবে না।”
উপরে এবার লাথির শব্দ।
দরজা কেঁপে উঠল।
লোকটা খুব দ্রুত হিসাব করল।
তারপর ফোন বের করল।
“পাঁচ মিনিট,” সে বলল।
“এর বেশি পারব না।”
আমি মাথা নেড়েছি।
পাঁচ মিনিটই যথেষ্ট।
গাড়িটা কালো।
নাম্বার প্লেট একদম সাধারণ।
ভেতরে বসে মনে হচ্ছিল—আমি কোনো সিনেমার ভেতরে ঢুকে পড়েছি।
কিন্তু এই সিনেমায় গান নেই।
শুধু শ্বাস নেওয়ার শব্দ।
লোকটা ড্রাইভারকে একটা ঠিকানা বলল।
আমি চিনলাম।
একটা টিভি চ্যানেল।
ঢাকায় এমন কিছু জায়গা আছে—
যেখানে সত্য আর শোরগোল পাশাপাশি থাকে।
মিতু আমার পাশে বসে।
চুপ।
ও জানে—ও কথা বললে আমি ভেঙে পড়ব।
আমার ফোন ভাইব্রেট করল।
রাশেদের মেসেজ।
“তুমি ভাবছ, তুমি জিতেছ।
এই দেশে কে জেতে, তুমি জানো না।”
আমি রিপ্লাই দিলাম না।
কিছু কথার উত্তর দেওয়া লাগে না।
লাইভ শুরু হলো রাত দশটা পঁচিশে।
ক্যামেরার লাল আলো জ্বলে উঠল।
আমি কথা বলা শুরু করলাম।
ধীরে।
নাম ধরে।
সংখ্যা ধরে।
আমি বাবা-মার কথা বলিনি।
আমি শুধু হিসাব বলেছি।
কারণ হিসাব মিথ্যা বলে না।
শেষে প্রশ্ন এলো—
“আপনি ভয় পাচ্ছেন?”
আমি বললাম,
“হ্যাঁ।
কিন্তু ভয় মানেই চুপ থাকা না।
কিছু ভয় আছে—যেগুলো কথা না বললে বড় হয়।”
লাইভ শেষ হলো।
নাটকীয় কিছু হলো না।
শুধু সবাই বুঝল—কিছু একটা বদলেছে।
সেই রাতেই রাশেদ গ্রেপ্তার হলো।
পরদিন মায়ের কান্না ছিল।
কিন্তু সেটা ভয় থেকে না।
হালকা হওয়ার কান্না।
আমাকে নিরাপদ জায়গায় নেওয়া হলো।
নাম বদলানো হলো।
পরিচয় বদলানো হলো।
আমি এখন আর জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট না।
আমি এখন একজন সাক্ষী।
এই দেশে,
সাক্ষী হওয়াই সবচেয়ে বিপজ্জনক পেশা।
কিন্তু আশ্চর্য একটা ব্যাপার হলো—ঘড়িটা আবার চলতে শুরু করেছে।
টিকটিক।
একদম স্বাভাবিক।
সময় থেমে ছিল না।আমি থেমে ছিলাম।
চলবে......
চতুর্থ পর্ব
গল্প: সিদ্ধান্ত
লেখা: 1 Minute With Mitu
বি:দ্র: গল্পটা কেমন লাগছে অবশ্যই কমেন্ট এ জানাবেন।
আর যারা গল্প কপি করেন প্লিজ তারা লেখিকা আপুকে ক্রেডিট দিবেন 😒
সংগৃহিত
পরের পর্ব গুলা এখানেই পাবেন ধন্যবাদ
